আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি (The Diary of a Young Girl)
জনরা: জীবনি গ্রন্থ/দিনলিপি/ইহুদি কালচার
পেইজ: ২৪০
সময়: ৪-৪.৩০ ঘন্টা
পাররেটিং: ৪.৫/৫
গুডরিডস রেটিং: ৪.১৭/৫ (৩২,৯৪৪ ভোট)
পূর্বকথন:
জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করা এক ইহুদি পরিবারের তের বছর বয়সী সদ্য কিশোরি আনা ফ্রাঙ্ক। জন্মদিনে গিফট পায় একটা ডায়েরি। সেখানে জীবনের প্রতিটা দিনের ঘটনা লিখে রাখার মাধ্যমে আজ এই বই হাতে পেয়েছি। তার বাবা অটো ফ্রাঙ্ক, মা এডিথ ফ্রাঙ্ক ও বোন মার্গেট ফ্রাঙ্ককে নিয়ে ছোট্ট সুখি পরিবার। জন্ম ১৯২৯ সালে। জার্মানিতে ক্ষমতার পালাবদলে জার্মানির ভাইস চ্যান্সেলর তখন 'হি*ট*লা*র'। গড়ে তোলা হলো 'না*ৎ*সি' বাহিনী। এরপর শুরু হয় ইতিহাসের বর্বরোচিত ঘটনাগুলোর একটা। ইহুদি নির্মুলে আগ্রাসি আচরণের হাত থেকে বাঁচতে মানুষ দিগবিদিক পালিয়ে বেড়াতে থাকে। ধরা পড়ার পর ইহুদি পরিচয় পাওয়া গেলে পাঠানো হতো অনিরাপদ, অস্বাস্থ্যকর বন্দি শিবিরে, পরে এই বন্দিশালা হয়ে যায় ইহুদি নিধন কার্যক্রমের মূল আস্তানা। আর সাথে দ্বিতীয় যুদ্ধের বিভীষিকাময় পরিস্থিতির জন্ম হয়, সেই অধ্যায়ের এক সাক্ষি আনা ফ্রাঙ্ক। তার ডায়েরিতে দেখা মেলে অনিশ্চিত দিনগুলোর কাহিনী, বেঁচে থাকার জন্য মরিয়া হয়ে পালানোর চিত্র, ভয়াবহ দিনগুলা কাটানোর মূহুর্ত! ১৯৪২ সালে তার পরিবার 'না*ৎ*সি' বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে আত্মগোপন করে পরিবারটি। গোপন আস্তানায় আরও দুটো পরিবারের সাথে কাটে দীর্ঘ ২৫ মাস। এরপর নাৎসি বাহিনী গোপন আস্তানার সন্ধান পেয়ে সবাইকে বন্দি শিবিরে পাঠানো হয়। তার মায়ের পর অন্য এক শিবিরে মাত্র পনের বছর বয়সে মারা যান আনা ফ্রাঙ্ক। সেই শিবির থেকে একমাত্র বেঁচে যান আনা ফ্রাঙ্কের বাবা অটো ফ্রাঙ্ক। ১৯৪৭ সালে প্রথম প্রকাশ হওয়ার পর, ইংরেজি অনুবাদ হলে মানুষের মাঝে তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে পঠিত বইয়ের একটা, যা সবার মনকে নাড়া দিতে সক্ষম।
পার্সোনাল মতামত:
বইটা পড়ে আসলে হতভম্ব একপ্রকার। ১৩ বছরের একটা মেয়ে এতটা ইন্টেলেকচুয়াল হতে পারে জানা ছিল না! আত্মগোপনে থাকাকালীন প্রতিটা অভিজ্ঞতা, আধারের ঘেরা এক গুমট জীবন, কৈশোরের রঙিন স্বপ্ন, বয়ঃসন্ধির অভিজ্ঞতা, প্রেম সহ বিষয়টা খুব চমৎকার ভাষাই উল্লেখ করা আছে। ডায়েরিতে ইহুদিদের নির্যাতনের চিত্র আসেনি যদিও, কারন তার আগে তাকে বন্দি শিবিরে যেতে হয়। তবে আনা ব্যক্তিক্ত, উপলব্ধি ও বুদ্ধিক্ষমতা যে কাউকে মুগ্ধ করতে প্রস্তুত।
সত্যিই বলতে এতটা আত্মোপলব্ধি আমার এখনও আছে কিনা সন্দেহ করি! আর তার ঐসময়ে তো সম্ভবই ছিল না একপ্রকার।
আনার ডায়েরি লেখা পরবর্তী জীবন সম্পর্কে তেমন জানা যায় না। যতটা জানা যায় কনসেনট্রেশান ক্যাম্পে থাকাকালীন কঠোর পরিশ্রমের কাজ করতে হতো। এবং ১৯৪৫ সালে শিবিরে টাইফাস রোগ মহামারি আকার ধারণ করলে তাতে মারা যায়।
মাথায় প্রশ্ন এল পড়ার পর, যদি ডায়েরিটা শুরুতেই হারিয়ে যেত আমরা আসলেই ইতিহাসের একটা বড়ো অংশই মিস করে ফেলতাম!