শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের একটা কবিতার প্রথম লাইন হচ্ছে, "এভাবে নয়,এভাবে ঠিক হয় না।" আমাদের ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনের পরিবর্তন বলেকয়ে, ঢাকঢোল পিটিয়ে হয় না। সবার অগোচরে, নিভৃতে ধীরে ধীরে পালটে যায় সবকিছু।
এই বইটা অর্ধেক পড়ে রেখে দিয়েছিলাম কয়েকদিন। মজা পাচ্ছিলাম না। আমরা হেঁটেছি যারা বা চিঠিযুগের প্রথমে যে ভয়াবহতা ও তীব্র শংকার বোধ কাজ করেছিলো, এই উপন্যাসে তা একেবারেই নেই। পড়া শেষ করার পর বুঝলাম এভাবে লেখার উদ্দেশ্য।
মুক্তিযুদ্ধ শেষ। সবার চোখে স্বপ্ন। এই দেশ একদিন সত্যিকার অর্থেই মাথা তুলে দাঁড়াবে এ প্রত্যাশা সবার। এতো স্বপ্নভরা একটা দেশ কীভাবে শ্মশানঘাট এ পরিণত হলো? হলো আমাদের অবহেলায়, আমাদের দ্বিধা, শংকা, ভীতি, কুসংস্কার আর দায়িত্বহীনতায়। আমরা চুপচাপ দেখে গেছি, সহ্য করে গেছি, অন্যদের আশায় থেকেছি, মুখে প্রগতির কথা বলেছি; মনে শংকা, কূপমণ্ডূকতা আর ধর্মান্ধতা লালন করেছি, দেখেও সবকিছু না দেখার ভান করেছি আর যখন সত্যি সত্যি জাগার বেলা হয়েছে,তখন আবিষ্কার করেছি সবকিছু নষ্টদের অধিকারে চলে গেছে। এই উপন্যাস রাজাকারদের মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার, ধার্মিকদের ধর্মান্ধ হওয়ার, প্রগতিশীল একটি রাষ্ট্রের মোল্লাপ্রজাতন্ত্রে পরিণত হওয়ার, আমাদের আত্মবিনাশ ও পতনের করুণ ও নিঃশব্দ ইতিহাস।
(১ এপ্রিল, ২০২২)