পাঁচটি বিষয়ের নাম প্রচ্ছাদে পরিষ্কার দেওয়া আছে। “স্বপ্নলোকের চাবি”তে আছে মায়াবী সব রূপকথার গল্প। আছে গা ছমছমে ভয়ের পাঁচটি রহস্য গল্প, “অলৌকিক” অংশে। খুদে গোয়েন্দা সাগর রায়চৌধুরী আর তাঁর গোয়েন্দাগিরির কীর্তিকলাপ লেখা আছে “ রহস্যভেদ”-এ। লেখকের ছোটবেলার কথা নিয়ে লেখা “ স্মৃতিচারণ” । আর শেষ বিভাগ “নানারকম” ...পাঁচটা আলাদা আলাদা বিষয়ে লেখা দুরন্ত পাঁচটি গল্প। ইতিহাসে চাণক্যের আখ্যান থেকে শিকার কাহিনী হয়ে কল্পবিজ্ঞান। লেখক মনোজ সেন যে সব রকম রচনাতেই পারদর্শী তাঁর প্রমাণ এই বইয়ের পাতায় পাতায়।
মনোজ সেন-এর জন্ম ১৯৪০, বেলেঘাটায়। পড়াশোনা শুরু স্কটিশ চার্চ কলেজিয়েট স্কুলে। সেখান থেকে স্কুল ফাইনাল পাশ করে প্রেসিডেন্সি কলেজে ইন্টারমিডিয়েট সায়েন্স। অতঃপর বি ই কলেজ থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে বিই পাশ করে চাকরি জীবনের শুরু। প্রথম কাজ ভারী নির্মাণ সংস্থা হেড রাইটসনে, শেষ কাজ টার্নকী ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ায় ডিরেক্টর পদে। ১৯৯৭ থেকে অবসর জীবন, মাঝে মাঝে ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটেন্সি।
১৯৭২ সালে প্রথম সাহিত্য পত্রিকা 'রোমাঞ্চ'-তে গল্প প্রকাশিত হয়। এরপর টানা কুড়ি বছর (১৯৭২-১৯৯২) 'রোমাঞ্চ' পত্রিকায় রহস্য, অলৌকিক, বিজ্ঞানভিত্তিক, রূপকথা ইত্যাদি মিলিয়ে প্রায় হাজার দেড়েক পাতা ছোটো ও বড়োদের উপযোগী কাহিনি লিখেছেন। ১৯৯২ সালে 'রোমাঞ্চ' পত্রিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দশ বছর লেখা বন্ধ ছিল। অনিশ দেব আবার লেখা শুরু করান ২০০১ সালে। 'রোমাঞ্চ' ছাড়া লিখেছেন 'সাপ্তাহিক বর্তমান', 'পরমা' ইত্যাদি পত্রিকায়। মহিলা গোয়েন্দা চরিত্র দময়ন্তী দত্ত গুপ্ত ও খুদে গোয়েন্দা সাগর রায় চৌধুরী-কে নিয়ে লিখেছেন অনেক কাহিনি।
সাহিত্যের অনুপ্রেরণা আগাথা ক্রিস্টি, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ও শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। ঘোর নাস্তিক হলেও ইতিহাসের সন্ধানে পড়তে ভালোবাসেন ধর্ম সংক্রান্ত বই। এককালে ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবলের মতো সব খেলাতেই ছিলেন পারদর্শী রসিক এই মানুষটি ভালোবাসেন ক্লাসিক গান, ভ্রমণ ও আড্ডা। তাঁর উল্লেখযোগ্য অধুনা-প্রকাশিত কিছু বই হল 'এবং কালরাত্রি', 'কালসন্ধ্যা', 'রহস্যসন্ধানী দময়ন্তী সিরিজ' প্রভৃতি।
রহস্য-রোমাঞ্চ পত্রিকার প্রবীন পাঠক বা 'সানডে সাসপেন্স'-এর নবীন শ্রোতা, সবার কাছেই মনোজ সেন মানেই ভয়াল-ভয়ংকর কাহিনি, ঘাত-প্রতিঘাতে ভরা রোমাঞ্চ, বা অলৌকিকের আড়ালে সরসতা। কিন্তু মানুষটি কি আর কিছু লেখেননি? দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে মনোজ সেন ইয়ং অ্যাডাল্ট পাঠকদের জন্য যা লিখেছেন, তেমন পাঁচ মিশেলি পঁচিশটি গল্প বুকফার্ম-এর সযত্ন পরিবেশনে আমাদের সামনে এল আলোচ্য বইয়ের মাধ্যমে। মনোজ সেন-এর 'কালরাত্রি' আমার প্রিয়তম ভয়ের গল্প। তাই বইটি নিয়ে আমার প্রভূত আগ্রহ ছিল। অবশেষে সেটি পড়া হল। কেমন লাগল? সেজন্যই তো এই প্রতিক্রিয়া।
কমবয়সী পাঠকদের জন্য লেখা বলেই হয়তো বইটি সাজানো হয়েছে দিলীপ দাসের আঁকা ছোটো-বড়ো ছবিতে। তার ফলে গল্পগুলো সবসময় যে সমৃদ্ধ হয়েছে তা বলা যাচ্ছে না। তবে বইটা যে নয়নসুখকর হয়েছে, এ-কথা অনস্বীকার্য। একটি নাতিদীর্ঘ 'আমার কথা'-র পর পাঁচটি পৃথক বর্গে বিন্যস্ত হয়েছে গল্পগুলো। এরা হল:
স্বপ্নলোকের চাবি~ ১) সীতা ২) নগার ডাকাতি ৩) শালকোঁড়া বনে গণ্ডগোল ৪) মৃত্যুঞ্জয় আর জয়ন্ত ৫) স্বর্ণরেণুর স্বয়ংবর এই গল্পগুলো এই বইয়ের বোধহয় সবচেয়ে দুর্বল অংশ। অনেকটা আধুনিক রূপকথা, নীতিকথা, রোমান্স, আর বহু-ব্যবহৃত লোককাহিনি মিশিয়ে লেখা হয়েছে এই গল্পগুলো। এদের ভাষা স্বচ্ছন্দ হলেও এমন কোনো কারণ পাওয়া কঠিন যার ভিত্তিতে এদের দ্বিতীয়বার পড়তে ইচ্ছে হবে।
অলৌকিক~ ১] অতনু গাঙ্গুলীর বিপদ ২] ভয় ৩] বন্ধু ৪] নন্দিনীর সেপাইশান্ত্রী ৫] হাসির উপহার এই গল্পগুলোর মধ্যেও কোনো নতুনত্ব নেই। প্রেডিক্টেবল গল্পও সুখপাঠ্য হয়, বিশেষত অলৌকিক ঘরানায়। কিন্তু এদের মধ্যে আমি তেমন কিছু পেলাম না যা আমাকে এই বইটি আবার পড়তে বাধ্য করবে।
রহস্যভেদ~ ১. গন্ধ তো নয় মন্দ ২. মিস অনুরাধা পলের হত্যারহস্য ৩. মহারাজার গুপ্তধন ৪. চন্দ্রশেখর হত্যারহস্য ৫. চিন্ময় গুহর মৃত্যুরহস্য সাগর নামের একটি ছাত্রকে কেন্দ্রে রেখে লেখা এই রহস্যভেদের কাহিনিরা স্বচ্ছন্দ, সরস, এবং গতিময়। এ-বাদে এতে কিচ্ছু নেই। প্রায় চার দশক আগে লেখা 'শার্লক হেবো'-র গল্পগুলো বরং এখনও পড়তে হেব্বি লাগে।
স্মৃতিচারণ~ ১} দাদামশায়ের অভিজ্ঞতা ২} ঠাকুরদাদার বিপদ ৩} বাবার মুখে শোনা ৪} তিন টুকরো হাসি ৫} মিথ্যেবাদী এগুলো গল্প নয়। হাতে মুড়িমাখা আর চা নিয়ে এককালে আমাদের বড়োরা আমাদের এ-সব গল্প শোনাতেন। এগুলো 'গল্প' বলে ভাবতে হলে তো চাপের ব্যাপার!
নানারকম~ (১) ইতিহাসের সূচনা (২) হঠাৎ দেখা (৩) পান্ডারবাজারের মানুষখেকো বাঘ (৪) একটি প্রজাপতির অকালমৃত্যু (৫) ডাক্তার গুপ্তের বরাত এর মধ্যে গোটা দুই হল টল টেলস বা গুল্প। একটি হল রে ব্র্যাডবারি'র কিংবদন্তি কাহিনি "দ্য সাউন্ড অফ থান্ডার"-এর বঙ্গীকরণ। আর দুটো খুবই সাদাসিধে গল্প।
সব মিলিয়ে এটাই বলার যে বইটা পড়তে মন্দ লাগেনি। কিন্তু এর ক'টা গল্প এক সপ্তাহ পর আমার মনে থাকবে, তা বলা কঠিন।
এই ছিল মনোজ সেনকে নিয়ে আমার প্রথম রিঅ্যাকশন। শান্তনু যখন বলল ও মনোজ সেনের সব লেখা গ্রন্থবদ্ধ করতে চলেছে, তখন বেশ অবাক হয়েছিলাম, সন্দেহ নেই। এটাও বলেছিলাম, রিস্ক একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না, এই অজানা লেখককে তুলে ধরছ? বলেই নিজের ভুলটা বুঝেছি। শান্তনু আর কৌশিক (মানে দত্ত) যদি সবার মত চেনা পথেই হাঁটত, তবে কমিক্স ও গ্রাফিক্স বা সিদ্ধার্থ ঘোষের মত বই কোনদিন আলোর মুখ দেখত না। যেমন কোনদিন প্রকাশ পেত না গৌতম কর্মকার অথবা দিলীপ দাশের কাজগুলো। প্রান্তিক শিল্প, শিল্পীদের মত অচেনা কিন্তু বলিষ্ঠ লেখকদের লেখা ছাপে বলেই আজ বুক ফার্মের সুনাম। অন্যদের মত গতে বাঁধা পথে ওরা হাঁটবেই বা কেন? তবু সন্দেহ গেল না। কিন্তু কিন্তু একটা ছিলই। গতকাল হাতে পেলাম মনোজ সেনের ৫x৫=২৫ বইটা। শান্তনু বলেছিল, তোমার মেয়েকে দিও। ওঁর ভাল লাগবে। আমিও সেই মত মেয়েকে দেব বলেই এনেছিলাম। পাতা ওলটালাম, পড়তে শুরু করলাম, এবং পড়তে থাকলাম। মেয়ে বই চাইতে এলে রূঢ়ভাবে " এখন হবে না, কাল পাবি" বলে ভাগিয়ে দিলাম। বিশ্বাস করুন, এ বই বই না। আমাদের কিশোরবেলার হারিয়ে যাওয়া সব জিয়া নস্টাল হুরমুড়িয়ে ভিড় করল আমার কাছে। সেই যখন শরতে সদ্য পরীক্ষা শেষের পরে বাবা নতুন শারদীয়া কিনে দিত, সেই যখন দূরে আলতো ঢাকের আওয়াজ শুনতে শুনতে সোনা রোদে বসে গল্প পড়তাম, যে গল্পে কোন জটিলতা নেই, অনর্থক তথ্যের কচকচি নেই, জ্ঞান বিতরণ নেই, আর এক অদ্ভুত মিষ্টি অনুভূতি নিয়ে প্রতিটা গল্প শেষ হত, সেই গোটা ফিল গুড ব্যাপারটা এই পঁচিশটা গল্পের সবকটাতেই... আর তাঁর সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত দিলীপ দাশের ছবির। মনে হচ্ছে সেই শুকতারার পাণ্ডব গোয়েন্দা আর গোগোলের দিনগুলো ফিরে এসেছে। আমরা ভাগ্যবান, অনেকদিন পরে সেই সোনালী দিনের ছবিয়ালের নতুন কাজ বইভরে দেখতে পেলাম।
মনোজ সেন অবশ্যই পড়ুন। ছোটবেলায় ফিরে যেতে। ছোটদের পড়ান... আমাদের ছোটবেলাকে জানাতে, আর শান্তনুকে আমার ব্যক্তিগত ধন্যবাদ, নারায়ণ দেবনাথ, ময়ূখ চৌধুরী, বিমল দাশের মত আরও একজন অবহেলিত প্রতিভাকে সামনে নিয়ে আসার জন্য।
গল্পগুলো শিশুতোষ, কিংবা কৈশোরে পড়ার উপযোগী। অন্য কোনো সময় হলে ক্লাস থ্রি ফোরে পড়া কোনো গল্পের সাথে মিলিয়ে নষ্টালজিক হতে পারতাম। কিন্তু এই অসময়ে গল্পগুলো জমিয়ে উপভোগ করতে পারলাম না।
প্যাঁচহীন, নির্ভেজাল, সাবলীল লেখনশৈলীর পাঁচ-সের গল্প। কিশোর বয়সী কেউ বা কড়া পাকের সাহিত্য গিলে নাভিশ্বাস উঠে যাওয়া কেউ নষ্টালজিক হতে চাইলে বইটা পড়তে পারেন নির্দ্বিধায় ।
পাঁচটি বিভাগের প্রত্যেকটিতে পাঁচটি করে মোট পঁচিশটি গল্পের সংকলন হলো এই বইটি। গল্প গুলির রিভিউ নয় বরং ছোট্ট টিজার পেশ করি আপনাদের সামনে...
১. স্বপ্নলোকের চাবি : স্বপন-পারের ডাক শুনেছি, জেগে তাই তো ভাবি– কেউ কখনো খুঁজে কি পায় স্বপ্নলোকের চাবি॥ নয় তো সেথায় যাবার তরে, নয় কিছু তো পাবার তরে, নাই কিছু তার দাবি– বিশ্ব হতে হারিয়ে গেছে স্বপ্নলোকের চাবি॥ সেই হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নলোকের চাবিটিকেই লেখক খুঁজে বের করে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই বিভাগটির গল্পগুলি নিয়ে আমার আর কিছু বলার নেই।
২. অলৌকিক : ভয় নেই... তবে দু পশলা বর্ষার ছাঁচ ভেজা মাটির মন মাতানো সোদা গন্ধ রয়েছে। যার জন্য গল্পগুলি শেষ না করে উঠতে পারিনি।
৩. রহস্যভেদ : খুদে গোয়েন্দা সাগর রায়চৌধুরী কে আমরা পাবো এই বিভাগের পাঁচটি গল্পেই। চমক বা টুইস্ট না থাকলেও গল্পগুলি পড়তে মন্দ লাগে না।
৪. স্মৃতিচারণ : এ তো হারিয়ে ���াওয়া ছেলেবেলার টুকরো স্মৃতির সিম্ফনি... এগুলি পড়তে বা শুনতে কার-না ভালো লাগে!
৫. নানারকম : এই বিভাগে ইতিহাস, শিকার ও মজার গল্পের সাথে দুটি কল্পবিজ্ঞানের গল্প আছে। পাঁচমিশালি এই গল্পগুলির মধ্যে অদ্ভুত একটা সারল্য আছে। তাই পড়তে ভালোই লাগে।
শেষে এটুকুই বলব, চৌকো চৌকো হলদেটে সেলোফেনে মোড়া আমসত্ত্বের মতো নিজেদের ছেলেবেলার মিষ্টি স্মৃতি গুলো কে আরেকবার চেখে দেখতে চাইলে তবেই বইটি পড়ুন.. না-হলে.... (সমঝদার কে লিয়ে ইশারাহি কাফি হোতা হ্যায়)।
বি.দ্র: নির্মলেন্দু মন্ডলের প্রচ্ছদ ও দিলীপ দাস এর অলংকরণ এক কথায় দুর্দান্ত।
পাঁচটি বিভাগের প্রত্যেকটিতে পাঁচটি করে মোট পঁচিশটি গল্পের সংকলন হলো এই বইটি। গল্প গুলির রিভিউ নয় বরং ছোট্ট টিজার পেশ করি আপনাদের সামনে...
১. স্বপ্নলোকের চাবি : স্বপন-পারের ডাক শুনেছি, জেগে তাই তো ভাবি– কেউ কখনো খুঁজে কি পায় স্বপ্নলোকের চাবি॥ নয় তো সেথায় যাবার তরে, নয় কিছু তো পাবার তরে, নাই কিছু তার দাবি– বিশ্ব হতে হারিয়ে গেছে স্বপ্নলোকের চাবি॥ সেই হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নলোকের চাবিটিকেই লেখক খুঁজে বের করে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই বিভাগটির গল্পগুলি নিয়ে আমার আর কিছু বলার নেই।
২. অলৌকিক : ভয় নেই... তবে দু পশলা বর্ষার ছাঁচ ভেজা মাটির মন মাতানো সোদা গন্ধ রয়েছে। যার জন্য গল্পগুলি শেষ না করে উঠতে পারিনি।
৩. রহস্যভেদ : খুদে গোয়েন্দা সাগর রায়চৌধুরী কে আমরা পাবো এই বিভাগের পাঁচটি গল্পেই। চমক বা টুইস্ট না থাকলেও গল্পগুলি পড়তে মন্দ লাগে না।
৪. স্মৃতিচারণ : এ তো হারিয়ে যাওয়া ছেলেবেলার টুকরো স্মৃতির সিম্ফনি... এগুলি পড়তে বা শুনতে কার-না ভালো লাগে!
৫. নানারকম : এই বিভাগে ইতিহাস, শিকার ও মজার গল্পের সাথে দুটি কল্পবিজ্ঞানের গল্প আছে। পাঁচমিশালি এই গল্পগুলির মধ্যে অদ্ভুত একটা সারল্য আছে। তাই পড়তে ভালোই লাগে।
শেষে এটুকুই বলব, চৌকো চৌকো হলদেটে সেলোফেনে মোড়া আমসত্ত্বের মতো নিজেদের ছেলেবেলার মিষ্টি স্মৃতি গুলো কে আরেকবার চেখে দেখতে চাইলে তবেই বইটি পড়ুন.. না-হলে.... (সমঝদার কে লিয়ে ইশারাহি কাফি হোতা হ্যায়)।
বি.দ্র: নির্মলেন্দু মন্ডলের প্রচ্ছদ ও দিলীপ দাস এর অলংকরণ এক কথায় দুর্দান্ত।