এত ভালো কিশোর উপন্যাস অনেক দিন পড়লাম। জায়গায় জায়গায় চোখে জল এসেছে বার কয়েক। জিপু, বছর দশেক এর এক বালক, যার মনটা অন্যদের চেয়ে একটু আলাদা। যার প্রকৃতির প্রতি, খোলা আকাশের প্রতি, দিগন্তবিস্তৃত মাঠের প্রতি রয়েছে এক অমোঘ টান। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের কড়া অনুশাসনে সে হাঁসফাঁস করে উঠে। এক পারিবারিক বিপর্যয়ে তাকে ভর্তি হতে হয় গ্রামের সাধারণ বাংলা মিডিয়াম এক প্রাইমারি স্কুলে। তার ঠাম্মার হাত ধরে সে প্রবেশ করে এক নতুন জীবনে। জিপুর যাওয়া-আসার এই ফাঁকে সে হয়ে উঠে এক অন্য মানুষ।
উপন্যাসটির ভাষা অসম্ভব সুন্দর, সূর্যোদয়ের বর্ণনাটা পড়ার সময় আমার গায়ে রীতিমতো কাঁটা দিচ্ছিল। ঠাম্মার ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর বলা কথাগুলো সববয়েসীদের জন্যই উপযুক্ত।
জীবনে উন্নতি করতে গেলেই কেবল কম্পিটিশন, র্যাঙ্ক, ইংলিশ মিডিয়াম, নাক উঁচু ভাব, অসম্ভব নিয়মতান্ত্রিক জীবন কাটাতে হবে এ কোন কথা নয়। কিন্তু আমাদের অভিভাবকদের অনেকের মধ্যেই এই ধারণাটা শেকড় গেড়ে রয়েছে। ছোট শিশুদের মন কী চায়, আমরা ভাবি না। ক্লাসে ফার্স্ট হতে না পারলেই তাকে সকল কিছুর অযোগ্য ভেবে তিরস্কার করি, এতে তার সত্যিকার মনটাই মরে যায়। আর মিডিয়া কোন বড় ব্যাপার নয়, বড় ব্যাপার বক্তব্য, তা যে ভাষায় মনকে আলোড়িত করুক না কেন।
আমি ছোট্ট ছিলাম যখন, আমার বাবা আমাকে অনেক গল্প, অনেক ছড়া, বিশ্বের চমকপ্রদ সব গল্প, রাজধানীর নাম শোনাতেন রোজ ঘুমানোর সময়। আমি সেসব শুনতে শুনতেই শিখে ফেলেছিলাম অনেক কিছু। পরবর্তীতে বই পড়ার স্পৃহা তৈরিতে এই বিষয়টাই সাহায্য করেছিল। যেকোন বিষয়ে, আগ্রহ তৈরি করতে পারাটা আসল বিষয়। জিপুর যাওয়া-আসাতেও এই বিষয়টা খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক।
লেখকের লেখা এই বইটিই আমার প্রথম পড়া হল। খুব আনন্দময় অনুভূতি।