ত্রিম ব্রিম বাজনদার, বোল তুলেছে সোনার তার, শেয়াল-বোন কি আছে ঘরে? গুটি-সুটি কোটর জুড়ে?
মনমরা থাকলে/মন খারাপ থাকলেই এই বই থেকে কয়েকটা পড়তাম। আমি বইটা শেষ করার মত কোন উদ্দেশ্য নিয়ে পড়নি। মন খারাপের ওষুধ হিসেবে কাজে লাগিয়েছি মাত্র, যার কারণে বইটা শেষ হতেও বেশ লম্বা সময় নিয়েছে!! কিন্তু এই বইয়ের সাথে যাত্রা বেশ আনন্দের আর মজার ছিল।
এই বইটা পড়তে পড়তে ছোট বেলায় আমার নানি/খালাদের মুখে শুনা "কেচ্ছা"-এর কথা মনে পড়ে গেল। আমার নানি যেই না কেচ্ছা/উপকথা শুরু করতেন তখন "এক ছিল রাজা" বলে, তখন যেন পুরো দুনিয়া স্তব্ধ হয়ে যেত নানির গল্পের কাছে। এরপর ভাবতাম "আহা ঐসব দেশে যদি যেতে পারতাম"
এই বইয়ের কেচ্ছা/উপকথাগুলোও ঠিক তেমন। এখানে আছে বিভিন্ন রাজা, রাণী, সাধারণ কিন্তু অসাধারণ শক্তির কিছু মানুষ। বুঝতেই পারছেন বইটা বাচ্চাদের জন্যে একদম যোগ্য একটা বই। সুতরাং, আপনি যদি এই বইটি পড়তে চান, তাহলে অত বিচার-আচার করা চলবে না। শুধু মজা নেওয়ার জন্যেই পড়বেন।
আমি কেন পড়লাম এই বই: ১। শুরুর কিছু গল্পে বেশ মজা পেয়েছিলাম, যার কারণে পড়ে গিয়েছি ২। ননীর অনুবাদের কারণে। এই বইকে আমি অনুবাদ সাহিত্য বলব না, বরং সাহিত্যের একটা অংশ এই বই(বেশ ভালভাবেই সাহিত্যে এক বিরাট সম্পদ বলা যায়) উনার এক বাক্যের সাথে অন্য বাক্যের ছন্দের মিল করানো, শব্দের ব্যবহার, উপকথার উপযোগী করে বাক্য বানানো। এসব কিছু একসাথে করলে বলা যায় ইহা সাহিত্যের একটি সম্পদ এবং লেখার স্টাইল, বাক্যে ছন্দ এসব শেখার জন্য/উপভোগ করার জন্য হলেও বইটা পড়া উচিত
সুতরাং, যারা বিভিন্ন ধরণের সাহিত্যের স্বাদ নিতে চান তারা অবশ্যই পড়তে পারেন বাচ্চাদের জন্য কিন্তু ভীষণ উপভোগ্য, ছন্দে ছন্দে গল্পের এই বইটি
বি:দ্র: সব কথার শেষ কথা, এমন আনাড়ি রিভিউ এর জন্য বরাবরের মত দুঃখিত। যা বলেছি তা আমার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত। ভুল কিছু বললে ক্ষমা-সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল
সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে মুদ্রিত বইগুলোর মধ্যে একেবারে আত্মার সাথে জড়ানো আছে ননী ভৌমিক অনূদিত বই, ' রুশদেশের উপকথা'। এই বইটা যে বোনদের মুখে কত হাজার বার শুনেছি আর নিজেও পড়েছি! এখনও এর অনেক গল্প ছড়াসহ মুখস্থ রয়ে গেছে। আমাদের দেশীয় রূপকথায় যেমন শেয়ালকে বুদ্ধিমান ধরা হয়, রুশী উপকথায় তেমনি সব মুস্কিল আসান হয়ে হাজির হত পাঁশুটে নেকড়ে। রাজপুত্র রাজকন্যার গল্প তো ছিলই, ডাইনি বাবা ইয়াগা, ঝলমলে বাজ-ফিনিস্ত, বরফ-বুড়ো, যাদুকরী ভাসিলিসা কথাই বা বাদ দেই কি করে!
আমাদের দেশের রূপকথার সাথে একটা পার্থক্য পেলাম। খুব বড় পার্থক্য। আমদের দেশের রূপকথাগুলিতে কেউ কাওকে মেরে ফেলে না। কিন্তু এখানে মেরে ফেলাটা খুব স্বাভাবকভাবে দেখানো হয়েছে। ভায়োলেন্সের খবরাখবর না জেনে বড় হয়ে আমরা মুখোমুখি হচ্ছি ভায়লেন্সের। আর ওরা বড়ই হচ্ছে ভায়োলেন্সের গল্প পড়ে পড়ে! দারুণ সব গল্প ছিলো।
এ যেন আমার শৈশবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভাসিলিসা, ইভান, পাশুটে নেকড়ে, শীতের বাসায় থাকা জন্তুগুলো। সেই ১৯৯৭ এ পড়া বই, কিন্তু বইটা পড়ার ভালোলাগা আজো যায় নি!
বইয়ের নামঃ রুশদেশের উপকথা সম্পাদনাঃ ননী ভৌমিক অনুবাদঃ সুপ্রিয়া ঘোষ প্রথম প্রকাশঃ ১৯৫২ প্রকাশনীঃ রাদুগা প্রকাশন, মস্কো পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ২৫৬
আমাদের সকলেরই জীবনে এমন কিছু বই থাকে, যেগুলোর সাথে মিশে থাকে শৈশবের নানান রঙিন স্মৃতি ও একরাশ নস্টালজিক অনুভূতি; যে বইগুলো বারবার পড়লেও আঁশ মেটে না, যেগুলোর আকর্ষণ থেকেই যায় জীবনভর। আমার জীবনের এমনই একটি বই এই 'রুশদেশের উপকথা', যা ছেলেবেলার মত এখনো আমাকে মুগ্ধ করে ঠিক একইভাবে!
প্রতিটি জাতি ও সভ্যতারই রয়েছে নিজস্ব কিছু গল্প, কিছু রূপকথা, দাদু-ঠাকুমাদের কোলে যেগুলো শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে যেত শিশুরা। সেই গল্পগুলোতে থাকতেন রাজারানীরা, ছোট্ট রাজপুত্র আর রাজকুমারীদের নিয়ে, আর তাদের জীবনে শনি বয়ে আনত দুষ্টু ডাইনিবুড়ি ও রাক্ষস খোক্কসের দল। 'রুশদেশের উপকথা' ও তেমনি কিছু মিষ্টি মিষ্টি রূপকথার গল্প নিয়েই সাজানো, তবে এতে যেমন রাজারানীর গল্প আছে, তেমনি আছে খেটে খাওয়া কিছু পরিশ্রমী মানুষের গল্প, আছে জীবজন্তুর গল্প, আছে মানবতার গল্প! আর সবচেয়ে বড় কথা এই যে, প্রতিটি গল্প পড়ে রাশিয়ার সংস্কৃতি-সভ্যতা ও জীবনযাত্রার বেশ দারুণ পরিচয় পাওয়া যাবে।
বইটির প্রতিটি গল্পেই রয়েছে বনজঙ্গল, দুরন্ত নদীনালা, বিস্তীর্ণ স্তেপ অঞ্চল কিংবা সুউচ্চ পর্বতের উল্লেখ, যা শত শত বছর ধরে নানা রূপ নানা বাঁক নিলেও এখনো সব বয়সী পাঠককে আকর্ষণ করে ঠিক আগেরই মত। শিশুদের কল্পনার জগতে রঙতুলির আঁচড় কাটতে ঝলমলে গল্পগুলোর কোন তুলনাই হয়না।
বইটিতে আছে মোট ৩৩ টি গল্প, যেগুলোর মাঝে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে শীতের বাসা, সাত-বছুরে, অভাব, যমরাজ ও সৈনিক, যাদুকরী ভাসিলিসার কথা, ব্যাঙ রাজকুমারী, অজানি দেশের না জানি কি সহ আরো অনেকগুলো গল্পই। বেশ কয়েকটি গল্প প্রতীকী অর্থে আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় মেসেজও দেয়, আবার কিছু গল্প নিছকই শিশুকিশোরের ফ্যান্টাসির দুয়ারকে মেলে দেয়ার জন্য সহায়ক, যেমন জীবজন্তুর কথা বলতে পারার ক্ষমতা এবং একই সাথে বইটিতে থাকা ঝলমলে কিছু চিত্রাঙ্কন।
আমি আজো ভুলতে পারিনি সাত বছুরে মেয়েটির তার বাবার প্রতি ভালবাসা ও নিজের বুদ্ধিমত্তার কাহিনী, যাদুকরী ভাসিলিসার অপার সৌন্দর্য ও যাদুকরী ক্ষমতার কাহিনী, কিংবা চতুর সৈনিকের কাছে যমরাজের বুদ্ধির খেলায় হেরে যাওয়ার মজার কাহিনী। তাছাড়াও বইটিতে রয়েছে বেশ কিছু কাল্পনিক রুশ বীরদের আখ্যান, যাদের দেশপ্রেম ও অন্যায়ের প্রতি নির্ভীকতা ঠিকই তাদের মধ্যকার লালিত স্বপ্নকে ফুটিয়ে তুলেছে অসাধারণভাবে।
পরিশেষে রুশ গল্প সংকলক এ পমেরান্তসেভার ভাষাতেই বলতে চাই, রুশদেশের উপকথাগুলোর মোহনীয়তায় বড় ছোট নির্বিশেষে সকলেরই আকৃষ্ট না হয়ে উপায় নেই, কেননা এই সব গল্প দেশকে ভালবাসতে শেখায়, সাধারণ মানুষের শক্তিতে আস্থা রাখতে বলে, উন্নত ভবিষ্যত এবং মন্দের উপর ভালর জয়ের প্রত্যয় গড়ে তোলে।
শিশু কিশোরদের পাঠের জন্য মূল্যবান একটি বই। বইটি পড়তে গিয়ে বারবার উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরির লেখা বিভিন্ন উপকথাসমগ্র ও তার কিশোর উপযোগী লেখাগুলোর কথা মনে পড়ছিল। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সাহিত্যগুলো বরাবাই অনবদ্য। প্রচলিত উপকথাগুলো যখন ছোট ছোট গল্প আকারে আমাদের সামনে আসে তখন সেগুলো পড়ে পড়ে হাঁসির খোঁড়াক জোগাতে খুব সুভিদা হয়। কিশোর কিংবা শিশুদের উপহার দেওয়ার জন্য বইটি প্রথম পছন্দ হিসেবে থাকবে।
I always had a thing for books with folklore of any country. I have spent a good amount of my childhood reading Chinese myths, Japanese folklore, Arabian nights etc. So, when I came across this book I just had to read it! While some stories in this book were really interesting in the beginning, later the translation of few lines complicated the experience of reading the book.
"অমনি এমন সুন্দর হয়ে উঠলো যে সে রূপ বলার নয়, কওয়ার নয়, কলম দিয়ে লেখার নয়।"
রূপকথায় এভাবেই সাধারণ মানুষ অসাধারণ হয়ে উঠে। জয় করে ফলে জল, স্থল, আকাশ আর রাজকন্যা। যেহেতু রুশদেশের উপকথা তাই এখানে সব রুশিদের বুদ্ধি আর সাহসিকতার জয়জয়কার।
বেশকিছু গল্প ভালো লেগেছে, কিছু মোটামুটি। পড়া শেষ করে আমার মনে হয়েছে ওই আমাদের ঠাকুমার ঝুলির গল্পগুলোই সেরা।
অনেকদিন ধরে একটি-দুইটি করে গল্প পড়ে শেষ করলাম। অনেক গুলো গল্পই বেশ ভালো লেগেছে। বিশেষ করে প্রথম দিকের গল্প গুলোর জন্য ৫⭐ দিয়া। শেষের কিছু গল্পের চরিত্রের নাম পড়তে দাঁত ভেঙ্গেছে। শেষ করার পর মাথায় ঘুরছে একটি লাইন- রাত পোয়ালে বুদ্ধি খোলে। আচ্ছা যাই ঘুমাই, দেখি আমার বুদ্ধি খোলে কিনা...
রাশিয়ান রূপকথা বরাবরই প্রিয়। মূলত আমার বই পড়ার শুরুই রাশিয়ান রূপকথার মাধ্যমে, তাই ভালো লাগাটাও বেশি৷ এই বইটাও স্বপ্নের এক জগৎ। প্রতিটা গল্পই চমৎকার
"শয়তান স্থির জলে বাস করে" রুশদেশের লোকেরা অসংখ্য গাথা, নীতিকথা, সূক্ষ্ম হেঁয়ালি আর চমৎকার সব রুপকথা রচনা করেছে। দেখা যায় এসব কাহিনির গল্পকথকদের কেউ থাকে দুরন্ত নদীর পাড়ে, কেউবা বিস্তীর্ণ স্তেপ অঞ্চলে, কারও বাস সুউচ্চ পাহাড়ে, কারওবা ভীষন গহীন বনে। এসব কাহিনির বেশিরভাগই যখন প্রথম বলা হয় তার বহু শতাব্দী পার হয়ে গেছে। যারা কাহিনি বলেছে তারা তাদের পছন্দ মতো, তাদের ইচ্ছানুযায়ী এদিক ওদিক বাড়িয়ে নতুন কিছু যোগ করে ভিন্ন রুপ দিয়েছে। কাহিনিগুলো যতই পুরনো হয়েছে ততই তাদের শিল্পগুন বেড়েছে। শত শত বছর ধরে লোকেরা তাদের মেজে ঘষে তুলির নানা টানে এদের একেবারে নিখুঁত করে তুলেছে।
এসব কাহিনির মধ্যে এমনসব কাব্যরসের পরশ আছে যার টানে রুশদেশের বড় বড় সাহিত্যিক, শিল্পী বা সঙ্গীতজ্ঞ এ থেকে প্রেরনা গ্রহন করেছেন। রুশদেশের বিখ্যাত কবি আলেক্সান্দ্র সের্গেয়েভিচ পুশকিন, তাঁর বুড়ি দাইমার কাছে এসব কাহিনি শুনতে ভালোবাসতেন। পুশকিন বলেছেন, "কী অপরুপ এই রুপকথা! প্রত্যেকটি যেন এক একটি কবিতা।" রুশি শিশুরা জীবজন্তুর গল্প অনেক জানে। এই জীবজন্তুর গল্পগুলো অনেককাল আগে শিকারিরা রচনা করেছে, তারা বনের জীবজন্তুকে ভালো করে চিনেছিল, দেখেছিল তাদের প্রত্যেকেরই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও ব্যক্তিত্ব আছে। এই গল্পগুলো তাৎপর্যপূর্ন হয়ে উঠেছে নীতিকথার মতো। তাতে রুপকের আকারে মানুষের লোভ, ধূর্তামি, নির্বুদ্ধিতা প্রভৃতি নানা দোষ ও দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে।
বইটি সম্ভবত আমার জীবনের প্রথম পড়া বইগুলোর মাঝে একটি। যখন পড়তে পারতাম না তখন এর গল্প শুনেছি, এরপর যখন আস্তে আস্তে পড়তে শুরু করেছি তখন পড়েছি গোলরুটির গল্প। এরপর ধীরে ধীরে একদিন সব পড়ে ফেললাম, এরপর বার বার পড়লাম। ভাসিলিসা, ইভানের সাথে পরিচয় হলো, পরিচয় হলো অ-জানি দেশের না-জানি কি এর সাথে, বাবা ইয়াগার সাথে। বইটি এবং এর প্রতিটি গল্প আজীবন আমার খুব প্রিয় গল্পগুলোর মধ্যে থাকবে।