আমাদের দেশে কোনো কোনো পিতা-মাতা সন্তানের শুধু মাত্র স্বাস্থ্য ও খাওয়া-দাওয়া নিয়ে চিন্তা করেন। আবার কেউ কেউ শুধু সন্তানের পড়ালেখা নিয়ে অতি ব্যস্ত থাকেন। যেমন, সকালে টিচার, সারাদিন স্কুল, বিকেলে কোচিং, রাতে আরেক টিচার ইত্যাদি। অনেকে আবার সন্তানের কোনো বিষয়েরই খোঁজ-খবর নেন না, কিন্তু পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ হলেই শুরু করেন মারধর, শাস্তি ইত্যাদি। এ সত্ত্বেও সকল পিতা-মাতাই মনে করেন তারা “সন্তানের ভাল চান”! তারা সন্তানকে খুব ভালোবাসেন! অথচ একজন আদর্শ পিতা-মাতার বৈশিষ্ট্য কখনোই এমন হতে পারে না। তো কেমন হবে? বাস্তবতা হচ্ছে, পুঁজিবাদের এই যুগে সবাই চাকরীমুখী হওয়ায় “প্যারেন্টিং” নিয়ে আমাদের সমাজে স্বামী স্ত্রীগণ কোনো শিক্ষা/প্রশিক্ষণের প্রয়োজন মনে করেন না। এই দিকে প্রত্যেক অবিবাহিত ছেলে মেয়েই ভাবে “প্যারেন্টিং এ সে খুব দক্ষ”, অথচ খোঁজ নিলে দেখা যাবে, প্যারেন্টিং নিয়ে তার কোনো স্ট্যাডি নেই। . যারা নিজেদের চেয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি চিন্তিত, সন্তানকে দুনিয়ার পাশাপাশি আখিরাতের জীবনকেও নিরাপদ রাখতে চান, এমন অনেক ভাই-বোনদের জন্য এই বই।
প্যারেন্টিং - এই আধুনিক যুগে আমরা আমাদের সন্তানদের কিভাবে মানুষ করবো? _ আমরা মা বাবারা সন্তানের ভবিষ্যৎ এর কথা চিন্তা করে কতোই না কষ্ট করে যাচ্ছি কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে যে সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে অনেক ছেলে মেয়েইরাই মা বাবার নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাচ্ছে। এরকম অনেক ঘটনাই ঘটে যাচ্ছে যে সন্তানের উপর সঠিক সংশোধন প্রক্রিয়া না করার ফলে সন্তান বাবা মার অবাধ্য হচ্ছে। এরকম পরিস্থিতিতে নিরাশ হওয়া যাবে না। অবশ্যই অবশ্যই প্রত্যেক্টা সমস্যার একটা সুষ্ঠু সমাধান আছে আর এই সব সমস্যার সুষ্ঠু আলোচনা এবং বিভিন্ন দিক নির্দেশনামূলক বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এই বইয়ে। শুধু তাই নয় সন্তান জন্মের আগ থেকে সন্তানের শৈশব,কৈশোর,টিন এইজ,সন্তানের বিবাহ তথা একটা পরিপূর্ণ গাইড লাইন এই (প্যারেন্টিং) বইটি। বইটিতে কোন তত্ত্ব কথা আলোচনা হয়নি বরং সব প্যাকটিক্যাল তথা বাস্তবধর্মী বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। _ আমি মনে করি বইটি প্রত্যেক মা বাবার এবং ভবিষ্যৎতে যারা মা বাবা হবে তাদের প্রত্যেকেরই পড়া উচিত।
যুগের জটিল সমস্যার একটি হল সঠিক পথে সন্তান লালন পালন করতে পারা বিশেষ করে ইসলামিক আদর্শে। পশ্চিমা আদলে জীবন গড়ে তোলার নামে এবং তথ্যপ্রযুক্তির বানে আমরা যে ভাবে ভেসেছি তার জোয়ার যেন পরবর্তী প্রজন্মকেও ভাসিয়ে নিয়ে না যায় সে দিক দিয়ে বিচার করলে সন্তান নিয়ে হাবুডুবু খাওয়া নব্য পিতামাতাদের জন্য শিক্ষণীয় একটি বই।
এক্সপেক্টেশন অনেক বেশি ছিল। বইটার বিষয়বস্তু এবং প্রাসংগিক উপস্থাপন যতটা ইউনিক হবে ভেবেছিলাম, পড়ার পর তা খুব কমই মনে হয়েছে। তবে এটা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে বইটা থেকে টু-বি-প্যারেন্টস দের উপকৃত হওয়ার মত অনেক কিছুই আছে।
নাজমা জামান ও আমির জামানের “প্যারেন্টিং” বইটি অত্যন্ত তথ্যবহুল ও ব্যবহারিক। বাবা-মা হিসাবে সন্তানদের মানসিক, সামাজিক ও নৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা বইটি সহজভাবে তুলে ধরেছে। বাস্তব উদাহরণ ও পরামর্শগুলো সহজে অনুসরণযোগ্য।এই বইটি আমার খুব ভালো লেগেছে। এটি পিতামাতার জন্য একটি মূল্যবান রেফারেন্স।
নব্য প্যারেন্ট হওয়ার আগে অবশ্যই পড়ার মত একটা বই। অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যা অনেকেই খেয়াল করে না, ফলে সন্তানকে ভুল পথে ঠেলে দেয়, না বুঝে। এটি পড়লে অনেকগুলো বিষয়ে সচেতন হওয়া সম্ভব।
"ইসলামিক সায়েন্সের আলোকে প্যারেন্টিং" একটা অসাধারণ বই। এটাকে মা-বাবা সন্তান প্রতিপালনের পূর্ণ গাইড হিসেবে নিতে পারেন। বইতে এতো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে যে, এটাকে জাস্ট পড়ে রেখে দিলেই হবে না। বরং, বারবার দেখে সবক নিয়ে জীবন চালনা করতে হবে।
বইটি ভালোই লেগেছে। যখন বাচ্চা লালন পালন নিয়ে পড়ছি তখন বাচ্চা লালন পালনের বই মনে হয়েছে। আবার যখন হাদীস আর কোরআনিক আলোচনা হয়েছে, তখন মনে হয়েছিলো যে এটা ধর্মীয় কোনো বই। আবার শেষের দিকে স্বাস্থ্য বিষয়ক আলোচনায় মনে হয়েছে যে এটা মেডিকেলের কোনো বই।
তবু বইটি অসাধারণ। এই বইকে বাচ্চা লালন পালনের এক আদর্শ বই হিসেবে চালিয়ে নেয়া যায়।
বিঃদ্রঃ লেখককে যথেষ্ট ধর্মীয় দিক থেকে ইলমওয়ালা মনে হয়েছে। তবু মাঝেমধ্যে এমন আলোচনা বা সমাধান দিয়েছেন যে, মনে হয়েছে এটা রীতিমতো ফিকহী আলোচনা। আর এসব আলোচনা আলেম হওয়া ছাড়া করা আসলে অনুচিত।
এবং যথেষ্ট রেফারেন্স ছিলো৷ তবে রেফারেন্সের জায়গা আরো পোক্ত হলে ভালো লাগতো।
মা বাবার কাছে অনুরোধ থাকবে, বাচ্চা আছে, বাচ্চা আসছে, বাচ্চা আসবে, বাচ্চা বড় হয়ে গেছে এমন সকল ক্যাটাগরীর জন্য এই বইটা পড়া অবশ্যই জরুরী বলে মনে করি।