Purnendu Patri (sometimes Anglicised as Purnendu Pattrea) was an Indian poet, writer, editor, artist, illustrator, and film director. He was best known for his poems and stories, particularly for his poetry collection Kathopokathan in Bengali, and for his experimentation with book cover design. He also was a researcher of the history of Kolkata.
"যত বই কিনি, বা পেয়ে যাই, তার সব, জীবনানন্দের গল্পের ঐ বিলাসের মতোই, পড়া হয়ে ওঠে না আমারও। তবুও কিনি। তবুও পেয়ে গেলেই কাছে রাখি। পড়ার আনন্দ এক রকম। কোনো একদিন পড়া হবে কোনো একটা বই, তার আনন্দও কম নয়। দু-বছর হল দুখানা বই কিনেছি তাজমহল নিয়ে। বড়ো মাপের বই। ছবি-ছাপটায় ঠাসা। ছবিগুলো দেখেছি। ছবি দেখতে গিয়েই ডাইনে-বাঁয়ের দু-চার ছত্রে চোখ বুলিয়ে নেওয়া। তার পরে আর সময় নেই। তাহলে কাল পড়ব। এই বলে রেখে দেওয়া। আর পড়া হয়নি। পড়লে আরও গভীরতর সুখ, জানি। না পড়েও কম সুখ পাচ্ছি না। চলতে-ফিরতে চোখে পড়ছে। বইটা যে আছে, হাত বাড়ালেই পাব, পাতা ওলটালেই ডুবে যাব ইতিহাসের এক অতল নীল জলে, সেও এক সুখ।"
সাহিত্য সংক্রান্ত বইয়ের প্রতি আমাদের মতো উইপোকাদের প্রবল আগ্রহ থাকবে যা স্বাভাবিক। এই বইতে তেমনই সাহিত্য সংক্রান্ত দশটা প্রবন্ধ আছে। পূর্ণেন্দু পত্রীর লেখার মধ্যে কি যেন আছে যার ফলে তার যেকোনো লেখা পড়ে অতীন্দ্রিয় আনন্দ পাওয়া যায়।
'পোকা-মাকড় হইতে সাবধান' প্রব্ধন্ধে পোকামাকড়ের সাথে যে মানুষের জীবনের কোনো পার্থক্য নেই তা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণে আলোচনা করেছেন। পোকা-মাকড় চিনতে জীবনানন্দের গদ্য পাঠ করা জরুরি এ কথাও বলেছেন।
'বইয়ের সঙ্গে প্রেম' প্রবন্ধে তার বইপড়া আর বইকেনা নেশার কথা বলেছেন। তিনি তাঁর মেজাজ অনুযায়ী বই পড়তে ভালোবাসে। তাছাড়া বই পড়ার আরেকটা মূল কারণ হচ্ছে লেখালেখি করা। লেখালেখি বই পড়ার গতি আরও বৃদ্ধি করে। তাছাড়া বইয়ের বাইরেও যে একটা জীবন আছে যেখানে আছে চলচ্চিত্র-সঙ্গীত, প্রশ্ন করার ক্ষমতা, মানুষের সঙ্গে মেশা, সে কথাও বলেছেন।
তাছাড়া তিনি বই কিনেন কারণে-অকারণে। বইয়ের সংগ্রহ বাড়াতে ভালোবাসেন। উপহার পেতেও ভালোবাসেন। তবে সংগ্রহে রাখা সব বই যে পড়তেই হবে তেমন কোনো কথা নেই। কোনো বই সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়া, কোনো বইয়ের একটা অংশ পড়া, কোনো বইয়ের শুধু পাতা উলটানো, কোনো বইয়ের ঘ্রাণ নেওয়া।
'কি পড়ি' প্রবন্ধে বলেছেন, "কি পড়ি? সব পড়ি? প্রয়োজনে ডিক্সনারি, প্রয়োজনে পুরাণ। মন ক্লান্ত। তখন ডিটেকটিভ। মেজাজ ভালো, পৃথিবীর ইতিহাস। হাতে কাজ নেই। অথচ সময় অফুরান। তখন দর্শন বিজ্ঞান। সামনে নতুন ফিন্ম। তখন চিত্রনাট্য। অমুকের জন্য লিখতে হবে বার্গম্যান নিয়ে। দু-চার দিন শুধু বার্গম্যান। চ্যাপলিম মারা গেছেন? ওঁর জীবনীটা পড়ে নেওয়া যাক। সমালোচনা লিখতে হবে কারো গ্রন্থের, পড়ে নেওয়া যাক তার লেখা কিছু বই।"
সুপাঠ্য বই। যারা সাহিত্য সম্পর্কিত বই দেখলে, না পড়ে থাকতে পারেন না, তাদের জন্য এই বই।
মিশ্র প্রতিক্রিয়া হলো বইটা পড়ে। "পোকামাকড় হইতে সাবধান", "বাংলা সাহিত্যে মাসি পিসি", "বিড়ালের বিষয়ে কিছু", "বইয়ের সঙ্গে প্রেম" প্রবন্ধগুলো বেশ ভালো লেগেছে। যতটুকু ভালো লাগা এ কয়টা প্রবন্ধে পেলাম তা ফিকে করে দিল কমলকুমারকে নিয়ে লেখা প্রবন্ধটা। অতিরঞ্জিত এবং বিরক্তিকর।
সাহিত্য নিয়ে কয়েকটা প্রবন্ধের ছোট্ট একটা সংকলন। পোকামাকড়ের দুনিয়া নিয়ে সাহিত্য, চলচ্চিত্র আর শিল্পের মিশেল; মাদাম বোভারি, কৃষ্ণকান্তের উইল, চোখের বালি, চরিত্রহীন, কবি হয়ে বয়ে চলা নিষিদ্ধ প্রেমের কাহিনির মাদকতা; বই পড়া আর বই সংগ্রহের দুর্দমনীয় নেশা; ঊনবিংশ শতাব্দীর সূচনা আর মধ্যভাগে বাংলায় নামহীন বা ছদ্মনামের লেখকেরা; সাহিত্যে রোমান্স আর প্রেম; বিড়ালের আচরণে লুকিয়ে থাকা একাকিত্ব আর বিচ্ছিন্নতা এরকম বেশ কিছু প্রবন্ধের টক মিঠে সংকলন। সবচেয়ে বড় প্রবন্ধ কমলকুমারের রচনা নিয়ে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা এক একটা টপিকে সিরিয়াল ধরে তার রচনার লাইন তুলে ধরার ব্যাপারটা বিরক্ত লেগেছে।