বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। সালাত ও সালাম প্রিয় নবী মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তার সাহাবী রাদিআল্লাহু আনহুম এবং তার প্রিয়জনদের জন্য।
// কেনো অ্যান্টিডোট পড়বো?
মানুষ যখন কোনো কিছু বুঝতে পারেনা, যুক্তি খুঁজে পায়না কাজটা করার পিছনে কি হিকমা আছে এবং এই না বোঝা বিষয়ে প্রশ্ন করে যখন উত্তর অধরাই থেকে যায়, তখন সেটা নিয়ে সংশয় তৈরি হয় মনে। আর সংশয়যুক্ত মনে অচিন্তা, কুচিন্তা এসে বাসা বাঁধে। এই সন্দেহযুক্ত মরিচা পড়া মনকে সুস্থ করে ইসলামের আলোয় আলোকিত করতেই আশরাফুল ইসলাম সাকিফ নিয়ে এসেছেন অ্যান্টিডোট বইটি।
নাস্তিকরা যখন ঠুনকো যুক্তি দিয়ে, কুরআনের ভুলভাল ব্যাখ্যা করে, নবী সা. এর বিপক্ষে কুৎসা রটিয়ে মানুষকে বিপথগামী করেছিলো, ঠিক সেই মূহুর্তে অ্যান্টিডোট বইটি এনে দিয়েছিলো শান্তির পরশ মুসলিম অংগণে।
// কোন দিক থেকে অ্যান্টিডোট ব্যতিক্রম ?
নাস্তিকতা বিষয়ে লেখা অন্যান্য বইগুলো ছিলো মুক্তবুদ্ধি চর্চা, বিজ্ঞান এবং বিবর্তনের নাম করে কুরআন, ইসলাম ধর্ম এবং আল্লাহর নবীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও কুরুচি ভাষায় আক্রমণ , যেমন তাকদীর বলে কিছু আছে কি না, স্রষ্টা কেনো মন্দ কাজের দায় নেন না, স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করলো, আল কুরআন কি মানব রচিত?, মোহাম্মদ কেনো কচি মেয়েকে বিয়ে করলো?, আল্লাহ যদি এতই দয়ালু তবে জাহান্নাম বানালেন কেন?, কুরআন আধুনিক ধর্ম নয়, দাস প্রথা কেনো এখনো বিদ্যমান?, এই আধুনিক যুগেও কেনো না দেখে বিশ্বাস করবো?, আল্লাহ মেয়েদেরকে কেন শস্যক্ষেত্র বলেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি।
এক্ষেত্রে অ্যান্টিডোট বইটি একেবারেই ব্যতিক্রম। চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কিত আল কুরআনের বাণী এবং আল্লাহর রাসুল সা. এর চিকিৎসা পদ্ধতি ভুল প্রমাণের জন্য নাস্তিকরা উঠেপড়ে লাগে। চিকিৎসাশাস্ত্রের ব্যাপারেও যে ইসলাম সঠিক তথ্য দেয় এবং প্রায় ১৪৫০ বছর আগে নবীজীর চিকিৎসা পদ্ধতি যে ভুল ছিলো না সেটা সাবলীলভাবে, তথ্য প্রমাণসহ লেখক তুলে ধরেছেন এই বইটিতে। বিবর্তন, মানব ভ্রূণ সম্পর্কিত কুরআনের ইঙ্গিত, মহামারীর ইসলামী সমাধান, আল কুরআন কি পুরুষের বীর্যের উৎপত্তির ব্যাপারে ভুল তথ্য দেয় ইত্যাদি বিষয়ে অনেক তথ্যপূর্ণ বিশ্লেষণ লিপিবদ্ধ করেছেন লেখক তার অ্যান্টিডোট বইটিতে।
// ভালো বইয়ের মাপকাঠি কি?
একটি বই খুব ভালো এবং সুখপাঠ্য এর মাপকাঠি কি?
১. বইটি পড়লে আল্লাহ্ তা'আলার কাছাকাছি আরো বেশি আসা যায় কিনা ?
২. বইটিতে আত্মার উন্নয়ন হবে কিনা?
৩. বইটি পড়লে শেখার এবং আমল বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা আছে কিনা?
৪. রাসূল (সাঃ) এবং কুর'আনকে নতুন করে চেনা যাবে কিনা?
৫. অনেক ধরণের মনের অসুখে মানুষ জর্জরিত, এই থেকে পরিত্রাণ পাবার উপায় আছে কি না?
৬. কুরআন নিয়ে সংশয় দূর হবে কিনা ?
আমি বলবো, উপরের সব কিছুই পাবেন আপনি #অ্যান্টিডোট বইটিতে। অধিকন্তু বইটির পাতায় পাতায় পাঠকদের জন্য অপেক্ষা করছে চরম বিস্ময় এবং অন্তরাত্মা প্রশান্তকারী জ্ঞানগর্ভ আলোচনা পর্যালোচনা, আলহামদুলিল্লাহ।
// মূল আলোচনা
সম্প্রতি জনপ্রিয় হওয়া নাস্তিকদের বিপক্ষে লেখালেখি ধারায় প্রথম নারী প্রোটাগনিস্ট সম্ভবত ফাতিমাই। ধার্মিকতা ও প্রজ্ঞায় ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহার সমান কেউই হতে পারবেনা । কিন্তু আল্লাহর যে সকল বান্দীরা ফাতিমা রা. এর দেখানো পথে যথাসাধ্য চেষ্টা করে, কখনো সমাজের চাপে হোঁচট খায়, তবুও লেগে থাকে, তাদেরই এক প্রতিনিধি এই বইয়ের ফাতিমা চরিত্রটি।
বইয়ের মূল চরিত্র ফাতিমা এবং আদনান। মলিকুলার বায়োলজিতে পড়া ফাতিমার নতুন বিয়ে হয় আদনানের সাথে পারিবারিকভাবেই। বিয়ের পর ফাতিমা বুঝতে পারে আদনানের পরিবার মুসলিম হলেও আদনান সংশয়বাদী। চিন্তিত হয় সে। এখন কি করবে? পরাজয় মেনে নেবে? আল্লাহর প্রতি ভরসা রেখে ফাতেমার মিশন শুরু হয় নাস্তিকতার অসুখ দূর করে কুরআনের শীতল ছায়ায় সবাইকে নিয়ে আসার। এজন্য ফাতিমাকে পাড়ি দিতে হয় অনেক বিপদসংকুল পথ। কি সেই পথগুলো? চলুন দেখে নেয়া যাকঃ
১| বিয়ের পর ফাতিমা বুঝতে পারে আদনানের নাস্তিকতার পিছনে বিবর্তন অনেকটুকু দায়ী। আদনান বিশ্বাস করে এপ জাতীয় প্রাণী থেকে মিউটেশনের ফলে বিবর্তিত হয়ে আজকের মানুষের সৃষ্টি। কিন্তু বিবর্তন যে পুরোটাই বানোয়াট জিনিস, কুরআন এবং বিজ্ঞানের হাজারো রেফারেন্স দিয়ে ফাতিমা সেটা বুঝাতে সক্ষম হয়। কিন্তু আদনানের আর ইসলাম কবুল করা হয়ে উঠেনা এক প্রকার জিদ থেকেই। আদনান মনে মনে ভাবে, আজ না হয় তুমি জিতে গেলে কিন্তু কালকে তোমাকে হারাবোই!
২| আদনানের এবারের তুরুপের তাস ভ্রুন বিদ্যা নিয়ে কুরআনের আয়াতকে ভুল প্রমাণিত করা। আল্লাহ বলেন, "মানুষ কি দেখে না তাকে কোন্ জিনিস দিয়ে বানানো হয়েছে? তাকে তৈরি করা হয়েছে একফোঁটা স্ববেগে স্থলিত পানি দিয়ে, যেটি নির্গত হয় মেরুদণ্ড ও বুকের পাজরের মাঝখান থেকে।" (সুরা আত তারিক ৫-৭)
আদনান বললো, ফাতিমা দেখো, কুরআনে বলা হয়েছে, বীর্য নাকি মেরুদণ্ড ও বক্ষ পাজরের হাড় থেকে তৈরি হয়েছে? কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের বলে, বীর্য পুরুষের টেস্টিস এবং অন্ডকোষ থেকে তৈরি হয়।
এবার ফাতিমা বিভিন্ন আরবী শব্দের সঠিক প্রয়োগ এবং মেডিক্যালীয় টার্ম ব্যাবহার করে আদনানকে বুঝাতে সক্ষম হয় কুরআনের কথাই সঠিক।
ফাতিমা আদনানকে বললো, তার এই ক্লেমটিও ভুল। কারণ, কিছু লোক নিজেদেরকে নারী সহচার্য থেকে দূরে রাখার জন্য নিজেদের অন্ডকোষ বা টেস্টিস কেটে ফেলার জন্য রাসুলুল্লাহর নিকট অনুমতি চাইলেন। রাসুলুল্লাহ সা. তাদেরকে অনুমতি দেননি কারণ এভাবে নিজেকে সন্তান উৎপাদন ক্ষমতাসীন করে ফেলা জায়িয নেই। সুতরাং এই হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারি, রাসূল সা. জানতেন যে বীর্য কোথায় উৎপন্ন হয়।
এরপরও আদনানের সংশয় কাটেনা ইসলাম নিয়ে। বুকভরা আফসোস নিয়ে ঘুমাতে যায় ফাতেমা। ভাবে, এভাবে আর কতদিন সংসার করবে আদনানের সাথে? সংসারটা টিকবে তো!
৩| আদনানের আরেকটা অভিযোগ ছিলো, মানুষকে সৃষ্টির ব্যাপারে আল্ল...
ইসলামকে অবৈজ্ঞানিক বলে মিথ্যা অপবাদ দেয় যেসব অমানুষ, তাদের দাঁত ভাঙ্গা জবাব প্রদান করা হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, অনেক ভালো লাগল। অনেক কিছু জানতে পারলাম।
It's one of the best books I have ever read. It's just awesome. This book contains a storyline in which a religious Muslim educated girl tries to fix his atheist husband's thoughts using pure science and Quran. Things of this book are so scientific and at the end of each chapter, it gives you a list of the sources of the scientifically proven facts that were mentioned within the chapter ( in the story line ). It's just awesome.
আরিফ আজাদের প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদের মত ইসলাম বিরাগীদের অজ্ঞতার জবাব দিতে অ্যান্টিডোট। লেখক তৈরি করেছেন ফাতিমা নামের এক মেয়ে চরিত্র যিনি যুক্তি, বিজ্ঞানের আলোকে ভুল ভাঙ্গান। আশা করি এ বিষয়ে বইটি পাঠকের জন্য সয়াহক হবে।