প্রতিটা দিন কীভাবে কাটে ফিলিস্তিনে বসবাসরত মানুষের? প্রতিদিন ধরপাকড়, বুলডোজার, রকেট হামলা, মৃত্যুর মিছিল, লাশ নিয়ে প্রতিবাদী মানুষের ঢল--এসব নিত্যঘটনার আড়ালে একটা জীবন তো তাদের আছে। যে জীবনে খাওয়া-পরার জন্য ভাবতে হয়, কাপড় পরিষ্কার থেকে শুরু করে ঘরদোর ঝাড়-মোছ করা, বিয়ে-সন্তান-ভালোবাসা; ধ্বসে পড়া দালানের নিচ থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে দাঁড়াতে হয় খাবারের দোকানের সামনে--কিছুক্ষণ পরই শুরু হয়ে যাবে কারফিউ।
ফিলিস্তিনে এই জীবনটা কেমন? ফিলিস্তিনি লেখিকা সুয়াদ আমিরি রামাল্লা শহরতলীর এক পুরোনো দালানের জানালা দিয়ে আমাদের দেখিয়েছেন ফিলিস্তিনের সেই জীবন, যা আমরা কল্পনা করতে কোশেশ করি। সংগ্রামরত ফিলিস্তিনের বিক্ষুব্ধ একটা সময়কে তিনি মলাটবদ্ধ করেছেন তাঁর ডায়েরির পাতায়। তিনি নিজে সেই সময়ের কেবল একজন সাক্ষীই নন, তিনি ইসরাইলি তা-বের বিরুদ্ধে রক্তচক্ষু মেলে তাকিয়ে থাকা এক অকুতোভয় যোদ্ধাও; পাঠকমাত্রই যার পরিচয় পাবেন বইয়ের অন্দরে।
সত্যি কথা বলতে, ফিলিস্তিনের মানুষের দুঃখ, দুর্দশা আর নির্যাতিত হওয়ার বর্ণনা এই বইতে যেভাবে পাবো ধারনা করেছিলাম তা হয়নি। লেখিকার কলমের ধারও ততটা তীক্ষ্ণ মনে হয়নি। যার কারণে দুর্দশার বর্ণনা যাওবা এসেছে তা কোন অনুভূতির সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে। অবশ্য এর পেছনে যেটা কারণ হতে পারে তা হোল, লেখাগুলি আত্নজীবনী বা বই হিসেবে লেখা হয়নি, লেখা হয়েছে ডায়েরী হিসেবে। তাই একেকটা খন্ডচিত্রের মধ্যেও বুনন ততটা জোরালো হয়নি। তবে অনুবাদকের প্রশংসা করতে হয়। প্রথম অনুবাদ হিসেবে তিনি বেশ ভালোই করেছেন বলতে হবে।