Purnendu Patri (sometimes Anglicised as Purnendu Pattrea) was an Indian poet, writer, editor, artist, illustrator, and film director. He was best known for his poems and stories, particularly for his poetry collection Kathopokathan in Bengali, and for his experimentation with book cover design. He also was a researcher of the history of Kolkata.
কলকাতার প্রথম পূর্ণেন্দু পত্রীর কলকাতা সিরিজের এমন এক বই যার বিস্তার শুধু কলকাতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটাকে মূলত বাংলার প্রথম বলা যায়। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে ভূমিকা রাখে এমন একগাদা প্রথমের ইতিহাস স্বল্প পরিসরে টেনেছেন। তথ্যের অপ্রাপ্তির অভাবে সেগুলো কেবল একটা ছোট ধারণাতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। তবে প্রথম কোনো কিছু শুরু করা যেহেতু তুলনামূলক কঠিন কাজ সেহেতু এর পেছনে কাজ করে যাওয়া ব্যাক্তিদের নাম সচেতনভাবেই পাদপ্রদীপে আনার চেষ্টা করেছেন লেখক।
যেসব প্রথম নিয়ে আলোচনা করেছেন লেখক সেগুলো হলোঃ- প্রথম বই, নাটক, নাট্যশালা, থিয়েটার, উপন্যাস, ইংরেজি স্কুল, মেয়েদের স্কুল, মেলা, বাংলা ও ইংরেজি সংবাদপত্র, বাগান, কংগ্রেস সভাপতি, সার্কাস ও প্রথম সিভিলিয়ান।
সব কিছুর প্রথম নাকি সুন্দর হয়। আবার বলা যায় প্রথম ব্যাপারটি একটু বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ন হয়ে থাকে। পৃথিবীর শুরু থেকে আজ পর্যন্ত প্রথম স্থান দখল করেছে অনেক কিছুতেই। সব গুলো বিশেষ স্থান না পেলেও কিছু কিছু বিষয় ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে রয়েছে। এই যেমন বলা যায় মানুষের চাদে অবতরন।
এটা নিয়ে তর্ক বিতর্ক আলাদা করে রাখে ভেবে দেখুন তো প্রথম বার মানুষ চাদে পা রেখেছে, যা স্বপ্নেও হয়ত অনেকে ভেবে দেখেনি। এখন তো মানুষ মঙ্গলে থাকার পরিকল্পনা করছে। যাক সেসব কথা, তবে আমাদের ইতিহাসের একটা অধ্যায় হচ্ছে এই ভারতবর্ষ বিশেষ ভাবে কলকাতা। কলকাতাকে ঘিরে অনেক ইতিহাস লেখা হয়েছে আবার হবে। তবে কলকাতার ইতিহাসের প্রথম মানে এখানে প্রথম হয়েছে এমন কিছু নিয়ে লেখা হয়েছে “কলকাতার প্রথম” বইটি, লিখেছেন পূর্ণেন্দু পত্রী। . ইতিহাসের পাতায় কলকাতার নাম এসেছে বহুভাবে। কলকাতা জুড়ে রয়েছে ইতিহাস আর বিশেষ ভাবে বাঙালিদের ইতিহাসের সাথে কলকাতার নাম জড়িয়ে আছে সর্বাজ্ঞ ভাবে। যতদূর ইতিহাস ও গবেষকরা মনে করেন ১৬৯০ সালের ২৪ শে আগস্ট নাকি কলকাতার জন্ম হয়েছিল। যদিও এ নিয়ে বিস্তর মতভেদ রয়েছে। তা সেই ইতিহাস আজও জমে রয়েছে কলকাতার অলিতে গলিতে।
যাঁরা সেই ইতিহাস সন্ধানে আগ্রহী তাঁদের রসদের অভাব ঘটার কথা নয়। আছেন শ্রী রথীন মিত্র, হরিপদ ভৌমিক, বিনয় ঘোষ, শ্রীপান্থ প্রমুখ দিকপাল গবেষক-লেখকরা। এঁদের লেখায় যে কলকাতাকে পাই, সে 'বড়োদের কলকাতা'। ঠিক তেমনি, ছোটোরাও যাতে এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলতে পারে গোটা কলকাতাকে, এক দৌড়েই তাদের চেনা হয়ে যায় পুরোনো শহরটাকে,সেই তাগিদ থেকেই কলকাতা নিয়ে কম করে আটটি বই লিখেছিলেন পূর্ণেন্দু পত্রী। . এই বই গুলো হচ্ছে কলকাতার রাজকাহিনী,পুরনো কলকাতার পড়াশোনা, ছড়ায় মোড়া কলকাতা, কী করে কলকাতা হলো, এক যে ছিল কলকাতা, জোব চার্নক যে কলকাতায় এসেছিলেন, কলকাতার গল্পসল্প, কলকাতার প্রথম। আমি যদিও এদের মধ্যে মাত্র দুটি পড়েছি। একটি কলকাতার রাজকাহিনী ও অপর এই কলকাতার প্রথম। যেই বইটি নিয়ে এখন লিখছি। তবে বাকি গুলো সংগ্রহ করব। সেসব পরের কথা। আপাতত বই নিয়ে আলোচনা করা যাক। . “কলকাতার প্রথম” বইটি ছোট বলে মোটেও ছোট নয়। বইটি তথ্য ভান্ডারে ভরপূর। ছোট বইটিতে গল্পের মাধ্যমে লেখক তুলে এনেছেন কলকাতার ইতিহাস। কলকাতার ইতিহাসের প্রথম বই থেকে শুরু করে প্রথম কংগ্রেস সভাপতি। সেই সাথে সার্কাস থেকে শুরু করে নাট্যশালা। আবার আমরা দেখতে পাই পলাশীর যুদ্ধের আগে ও পরের কলকাতাকে।
লেখক তার কলমে কলকাতার তখনকার অবস্থার বর্ণনা যেমন সাবলীল ভাবে করেছেন তেমনি দেখিয়েছেন তখনকার সমাজ ব্যবস্থার। তুলে এনেছেন তখনকার কুসংস্কার ও অন্ধকারাচ্ছন সময়কে। আমরা একই সাথে দেখতে পাই কিছু মানুষ যারা সমাজের বিশেষ ভাবে বাঙালি সমাজের মধ্যে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন, ঠিক অপর দিকে তাদেরই বিরোধীতা করছে সেই বাঙালি সমাজের একাংশ। . এই বইটি থেকে একটা মজার তথ্য হচ্ছে আমি স্কুলে পড়ার সময় বাংলার প্রথম পত্রিকা নিয়ে পড়েছিল “সমাচার দর্পন” এবং “বাঙ্গালা গেজেট” দুটোই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কোনটি প্রথম এই নিয়ে বির্তক রয়েছে। এখনও বিতর্ক আছে কিনা সঠিক ভাবে আমার জানা নেই। তবে পূর্ণেন্দ পত্রীর তথ্য অনুযায়ী প্রথম বাংলা পত্রিকা হচ্ছে “বাঙ্গালা গেজেট”। এ সম্পর্কে বলা যায় যে পত্রিকাটি একজন বাঙালি প্রকাশ করেছিলেন। অপর দিকে “সমাচার দর্পন” মিশনারীরা বের করেছিল। এই নিয়ে বিতর্ক থাকুক। চলুন অন্য দিকে দেখা যাক। সেটা হচ্ছে বাংলার সাহিত্য, আবার বলা যায় প্রথম উপন্যাস কোনটি বাংলার। . টেকচাঁদ ঠাকুরের নাম আমরা কতজন শুনেছি। এটা প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম। তিনি বাংলার প্রথম উপন্যাস “আলালের ঘরের দুলাল” লিখেছেন। এক্ষেত্রে আমরা যাকে সাহিত্য সম্রাট বলি সেই বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন যে, তিনি প্রথম দেখিয়েছেন আমাদের কাছেই অনেক উপাদান রয়েছে লেখার মত। আমাদের ধার করার কোন দরকার নেই। এর কারণ ছিল এই উপন্যাসের আগে সব কিছুই ইংরেজি বা সংস্কৃত থেকে নিয়ে লেখা হত বা অনুবাদে করা হত। . এছাড়া প্রথম স্কুল, প্রথম বাগান সব কিছুর ইতিহাস উঠে এসেছে এই বইটিতে। বইটিতে এত তথ্য একেবারে নেয়াটা কিছুটা কষ্টসাধ্য তবুও লেখকের লেখনিতে তার কোন ছাপ নেই। দারুন ভাবে সব কিছু গুছিয়ে লিখেছেন।
বইটি যদিও মনে হবে ছোটদের তবে এটা পড়ার পর মনে হচ্ছে অনেক কিছুর ইতিহাস এখনও জানা হয়নি। তবে এটা বলতে পারি বাঙালির ইতিহাসে কলকাতার গুরত্ব অনেক বেশি। প্রথম বই থেকে শুরু হয়ে নাটক, নাট্যশালা, সার্কাস থেকে প্রথম সিভিলিয়ান সব কিছুকেই ঘিরে আছে কলকাতা। আর লেখক সেসব তুলে এনেছেন ইতিহাসের পাতা থেকে।
সম্পদ দাশ জন্মগ্রহণ করেন উত্তরবঙ্গের সিরাজগঞ্জ জেলায়, পড়ালেখাও করেন সেখানেই।
ধর্মীয় আবহের মধ্যেই বেড়ে উঠেছেন এবং "সমাজ দর্পণ" পত্রিকার মাধ্যমে লেকালেখিটা শুরু করেন। লেখক সনাতন হিন্দু দর্শনের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। বিভিন্ন পত্রিকা, স্মরণিকা ও পূজা সংখ্যায় তার বহু গবেষণাধর্মী লেখা প্রকাশিত হয়েছে, একই সাথে সম্পাদনা করেছেন অনেক স্মরণিকার।
"বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণ " লেখক সম্পদ দাশের একটি গবেষণাধর্মী বই। এটা শ্রীকৃষ্ণের জীবনের কিঞ্চিৎ প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছেন মাত্র।
রাজনৈতিক এক অস্থির সময়ে দেবকী ও বসুদেবের ঘরে জন্ম নেন শ্রীকৃষ্ণ তবে বড় হয়ে ওঠে যশোদা ও নন্দলালের ঘরে। জন্মের সময়ের রাজনৈতিক চাল ও সত্যকে প্রতিষ্ঠার জন্য ঘটতে থাকে একের পর এক কাহিনি।
শ্রীকৃষ্ণ মহাভারতের নায়ক। এখানে তাঁর ধর্মসংস্থাপনের আসল রূপরেখা দেখতে পাই।
বিখ্যাত পুরাণ গবেষক নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ীর কথার অনুকরণে আমরা বলতে পারি--" একজন জলজ্যান্ত মানুষ হিসেবে কৃষ্ণের নামটি প্রথম পাওয়া যায় ছান্দোগ্য উপনিষদে।" ছান্দোগ্য একটি প্রাচীন উপনিষদ। সেখানে দেখা যাচ্ছে আঙ্গিরস গোত্রীয় ঘোর নামক ঋষির কাছ থেকে আমাদের দেবকীনন্দন শ্রীকৃষ্ণ উপদেশ গ্রহণ করছেন।
"বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণ " বইটি সাতটি অধ্যায়ে বিভক্ত-- শ্রীকৃষ্ণ ইতিহাসের উৎস সন্ধান, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্ম, শৈশব ও কৈশোরে শ্রীকৃষ্ণ, মথুরা থেকে দ্বারকা, মহাভারতের পথে, কুরুক্ষেত্রের প্রান্তরে ও মহাপ্রস্থানের পথে বিষয় ভিত্তিক অধ্যায় উল্লেখ করেছেন, এরমধ্যে বিষয় ভিত্তিক বস্তুনিষ্ঠ অনেক গুলো উপ অনুচ্ছেদ সংযুক্ত করেছেন।
পৃথিবীতে ভালো বইয়ের অভাব নাই। তবে সেই ভালো বই পড়ে ভালো মানুষ হয়ে ওঠা মানুষের বড়ই অভাব। মহাভারত বিশাল বিস্তৃত কাহিনি আর এর চরিত্র ও অসংখ্য। সেই চরিত্র নিয়ে আলাদা করে বই লেখা হয়েছে খুবই কম। শ্রীকৃষ্ণকে নিয়েও লেখা বইয়ের সংখ্য কমই। এ ক্ষেত্রে লেখক সম্পদ দাশ শ্রীকৃষ্ণের জীবনের প্রতিচ্ছবির আলোকে লিখেছেন "বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণ " বইটি।
প্রতিটি আলাদা অধ্যায়ে লেখার সাথে তিনি তার বিশ্লেষণ করেছেন। দিয়েছেন নিজের বৈজ্ঞানিক মতবাদ সাথে বঙ্কিমচন্দ্রের মতবাদও তুলে এনেছেন। শ্রীকৃষ্ণের জীবনের অনেক ঘটনার আষাঢ়ে গল্প বলে সাধারণের কাছে মনে হয় বা মহাভারত, গীতা, পুরাণ ইত্যাদি নানা ধর্ম গ্রন্থ পড়ে অনেকের মনেই নানান প্রশ্ন জাগে কিন্তু তার উত্তর খুজে পাওয়া যায় না সে করম অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে বইটাতে সেই ঘটনার ব্যখ্যা সহ।
তাছাড়া অসংখ্য বইয়ের সাহায্য নিয়েছেন লেখক এই বইটা লেখার জন্য, সেই বইগুলোর নাম ও তিনি প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে দিয়ে দিছেন সেক্ষেত্রে যারা ধর্মীয় গ্রন্থের লিস্ট খোঁজেন তাদের খুবই কাজে দিবে।
লেখকের প্রথম বই পড়লাম। বর্ণনার অহেতুক বাড়াবাড়ি বা কাহিনি নিয়ে নিজের মত করে ঘোরানো প্যাচানো মনে হয় নি। সাবলীল ভালোই বইটি লিখেছেন দিয়েছেন শ্রীকৃষ্ণের জীবনের নানা ঘটনার সহজ ব্যখ্যা।
সহজ সরল ভালো লেখা ধর্মীয় বইয়ের বড়ই অভাব বোধ করি, এটা হয়তো বইয়ের খোঁজ খবর না জানার কারনে। আগামীতে আরও সুন্দর সুন্দর বই আমাদের উপহার দিবেন লেখকের প্রতি সেই শুভকামনা রইলো।
আজকাল কত রকম বই পড়ি আমরা। গদ্যের, পদ্যের। গল্পের, উপন্যাসের। কবিতার, ছড়ার। তখন আমাদের মনে আসে না এই রকম প্রশ্ন যে, প্রথম বই ছাপা হলো কবে আমাদের দেশে। কিংবা প্রথম বইটা লিখলো কে। আর সেই প্রথম ছাপা বইটা গদ্যের, না পদ্যের।বা প্রথম ছাপাখানাটাই বা কোথায়?কিংবা প্রথম মেলা বা সার্কাস ই কবে প্রথম হলো?কিংবা প্রথম নাটক বা প্রথম বাংলা নাট্যশালাই বা কবে কোথায় প্রতিষ্ঠিত হলো?কিংবা প্রথম মেয়েদের স্কুল,প্রথম বাগান কিংবা প্রথম সিভিলিয়ান ই বা কে।অথচ এমন কিছু দূরের ঘটনা নয় এসব। এখন থেকে মাত্র দুটো শতাব্দী পিছিয়ে গেলেই জানা হয়ে যাবে সব।এই সকল কৌতহল নিবারণ করা যাবে কলকাতায় প্রথম বই টি পড়ে।কলকাতার উপর পূর্ণেন্দু পত্রী প্রায় ডজন খানেক বই লিখেছেন।এটি তার মধ্যেই একটি!
কলকাতার প্রথম পূর্ণেন্দু পত্রী দে'জ পাবলিশিং মম: ১০০/-
কলকাতার ইতিহাসের একটা teaser বলা যেতে পারে। কলকাতার বুকে প্রথম বই, প্রথম সংবাদপত্র, প্রথম স্কুল, প্রথম ছাপাখানা, প্রথম মেলা, প্রথম সার্কাস এই সব তথ্যের সাথে সামান্য পরিচয় করা যায়। পড়তে ভালো লাগলো, কিন্তু আকারে খুব ছোট। কলকাতার সমস্ত সর্বপ্রথম তালিকা নিয়ে একটি বই হয়তো সম্ভব নয়, বইটি পড়ে আরো জানার ইচ্ছে রয়ে গেলো।