৩.৫/৫
রম্যগল্পে তারাপদ রায়ের দক্ষতা প্রশ্নাতীত। তার রম্য বা হাসির গল্পের বেশিরভাগ সময়ই গূঢ় কোনো অর্থ নেই, সেগুলো নিখাদ হাসির গল্প। প্রাঞ্জল ও কৌতুকপূর্ণ এসব গল্প পড়ে হা হা করে হেসে ওঠার সমূহ সম্ভাবনা আছে।কৌতুক আনতে যেয়ে যে ভাঁড়ামির কোনো প্রয়োজন নেই সেটাও তারাপদের গল্প পড়ে নতুন করে অনুধাবন করা যায়। গেঞ্জি, কবিতা ও ফুটবল, টমাটো সস, খদ্দের, দাঁত -শুধু হাসির নয়,সাধারণভাবে গল্প হিসেবেও অসাধারণ। ভ্রমণ কাহিনী, চতুরঙ্গ, একটি দুর্ঘটনা গল্পের অন্তর্নিহিত শ্লেষও ভাবিয়ে তোলে। তারাপদের গল্পে আত্মজৈবনিক উপাদানের ছড়াছড়ি। অনেক সময়ই গল্পে নির্দিষ্ট কোনো কাহিনি নেই। কিন্তু প্রায় সময়ই গল্প হিসেবে আকার পেয়ে যায়। কিছু আত্মজৈবনিক গল্প স্মৃতিকথা হিসেবেই ভালো, গল্প হিসেবে নয়।লেখকের বয়ানে বারবার ফিরে এসেছে পূর্ববঙ্গ, বিচিত্র সব মানুষ আর ঘটনা। অজপাড়াগাঁ থেকে চার বেকারকে নৌকায় করে গঙ্গার জল আনতে পাঠানো, আয় বাড়ানোর জন্য ফুটবল ম্যাচে পকেটমারকে রেফারি হিসেবে নিয়োগ(যার প্রধান কাজ মার খাওয়া), বিদেশ থেকে আনা টমাটো সসকে মদ ভেবে তুলকালাম কাণ্ড, টমটমপুরের সিদ্ধিখোরদের রাজত্ব, হনুমানের হাতে পুলিশ অফিসারের চড় খাওয়া অথবা খুব সাধারণ একটা পুরনো ফটোগ্রাফ -সবই তারাপদ রায়ের গল্পের উপাদান। খুব বেশি প্রত্যাশা না থাকলে পড়ে আনন্দ পাবে যে কেউ।
(২ সেপ্টেম্বর, ২০২২)