Horatio Walpole, 4th Earl of Orford — also known as Horace Walpole — was an English art historian, man of letters, antiquarian and Whig politician. He is now largely remembered for Strawberry Hill, the home he built in Twickenham, south-west London where he revived the Gothic style some decades before his Victorian successors, and for his Gothic novel, The Castle of Otranto. Along with the book, his literary reputation rests on his Letters, which are of significant social and political interest. He was the son of Sir Robert Walpole, and cousin of Lord Nelson.
কাহিনি সংক্ষেপঃ অটরান্টোর দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী জমিদার ম্যানফ্রেড। পরিব্রতা স্ত্রী হিপোলিতা, কন্যা মাতিলদা ও পুত্র কনরাডকে নিয়ে তাঁর পরিবার। তাঁর একমাত্র পুত্র কনরাডের বিয়ে তিনি ঠিক করেছেন ভিসেনজার মারকুইসের কন্যা ইসাবেলার সাথে। বাগদান উপলক্ষে ইসাবেলা অবস্থান করছে অটরান্টোর প্রাসাদেই। কিন্তু দুর্যোগের ঘনঘোর মেঘে যেন হঠাৎ-ই ছেয়ে গেলো অটরান্টোর আকাশ।
কনরাডের সাথে ইসাবেলার বাগদানের দিন ঘটে গেলো ব্যাখ্যার অতীত এক ভয়াবহ ঘটনা। আকাশ থেকে যেন অতিকায় এক হেলমেট এসে পড়লো প্রাসাদ প্রাঙ্গণে, আর সেটার নিচে চাপা পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটলো কনরাডের। এই ঘটনায় যেন একেবারে উন্মাদ হয়ে গেলেন জমিদার ম্যানফ্রেড। তাঁর মনে পড়লো প্রাচীন এক অভিশাপের কথা, যে অভিশাপ অনুযায়ী ম্যানফ্রেডের পরিবার অভিশপ্ত। তাঁদের কোন অধিকার নেই অটরান্টোর জমিদারি ধরে রাখার। আর এই কারণেই দুর্যোগ নেমে এসেছে তাদের ওপর।
ব্যক্তিগত জীবনে প্রচণ্ড দাম্ভিক ও লোভী জমিদার ম্যানফ্রেডের খামখেয়ালিপনা যেন বেড়ে গেলো কনরাডের মৃত্যুর পর। যে ইসাবেলার সাথে নিজের ছেলের বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, তাকেই বিয়ে করার জন্য জেদ ধরে বসলেন তিনি। এদিকে দৃশ্যপটে আবির্ভাব ঘটলো সুপুরুষ এক ধনী কৃষক থিওডোরের। আর থিওডোরের সাথে অদ্ভুত এক দ্বৈরথ সৃষ্টি হলো জমিদার ম্যানফ্রেডের।
অটরান্টোর প্রাসাদে হেঁটেচলে বেড়াতে লাগলো দানবীয় ও অশুভ কিছু একটা। তবে কি বহুকাল আগে মারা যাওয়া আলফানসো দ্য গুড-এর প্রেতাত্মা কি ফিরে এসেছে! কি চায় সে? বীর নাইট স্যার ফ্রেডরিকই বা কেন এলেন অটরান্টোতে? থিওডোর কি ইসাবেলাকে ভালোবাসে, নাকি মাতিলদাকে? স্বেচ্ছাচারী জমিদার ম্যানফ্রেডই বা ইসাবেলাকে বিয়ে করার জন্য কতোটা নিচে নামবেন?
অটরান্টোর প্রাসাদকে কেন্দ্র করে ঘটে চলা একের পর এক নাটকীয় ঘটনা গুলোর সমাপ্তি এলো অকস্মাৎ, বেশ অদ্ভুতভাবে।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ হোরাস ওয়ালপুলের 'দ্য ক্যাসেল অফ অটরান্টো'-কে বলা হয় বিশ্বের প্রথম গথিক হরর উপন্যাসিকা। মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয় গথিক সাহিত্যকর্ম গুলোতে। লেখক হোরাস ওয়ালপুলও সেই চেষ্টাই করেছেন তাঁর এই উপন্যাসিকায়, তবে এর সাথে যুক্ত করেছেন কিঞ্চিৎ ভৌতিক আবহ।
'হরর' বলতে আমরা আধুনিক পাঠকরা যা বুঝি, 'দ্য ক্যাসেল অফ অটরান্টো' হয়তো পুরোপুরি তা না। তবে অলৌকিক কিছু ঘটনাবলীর দেখা এখানে পাওয়া যায়৷ হয়তো সেই হিসেবেই এটাকে বিশ্বের প্রথম গথিক স্টাইলে লেখা হররের আখ্যা দেয়া হয়েছে। আমি যখন পড়ছিলাম, এই বইটাকে কিছুটা ক্লাসিক রূপকথা বলে মনে হচ্ছিলো আমার কাছে। মোটামুটি ভালোই লেগেছে 'দ্য ক্যাসেল অফ অটরান্টো'৷ এক বসাতেই পড়ে ফেলা যায় এই সহজ-সরল নভেলাটা।
অনুবাদক লুৎফুল কায়সারের শুরুর দিকের অনুবাদকর্ম এটা। অনুবাদ বেশ ভালো হয়েছে। পড়ার সময় হোঁচট খাইনি কোথাও। ছোটখাটো কিছু টাইপিং মিসটেক ছিলো। আর বেশ কয়েক জায়গায় চরিত্র গুলোর নাম ওলটপালট হয়ে গেছে৷ ভুলভ্রান্তি বলতে এটুকুই।
প্রচ্ছদটা আমার কাছে খুব একটা ভালো লাগেনি। ভালো করা যেতো বলে মনে হয়েছে।
সংযুক্তিঃ এই একই মলাটে লুৎফুল কায়সারের অনুবাদ করা আরো একটা নভেলা আছে। আর্থার ম্যাকেনের সুপারন্যাচারাল নভেলা 'দ্য গ্রেট গড প্যান'। এটা ৬২ পৃষ্ঠার। কেন যেন নভেলাটা আপাতত পড়তে ইচ্ছা করলো না। সহসা পড়ার সম্ভাবনাও নেই। তাই আপাতত 'দ্য ক্যাসেল অফ অটরান্টো'-এর রিভিউটাই দিলাম।
১৭৬৪ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসকে পৃথিবীর প্রথম ' গথিক উপন্যাস' বলে ধরা হয়। পড়তে গিয়ে আবিষ্কার করলাম এই বইয়ের কাহিনী আমার দেখা বলিউড-হলিউডের অনেক সিনেমা আর আমার পড়া অনেক গল্পের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ । তারমানে বইটি যথেষ্ট প্রভাবশালী। কি নেই এতে!? পুরনো দূর্গ, রহস্যময় আত্মা, রূপসী নায়িকা, ভয়ংকর ভিলেন, দৈবকৃত ঘোষিত ভবিষৎবাণী আর দুঃসাহসী নায়ক। মেলোড্রামা, প্রেম, ভয়, বীরত্ব, দৈববাণী, ভালো-মন্দের দ্বন্দ্ব, ভূত, যুদ্ধ ইত্যাদি সবই আছে, যা একটি বইকে ক্লাসিক করে তোলে। লেখক যে শেক্সপিয়ারের ভক্ত তা বোঝা যায়। শেক্সপেরিয়ান অনেক এলিমেন্টস লেখক সচেতনভাবে ব্যবহার করেছেন।
লুৎফুর কায়সার একজন অসাধারণ অনুবাদক। এতো আগের ইংরেজি বইয়ের এতো সাবলীল অনুবাদ পড়বো, ভাবিনি। অনুবাদ যদি ভালো না হতো, হয়তো বইটি শেষ করতে পারতাম না।
দ্য ক্যাসেল অব অটোরান্টো-কে প্রথম গথিক হরর হিসেবে ধরা হয়। তবে বইটি যে যথেষ্ট শক্তিশালী আর প্রভাব বিস্তারকারী — সেটা ওই সময়কার অন্যান্য বই পড়লেও বোঝা যায়।
আজ একসাথে দুইটা বইয়ের রিভিউ করতে যাচ্ছি কারণ দুইটা গল্প একটা বইতে বিদ্যমান। ‘লুৎফুল কায়সার’ সাহেবের অনুবাদ করা দুইটি অসাধারণ ভিন্নধর্মী নভেলা ও উপন্যাস নিয়ে আজকের আলোচনা।
➤ দ্য গ্রেট গড প্যান | আর্থার ম্যাকেন
বইটি আর্থার ম্যাকেনের সেই বিখ্যাত হরর নভেলা যেটি পড়ে লেখালেখিতে উৎসাহিত হয়েছিলেন এইচ. পি. লাভক্র্যাফট! যেটি সম্পর্কে স্টিফেন কিং এর মন্তব্য হলো, ‘‘সম্ভবত এটিই ইংরেজী ভাষার সেরা অতিপ্রাকৃতিক কাহিনী।’’ ব্যাপারটা তাহলে বুঝতে পারছেন কি রয়েছে স্যার আর্থার ম্যাকেনের গল্পের মধ্য।
তার পূর্বে আমি কিছু কথা বলবো, প্রায় মাস পাঁচেক পূর্বে আমি বিখ্যাত হরর লেখক স্টিফেন কিং স্যারের "দ্যা আউটসাইডার" মিনিসিরিজটি দেখেছি, তারও পূর্বে হলিউড ডিরেক্টর অ্যারি অ্যাস্টারের হরর সিনেমা "হেরেডিট্যারি" দেখে অতিপ্রাকৃতিক অনেক কিছু সম্পর্কে ধারণা লাভ করেছি। অবশ্য অনেক কিছুই তার পূর্বে দেখেছি পরেছি কিন্তু উপরিক্ত দুটো জিনিস আমার মগজে খুব ভালোভাবে সেটাপ হয়ে গিয়েছিলো।
কিন্তু আজ যখন "দ্য গ্রেট গড প্যান" নভেলাটি পড়লাম এটি সেইসব কিছু কি ছাপিয়ে গিয়েছে। এই বইয়ের কাহিনী আজীবন আমার মাথায় থাকবে। এতোটা বিভৎস ভাবে ম্যাকেন স্যার সেটা বর্ণনা করেছেন যেটার সাথে আমরা কমবেশ সবাই পরিচিত। হ্যাঁ! এইখানে তিনি স্যাটানিক ব্যাপার তুলে এনেছেন। নরকের সব রাজাদের উপস্থিতি উল্লেখ করা না থাকলে, "প্যান" নামের নরকের দেবতার উপাসক ছিলেন গ্রীক ও রোমানরা। বিস্তারিত বর্ণনা আপনি বইতে খুঁজে ��াবেন। আমি শুধু ছোট্ট করে বলতে চাচ্ছি, আমরা অনেকে "বাফোমেট" নামটা শুনেছি আর ইউটুবে এই নামে হাজারটা ভিডিও আপনি পাবেন। ইলুমিনাতি নামে যে রহস্যময় গুপ্ত সংঘটন রয়েছে তারা যার উপাসনা করে সেইরকম ভাবে প্যানকে এইখানে স্যার আর্থার ম্যাকেন উপস্থাপনা করেছেন।
উপরিক্ত শুধু ধারণা দিয়েছি নভেলা সম্পর্কে এখন গল্পের সারাংশ আমি ফ্ল্যাপ থেকে লিখছি-
নিজের বন্ধু ক্লার্ককে নিয়ে এক অদ্ভুদ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষণের ব্যবস্থা করেন ডা. রেমন্ড। মেরি নামের মেয়েটিকে পৃথিবীর প্রকৃত রুপ দেখাতে চান তিনি। এমন এক স্তরে নিয়ে যেতে চান যার পর মেরি এই পৃথিবীর রুপকে পাশ কাটিয়ে দেখবে প্রকৃত রুপকে। সে দেখবে দেবতা প্যানকে। তারপর কি হয়েছিলো?
নভেলার শেষ পর্যন্ত এতোটা আকর্ষণে আপনি আবদ্ধ থাকবেন শুধু পড়ে যেতে থাকবেন। এতোটা আধিভৌতিক ব্যাপার ও বর্ণনার আভরণে দারুন ভাবে নভেলাটি লেখা। শ্বাসরুদ্ধ অবস্থার সামিল, আমি বাড়িয়ে বলছি না কিছুই মাত্র ৬২ পৃষ্টার এই কাহিনী আপনাকে দারুন ভাবে আকৃষ্ট করে রাখবে। প্রতি পৃষ্ঠাতে খুঁজতে চাইবেন আসলে সেদিন কি দেখেছিলো বা হয়েছিলো? এই একটা প্রশ্ন আপনাকে টেনে নিয়ে আসবে কাহিনীর শেষ অবধি!
নভেলটা আক্ষরিক অর্থে অতিপ্রাকৃতিক নিয়ে সেরা থেকে সেরা কাহিনী! যারা "ডাব্বে, সিজ্জিন" এর মতো সিনেমা সিরিজ দেখতে অভ্যস্ত তাদের জন্য এই নভেলা হাতের চাঁদ বলতে হয়।
আর্থার ম্যাকেন-এর জন্ম ১৮৬৩ সালে ওয়েলশে। প্রচণ্ড প্রচারবিমুখ এই মানুষটি হরর সাহিত্যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। ১৯৪৭ সালের ১৫ই ডিসেম্বর মৃত্যু হয় আর্থার ম্যাকেনের।
➤ দ্য ক্যাসেল অফ অটরান্টো | হোরাস ওয়ালপুল
প্রথমে আমি লেখক পরিচিত দিচ্ছি, লেখক হোরাস ওয়ালপুল ছিলেন একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। ১৭১৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর লন্ডনে তার জন্ম হয়। ব্রিটেনের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ‘স্যা রবার্ট ওয়ালপুল’ তাঁর পিতা। ১৭৩৭ সালে সালের সালে মায়ের মৃত্যুর পর তিনি শিল্পী-সাহিত্যের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ইংরেজী সাহিত্যে ‘গথিক’ জনরাটি শুরু মূলত তাঁর লেখার মাধ্যমেই। ১৭৬৪ সালে তাঁর প্রকাশিত ‘দ্য ক্যাসেল অফ অটরান্টো’ নভেলটিকেই পৃথিবীর প্রথম ‘গথিক হরর’ নভেল ধরা হয়। ১৭৯৭ সালের ১৯শে মার্চ এই প্রতিভাবান মানুষটির মৃত্যু হয়।
গথিক হরর বলতে যেখানে কল্পনা ও ভয়, মৃত্যু এবং কখনো রোম্যান্স একত্রে মিলেমিশে যায়। গথিক কল্পকাহিনী প্রভাবে পাঠকের মনে ভয় ও আনন্দের এক মিশ্র অনুভূতির সৃষ্টি হয়। ভিক্টোরিয়া যুগের ব্রাম স্টোকারের "ড্রাকুলা" হচ্ছে সুপরিচিত গথিক হরর উপন্যাসের একটি।
উপন্যাসের আলোচনায় বলতে গেলে যেহেতু পৃথিবীর প্রথম গথিক হরর নভেল এইটি এক কথায় দুর্দান্ত! মিশ্রিত সব অনুভূতি গল্পের সুতোয় এমনভাবে বেঁধে ফেলবে আপনি বুঝে উঠার পূর্বে। কাহিনীটি আমি এক বসাতে পড়ে শেষ করেছি, ভাবেন তাহলে কতোটা কানেক্টেড ছিলাম। প্রতি পৃষ্ঠার উত্তেজনা আমার মস্তিষ্কে আনন্দ ও আশংকার প্রলেপ দিচ্ছিলো, এই বুঝি কিছু একটা ঘটবে। ঘৃণা ও কাল্পনিক পরাবাস্তবার মিশালিতে দারুন রোমাঞ্চকর কাহিনী প্রাদুর্ভাব ঘটিয়েছেন স্যার হোরাস ওয়ালপুল।
ফ্ল্যাপ থেকে সারাংশ তুলে ধরছি,
অটরান্টোর প্রবল প্রতাপশালী জমিদান ম্যানফ্রেড। কখনো কেউ তাঁর দিকে চোখ তুলে তাকাবারও সাহস রাখে না। স্ত্রী হিপোলিতা, মেয়ে মাতিলদা আর ছেলে কনরাডকে নিয়ে ছোট্ট সংসার তাঁর। কিন্তু মন থেকে একেবারেই সুখী নন তিনি। বহুকাল আগের এক অভিশাপ নাকি তাড়া করে ফিরছে তাঁর বংশকে!
সেই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবার জন্যই নিজের ছেলে কনরাডের সাথে ভিনজেসার মারকুইসের কন্যা ইসাবেলার বিয়ের আয়োজন করলেন ম্যানফ্রেড। কিন্তু বিয়ের দিন সকালেই ঘটে গেল এক অতিপ্রাকৃতিক ঘটনা! এক অতিকায় হেলমেটের নিচে পিষ্ট অবস্থায় পাওয়া গেল কনরাডের মৃতদেহ! কোথা থেকে এল হেলমেটটি? তবে কি সত্যিই কোনো প্রাচীন অভিশাপ লুকিয়ে আছে অটরান্টোর প্রাসাদের অন্ধকার কোণে?
অসাধারণ থেকে বেশিকিছু ছিলো এই উপন্যাসে। একজন অত্যাচারী, লোভী, কামুক জমিদার ম্যানফ্রেডের জীবদ্দশার অমানবিক সব কার্যকলাপের পরিণামে সাজানো কাহিনীতে ধুঁকতে হয়েছে পুরো অটরান্টোবাসীকে। যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে ম্যানফ্রেডের স্ত্রী হিপোলিতা, মেয়ে মাতিলদা ও ছেলে কনরাডকে! গল্পের পুরো অংশ জুড়ে ছাপ ফেলেছে ইসাবেলা কিন্তু শেষ পর্যন্ত এমন একজনের জন্য আপনার মন ঢুঁকরে কাঁদতে চাইবে যেটা অকল্পনীয় মনে হবে। অতিপ্রাকৃতিক অনেক কিছুই আপনার পাঠক মনের ভাবতে ইন্ধন জোগাবে আর কি সেটা জানতে উদগ্রীব তৎপরতা বজায় থাকবে পুরো কাহিনীতে।
শুধু মনে হবে কে এই ‘আলফানসো দ্য গুড' আর কেইবা থিওডর!!
আমি কখনোই অতিরিক্ত চরিত্র নিয়ে পর্যালোচনা পছন্দ করিনা! কারণ পাঠকের মূল আকর্ষণ থাকে যতোটা কাহিনীর মধ্য ঠিক ততোটাই চরিত্রে। নিজ থেকে আবিষ্কার করতে চাই সর্বদা যে একটা চরিত্রের মাহাত্ম কতখানি ভূমিকা রাখে গল্পে। তাই বিশদভাবে আলোচনা থেকে দূরে থাকলাম। শুধু বলবো কোনপ্রকার সাজেশন ছাড়া বইটা ক্রয় করে আমি বিস্তর কিছু জানতে পেরেছি আর পড়েছি মুদ্ধতার সাথে প্রত্যকটা পৃষ্ঠা।
অনুবাদক লুৎফুল কায়সারের প্রথম অনুবাদ পড়া। শুধু বলবো মাইন্ডব্লোয়িং! এতোটা সাবলীল ভাবে উনি অনুবাদ করেছেন যে টের পাইনি আমি কোন অনুবাদ বই পড়ছি, গল্পের গভীরে নিমিষে হারিয়ে ফেলেছি নিজেকে। খুবই যত্নসহকারে কাজটা করেছেন পড়লে বুঝা যায়।
দ্য ক্যাসল অফ অটোরান্টো ভালো লাগেনি। এত প্রাচীন আমলের কাহিনী আর এত আজগুবি কাহিনী যে মনে হচ্ছিলো আলিফ লায়লা না এই উপন্যাস কোনটা বেশি গাঁজাখুরি তা চিন্তার বিষয়। তবে দ্য গ্রেট গড প্যান সেই দু:খ অনেকটাই পুষিয়ে দিয়েছে। আমার পড়া শ্রেষ্ঠ হরর উপন্যাসের তালিকায় আজ থেকে দ্য গ্রেট গড প্যানের নামও যুক্ত হলো। অনুবাদ ঝরঝরে ছিল, তবে চরিত্রের নাম মাঝেমধ্যে উল্টাপাল্টা হয়ে গিয়েছে আশা করি নেক্সট এডিশনগুলোতে ঠিক করে দেবে বুকস্ট্রীট। সবশেষে বুকস্ট্রীটকে ধন্যবাদ দুইটা পুরনো কিন্তু ক্ল্যাসিক হররের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য।