পাহাড়চূড়ার অদ্ভুত এক বাড়িতে বাস করেন হরর উপন্যাসের জনপ্রিয় লেখক এলিয়ট ব্রিণ্ডল, সেটার মালিক এককালে কালো জাদুর চর্চা করত। হঠাৎ করে ভৌতিক সব কাণ্ড ঘটতে শুরু করল বাড়িটাকে ঘিরে। মি. ব্রিণ্ডলের লেখা এক অপ্রকাশিত উপন্যাসের কাহিনি সত্যি হতে শুরু করল, একের পর এক অভিশাপ নেমে এল তাঁর ওপর। তদন্তে নামল অয়ন, জিমি আর রিয়া। কিন্তু শুরু থেকেই বাধার পর বাধা। খোদ মি. ব্রিণ্ডলই চাইছেন না, রহস্যটা ওরা ভেদ করুক। কেন? গোলমালের আভাস পাচ্ছে গোয়েন্দারা। শেষে নিজেরাই পড়ল বিপদে। হ্যালোউইনের রাতে ভয়ঙ্কর এক পিশাচের মুখোমুখি হলো ওরা।
আরো একটি একটানে পড়ে ফেলার মতো দুর্দান্ত জমজমাট অয়ন-জিমি মিস্ট্রি কিশোর থ্রিলার শেষ করে তৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। 'কালো জাদু' প্লটের দিক থেকে অধিকাংশ গড়পড়তার কিশোর রহস্য অ্যাডভেঞ্চার থেকে খানিকটা ভিন্নধর্মী ছিল, কেন্দ্রীয় রহস্যটা যেমন ছিল বেশ ইন্টারেস্টিং পাশাপাশি সাসপেন্স আর রোমাঞ্চও ছিল আগাগোড়া পূর্ণ মাত্রায়। এবারের ঘটনাক্রম আগের চেয়ে কিছুটা সিরিয়াস গুরুগম্ভীর, তাই চিরচারিত হাস্যরসের পরিমাণ ছিল (বিশেষত রিয়া'র উপস্থিতিতে যা হয় আরকি) তুলনামূলক কম। তবে তাতে গল্পের কোনো ঘাটতি অনুভূত হয়নি বরং গল্পের প্রয়োজনেই ভিন্নধরনের টোনে উপন্যাসটা সিরিজের মাঝে রিফ্রেশিং লেগেছে। টানটান উত্তেজনায় ঝড়ের বেগে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা উল্টাতে উল্টাতে অয়ন-জিমি-রিয়াদের এক ভুতুড়ে রহস্যময় বাড়ির প্রায়ান্ধকার গোপন অলিগলি দিয়ে অনুসরণ করার সময় লিটারেলি কয়েকবার শিহরণে গা কাঁটা দিয়ে উঠেছিল! (সেটা অত্যধিক শীতের কারণেও হতে পারে হয়তো, ধরে নিলাম বই পড়েই।)
নেতিবাচক যদি কিছু থেকেই থাকে (পরিমাণে কম হলেও) তা হলো জিমি'র চরিত্রটাকে প্রধান থেকে ডাউনগ্রেড করে অয়ন-রিয়া'র সহচর বানিয়ে দেয়া। এককালের সাহসী, রোমাঞ্চপ্রিয়, অয়নের প্রতি পদক্ষেপে পাশে থাকা জিমি বর্তমানে এমনই একটা সর্বক্ষণ ভূতের ভয়ে কাবু ভীতুর ডিম, রোমাঞ্চে-অ্যাডভেঞ্চারে-বিন্দুমাত্র বিপদের আভাসে উল্টো দিকে দৌড় দেয়া অনিচ্ছুক সঙ্গী হয়ে গেছে যে গোয়েন্দা দলটা এখন বেসিক্যালি 'অয়ন-রিয়া' আর কমিকরিলিফ হিসেবে বাধ্য হয়ে ঝুলে থাকা জিমি। সে এখন গোয়েন্দাগিরি ফেলে স্কুলবন্ধুর পার্টিতে যেতে বেশি আগ্রহী, রিয়া তাকে উল্টা গোয়েন্দাগিরি করার জন্য আটকে রাখে, অয়ন না থাকলে রিয়া প্রতিটা ক্ষেত্রে জিমিকে নির্দেশ দেয়-জ্ঞান দেয় আর জিমি হাঁড়ির মতো মুখ করে অনিচ্ছাসত্ত্বেও সেসব পালন করে। এই বইতে অনেক অংশেই অয়ন থেকে জিমি-রিয়া আলাদা ছিল তাই এই ব্যাপারটা খুব বেশি চোখে পড়েছে। সেই সাথে রিয়া তো বটেই, উঠতে বসতে অয়নেরও গালিগালাজ আর বকাঝকা খেতে খেতে বেচারার জান শেষ। গোয়েন্দাগিরিতে জিমি'র একেবারেই আর ইচ্ছা নেই, পুরো বই জুড়ে তার 'যাইগা-পালাই-ভাল্লাগে না' মার্কা ঘ্যানঘ্যানানি। আগের কয়েকটা কাহিনি ধরেই এটা চলে আসছিল, এইবারে আর উপেক্ষা করার উপায় নেই... রিয়ার বুদ্ধিমত্তা আর দক্ষতাকে হাইলাইট করতে গিয়ে জিমির চরিত্রটাকে এতখানি নিচে নামানোটা হজম হলো না আর। ইন দি এন্ড সিরিজটার নাম অয়ন-জিমি, কেবল গোয়েন্দা অয়ন তো নয়। যদিও ক্লাইমেক্সে একেবারে মোক্ষম মুহূর্তে একটা "ওস্তাদের মার শেষ রাতে" দিয়ে চরিত্রায়ণের এই বিরাট ঘাটতি একটু হলেও কভার দেয়ার চেষ্টা হয়েছে।
ছোট একটা নেতিবাচক দিক উল্লেখ করতে গিয়ে দেখি বিশাল প্যাচাল ফেঁদে ফেলেছি! যাইহোক, জিমি সংক্রান্ত অপ্রাপ্তিটুকু বাদ দিলে কালো জাদু সবমিলিয়ে রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার দারুন উপাদেয় উপভোগ্য একখানা কিশোর রহস্যরোমাঞ্চ উপন্যাস।
কিশোর বয়সী মগজ যে রহস্যে বিভ্রান্ত হবে, যে ট্যুইস্টে চমকে উঠবে- পুর্ন বয়সী মগজের কাছ থেকে স্বভাবতই সেই একই প্রতিক্রিয়া আশা করা যায় না। কাজেই প্রত্যাশার ঘুড়িকে বেশি উঁচুতে না উড়িয়েই ছেলেবেলার অন্যতম প্রিয় সিরিজের নতুন এই বই গুলো পড়া শুরু করেছিলাম। তাছাড়া ঘুরি বেশি উঁচুতে উড়ানোও রিস্কি ব্যাপার,মাঞ্জা দেয়া ধারালো সুতায় বেঁধে স্যাটেলাইট ফ্যাটেলাইট ভেঙে পরে যেতে পারে 😑। সে যাই হোক, প্রত্যাশা যেটা ছিল, সেটা হচ্ছে লেখকের লেখনি এবং এই সিরিজের অতীর রেকর্ড। অতীতে অনিয়মিত ভাবে অল্প যে কয়েকটা বই বের হয়েছে এই সিরিজের, সবগুলোর কাহিনিই ছিল মানসম্মত। আর লেখকের যে কয়টা অনুবাদ বা রুপান্তর আগে পড়েছি, তার সবগুলোর কাহিনীই হয়তো আমার সমান ভাল লাগে নাই, কিন্তু অনুবাদ পড়ার স্বাদ পেয়েছি ষোলআনা। আগেই বলেছি, খুব জটিল কোন গল্প আশা করিনি, কিন্তু তারপরও স্বীকার করতেই হচ্ছে, প্রতিটা বইয়েরই একাধিক জায়গায় চমকে দিতে সক্ষম হয়েছেন লেখক। চারটে বইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ভাল লেগেছে 'এমিলির চোখ' - সম্ভবত এর ব্যাতিক্রমধর্মী কাহিনির জন্য। বিষয়বস্তর জন্য 'কালোজাদু' হয়তো অনেককেই 'তিন গোয়েন্দা' সিরিজের টেরর ক্যাসেলের কথা মনে করিয়ে দেবে, তবে মিল ওই টুকুই। 'রাত নিশুতি' বলা যায় পিওর সাসপেন্স থ্রিলার। এই বইটায় গোয়েন্দাপ্রধান অয়নের অ্যাক্টিভিটি তুলনামুলক কম থাকলেও (মগজাস্ত্রের ব্যবহার বাদে), দুর্দান্ত গতির কারণে পড়া শুরু করার পর হাত থেকে রেখে দেয়া মুশকিল। তবে একটা বিষয় নিয়ে সামান্য একটু খটকা আছে। এখানে বললে স্পয়লার হয়ে যাবে, সময় সুযোগ হলে লেখকের কাছ থেকে জেনে নেবার ইচ্ছা আছে। 'নিষিদ্ধ দ্বীপ' যথেস্ট আনপ্রেডিক্টেবল, এমিলির চোখের পর এটাই সবচেয়ে বেশি ভাল লাগছে। সবগুলা বইয়েরই প্রচ্ছদ চমৎকার হয়েছে। বইগুলো সংগ্রহ করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, বড় হবার পর আমার কন্যা পড়বে এগুলো। একই উদ্দেশ্যে আরও বই সংগ্রহ চলছে :) । কিন্তু কেনার পর নিজেই পড়ার লোভ সামলাতে পারি না। একেকটা বই যেন একেকটা টাইমমেশিন। কয়েক ঘন্টার জন্য যে কিশোর বয়সে ফিরে যাই। অয়ন-জিমির কাছে ফিরে আসি। ছেলেবেলার প্রিয় এই সিরিজটা কেন যেন সবসময়ই কিছুটা আড়ালেই থেকে গেল। একটা সময়ে তিন গোয়েন্দার স্বর্ণালী যুগের ছায়ায় ঢাকা পরে গিয়েছিল এই সিরিজটা। আর এখন সম্ভবত লেখকের পেশাগত ব্যস্ততা একটা কারণ। কারণ যাই হোক, সিরিজটা আবার নতুন করে শুরু হয়েছে (করোনার জন্য একটা ছেদ পরেছে যদিও), আশা করা যায় বিরতিহীন ভাবে আরও অনেকদিন চলবে সিরিজটা। আপাতত 'জল টলমল' এর অপেক্ষায়। আরেকটা বিষয়, যতদূর জানি, এই সিরিজের প্রথম বই 'কালকুক্ষি' সম্পূর্ন মৌলিক। 'কালোজাদু' বইয়ের ভেতরেও 'বিদেশি কাহিনী অবলম্বনে' - এই কথাটা লেখা নাই। তাহলে কি ধরে নেয়া যায়, এটাও মৌলিক গল্প। নাকি ভুলে বাদ পরে গেছে?
A good story with enough twists and turns. Different type of mystery, a rather dark premise. Where the victim doesn't want help from investigators, while he is indeed in trouble. The main protagonists were well fleshed out. The chemistry between characters were nicely done.
All in all quite satisfactory story for younger audience, as well as for any decent mystery lover.
দারুন লাগলো।অয়ন জিমি এই বারেও বইটা শেষ না করে উঠ��ে দিলো না।ছোটবেলার অনেক কিছুই এই বয়সে এসে খুজে ফিরি।কিন্তু পাই না।এই বইয়ের মাধ্যমে পুরানো দিনগুলায় ফিরে যাই কিছু স৷ময়ের জন্য।ধন্যবাদ আরমান ভাই।এই সিরিজটা নিয়মিত লিখবেন আশা করি।সকলের প্রতি অনুরোধ আপনার স্কুলে অথবা কলেজে পড়ুয়া ছেলে মেয়ে,ভাতিজা ভাতিজি, ভাইগ্না ভাগিনা, ছোট ভাই বোন,কাজিন সবাইকে এই সিরজের বই উপহার দান যাতে ওরা বই পড়ার প্রতি আগ্রহী হয়
ইসমাইল আরমানের লেখা যে কয়টা অয়ন জিমি পড়েছি সবগুলোই বেশ ভালো লেগেছে। ' কালো জাদু ' ও বেশ দারুণ একটা বই বলা চলে। রহস্যের সমাধান আর চমক দুটোই পাঠককে শেষ পর্যন্ত আটকে রাখতে বাধ্য করবে।
১০/১০/২৩
রিভিশন দিলাম বইটা। কাহিনী ভুলেই গিয়েছিলাম বলতে গেলে৷ নতুন করে টান টান উত্তেজনা। আর পড়তে ভয়ও লাগছিল হালকা পাতলা।