‘যাবজ্জীবন’ ইমদাদুল হক মিলনের প্র্রথম উপন্যাস। ১৯৭৬ সালে ধারাবাহিক ভাবে ছাপা হয়েছিল বাংলা একাডেমীর সাহিত্য পত্রিকা ‘উত্তরাধিকার’ এ। উত্তরাধিকার সম্পাদনা করতেন তখন বাংলাদেশের বিখ্যাত কবি রফিক আজাদ। অতিযত্নে এবং মায়ায় এই তরুণ লেখকের লেখা তিনি প্রকাশ করেন। প্রথম উপন্যাসেই বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী শ্রেণী এবং মেধাবী পাঠকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেন ইমদাদুল হক মিলন। বিক্রমপুর অঞ্চলের একটি বাজার, বাজারের চারপাশের গ্রামের মানুষ, একটি সার্কাসপার্টি, দেশবিভাগ, হিন্দু মুসলমান সম্পর্ক এবং খড়কুটোর মতো ভেসে বেড়ানো কিছু অসহায় মানুষকে নিয়ে লেখা ‘যাবজ্জীবন’ বাংলাদেশের উপন্যাস সাহিত্যের এক মাইলফলক।
ইমদাদুল হক মিলন-এর জন্ম ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৫৫, ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে। পৈতৃক গ্রাম— লৌহজং থানার ‘পয়শা’। ঢাকার গেন্ডারিয়া হাইস্কুল থেকে এস এস সি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে অনার্সসহ অর্থনীতিতে স্নাতক।প্রথম রচনা, ছোটদের গল্প ‘বন্ধু’, ১৯৭৩ সালে। প্রথম উপন্যাস যাবজ্জীবন। ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে। প্রথম গ্রন্থ ভালবাসার গল্প (১৯৭৭) থেকেই তিনি বিপুলভাবে সংবর্ধিত, পাঠকপ্রিয়। ১৯৯২ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার। এ ছাড়া পেয়েছেন বিশ্ব জ্যোতিষ সমিতি পুরস্কার(১৯৮৬), ইকো সাহিত্য পুরস্কার(১৯৮৭), হুমায়ূন কাদির সাহিত্য পুরস্কার(১৯৯২), নাট্যসভা পুরস্কার(১৯৯৩), পূরবী পদক(১৯৯৩), বিজয় পদক(১৯৯৪), মনু থিয়েটার পদক(১৯৯৫), যায় যায় দিন পত্রিকা পুরস্কার (১৯৯৫)। ২০১১ সালে ‘নূরজাহান’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন আই আই পি এম সুরমা চৌধুরী স্মৃতি আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কার।