What do you think?


অতীশ দীপংকর শ্রীজ্ঞান
The reprint of the 1999 classic opens with a full account of the baffling personality of the great Bengali Pandit Atisa or Dipamkara Srijnana, the greatest of the teacher-reformers of Tibetan Buddhism. The author proceeds to portray the Tibetan background of early Buddhism and gives an account of the early history of Tibet and Indo-Tibetan connections, together with a study of Buddhism in Tibet from the 7th century onwards right down to the time of Atis in the 11th century. The book is provided with an extremely valuable and illuminating set of Appendices.
184 pages, Hardcover
First published January 1, 1982
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 2 of 2 reviews
October 20, 2018
স্কুল-কলেজে আমরা যে ইতিহাস পড়ি তার মতো গোলমেলে জিনিস কমই আছে। তাতে মানুষের কথা না বলে বাছাই করা কিছু রাজাগজার কার্যকলাপ ঠুসে দেওয়া হয় সালতারিখ এবং বিশেষ কিছু স্থাননামের সঙ্গে। ফলে মোহেনজোদারোর স্নানাগার আর অশোকের শিলালিপি, অজন্তা আর ইলোরা, সবই আমাদের মগজে একাকার হয়ে যায়। আকবর আর আওরঙ্গজেব গুলোয় না, এটা দেখে বোধহয় মুঘল যুগের ঐতিহাসিকদের আনন্দাশ্রু বইবে। তবে মোদ্দা কথা হল, দুলে-দুলে প্রথম তরাইনের যুদ্ধ আর তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধের তারিখ মুখস্থ করতে গিয়ে আমরা মানুষের ইতিহাসের দিকে তাকানোর সুযোগও পাই না। অথচ সেই অদেখা, অপঠিত ইতিহাসের মধ্যেই লুকিয়ে আছে ভারত, তিব্বত, চিন-সহ এশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা, কিছু মানুষের কাহিনি।
যে মানুষদের একজন হলেন অতীশ দীপংকর শ্রীজ্ঞান।
যে যুগে এই মানুষটি বজ্রযোগিনী গ্রাম ছেড়ে বিশ্বভরা প্রাণের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন, তখনও বাংলা ভাষাটা বোধহয় তৈরি হয়নি। কিন্তু অতীশকে বাঙালি বলা যায় কি না, এ তর্কের আগে প্রশ্ন উঠবে, আমরা মানুষটির সম্বন্ধে কি আদৌ কিছু জানি?
গতবছর সন্মাত্রানন্দ শোভনের লেখা "নাস্তিক পণ্ডিতের ভিটা: অতীশ দীপংকরের পৃথিবী" প্রকাশিত হয়ে বাঙালি পাঠকের সম্মিলিত চেতনায় একটা বোমার মতোই ফেটে পড়ে। নন-লিনিয়ার ন্যারেটিভ ও অনন্য ভাষার সমন্বয়ে বাংলায় ঐতিহাসিক উপন্যাসের ক্ষেত্রে বইটি নতুন প্যারাডাইম তো তৈরি করেইছিল। পাশাপাশি সেটা আমাদের খুব অস্বস্তিকর একটা প্রশ্নের সম্মুখীন করেছিল।
আমরা কি অতীশকে ভুলে গেছি? অথবা, ভুলে যেতে গেলেও যতটুকু জানতে হয়, আমরা কি অতীশ দীপংকর শ্রীজ্ঞান-কে নিয়ে ততটুকুও জানতাম?
এই বেদনাদায়ক পরিস্থিতির অবসানকল্পে অনুষ্টুপ প্রকাশন প্রায় আড়াই দশক ধরে পাঠকের চোখের আড়ালে থাকা আলোচ্য বইটি আমাদের কাছে ফিরিয়ে এনে পাঠকের অকুণ্ঠ কৃতজ্ঞতাভাজন হলেন, একথা অনস্বীকার্য।
তিব্বতি ভাষা ও দর্শন বিষয়ে অলকা চট্টোপাধ্যায়ের প্রজ্ঞা ও দক্ষতা প্রশ্নাতীত। জানুয়ারি ১৯৬৭-তে তিনি Atisa and Tibet নামে যে বইটি লেখেন, তারই সংক্ষেপিত ও সরলীকৃত রূপ হল আলোচ্য বইটি।
ঠিক কী-কী আছে বইটিতে?
বইটি অত্যন্ত সংক্ষেপে তিনটি বিষয় তুলে ধরেছে:
১) তিব্বতের প্রাক-অতীশ ইতিহাস;
২) অতীশের ধার্মিক ও কার্মিক জীবন;
৩) বৃহত্তর ভারত ও ভারতের সমকালীন রাজনৈতিক পটভূমিতে অতীশের অবস্থান ও তাৎপর্য।
বইটা পড়তে গিয়ে দুটো জিনিস দেখে আমার, চন্দ্রদ্বীপের ভাষায়, তব্দা লাগল।
প্রথমত, এই অতি সংক্ষিপ্ত পরিসরেও লেখক স্বকপোলকল্পিত তত্ত্ব বা '-বাদ'-এর আশ্রয় না নিয়ে তথ্যপ্রমাণের সাহায্য নিয়েই যা বলার বলেছেন। ফলে একাধিকবার তাঁকে পরস্পরবিরোধী বিবরণ পেশ করতে হয়েছে, কারণ সমকালীন ও তথাকথিত নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকেই পাওয়া গেছে এই 'তথ্য'-দের। এতে বইটা নিরপেক্ষ এবং অনেকাংশে নির্মোহ হয়ে উঠতে পেরেছে।
দ্বিতীয়ত, এবং বইটা না পড়লে আমি একথা কিছুতেই মানতাম না, আপনারাও পড়ে তবেই হয়তো মানবেন, বইটা অত্যন্ত সুখপাঠ্য। ইতিহাস তথা ঐতিহাসিক এক ব্যক্তিত্বের কাহিনি কীভাবে সহজ ভাষা ও সুচিন্তিত কাঠামোয় পরিবেশন করা যায়, এটা এই বই থেকে শেখা যেতে পারে।
সামগ্রিক বিচারে এটুকুই বলব, যদি আপনি অতীশ দীপংকর শ্রীজ্ঞান তথা বৌদ্ধধর্ম ও একাদশ শতাব্দীর ভারতবর্ষের ইতিহাস নিয়ে জানতে চান, তবে এই বইটি আপনাকে পড়তেই হবে। আর যদি আপনি ইতিমধ্যে "নাস্তিক পণ্ডিতের ভিটা" পড়ে থাকেন, তাহলে তো এই বইটি আপনাকে পড়তেই হবে।
নইলে ওই আলোর পথযাত্রী মানুষটি ঠিক কোন আঁধারে পথ হেঁটেছিলেন, সেটাই তো আপনি জানতে পারবেন না!
যে মানুষদের একজন হলেন অতীশ দীপংকর শ্রীজ্ঞান।
যে যুগে এই মানুষটি বজ্রযোগিনী গ্রাম ছেড়ে বিশ্বভরা প্রাণের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন, তখনও বাংলা ভাষাটা বোধহয় তৈরি হয়নি। কিন্তু অতীশকে বাঙালি বলা যায় কি না, এ তর্কের আগে প্রশ্ন উঠবে, আমরা মানুষটির সম্বন্ধে কি আদৌ কিছু জানি?
গতবছর সন্মাত্রানন্দ শোভনের লেখা "নাস্তিক পণ্ডিতের ভিটা: অতীশ দীপংকরের পৃথিবী" প্রকাশিত হয়ে বাঙালি পাঠকের সম্মিলিত চেতনায় একটা বোমার মতোই ফেটে পড়ে। নন-লিনিয়ার ন্যারেটিভ ও অনন্য ভাষার সমন্বয়ে বাংলায় ঐতিহাসিক উপন্যাসের ক্ষেত্রে বইটি নতুন প্যারাডাইম তো তৈরি করেইছিল। পাশাপাশি সেটা আমাদের খুব অস্বস্তিকর একটা প্রশ্নের সম্মুখীন করেছিল।
আমরা কি অতীশকে ভুলে গেছি? অথবা, ভুলে যেতে গেলেও যতটুকু জানতে হয়, আমরা কি অতীশ দীপংকর শ্রীজ্ঞান-কে নিয়ে ততটুকুও জানতাম?
এই বেদনাদায়ক পরিস্থিতির অবসানকল্পে অনুষ্টুপ প্রকাশন প্রায় আড়াই দশক ধরে পাঠকের চোখের আড়ালে থাকা আলোচ্য বইটি আমাদের কাছে ফিরিয়ে এনে পাঠকের অকুণ্ঠ কৃতজ্ঞতাভাজন হলেন, একথা অনস্বীকার্য।
তিব্বতি ভাষা ও দর্শন বিষয়ে অলকা চট্টোপাধ্যায়ের প্রজ্ঞা ও দক্ষতা প্রশ্নাতীত। জানুয়ারি ১৯৬৭-তে তিনি Atisa and Tibet নামে যে বইটি লেখেন, তারই সংক্ষেপিত ও সরলীকৃত রূপ হল আলোচ্য বইটি।
ঠিক কী-কী আছে বইটিতে?
বইটি অত্যন্ত সংক্ষেপে তিনটি বিষয় তুলে ধরেছে:
১) তিব্বতের প্রাক-অতীশ ইতিহাস;
২) অতীশের ধার্মিক ও কার্মিক জীবন;
৩) বৃহত্তর ভারত ও ভারতের সমকালীন রাজনৈতিক পটভূমিতে অতীশের অবস্থান ও তাৎপর্য।
বইটা পড়তে গিয়ে দুটো জিনিস দেখে আমার, চন্দ্রদ্বীপের ভাষায়, তব্দা লাগল।
প্রথমত, এই অতি সংক্ষিপ্ত পরিসরেও লেখক স্বকপোলকল্পিত তত্ত্ব বা '-বাদ'-এর আশ্রয় না নিয়ে তথ্যপ্রমাণের সাহায্য নিয়েই যা বলার বলেছেন। ফলে একাধিকবার তাঁকে পরস্পরবিরোধী বিবরণ পেশ করতে হয়েছে, কারণ সমকালীন ও তথাকথিত নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকেই পাওয়া গেছে এই 'তথ্য'-দের। এতে বইটা নিরপেক্ষ এবং অনেকাংশে নির্মোহ হয়ে উঠতে পেরেছে।
দ্বিতীয়ত, এবং বইটা না পড়লে আমি একথা কিছুতেই মানতাম না, আপনারাও পড়ে তবেই হয়তো মানবেন, বইটা অত্যন্ত সুখপাঠ্য। ইতিহাস তথা ঐতিহাসিক এক ব্যক্তিত্বের কাহিনি কীভাবে সহজ ভাষা ও সুচিন্তিত কাঠামোয় পরিবেশন করা যায়, এটা এই বই থেকে শেখা যেতে পারে।
সামগ্রিক বিচারে এটুকুই বলব, যদি আপনি অতীশ দীপংকর শ্রীজ্ঞান তথা বৌদ্ধধর্ম ও একাদশ শতাব্দীর ভারতবর্ষের ইতিহাস নিয়ে জানতে চান, তবে এই বইটি আপনাকে পড়তেই হবে। আর যদি আপনি ইতিমধ্যে "নাস্তিক পণ্ডিতের ভিটা" পড়ে থাকেন, তাহলে তো এই বইটি আপনাকে পড়তেই হবে।
নইলে ওই আলোর পথযাত্রী মানুষটি ঠিক কোন আঁধারে পথ হেঁটেছিলেন, সেটাই তো আপনি জানতে পারবেন না!
April 21, 2019
অতীশ দীপংকর সম্পর্কে জানবার আগ্ৰহ ঐতিহাসিক উপন্যাস 'নাস্তিক পন্ডিতের ভিটা' পড়বার সাথে সাথেই তৈরী হয়েছিল।তাই দেরী না করে এই বইটি পড়া শুরু করেছিলাম। সাবলীলভাবে মহাপন্ডিত অতীশের জীবনী এই বইটির মাধ্যমে বর্ণনা করা হয়েছে। বংশের ইতিহাস, প্রথমে তান্ত্রিক দিক্ষা পরে সন্ন্যাস গ্ৰহণ, শিক্ষা জীবনের প্রায় প্রত্যেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা সময়কালের সঙ্গে বিস্তারিত ব্যাখা পাওয়া যায়। অত্যন্ত সহজ সরলভাবে তৎকালীন কালে নির্মিত বৌদ্ধ বিহার, তিব্বতের রাজবংশের ইতিহাস, প্রাচীন ধর্ম (পোন বা বোন) এর সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মের সংঘাত,অতীশের তিব্বতে গমন , গ্ৰন্থ রচনা ও অনুবাদ,ঐকান্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিষ্যদের সহযোগিতায় বৌদ্ধধর্ম সংস্কার ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।ধর্ম সংস্কারে অতীশ ছাড়াও তাঁর শিষ্য,তিব্বতের রাজা ও অন্যান্য আচার্যদের অবদানের কথা ও বিভিন্ন ঐতিহাসিকদের পরস্পরবিরোধী মতামতগুলিও এখানে তুলে ধরা হয়েছে। সাথে তিব্বতে প্রচলিত আলৌকিক লোককথার উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বোপরি অত্যন্ত সহজ সরল ভাবে লেখা গবেষনামুলক বইটি সুখপাঠ্য হয়ে উঠেছে।
১৯৬৭ সালে শ্রদ্ধেয় লেখিকা অলকা চট্যেপাধ্যায় রচিত 'ATISA AND TIBET' এর সারংশ হলো এই বইটি। ভূমিকা ও প্রাক্ কথন পড়ে বোঝা যায় এমন এক মহাপন্ডিতের জীবন সম্পর্কে গ্ৰন্থ রচনার উদ্দেশ্যে কতটা গভীর গবেষণা করা হয়েছে। অতীশ ও বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে গেলে এই বই অবশ্যই পড়া উচিত বলেই মনে হয়।
১৯৬৭ সালে শ্রদ্ধেয় লেখিকা অলকা চট্যেপাধ্যায় রচিত 'ATISA AND TIBET' এর সারংশ হলো এই বইটি। ভূমিকা ও প্রাক্ কথন পড়ে বোঝা যায় এমন এক মহাপন্ডিতের জীবন সম্পর্কে গ্ৰন্থ রচনার উদ্দেশ্যে কতটা গভীর গবেষণা করা হয়েছে। অতীশ ও বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে গেলে এই বই অবশ্যই পড়া উচিত বলেই মনে হয়।
Displaying 1 - 2 of 2 reviews



