Jump to ratings and reviews
Rate this book

ইচ্ছে হলে ছুঁয়ে দিয়ো বেপরোয়া রোদ্দুর

Rate this book

128 pages, Hardcover

Published November 3, 2018

2 people are currently reading
35 people want to read

About the author

এ বি এস রুমন

4 books37 followers
এ বি এস রুমনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা কুষ্টিয়ার বটতৈলে। গণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তোর ডিগ্রি অর্জন করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে। মূলত কবিতা লেখার মাধ্যমে লেখালেখি জীবনের হাতেখড়ি। প্রায় এক যুগ ধরে লেখালেখি করলেও পূর্বে ছাপার অক্ষরে কোন বই প্রকাশ হয়নি। লেখক বদরুল মিল্লাত ও নহলী প্রকাশনীর পৃষ্ঠপোষকতায় বড় পরিসরে এটিই তাঁর প্রথম লেখা। প্রকৃতিপ্রেমী এই লেখক বর্তমানে দ্বিতীয় উপন্যাস নিয়ে কাজ করছেন। একজীবন লিখে যাবেন এটিই একমাত্র ইচ্ছা।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
31 (43%)
4 stars
20 (27%)
3 stars
13 (18%)
2 stars
4 (5%)
1 star
4 (5%)
Displaying 1 - 21 of 21 reviews
Profile Image for Ifsad Shadhin.
115 reviews24 followers
April 19, 2020
একজন লেখকের লেখার সাথে অন্য কারোর লেখার তুলনা করলে আমি বেশ বিরক্ত হই। এজন্য যেসব বই জঘন্য লাগে, সেসব বইয়ের তুলনা করি হুমায়ুন আহমেদ, সেলিনা হোসেন, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ‘হরেক রকমের’ লেখকদের সাথে।

এই বইখানায় হুমায়ুন হুমায়ুন একটা গন্ধ আছে। খারাপ সেন্সে বলিনি, বলেছি ভালো অর্থে। হুমায়ূন আহমেদের লেখা পড়লে যেমন টুক করে বইয়ের ভিতরে ঢুকে যাওয়া যায়, অনেকটা তেমন। তারপর আছে চরিত্র, অনুসঙ্গিক পরিবেশ এবং প্রেক্ষাপটের পরিমিত বর্ণনা। বেশিও না, কমও না।


তবে প্রচুর ন্যাকা ন্যাকা কাহিনী। লেখক ১২ ‘বৎসর’ ধরে লিখেছেন বলেই আশার পারদ বোধহয় স্তম্ভের একটু বেশিই উপরে উঠে গেছিল। ভুলেই গেছিলাম যে একেকজনের পছন্দ একেক রকম।

ফলাফল যা হবার তাই। আশাহত হয়েছি।

কাহিনীর জন্য যতোটা না এই হতাশা, তারচেয়ে বেশি বোধহয় চরিত্রদের হঠাৎ হঠাৎ অপ্রাকৃতিক সংলাপের কারণে।

‘আমার বুদ্ধিমত্তা হয়তো তোমার মতো অতো ধারালো না, ভালোবাসা কিন্তু অনেক ধারালো। আমি আমার বেলাকে তো চিনি, তাই না?’


সিরিয়াসলি?


যাইহোক, উপন্যাস খানা কেমন সে প্রসঙ্গে আসা যাক।
আমার ভালো লাগেনি। পছন্দের চেয়ে বেশি ন্যাকামি। অতিরিক্ত পরিমাণে বাস্তব বিবর্জিত। কিন্তু, তারমানে এই না যে উপন্যাস খারাপ। আপনার যদি রোমান্টিক জনরায় আমার মতো অ্যালার্জি না থাকে তাহলে ট্রাই করতে পারেন। ভালোই লাগবে। আপনার পরবর্তী ফেভারিট বইয়ের তকমাও জিতে নিতে পারে এই বইটি। আফসোস হলো আমার বিরক্তি লিস্টে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি সফল ভাবেই।


আর এই বইয়ের প্রতি বাড়তি একটু বিরক্তি আছে আমার। পিডিএফ পড়েছি। সচরাচর বাংলা বইয়ের পিডিএফ পড়ি না, যদি না সেটা ক্লাসিক হয়। করোনার প্রকোপ শেষে যদি বেঁচে থাকি তবে এই বইখানা কিনতে হবে আমার। নাহলে নিজেকে অপরাধী অপরাধী ফিল হবে। কিন্তু বইটা আমার পছন্দ হয়নি তেমন।

বিপদে আছি, ভালোই বিপদে আছি 😑
Profile Image for Tiash ..
315 reviews114 followers
February 15, 2021
"ইন্দ্রিয়াতীত অনুভূতির মানবীয় মানসের স্থির চিত্র 'ইচ্ছে হলে ছুঁয়ে দিও বেপরোয়া রোদ্দুর' "




"তুই একটা কুত্তা, মকবুলদের বাড়ির সামনের বেয়াদপ কুত্তা। "
"মকবুলদের বাড়ির সামনে তো কুত্তা দুইটা, আমি কোনটা?"
"পশম ওঠাটা তুই, আর আরেকটা তোর বউ।"



..... বেলা হাসে , দেখা যায় না এমনভাবে নিজের তলপেটে হাত রেখে আস্তে করে হাত বোলায়। চোখ বন্ধ করে বলে, "মেঘ বাবাটা, মা তোকে ভালোবাসে, খুব ভালোবাসে।".....


.....নিজেকে নিজে সামনে থেকে দেখা যায় না। দেখা গেলে তিনি চরম অভিমানী একজন বাবাকে দেখতেন। যার চোখ ভিজে উঠছে মেয়ের অনুপস্থিতিতে।


......."কুকুরটার সাথে কথা বলি"....
"কি উত্তর দিল জানিস?".
"কী?"
"বলল, শালা মানুষের বাচ্চা, দূর হ আমার সামনে থেকে।"




বেলা, ধনীর ঘরের মেয়েটা একদিন হুট করে চলে এল রাশেদের হাত ধরে দারিদ্রে ঘেরা একটা ভালোবাসার ঘরে। সদা সুখী মেয়েটার কি আদৌ বাবার কথা মনে পড়ে না? বাবা ও কি তাকে ভুলে গেছেন? রাশেদ, ভাই রোদ আর বেলাকে নিয়ে ছোট সংসারের কর্তা। রোদ ছেলেটা বেশ চৌকশ শুধু পড়ে না। কিন্তু দারুণ কবিতা লিখে। কবিতা দিয়ে মনে ক্ষুধা মিটলেও পেটের ক্ষুধা মিটে?

মায়া মিত্র, ইলা মিত্রের একমাত্র মেয়ে আর আছে আবীর। এই ছেলেটা জ্বর গায়ে একদিন কোথা থেকে যেন এসে পড়ল আর কিভাবে যেন জড়িয়ে গেল পরিবারের সাথে। আবীর ছেলেটা চাপা ধাচের কিন্তু বেশ রসিকও। ছেলেটা কেন যেন একটা পাগলীর অতিভৌতিক ক্ষমতা নিয়ে গুজব ছড়ায়! আর নিজেকে রহস্যের খোলসে আটকে রাখে! রহস্য খুলবে কি কখনো? মায়া আর আবীরের খুনসুটির সাথে সাথে মায়ার আরো একটা রহস্য রোদ! ভালোবাসে সে! কিন্তু ধর্মের বাধা?

ইরাজুদ্দিন, বেলার বাবা রাতে ঘুম ভেঙে গেলেই চিরপরিচিত তিন বছর আগে তাকে ছেড়ে যাওয়া মেয়েকে খোঁজেন। অস্তিত্বে তাকে পানও কিন্তু অভিমান! তিনিও তো মেয়ের ভালোই চেয়েছিলেন। কিন্তু তবুও মুহুর্তেই যেন সব অনুভূতি ভোতা হয়ে যায় তার। তবুও তীব্র টান অনুভব করতে থাকেন মেয়ের প্রতি, কিন্তু যদি দড়িটার অন্যপাশে থাকা মেয়ের অভিমান না কমে?


গল্পটা বেলা রাশেদের ভালোবাসার সংসারের, রোদের আর মায়ার ভালোবাসার, গল্পটা সাফল্য ব্যর্থতা, প্রাপ্তি আর আকাঙ্ক্ষার। গল্পটা সামাজিকতার, গল্পটা একটা ঘৃণ্য সত্য বা একটা তেজী বাবার! কঠোর সময়ের কড়ালগ্রাসের সাথে কিছু আশার! শেষটাতে তবে কি..............




একান্ত নিজস্ব মতামত


উপন্যাস কি? কোন লেখাটা উপন্যাস বলে বিবেচ্য হবে? আচ্ছা চরিত্রের সমন্বয় মানেই কি উপন্যাস? উপন্যাসের সাথে ব্যক্তিজীবন কতটা সদৃশ? শব্দসীমা বা কথার বুননে ঠাসা কিছু কালো কালির অব্যর্থ বুননকে কি সার্থক উপন্যাস বলা যায়?


কথা হচ্ছিল "ইচ্ছে হলে ছুঁয়ে দিও বেপরোয়া রোদ্দুর" বইটা নিয়ে। বইটার বেশ কিছু অংশ বেশ স্ট্রং আবার বেশ কিছু জায়গাতে আমার মনে হয়েছে আরো ফোকাস করতে পারা যেত। প্রথমত,


* উপন্যাসের শুরু হওয়া উচিত নাটকীয় আর প্রাঞ্জল। লেখক বিষয়টাকে বেশ সুন্দরভাবে বুঝে লিখেছেন সেটা তার শুরুটা দেখেই আন্দাজ করা যায়। "বেলার মন ভীষণ খারাপ। রাশেদের জ্বর কমছে না... " শুরুতে এই ধরনের একটা চুড়ান্ত ইন্দ্রিয়াতীত অনুভুতি পাঠককে ভাবাতে বাধ্য করবে কারা এই বেলা রাশেদ? কেনই এত অনুভুতি লাইন দুটিতে আর লেখক এইখানেই সার্থক উপন্যাসিকের পরিচয় দিয়েছেন!

*গল্পটা কার? বেলা? রাশেদ? মায়া? রোদ? আবীর? প্রশ্নটার উত্তর গল্পটা পাঠকের। পাঠক নিজের বা নিজের আশেপাশের মানুষের বা সমাজের সাথে সাদৃশ্য পাবেন প্রতিটা চরিত্রের। যেন চরিত্রগুলো সব বাস্তব! উপন্যাসের অন্যতম আরেকটা শর্ত যেটা লেখক পুরণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

* সাসপেন্স! লেখক বেশ রাখঢাক করে শেষটাতে কিছু কথার পর্দাত্তোলন করেছেন (স্পয়লার এড়াতে বিষয়গুলো স্কিপ করছি) আর প্রকৃতার্থে এমনই হওয়া উচিত। জীবনের গল্পে সাসপেন্স বিষয়টা সবাই ধরে রাখতে পারেন না শেষ পর্যন্ত। শুরুর সাথে শেষটার তাই ফারাকও অনেকটা হয়ে পড়ে সেখানে। বইটার শুরুটা যেমন চমকপ্রদ শেষটাও তেমনি, বলা যায় একটা কমপ্লিট প্যাকেজ।

* কোনো পারিবারিক গল্পই সামাজিক না হয়ে পারে না। একটা গন্ডিতে যতই আবদ্ধ করা হোক সামাজিকতা, লোকাচার তাতে থাকবেই আর এই জিনিসটাকেই কেন্দ্র করে জবরদস্ত একটা প্রশ্ন তোলেছেন লেখক ধর্ম কি? এবং ধর্মটা কি কেবল মানুষের লৌকিকতা? লেখকের কি জবাব তাতে তা বইতে দেখুন! আর তার সাথে আছে পাগলীর প্রসঙ্গটা! এটা নিয়ে জানতে হলে শেষতক পড়তে হবে।

* চারিত্রিক সাতন্ত্রতা ও দ্বৈততা ! এই বিষয়টা খুব মেজর একটা ফ্যাক্টর উপন্যাসের জন্য। বইটাতে আমি এই চরিত্রগত বিষয় নিয়ে খুব সন্তুষ্ট। ভাল খারাপ, রাগ অভিমান সব নিয়েই চরিত্র গড়ে ওঠে। আর বইতে বেলা একদিকে চার্মিং আবার জেদি, একগুঁয়ে, অভিমানী। তেমনি রাশেদ ফ্যামিলি ম্যান আবার খামখেয়ালী ধাচের আবার ভবিষ্যৎ সচেতন একটা স্ট্রং চরিত্র। প্রতিটা চরিত্রেই এরকম বিপরীত বৈশিষ্ট্যের সন্নিবেশ লেখক অতীব চমৎকার ভাবে সম্পন্ন করেছেন। চারিত্রিক বিচারে এই উপন্যাসকে সার্থক উপন্যাস বলব।

* বড় বড় ঘটনার সাথে ছোট ছোট ঘটনার সংমিশ্রনে একটা ভিন্ন ধাচের অনুভুতির জগত তৈরি হয়েছে বইটার প্লটটা জুড়ে। যেমন বেলার গাছের সাথে কথা বলা বা মায়ার কাঠবিড়ালী পরিবার নিয়ে আনন্দ করা সব উপন্যাসের মাঝে একটা ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে যেটা পাঠককে শেষ পর্যন্ত পড়তে চৌম্বকের মত আকর্ষণ করবে।

* প্রতিটা অধ্যায়ের একটা পরিপুষ্টা সমাপ্তি। প্রতিটা চাপ্টারের শেষে পাঞ্চ লাইন দিতে ভুল করে নি লেখক। সেটা বেশ উপভোগ্য ছিল।

* কবিতার যথার্থ প্রয়োগ! বইটাতে বেশ কিছু কবিতার সন্নিবেশ লক্ষ্যণীয়। কবিতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয় জিনিসটা হলো কবিতার পরিসর যেন খুব বড় না হয় আবার খুব ছোট হলেও যেন তাতে ভাষাগত সৌকর্য থাকে। উদাহরণস্বরুপ এবারের মেলায় প্রকাশিত অতীন্দ্রিয়া বইটার কথা বিবেচনা করলে বইটার শেষে ব্যবহৃত দুই লাইন,

"জগত মাঝারে করবো বিচরণ,
নাইবা দেখলে।
অস্তিত্বের অনুভূতিতে শুধু,
আমাকেই পাবে।"


খুব ক্ষুদ্র কিন্তু বেশ উপভোগ্য। এবইটাতেও তেমন কিছু কবিতার ব্যবহার ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে কিন্তু কবিতাগুলোর ভাষাগত দিকটায় আরেকটু ফোকাস প্রয়োজন ছিল মনে করি।


* উপন্যাসের ক্ষেত্রে বিবেচ্য আরেকটা মেজর ফ্যাক্টর গল্পের প্রবাহ। প্রবাহের ক্ষেত্রে এ বইটা আসলেই ভাল, বেশ ভাল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই রিদমে পড়ে যাওয়া যায় যেটা আসলেই বেশ বিরল এবং উপভোগ্য।

* বইটার একটা বেশ ব্যর্থতা বলা যায় প্লট সাজানো। আমি বইটাকে তিনটা ভাগে ভাগ করব। বেলার বাবার প্রসঙ্গ আসার আগ পর্যন্ত পুরোটা কেবলই ভালোর দিকে। এক্ষত্রে কারো সাথে কোনো মন্দ কিছু হচ্ছে না। তার পরের অংশ লাস্টের কিছুটা আগ পর্যন্ত যেখানে সব খারাপ ঘটছে চরিত্রগুলোর সাথে। সবার উৎকণ্টা এটার উপজীব্য। আর শেষ অংশে ভালো খারাপ মিশ্র একটা প্রতিক্রিয়া। বস্তুত শেষ অংশটার মতোই হওয়া উচিত পুরোটা বই, অন্তত আমার মতে। তো লেখক প্লটটাকে আরেকটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লিখলে হয়ত বইটা অারো আকর্ষনীয় হত (একান্ত নিজস্ব মতামত)


* শুরুর দিকে একটা অসঙ্গতি দেখলাম রাশেদ লাইট নিভিয়ে অন্ধকারে চা বানায় (?) তাছাড়া ওই পেজেই ভোরের কাহিনীর পর ধুম করে সকাল হয়ে যায়, বেলা গোসল করেও চলে আসে! এতটুকু সময়ের ঘটনার মাঝে একটুও স্পেস নাই (/) আমার বিষয়টা ধরতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। বাদবাকি পুরো বইটা অসম্ভব ভাল।



উপন্যাসে এমন কিছু থাকতে হবে যেটা তাকে বড় গল্প থেকে আলাদা করবে। ধরুন আহমদ ছফার ওঙ্কার বা জহির রায়হানের তৃষ্ণা। ক্ষীণকায়া কিন্তু এটাকে অবশ্যই উপন্যাস বলতে হয়। এগুলো উপন্যাস তবে সেটা ধরনে আকারে নয়। আবার কিছু কিছু কয়েকশ পেজের বইকেও উপন্যাস বলা যায় না। আমার মতে বইটা আকারে ও প্রকারে একটা সার্থক উপন্যাস। তো শুরুতে যে প্রশ্নগুলো তুলেছিলাম আশা করি মাঝের আলোচনার দ্বারা উপন্যাসের সার্থকতার কতটুকু বইটার জন্য প্রযোজ্য তা অনুমেয় আর যদি তাতে সমস্যা হয় তবে মশাই বই তো আছেই পড়ে নিজের মত দিন :)




প্রসঙ্গ প্রচ্ছদ, নামকরণ, প্রুফরিডিং

"ইচ্ছে হলে ছুঁয়ে দিও বেপরোয়া রোদ্দুর" নামটা বইটার সাথে কতটা মিল সম্পন্ন সেটার জন্য লেখকের ফিলোসোফি কি আমার জানা নেই, তবে আমার মতে রোদ হলো আমাদের জীবনের প্রতিচ্ছায়া আর সেটার বাড়া কমার সাথে গল্পের উৎকর্ষ বা অপকর্ষের সাদৃশ্য আছে আর সেই সাদৃশ্যের জন্য হয়ত এরকম নামকরণ। প্রচ্ছদটা বেশ সুন্দর। হলুদ কালোর মাঝে সাদা আলোর পাশে কিছু অবয়ব! কারা তারা? আর অর্ধেক আলো অর্ধেক কালো যেন চরিত্রগুলোর জীবনকে নির্দেশ করছে। মোটকথা অতীব আগ্রহজাগানিয়া বইটার নাম ও লে আউট।।

নহলীর বই এর প্রুফ নিয়ে সমস্যা হবে না সেটা ভরসা ছিল, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটাও বানানের ভুল নজরে আসেনি, আসলে আমি এতটাও আশা করিনি। যাহোক, ১৯ নাম্বার অধ্যায় (পেজ ৮৩) এর মাঝামাঝিতে থাকলে বানানটা ভেঙ্গে? (থ াকলে) হয়ে গেছে। নেক্সট ইডিশনে সেটা ঠিক করে নেয়া হবে আশা করি!


কিছু প্রিয় লাইন


* জীবন হয়ত এমনই, পাখি উড়ে যায় পালক পড়ে থাকে।।
* কিছু হাসি নিজেকে আনন্দ দেয় অন্যকেও খুশি করতে পারে।
* সম্পর্কগুলো হয়ত এমনই, জোয়ার ভাটার নিয়ম মেনে চলে । দুরের মানুষ কাছে আসে কাছের মানৃষ আস্তে আস্তে বৃত্তের বাইরে চলে যায়।
* মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়।।
* পোশাক মানুষকে বদলাতে পারে না, চেহারা খানিকটা বদলে দেয়।
*ছেলে হিসেবে ভালোরা সবসময় পাত্র হিসেবে ভাল হয় না
* মা বাবা মরে গেলে বাড়ির বড় ছেলেরা আলো জ্বালা মৃত জোনাকীর মতো হয়ে যায়। ইচ্ছে বলে কিছু থাকে না!


Lets be friend on Instagram
Profile Image for Ishraque Aornob.
Author 29 books404 followers
August 22, 2019
ভালো লেগেছে। ঝরঝরে লেখা, ছোটছোট অধ্যায়ে বিভক্ত। এক বসায় শেষ করেছি। হাসি, কান্না, বিরহ, বিষণ্নতা, ভালো এন্ডিং সবই রয়েছে। সামাজিক উপন্যাসে হুমায়ুন আহমেদ স্যারকে ফলো করার চেষ্টা লেখক করেননি। যেটা ভালো লেগেছে। মৌলিকত্ব রয়েছে। চরিত্রগুলোর গভীরতা আছে। আবীর নামক চরিত্রটি সবথেকে বেশি ইন্টারেস্টিং। প্লট, কাহিনী বেশ ভালোই। আবেগ ছুঁয়ে যাবে, খুনসুটিতে মন ভরে উঠবে, শেষে একটা অনিশ্চয়তা ভর করবে। সব মিলিয়ে উপভোগ্য। লেখকের পরের উপন্যাসের জন্য শুভকামনা। অপেক্ষায় রইলাম।
Profile Image for Nisha Mitra.
141 reviews40 followers
May 1, 2019
টানটান ঝরঝরে ভাষা,লেখার বুনোট অত্যন্ত ভালো ;মিস্টি একটা উপন্যাস । কখনোই মনে হয়না লেখকের প্রথম উপন্যাস এটা। সাধারণ মানুষের সামাজিক জীবনের গল্প হলেও প্রতি অধ্যায়ের শেষে একটা চাপা কৌতুহল থেকে যায় পরে কি হবে এটা নিয়ে । আবীর চরিত্রটি মন ছুঁয়ে যায়। লেখকের প্রতি শুভেচ্ছা রইল ।
Profile Image for DEHAN.
277 reviews80 followers
October 9, 2019
উপন্যাসের শেষের দিকে খুব আশা ছিলো রাশেদ মারা যাবে৷ রাশেদ কে মেরে ফেললে উপন্যাস টা আরো চমৎকার হতো বলেই আমার বিশ্বাস ৷জগতে প্রাপ্তি যেমন থাকবে ত্যাগ ও থাকবে। লেখকের আরেকটা অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য মনে হয়েছে সেটা হলো আবিরকে আবার ফিরিয়ে আনা। একবার যাকে ট্রেনে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে তাকে আবার ফিরিয়ে আনার সত্যিই কোন দরকার ছিলো না।
যাই হোক উপন্যাসের চরিত্র গুলো লেখকের সন্তানসম। হয়তো এই লেখক সন্তানদের একটু বেশিই ভালোবাসেন, রূপকথার ঐ গল্পের লেখকের মতো যিনি সবার শেষে এই লিখে গল্প শেষ করতেন "অতঃপর রাজা আর রানী সুখে শান্তিতে ঘরসংসার করিতে লাগিলো"
Profile Image for Ësrât .
515 reviews87 followers
January 12, 2020
মনে বড় আশা ছিল

হুম বইটার মুখবন্ধ পড়ে অনেক আশা নিয়ে বইটা পড়া শুরু করছিলাম, কিন্তু আমার আশা ভাষাহীন হয়ে অতল গহ্বরে তলিয়ে গেছে.লেখায় অনেকটা ইমদাদুল হক মিলনের ছাপ পেয়েছি,বেলা আবির রোদ রাশেদ মায়া প্রতে‍্যকটা চরিত্রই গতানুগতিক এবং অনেকটাই predictable,আবীরের ব‍্যাপারটা আগে থেকেই খানিকটা আঁচ করতে পেরেছিলাম পাগলীকে নিয়ে তার আগ্ৰহ দেখে.ছোট একটা বই,বড় কিছুর ফাঁকে পড়াই যায়
Profile Image for Prionty - প্রিয়ন্তী.
37 reviews20 followers
January 12, 2019
#নহলী_বুকস
#বই_সমালোচনা

#ভূমিকা:লেখক যখন প্রথমবার উপন্যাসটি লিখছিলেন তখন তার বয়স মাত্র পনেরো বছর! তবুও কাঁচা হাতের লেখা অন্যদের সামনে প্রকাশ হওয়ার দ্বিধায় সবার চোখে ফাঁকি দিয়ে পাণ্ডুলিপিটি ভাসিয়ে দিয়েছিলেন গড়াই নদীতে।উনি চাইলে হয়ত আরো আগেই বই বের করতে পারতেন, কিন্তু উনি সেটা চাননি।মনে প্রবল ইচ্ছা ছিল ভাষা ও সাহিত্যের উপর দক্ষতা অর্জন করে একদিন সেই উপন্যাসটি আবার লেখার।
কিন্তু লেখক উপন্যাসটি উনি গত বারো বছর ধরে লেখার চেষ্টা করেছেন।তবে হয়ে উঠেনি।কিন্তু অবশেষে অনেক চড়াই উৎরায় পেরিয়ে, অনেক পরিব��্তন মধ্য দিয়ে লেখক তার দক্ষতা প্রকাশ করতে পাঠকদের উপহার দিয়েছেন আজকের এই উপন্যাস "ইচ্ছে হলে ছুঁয়ে দিয়ো বেপরোয়া রোদ্দুর"।

#কাহিনী_সংক্ষেপ: গল্পটি মূলত রাশেদ, বেলা,আবীর, রোদ ও মায়াকে নিয়ে।গল্পের নায়ক রাশেদ। রাশেদের স্ত্রী বেলা। রোদ রাশেদের ছোট ভাই। রোদের প্রেমিকা মায়া মিত্র তাদের পাশের বাড়ির মেয়ে।তবে রাশেদ তাকে বোনের মত দেখে। রাশেদের বন্ধু আবির রাশেদদের সাথেই থাকে।কিন্তু আবিরের আসল পরিচয় কেউ জানে না,তার ধর্ম কি, কে বাবা, কে মা, তার বাড়ি কোথায় কেউ জানে না। তবুও আবির যেন এই পরিবারেরই একজন।

অন্যদিকে বিত্তশালী বাবার একমাত্র মেয়ে বেলা। প্রাচুর্য ছেড়ে বাবার অমতে বেকার ছেলে রাশেদের হাত ধরে অনিশ্চিতের পথে পা বাড়ায়। রাশেদ বিশ্ব বিদ্যালয়ের প্রথম স্থান অধিকারী মেধাবী ছাত্র হওয়া স্বত্বেও তৃতীয় পক্ষের জোর না থাকায় বেকারত্বের অভিশাপ বয়ে বেড়ায়। তবুও বেকার স্বামীর সংসার খুব সুন্দর করেই গুছিয়ে নিয়েছে বেলা।বেলার উচ্চবিত্ত বাবা আপত্তি করলেও বাধা দেননি। কিন্তু তার মেয়ে বাবার সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে অভিমানের দেয়াল উঁচু হয়ে দাঁড়িয়েছে বাবা-মেয়ের ভালোবাসার মাঝখানে। কান্নায় সেই শোক কমে, ফুরিয়ে যায় না।

সবকিছুর মাঝেও কাজ করে শূন্যতা, সুখ ভাসিয়ে নিতে আসে হঠাৎ ঘূর্ণিঝড়। কি হয় তাদের শেষ পরিণতি জানতে পড়ে ফেলতে পারেন অসাধারণ এই বইটি।

#প্রচ্ছদ_ও_নামকরণ: সম্পূর্ণ বই পড়ে "ইচ্ছে হলে ছুঁয়ে দিয়ো বেপরোয়া রোদ্দুর" এই নামটি লেখক গল্পের ক্ষেত্রে কি হিসেবে ব্যবহার করেছেন সেই মর্মার্থ আমি বুঝিনি। তবে প্রচ্ছদটা দারুণ সুন্দর।হলুদ আর কালোর উপর সাদা আলোর পাশেই কয়েকটা অবয়ব।হয়তো রাশেদ,বেলা, মায়া,রোদ আর আবীর চরিত্রগুলোই নির্দেশ করছে।প্রচ্ছদটা এতো ভালো লেগেছে যে বারবার ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে করে।

#প্লট:বইয়ের প্লটটা খুব চমৎকার এবং ইন্টারেস্টিং। সামাজিকতা, দর্শন,রোমান্স, জীবনের চড়াই উতরাই বিভিন্ন প্রকার ঘটনার সংমিশ্রণে তৈরি হয়েছে বইটার প্লট। মানুষের জন্য মানুষের যে মানবতা বা মমত্ববোধ রয়েছে তা লেখক প্রকাশ করতে চেয়েছেন পুরো গল্প জুড়ে। প্রথম উপন্যাস হওয়া স্বত্বেও লেখক এতো নিখুঁত ভাবে গল্প গেঁথেছেন যে গল্পই পাঠককে শেষ পর্যন্ত পড়তে আকর্ষণ করবে।

#বানান: শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটা বানান ভুলও চোখে পড়েনি। তবে শুধুমাত্র ৮৩ পেজে থাকলে বানানটি (থা কলে) হয়ে গিয়েছে।

#বাক্যগঠন_ও_স্থানান্তর: একটি বইয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো বাক্যগঠন ও স্থানান্তর। মানে হলো একটি ঘটনা থেকে আরেকটি ঘটনায় যাওয়া।এই জায়গায়ও লেখক খুব সুন্দর দক্ষতা দেখিয়েছেন।প্রতিটি অধ্যায় খুব সুন্দর করে শেষ করেছেন।আর অধ্যায়ের শেষে একটি পাঞ্চ লাইনের ব্যবহারে উপন্যাসের প্রতি যেন আকর্ষণ বৃদ্ধি করেছে।

#গল্পের_খুঁত: লেখকের প্রথম লেখা উপন্যাস হিসেবে লেখক যথেষ্ট সচেতনতার সাথে লিখেছেন। যে উপন্যাসের মাঝে কোনো খুঁত বা অসংগতি খুঁজে বের করা অসম্ভব!

#ব্যক্তিগত_মতামত: নিসংন্দেহে একটানে শেষ করে উঠার মত অনবদ্য একটি বই।আমি এক বসায় পুরোটা বই পড়ে শেষ করেছি।আর কিছু বই পড়ার পরেও যেমনি ঘোর থেকে যায় তেমনি যেন ঘোর লেগে আছে বইটির প্রতি।প্রিয় কিছু উক্তি:
★" আমার কপালে একবার চুমু দেবে বাবা, শব্দ করে?? বহুদিন হল আমার কপালে তুমি চুমু দাও না, দেবে?"
★মায়া আবীরকে বলে "তুই একটা কুত্তা। মকবুলদের বাড়ির সামনের বেয়াদব কুত্তা।"
"মকবুলদের বাড়ির সামনে কুত্তা তো দুইটা। আমি কোনটা? "
"পশম ওঠাটা তুই, আর আরেকটা তোর বউ।"
★ সম্পর্ক গুলো হয়তো এমনই, জোয়ার-ভাটার মতো নিয়ম মেনে চলে। দূরের মানুষ কাছে আসে,কাছের মানুষ আস্তে আস্তে বৃত্তের বাইরে চলে যায়।
★ সময়ের মস্ত বড় পেট,সবকিছু গিলে খায়,অতীত ভুলিয়ে দেয়।
★ ভালোবাসা হেরে যায়,অভিমানের জয় হয় আরোও একবার।
★ কিছু মানুষ এমনই, মনে সমুদ্র সমান ভালোবাসা নিয়ে ঘুরে কিন্তু প্রকাশ করাকে দুর্বলতা ভাবে।
★পোশাক মানুষ বদলাতে পারে না, চেহারা খানিক বদলে দেয়।
★সংস্কারের জন্য বছরের পর বছর লেগে যায় কিন্তু কুসংস্কার কত দ্রুতই না ছড়িয়ে পড়ে!
★মানুষ আজব প্রাণী সফলতার মধ্যেও হেরে যাওয়ার স্বাদ পায়
★নিজে শক্ত না হলে অন্যকে সান্ত্বনা দেওয়া যায় না।
★পুরুষের লালসার বস্তু হতে বয়স লাগে না,চেহারা লাগে না, পোশাক লাগে না, ধর্মও লাগে না।
★দেহে পচন ধরলে মনও মরতে থাকে,কেউ বুঝতে চায় না।
★এপারেতে ঘুম ঘুম, ঘুমাও মা তবে,
ওপারেতে আমাদের ফের দেখা হবে।
★কিছু জিনিস একা দেখে উপভোগ করা যায় না, সঙ্গী লাগে।
★জীবন বয়ে চলে,পৃথিবীর বয়স বাড়ে আরো একদিন।
★কুয়াশারা রোজ রোজ প্রকৃতির দখল নিতে চায়, লাভ হয় না। ভোরের আলো আসলেই তড়িঘড়ি করে পালাতে হয়। কোটি বছরের পুরোনো যুদ্ধ, পুরোনো বিজেতা, পুরোনো বিজিত। দর্শক কেবল বদলে যায়। চক্র ঘুরতে থাকে, সময় বদলায়। জীবন আর মৃত্যুর খেলা চলে। একদল মনে রাখে একদল রাখে না।সময় বড় অদ্ভুত বেঈমান, মৃত্যুকেও ভুলিয়ে দেয়।
★জীবন হয়তো এমনি; পাখি উড়ে যায় পালক পড়ে থাকে।

বইয়ের নাম: ইচ্ছে হলে ছুঁয়ে দিয়ো বেপরোয়া রোদ্দুর
লেখকঃ A B S Rumon
প্রকাশনীঃ নহলী
প্রচ্ছদঃ নির্ঝর নৈঃশব্দ্য
মূদ্রিত মূল্যঃ ২৫০ টাকা
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১২৮
Profile Image for Ashik.
4 reviews1 follower
November 10, 2018
তিনটি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের বই একসাথে পাঠক মনে যে পরিমাণ মাদকতা সৃষ্টি করতে পারে ঠিক সেই পরিমাণ মাদকতার জন্ম দিয়েছিল এই বইটি। মাত্র ১২৮ পৃষ্ঠার একটি বইতে সামাজিকতা, দর্শন, রোমান্স, জীবনের চড়াই উতরাই সমান্তরালে বয়ে গেছে বহতা নদীর মতই। এ এক অন্যরকম ভালোবাসার গল্প, অন্যরকম অাবেগের গল্প। যে বইয়ের এক পৃষ্ঠায় কেঁদে ভাসাবেন তো ঠিক পরের পৃষ্ঠায় হা হা করে হেসে উঠবেন। এ যেন মাদকতা, এ যেন নেশার ঘোরে হারিয়ে যাওয়া।

সাহিত্যে নতুন এক তারার অাগমণ ঘটেছে, তার অালো কত অালোকবর্ষ দূরে পৌছায় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

প্রিয় লাইন

*এ পারেতে ঘুম ঘুম, ঘুমাও মা তবে
ওপারেতে অামাদের ফের দেখা হবে।

*অামার কপালে একবার চুমু দেবে বাবা? বহুদিন হল অামার কপালে তুমি চুমু দাও না, দেবে?

*নিজেকে নিজে সামনে থেকে দেখা যায় না, দেখা গেলে তিনি চরম অভিমানী একজন বাবাকে দেখতেন। যার চোঁখ ভিজে উঠেছে মেয়ের শূন্যতায়।

*অামার তো দুই ঘর মানব অার পিশাচ
একে অন্যের সাথে, করি সহবাস।
Profile Image for Raihan Atahar.
120 reviews23 followers
December 29, 2019
ঔপন্যাসিকের প্রথম উপন্যাস হিসেবে বেশ ভাল লিখেছেন। কয়েকটি উপমা ও লাইন একদম হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
3 reviews1 follower
February 12, 2019
���ুব গোছানো একটা বই। যত্নের ছাপ স্পষ্ট। লেখকের প্রথম বই একবারের জন্যেও মনে হয়নি। শুভকামনা রইলো লেখকের প্রথম সন্তানের জন্য।
Profile Image for Mohammad Kamrul Hasan.
358 reviews15 followers
January 27, 2021
📚 বই নিয়ে আলোচনা

“আমার ইচ্ছে করে শরতের আকাশের ঐ শুভ্র পেঁজা তুলার মত মেঘ হয়ে ভাসতে। ইচ্ছে করে শীতের সকালে কুয়াশা মাখানো রোদ্দুর হতে। ইচ্ছে করে ‘বেলাদের’ বাড়ির ছাদে টবে থাকা সেই গাছটি হতে। যেন তার কাউকে না বলা কথা গুলো শুনতে পারি। ইচ্ছে করে ‘রোদের’ খাতায় বন্দি করে রাখা কবিতা হতে। ইচ্ছে করে বেপরোয়া ভাবে কাউকে ভালোবাসতে…”

“ইচ্ছে হলে ছুঁয়ে দিও বেপরোয়া রোদ্দুর” বইটি পড়ার পর আমার এমনই অনুভূতি হচ্ছে।

একটি পরিবার, তিনটি মাত্র সদস্য, যাদের কর্তা রাশেদ। ভালো শিক্ষিত, কিন্তু মাথার উপরে ছাতা না থাকাতে ইন্টারভিউ নামক লোক দেখানো পরিক্ষাতে ১ম হয়েও চাকরি পায় না। না পাওয়ার কারণ, সেই পরিক্ষায় ১০তম স্থানে উর্ত্তীণ ব্যাক্তিটির চাকরি তখনই হয়ে গেছে তাই।
--তার স্ত্রী ‘বেলা’। যেমন মায়াবী, তেমনই লক্ষী। সংসারে অর্থাভাব আছে ঠিকই, তাই বলে সে ভালোবাসায় অভাব একবিন্দুও দিচ্ছে না। ভালোবাসার চাদর দিয়ে যেন পরিবারটিকে জড়িয়ে রেখেছে। অথচ বাবার কথা শুনলে আজ হয়তো কোনো কর্পোরেট লোকের সহধর্মিণী হয়ে দিব্যি স্বাচ্ছন্দ্যে দিন কাটাতে পারতো। কিন্তু এই ভালোবাসা কী পেতো বেলা?
যেখানে তার প্রতিদিন কাটে কেমন পিকনিক পিকনিক ভাবে। রাশেদ তরকারি কেটে দিচ্ছে তো, দেবর রোদ ঘর ঝাড়ু দিচ্ছে। আবার হয়তো কোনো ফাঁকে ঘরে এসে আবির রান্নার চাল ধুয়ে দিচ্ছে। কি চমৎকার দৃশ্য।
-- ‘রোদ’ রাশেদের ছোট ভাই। মায়ের প্রতিভ পেয়েছে। স্বভাবটাও পেয়েছে মায়ের। নিজের প্রতিভা লুকিয়ে রাখে। এমনিতে মেধাবী, কিন্তু পড়াশোনা করতে ইচ্ছে করে না তার। দিন কাটে স্বপ্নময় ভাবে। তা বলে বেকার না সে। টিউশনি করে। পরিবারে নতুন সদস্যর আগমনের সুখবর শোনার পর থেকেই সে আগত ভাতিজিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করে দেয়। দুপুর ঘুমে স্বপনে ভাতিজির সাথে খুনসুটি করতে করতে যখন ভাবির ডাকে সেই ঘুম ভাঙ্গে তখন সেকি লজ্জা তার। তার মনে হয় আগমনী নবাগতটি হবে মেয়ে। যার পরনে থাকবে সুন্দর লাল টকটকে ফ্রক। আর টুকটুক করে সারা ঘরময় দৌড়ুবে।
-- ‘আবির’, রাশেদের বন্ধু। তবে থাকে সে পাশের প্রতিবেশি হিন্দু পরিবারে। আবির চরিত্রটা সামান্য রহস্যময়। যার প্রধান বৈশিষ্ট্য গুরুগম্ভীর কথাও সহজ স্বাভাবিক ভাবে হাস্যরসের মাধ্যমে বলা। এবং কথায় কথায় মিথ্যা বলা। এটাও সত্যি, যার জীবন দাঁড়িয়ে আছে মিথ্যার উপর সে আর কী করে স্বাভাবিক থাকে। তবে আবির অতি পছন্দের সবার। তার রটিয়ে দেয়া এক গুজবে সাধারণ এক পাগলি কী করে অগ্নসিদ্ধ গুনি মানুষে পরিনত হয়ে উঠে সেটাও একটা দেখার বিষয় বটে।
-- মায়া’ আবিরের বোন। তবে আবির মায়ার পালিত ভাই। দুজনের খুনসুটি খুব উপভোগ্য দৃশ্য। মায়া আর রোদ একই ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। মায়ার জন্য রোদ মাঝে মাঝে অসাধারণ সব কবিতা রচনা করে। কবিতা গুলো আসলে অসাধারণ। কবিতা পড়ার পর জনমূখর রাস্তায় মায়া রোদকে জড়িয়ে ধরতে পারেনা ঠিকই কিন্তু তার ভাবের বহিঃপ্রকাশ করে চমৎকার ভাবে। সমস্যা হচ্ছে মায়া আর রোদের ধর্মতো এক না।

কত সুন্দর না দৃশ্য? হ্য সুন্দর একদম সুন্দর। তবু এরই মাঝে ঘটে যায় অযাচিত ঘটনা। রাশেদ অসুস্থ হয়ে পড়ে। সবার মনকে ঘিরে থাকে ঘন কুয়াশা। যা শেষে কেটে উঠতে পারে কিনা সন্দেহ আছে।
আরো সন্দেহ আছে, বেলার সাথে তার অভিমানী বাবার বিচ্ছেদ পর্ব শেষ হবে কী না? আবির আসলে কোন ধর্মের মানুষ? তার বাবা মা কে? মায়া আর রোদের কী হবে?
জানতে ইচ্ছে করে, বড্ড জানতে ইচ্ছে করে।

----------

এই হচ্ছে একটি পরিবারের গল্প। ব্যস এটুকুই। কিন্তু এরই মাঝে আছে সুন্দর সুন্দর সব মূহুর্তের সন্নিবেশ। আছে ডানামেলা সব স্বপ্ন। যার উপর ভর করে ছুটে চলেছে লেখক “ এ.বি.এস রুমনের” ‘ইচ্ছে হলে ছুঁয়ে দিও বেপরোয়া রোদ্দুর’এর কাহিনী।
নবীন পুরাতন বলে লেখক স্বত্তাকে গালি দেব না। লেখা বিষয়টা ভিতরের বস্তু। অস্তি মজ্জাতে লেখা থাকতে হয়।
লেখক হুমায়ূন আহমেদ স্যারকে সবাই চিনেছে তাঁর লেখা নন্দিত নরকে বইটি দিয়েই। সেটি তাঁর প্রথম লেখা ছিলো। তেমনই লেখক রুমন ভাইয়ের ক্ষেত্রেও বলা যায়। খুব কম বয়সে লেখা হয় গল্পটি। কিন্তু কতটা পরিপাটি করে লেখা।

বইটি ২০১৯ সালে “নহলী প্রকাশনী” থেকে প্রকাশ করা হয়। তাদের প্রোডাকশন সন্তোষজনক।

বইটি উপহার পেয়েছি “তাসলিমা ইসলাম” কাছ থেকে। ধন্যবাদ তাকে সুন্দর একটি বই আমাকে উপহার দেয়ার জন্য।

ধন্যবাদ 😊

© মোঃ কামরুল হাসান
সময় - ১৬/০২/২০২০
📚 বই হোক আপনার, আপনি বইয়ের 📚
Profile Image for Tasnimul H Prottoy.
54 reviews10 followers
February 18, 2021
আমার কাছে বেশ ভালই লেগেছে, প্রেমের উপন্যাস। তবে পড়া শুরু করলে বইটা শেষ করেই উঠতে চাইবেন, যাদের এই জনরা খারাপ লাগে না।

হালকা ছন্দে দৈনন্দিন জীবনের নানা ঘটনা, একই মহল্লার লোকগুলোর মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক আর পরিচয় গোপনের এক অন্য উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে গেছে উপন্যাসটির গল্প।

এটির পিডিএফ লেখক উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন, সেটিই পড়া হয়েছে। বই খুব বেশি না টানলে সেটির পিডিএফ শেষ করে হওয়া উঠে না আমার, এক্ষেত্রে সেটিকে সফলই বলা যায় :)
Profile Image for Farhana Sultana.
94 reviews71 followers
December 26, 2019
আহামরি ধরণের কোনো বই নয়। আবিরের রহস্যটার জন্যই থ্রি স্টার দিলাম। মুখবন্ধের লেখাটুকু পড়ে প্রথমে অবশ্য অন্যরকম ভেবেছিলাম। লেখনী বেশ আকর্ষণীয় হবে বলে মনে হয়েছিল। ভাবনা অচিরেই ভুল প্রমাণিত হয়। তবে লেখকের চেষ্টাটুকু ভালো ছিল। একেবারে শেষে এসে একটা চমক দেয়ার চেষ্টা করেছেন সেটা খুব একটা বিফলে যায়নি।
3 reviews5 followers
March 25, 2019
উপন্যাসঃ ইচ্ছে হলে ছুঁয়ে দিও বেপরোয়া রোদ্দুর
লেখকঃ এ বি এস রুমন
প্রকাশনীঃ নহলী
মুদ্রিত মূল্যঃ ২৫০ টাকা
প্রচ্ছদঃ নির্ঝর নৈঃশব্দ

#কাহিনী_সংক্ষেপঃ গল্পটা বেলা, রাশেদ, রোদ, মায়া, আবীরের।

বাবা-মায়ের বড় সন্তান রাশেদ। রাশেদ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম স্থান অধিকারী মেধাবী ছাত্র হলেও বেকারত্বের অভিশাপ যেন তাকে ছাড়ছে না।
বেকার স্বামীর সংসারে গুছিয়ে নিয়েছে বেলা। উচ্চবিত্ত বাবা আপত্তি করলেও বাধা দেননি। শুধু বলেছিলেন বেকার ছেলের সংসারে সুখী হতে পারবে না। বাবার ধারণা ভুল প্রমাণ করে বেলা সুখী হয়েছে এই পরিবারকে আপন করে। মাঝখান থেকে অভিমানের দেয়াল উঁচু হয়ে দাঁড়িয়েছে বাবা-মেয়ের ভালোবাসার মাঝখানে। ভালোবাসাটা বারবার হেরে যায় অভিমানের কাছে। মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়ন নিয়েই বেলা-রাশেদের আর রাশেদের ছোট ভাই রোদকে নিয়ে ছোট্ট সংসার। তবু ভালোবাসার চাদরে মোড়ানো বেলার এই সংসার।

রোদের পড়াশোনা করতে ইচ্ছে করে না। কিন্তু খুব ভালো কবিতা লিখে। কাউকে দেখায় না। তার পড়াশোনায় সবসময় সাহায্য করে তার বন্ধু মায়া। মায়া আর তাদের বাড়ি পাশাপাশি। তারা ছোটবেলা থেকে একসাথে পড়াশোনা করেছে বড় হয়েছে। তাদের বন্ধুত্ব সময়ের সাথে সাথে ভালোবাসা গড়ায়।

কিন্তু হাজার বছরের পুরোনো সংস্কার, ধর্ম তাদের ভালবাসায় বাধ সাধে। বাধা হয়ে দাঁড়ান মায়ার মা ইলা মিত্র। তিনি সংস্কার মানেন। জীবন দিয়ে ধর্ম রক্ষা করবেন। আবীরের সাথে আলোচনায় বসেন।
রহস্যে ঘেরা আবীর। গম্ভীর মুখে রসিকতা করে। অনেক দিন আগে একদিন জ্বর গায়ে অসুস্থ আবিরকে ইলা মিত্র আশ্রয় দিয়েছিলেন। সন্তানের স্নেহে তাকে বড় করেছেন। কোথা থেকে এসেছে, কি ধর্ম, কি জাত কিছুই কেউ জানে না।

আবীর মানুষের তৈরী ধর্মের ভেদাভেদ থেকে বেরিয়ে শুধু মানুষ পরিচয়ে রোদ-মায়ার সম্পর্কের যৌক্তিকতা তুলে ধরে। ইলা মিত্র ঘোর আপত্তি জানান।

এদিকে রাশেদের ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে। অপারেশনের জন্য দু'লাখ টাকা দরকার। বেলা তখন অন্তঃসত্ত্বা। প্রিয় বন্ধুকে এভাবে মরে যেতে দেখতে পারবে না আবীর। পাড়ি জমায় অজানার পথে। রাশেদের চিকিৎসার কি হবে? বেলা কোত্থেকে জোগাড় করবে টাকা? বেলা-রাশেদের অনাগত সন্তানের কি হবে? বেলার বাবা কি মেয়ের ঘোর বিপদের দিনেও অভিমানের বাধা ডিঙিয়ে আসবেন না? আবীর কি ফিরে আসবে? কে এই আবীর? ধর্মের প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে রোদ-মায়ার সম্পর্ক কি পূর্ণতা পাবে?
উত্তর খুঁজে পাবেন "ইচ্ছে হলে ছুঁয়ে দিও বেপরোয়া রোদ্দুর" এর পাতায়।

#নিজস্ব_মতামতঃ উপন্যাসটির লেখক এর প্রথম উপন্যাস হিসেবে অনেক ভাল হয়েছে। লেখকের গল্প বলার ধরন বেশ সহজ সাবলীল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনাও খুব সুন্দর ছিল। পড়তে গিয়ে যেন চোখের সামনে দৃশ্যগুলো ভেসে উঠছিল।
উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্রের সংলাপ খুবই প্রাণবন্ত। লেখক মধ্যবিত্ত পরিবারে অভাব অনটনকে ভালোবাসার চাদরে মুড়িয়ে গতানুগতিক লেখার ধারা থেকে বের হয়ে নিজের লেখায় বিশেষত্ব সৃষ্টি করেছেন।

উপন্যাসটাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে লেখকের প্রতিটি পরিচ্ছেদ এর শেষে একটি সুন্দর বার্তা প্রদান করা। কবিতাগুলোর কথা না বললেই নয়। বইটির সাথে মানানসই কবিতাগুলো দারুন ছিল।

নামকরণটা খুবই সুন্দর হয়েছে যেন কোন কবিতার লাইন। সাদা আর হলুদ অবয়বের মাঝে প্রচ্ছদটাও অনেক সুন্দর।

#ত্রুটিঃ দু-তিনটা শব্দ টাইপিং মিস্টেক ছাড়া আর কোন ত্রুটি ছিল না বইটায়।

#কিছু_প্রিয়_উক্তি

১। জীবন বয়ে চলে, পৃথিবীর বয়স বাড়ে আরও একদিন।

২। সম্পর্কগুলো এমনই, জোয়ার ভাটার মত নিয়ম মেনে চলে। দূরের মানুষ কাছে অাসে, কাছের মানুষ অাস্তে অাস্তে বৃত্তের বাইরে চলে যায়।

৩। সংস্কার হতে বছরের পর বছর লেগে যায়, কুসংস্কার কত দ্রুতই না ছড়িয়ে পড়ে।

৪। পুরুষের লালসার বস্তু হতে বয়স লাগে না, চেহারা লাগে না, পোশাক লাগে না, ধর্মও লাগে না।

৫। 'অামার কপালে একবার চুমু দেবে বাবা, শব্দ করে? বহুদিন হল অামার কপালে তুমি চুমু দাও না, দেবে?'

৬। বিয়ে হবার কথা মানুষে মানুষে, তোমরা বানিয়েছ ধর্মে ধর্মে।
Profile Image for Shanto Saha.
1 review5 followers
September 27, 2019
বইয়ের নামঃ ইচ্ছে হলে ছুঁয়ে দিয়ো বেপরোয়া রোদ্দুর
লেখকঃ এ বি এস রুমন
প্রকাশনীঃ নহলী
মূদ্রিত মূল্যঃ ২৫০ টাকা
প্রি অর্ডার মূল্যঃ ১৪০ টাকা
প্রচ্ছদঃ (প্রস্তাবিত)



কাহিনি সংক্ষেপঃ

বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর ছোটভাই রোদকে নিয়ে বিপাকে পড়ে রাশেদ। তার উপরে প্রেমিকা বেলাকে বিয়ে করতে হয় ছাত্র অবস্থাতেই। বিয়ের পর বেলার সাথে ওর বাবা ইরাজুদ্দিনের দূরত্বও ভয়ংকরভাবে বাড়তে থাকে।

রোদ ভালোবাসে পাশের বাড়ির হিন্দু মেয়ে মায়াকে। এক বিকেলে অাবেগী হয়ে মায়া রোদের ঠোঁটে চুমু খেলে দূর থেকে দেখে ফেলেন মায়ার মা ইলা মিত্র। ধর্মে ধর্মে শুরু হয় সংঘর্ষ।

রাশেদের বন্ধু অাবীর প্রায় দুই যুগ ওদের সাথেই অাছে। কিন্তু দুই যুগ অাগে ও কোথা থেকে এসেছিল, কেনই বা এসেছিল? ওর বাবা মা কে? ধর্মই বা কী? নিষ্ঠুর এক সত্য গোপন করে চলেছে অাবীর। যে সত্য প্রকাশ হতে দেবে না ও। কিন্তু কী সেই সত্য?



http://www.mediafire.com/file/2jrxs0w...
Profile Image for Abul Ahsan.
3 reviews
June 12, 2019
সাম্প্রতিক সময়ে যে কয়েকটি বই পড়েছি এই বইটা ছিল সেরাদের সেরা। হলফ করে বলা যায় বিজ্ঞাপনের এই যুগেও ভালো লেখকেরা একটা জায়গা করে নেয়। এবিএস রুমন তার উৎকৃষ্ঠ প্রমাণ। আবীর চরিত্রকে খুব ভালো লেগেছে। সংলাপগুলো ছিল গায়ে কাটা দেবার মত। সবশেষে বলব আমরা ভালো একজন লেখক পেতে চলেছি।
Displaying 1 - 21 of 21 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.