পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম স্থাপত্য, মুঘল সম্রাট শাজাহানের অনন্যসুন্দর কীর্তি তাজমহল। স্ত্রী মুমতাজের স্মৃতির উদ্দেশে বানানো শাজাহানের এই তাজমহল আজও আগ্রা নগরী তথা ভারতবর্ষের এক মুখ্য আকর্ষণ। আর তার পাশ দিয়ে বয়ে চলা যমুনা নদী একছড়া মুক্তোর মালার মতো এঁকেবেঁকে গোটা নগরীকে যেন সাপের মত বেঁধে রেখেছে। উর্দু কবি থেকে রবীন্দ্রনাথ, যুগে যুগে কে না শুভ্রধবল তাজের জয়গান গেয়ে গেছেন!
কিন্তু মুদ্রার অন্য পিঠের মতোই তাজমহলের আনাচেকানাচে আজও কান পাতলে শোনা যায় অন্য এক ইতিহাসের গল্প।
সত্যিই কি তাজমহল মুঘল সম্রাটেরই বানানো? নাকি কিছু ইতিহাসবিদের বক্তব্য অনুযায়ী এটি আটশো বছর আগের এক সুপ্রাচীন শিবমন্দির! এই বিতর্কের পেছনে কতটা সুস্পষ্ট প্রমাণ আর কতটা অন্ধ আবেগ? কতটা ইতিহাস আর কতটা জোর করে মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা?
প্রমাণসর্বস্ব ইতিহাস যেখানে অস্পষ্ট হয়ে যায়, সেখানে সুযোগ বুঝে কড়া রাশ নেয় ধর্ম। মুমতাজের স্মৃতিসৌধ নাকি হিন্দুমন্দির এই তরজায় শুরু হয় দেশজুড়ে হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক চাপান-উতোর। আর এই অন্তর্ঘাতে ইন্ধনপ্রদানকারীদের উদ্দেশ্যও কি দাঙ্গার সাথে সাথে সফল হতে থাকে?
‘অঘোরে ঘুমিয়ে শিব’ বর্তমান দেশের প্রেক্ষাপটে এক গবেষণাধর্মী উপন্যাস, যার পরতে পরতে রুদ্ধশ্বাস রহস্য জড়িয়ে থাকলেও সমাজের একদম অভ্যন্তরে প্রোথিত থাকা ফাটলগুলো চোখে ধরা দেয় অবলীলাক্রমে। আগ্রা থেকে মেঘালয়, দিল্লী থেকে খাজুরাহো, সুবিশাল ভৌগোলিক পটে এই সুদীর্ঘ উপন্যাসে আঁকা হয়েছে ইতিহাস ও ধর্মের অদ্ভুত মেলবন্ধন।
Debarati Mukhopadhyay is presently one of the most popular and celebrated authors of Bengali Literature and a TED Speaker having millions of readers worldwide.
A young Government Officer by profession and awarded with several accolades like Indian Express Devi Award 2022, Tagore Samman, 2022, Literary Star of Bengal etc, she has written 25+ bestselling novels in West Bengal from leading publishing houses. Global publishers like Harper Collins, Rupa Publication have published her English works worldwide.
A no. of novels are already made up into movies starting Nusrat Jahan, Mithun Chakraborty, Dev etc by big production houses like SVF, Eskay etc. Her stories are immensely popular in Sunday Suspense, Storytel etc.
Her Novel ‘Dasgupta Travels’, has been shortlisted for ‘Sahitya Akademi Yuva Pursakar, 2021’.
Her Novel ‘Shikhandi’ created a history when it was acquired for film by SVF within 24 hours of it’s publication. Beside this, she contributes in Bengal’s prominent literary magazines and journals regularly.
She has been selected as Country's only Bengali Literature Faculty for the esteemed Himalayan Writing Retreat.
An excellent orator, Debarati motivates people through her way of positive thinking, voluntarily guides aspirants for Government job preparation in leisure.
She’s a regular speaker in eminent institutions like Ramakrishna Mission and other educational seminars and often considered as youth icon of Bengal. She’s extremely popular in Bengal and having more than 5,00,000+ followers in Social media.
সুধীজন জানেন, এই বই প্রকাশের আগে থেকেই পাঠকমহলে আলোড়ন তুলেছিল। প্রকাশের পরেও নানা কারণে একে নিয়ে আলোচনা থিতিয়ে যায়নি। দূরাগত মেঘগর্জনের মতো বইপাড়াকে সচকিত রেখেছে এই বই। আজ, প্রকাশের এত-এতদিন পর আমি বইটা পড়লাম। এই দূরত্বের কারণ ছিল দুটো। প্রথমত, বইটাকে নিয়ে হাইপ এবং অসূয়াসঞ্জাত অপপ্রচার এতই বেশি ছিল যে তখনই পড়তে গেলে নিজের পাঠ প্রভাবিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। দ্বিতীয়ত, যে বিশেষ তত্ত্ব ও তার নানা প্রয়োগের ওপর গড়ে উঠেছে এই বই, তাই নিয়ে লেখা অশ্বিন সাংঘি'র সাংঘাতিক রকম বাজে বইটি পড়ে মাথায় হওয়া ক্ষতস্থান তখনও দগদগ করছিল। আমি চেয়েছিলাম, একেবারে খোলা মনে বইটা পড়তে। ভাগ্যিস! নইলে এমন একটি বই নিয়েও ভুলভাল কিছু ভেবে ফেলতাম নির্ঘাত। দুশো সত্তর পাতার একটি বই যদি একবারে শেষ করতে হয় তাহলে তাকে আনপুটডাউনেবল ছাড়া কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে সেই আকর্ষণ ও গতি ছাড়া এই কাহিনিতে কী আছে? আগে কাহিনিটা অতি সংক্ষেপে তুলে ধরি। রুদ্রাণী এই মুহূর্তে আগ্রায় পোস্টেড। এই শহরে হঠাৎ দেখা দিল নানা আলোড়ন। তাদের কোনোটা এক বৃদ্ধ প্রফেসরের থিওরি নিয়ে, কোনোটার পেছনে আছে এক পাগলাটে গবেষককে ফাঁসানোর চক্রান্ত, কোথাও আবার আছে রাজনীতির ভয়ংকর ষড়যন্ত্র। অজস্র মুখ ভেসে উঠেছে এই গল্পের একের পর এক অধ্যায়ে, যাদের কোনোটায় আলো, কোথাও অন্ধকার, আর বেশিরভাগ জুড়ে এক অজানা কিয়ারসক্যুরো। এই ঘূর্ণিঝড়ের মাঝে রুদ্রাণী আর প্রিয়ম কিন্তু স্থির থাকতে পারেনি। প্রথমে অনিচ্ছায়, পরে অন্তরের তাগিদে তারা পৌঁছে গেছে সেই অতুলনীয় স্থাপত্যের গভীরে, যার আশেপাশে আজও কথা বলে ইতিহাস। তাজমহল! কিন্তু তারপর কী হল? সত্যিই কি নিষ্পত্তি হল তাজমহল না তেজোমহালয় বিতর্কের? অঘোরে ঘুমিয়ে থাকা শিব কি মাথা তুললেন আজকের ভারতে? এই বইয়ের ভালো দিক: ১) তথ্য আর তত্ত্ব। আপাতভাবে ইনফোডাম্পিং মনে হলেও তথ্যের এই স্রোত বইটিতে বড়ো স্বচ্ছন্দে প্রবাহিত হয়েছে, উজ্জীবিত করেছে পাঠককে বিস্তৃত পাঠের জন্য। বাংলা বইয়ে এই রলিন্সীয় কুশলতা অতিবিরল, এবং অকুণ্ঠ কুর্নিশের পাত্র। ২) প্রাপ্তমনস্কতা। এই বই শরীরী অনুষঙ্গ থেকে শুরু করে ইতিহাস ও প্রাত্যহিকতার অস্বস্তিকর প্রশ্ন, কিছুই এড়িয়ে যেতে চায়নি। ৩) গতি ও সুলিখিত চলন। লেখকের এই সিগনেচার স্টাইল এই বইয়েও স্বমহিমায় বিরাজমান। ৪) এই কাহিনি থ্রিলারের সংজ্ঞা মেনে রহস্যের বদলে রোমাঞ্চ গড়ায় মনোনিবেশ করেছে। ফলে ঘটনাক্রমে যে-সব সংস্থার উপস্থিতি প্রত্যাশিত, আমরা তাদেরই দেখেছি। আমাকে যা কিঞ্চিৎ ক্লান্ত করল তা হল: ১] সুরঞ্জন ও পূরবী, অর্থাৎ রুদ্রাণী'র বাবা-মা এই কাহিনিতে যে কেন এলেন, বুঝলাম না। যে চরিত্রটির সঙ্গে রুদ্রাণী'র আলাপ হল সুরঞ্জনের মাধ্যমে, তাঁকে স্বচ্ছন্দে অন্যভাবে আনা যেত এতে। ২] পুরো গল্পটা এমন মারাত্মক অ্যাড্রিনালিন রাশের মতো করে এগিয়েছে এবং তাতে এতরকমের ট্যুইস্ট এসেছে, যে গল্পের সুতো মাঝেমধ্যেই পাঠকের হাত থেকে বেরিয়ে গেছে। তবে, সব চাপানউতোর সেরে এই বই নিয়ে যদি ভাবি, তাহলে এতে আমি একটাই জিনিস খুঁজে পেয়েছি। সেটি হল লেখকের প্যাশন। এত আবেগ, এত উদ্দীপনা নিয়ে লেখক এই বইটি লিখেছেন যে বোঝা যায়, তাঁর সৃষ্ট লার্জার-দ্যান-লাইফ চরিত্র রুদ্রাণীর মতো করেই তিনি সবটা দেখেছেন, ভেবেছেন, উত্তেজিত হয়েছেন, হয়তো কেঁদেওছেন। ধন্য লেখকের প্যাশন! এবং ধন্য তাঁর অধ্যয়ন। সেলাম রইল তাঁর উদ্দেশে। আর হ্যাঁ, তাজমহল না তেজোমহালয় বিতর্কের শেষে কী জানা গেল, সেটা নিয়ে আমি কিছু লিখছি না। আপনিই পড়ে দেখুন, শিব ঘুমিয়ে রইলেন, না জাগলেন।
লেখিকা সারা বইতে তাজমহলকে তেজামহালয় বানানোর জন্য যুক্তি দিতে দিতে মুখে ফেনা তুলে ফেললেন, অথচ শ্যাষে গিয়ে দেখবেন : মূলত আর্মস ব্যবসায়ীদেরই সকল কারসাজি, তাদের মূল উদ্দেশ্য তাজমহল পরিদর্শনরত ৬ টি দেশের ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ কে খুন করা। ওটা শিবমন্দির নাকি তাজমহল তা আউট অব টপিক। অথচ লেখিকা এতো দারুণ একটা প্রেক্ষাপটকে বেছে নিলেন শুধুমাত্র বিতর্কিত এইসব পয়েন্টগুলো পাঠকের মগজে ঢুকিয়ে দিতে? বিষয়টা একদম পছন্দ হয়নি।
ড. মাথুরা চরিত্রটিকে বিকশিত করে কিছু পাল্টা যুক্তি প্রয়োগ করলে অন্তত বিভ্রান্তি তৈরি না হয়ে, খানিকটা চিন্তা ভাবনার সুযোগ পাওয়া যেত। এছাড়া অপ্রাসঙ্গিক চরিত্রের কথা নাই বললাম ।তো গত দুটো বই এই বইটি থেকে ঢের ঢের ভালো মনে হয়েছে আমার কাছে ।তবে এটুকু স্বীকার করতেই হবে ।লেখিকার লেখায় একধরনের গতিময়তা আছে যা তার যেকোন বইকেই শেষ করতে বাধ্য করে। তাই লেখিকার বাকি বইগুলো পড়ার আশা রাখি।
This entire review has been hidden because of spoilers.
পড়ার সময় বা পড়ার পর যে কোন থ্রিলারকেই আমি সাধারণত তিনটি ভাগে ভাগ করে নেই।... ১। এন্টারটেইনিং থ্রিলার (যা শুধুই আনন্দ দেয়, সময়কে পুরোপুরি উপভোগ্য করে তোলার চেস্টা করে)... ২। ইফেক্টিভ থ্রিলার (ইনফরমেশন, কিংবা সময়পোযোগী শক্তিশালী কোন মেসেজ দিয়ে থাকে)... এবং ৩। ইন্টেলেকচুয়াল থ্রিলার (যা আমাদের চিন্তা করতে বাধ্য করায় এবং দিনশেষে ইন্টেলেকচুয়াল ডেভেলপমেন্টে সাহায্য করে)।
'অঘোরে ঘুমিয়ে শিব' হচ্ছে ইফেক্টিভ থ্রিলার। হিন্দু-মুসলমানের পারস্পারিক মনোভাব ও নেপথ্যের কাহিনীই এ বইয়ের প্রধাণ আলোচ্য বিষয়। বিতর্কিত এক অতীত নিয়ে অতি অ-বিতর্কিত বর্তমানময় এ উপন্যাসের পরিব্যাপ্তি ২৪ থেকে ২৬ জানুয়ারী। স্থান আগ্রা, প্রায় সবকিছুর সাথেই ডিরেক্টলি জড়িয়ে আছে তাজমহল।
রুদ্রাণীর চাকরি যায় যায় অবস্থা। আপাতত সাময়িকভাবে বরখাস্ত। তার ব্রাঞ্চের এক কাস্টমারের অ্যাকাউন্টে রাতারাতি বিশাল অংকের টাকা ঢোকে বিদেশী কোন আনআইডেন্টিফাইড সোর্স থেকে। ম্যানেজার হিসেবে রুদ্রাণী এটা কি করে ওভারলুক করে গেল, বা তার এই ওভারলুক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিনা তা নিয়ে শুরু হয় আপাত দৃষ্টির অদ্ভুত এক তদন্ত। তদন্তকারী পুলিশ অফিসার নাহুম খান। একটি অতি সাধারণ তদন্ত ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকে ভয়াবহ এক ষড়যন্ত্রের দোরগোড়ায়। মাসখানেক অাগে আগ্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে প্রফেসর তাজমহল নির্মাণের বিতর্কিত হিন্দুত্ব সত্ত্বাধীকার নিয়ে খবরের কাগজে কলাম লিখেছিলেন, তিনি রাতারাতি নিখোঁজ হয়ে যান। হঠাৎ করেই খুন হয়ে যায় এক প্রভাবশালী মুসলিম নেতা। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার শুরু? সাংসদ ও বিশিষ্ট শিল্পপতি নাগেশ সিং এর জীবনে নেমে আসতে থাকে একের পর এক বিপর্যয়। তার প্রডিজি কন্যা প্রায় রাতেই কেন সেই বীভৎস স্বপ্নটা বারবার দেখে? বন্ধুহীন কিশোরী উজ্জয়িনী পা দিয়ে ফেলে এক ভয়ংকর ফাঁদে। পালাবার কোন রাস্তা নেই। এদিকে পুরো আগ্রা ছেয়ে যেতে থাকে অদ্ভুত সব পোষ্টারে। ২৬ জানুয়ারী প্রজাতন্ত্র দিবসে তাজমহল নাকি উড়িয়ে দেওয়া হবে! সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ভয়াবহ আকার ধারন করতে শুরু করে। কিন্তু এতকিছুর সাথে প্রফেসর অঘোরেশ ভাটের সংযোগটা কোথায়? কিম্ভূতকিমাকার এই রহস্যময় বুড়োর সবকিছুই যেন একটু বেশিই অদ্ভুত। অনেক বছর পর হঠাৎ করে ট্রেনে দেখা হওয়া বন্ধুকে কি এত জরুরী গোপন কথা বলতে চাইছে সে? ওদ���কে অনেককাল আগেই মারা যাওয়া কুখ্যাত অস্ত্র ব্যাবসায়ী ভিক্টর বিলগেইনারকে দেখা যেতে শুরু করেছে আবার। কবিরের প্ল্যানটা অাসলে কি? তাজমহলের আসল ইতিহাস নাকি লেখা আছে এক অংকে? অংক কষে ইতিহাস উদ্ধারে রুদ্রাণী, প্রিয়ম, অঘোরেশ ভাট আর নাহুম খানের সাথে এই রোমাঞ্চকর যাত্রায় আপনাকে স্বাগতম।
হিস্ট্রিকাল থ্রিলার পছন্দ করলে, এ বইটি মোটামুটি সুখপাঠ্য। মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাসের পাশাপাশি এতে আছে উপমহাদেশের জঘন্যতম সাম্প্রদায়িক এক্সট্রিমিজমের একটা ভয়াবহ চিত্র। থিমাটিক বিষয়টা ছাড়া, সিরিজের আগের দু'টি বইয়ের তুলনায় এ বইটি কিছুটা একঘেয়ে, কিছু জায়গায় থ্রিলের কিছুটা অভাব মনে হয়েছে আমার কাছে (পড়েছেন এমন অনেকেই হয়তো একমত হবেন না)। সেজন্যই বেশ কয়েকদিন আগে পড়া শেষ করেও প্রতিক্রিয়া শেয়ারের তেমন একটা তাগিদ অনুভব করতেছিলাম না। পরে চিন্তা করে দেখলাম শেয়ার করা উচিত মূলত বইটির অতি শক্তিশালী, সময়পোযোগী বার্তার জন্য। রুদ্রাণী অবশ্য এখন অনেক ম্যাচিউর। তাকে আরও ভালো লাগতে শুরু করেছে।
গঠনমূলক বি দ্রঃ হিস্ট্রি পছন্দ না করলে, এই সিরিজ ভালো লাগার সম্ভাবনা কম।
অগঠনমূলক বি দ্রঃ এই সিরিজ পড়লে, বিবাহ করতে ইচ্ছা হওয়ার সম্ভাবনা প্রকট।
এক নজরে, বইয়ের নামঃ 'অঘোরে ঘুমিয়ে শিব' লেখিকাঃ দেবারতি মুখোপাধ্যায় ঘরানাঃ হিস্ট্রিকাল থ্রিলার প্রকাশনীঃ বুকফার্ম, কলকাতা প্রকাশকালঃ নভেম্বর, ২০১৮
বুকস্ট্রিটের মাধ্যমে নিয়ে আসতে সবমিলাইয়ে দাম পড়ছিল ৫২০ টাকা।
বইয়ের নাম : অঘোরে ঘুমিয়ে শিব লেখক: দেবারতি মুখোপাধ্যায় প্রকাশনা: বুক ফার্ম (কলকাতা) প্রকাশ কাল : নভেম্বর ২০১৮ প্রচ্ছদ অলঙ্কনে: সুমিত বড়ুয়া মূল্য :২৮০ টাকা ( ভারতীয় রুপি) পৃষ্টা:২৬৬।
কাহিনী সংক্ষেপ :: এই কাহিনী হচ্ছে তাজ এর। আগ্রা এর বুকে স্বমর্যাদা নিয়ে দাড়িয়ে থাকা মুঘল সম্রাট শারজাহান এর সর্বোশ্রেষ্ট কৃতি তাজমহল এর। কিন্তু তাজমহল নাকি শিব মন্দির তেজো মহালয়া? থাক সে কথা।
গল্পের শুরুতেই চাকরীর সূত্রের রুদ্রাণীকে আগ্রায় টান্সফার হতে হয়। সেখানে তার ব্রাঞ্চের এর এক কাস্টমার এর অ্যাকাউন্টে হঠাৎ করে বিদেশী মোটা অঙ্কের টাকা ঢুকে। এই ঘটনার কারনে রুদ্রাণীকে সাময়িক কালের জন্য বরখাস্ত করে ব্যাংক। এই নিয়ে তদন্ত শুরু হয় আর তদন্তে এগিয়ে আসেন পুলিশ অফিসার নাহুম খান। সাধারন ভাবে তদন্ত শুরু হয়, তদন্ত এর সুত্র ধরে বের হয়ে আসে মাস খানেক আগে আগ্রা বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রফেসরস নিজামুদ্দিন বেগ এর হারিয়ে যাওয়ার খবর। আর হারিয়ে যাওয়ার আগে তিনি পত্রিকায় একটি কলাম লিখে চরম বিতর্কিত হয়েছেন। অন্যদিকে আগ্রার সাংসদ নেতা নাগেশ সিংহ এর মেয়ে একজন প্রডিজি। তার পূর্ব জন্মের কথা সামনে চলে আসলে আঠারো বছরের এই মেয়েটি পা বাড়ায় আরেক ফাদেঁ। নিজামুদ্দিন বেগ এর বিতর্কিত কলামটি ছিল আগ্রার তাজমহল নিয়ে। তাজমহল নাকি ৫০০ বছর পুরোনো এক শিব মন্দির। আর যার একাউন্ট এ টাকা ঢুকে সেই অঘোরেশ ভাটও ছিল নিজামুদ্দিন এর বন্ধু, আর কাকতালীয় ভাবে তাদের দুজনের গবেষনার বিষয়টাও ছিল এক। অন্যদিকে ২৪ জানুয়ারি পুলিশ দপ্তরে এক উড়ো কল আসে এই অঘোরশ ভাট নাকি এক উগ্রবাদি হিন্দু সংগঠনের সাথে যুক্ত আর তার একাউন্ট এর আশা টাকা কিনা বিদেশি কোন সোর্স থেকে যারা চাচ্ছে তাজমহল উড়িয়ে দিতে। অন্যদিকে তদন্ত করতে গিয়েও অঘোরশ ভাটের বাড়িতে পাওয়া যায় বিদেশী আমর্স। এদিকে ২৫ জানুয়ারি সকালে একটা পোস্টারে ছেয়ে যায় পুরো আগ্রা, যে ২৬ জানুয়ারী প্রজাতন্ত্র দিবসের সকাল বেলা তাজমহল উড়িয়ে দিয়ে প্রমান হবে তাজমহল ছিল শিব মন্দির। ঐদিনই একজন মুসলিমপন্থী নেতা খুন হয় যিনি কিনা নিজামুদ্দিন বেগ এর বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল। আপতত দৃষ্টিতে সব দিক থেকে অঘোরেশ ভাট দোষী। কলকাতা থেকে আশার পথে পূবালী ( রুদ্রানীর মা) এবং সুরঞ্জন ( রুদ্রাণী এর বাবা)এর সাথে ট্রেন এ দেখা হয় সুরঞ্জন এর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু অঘোরশ ভাট এর। এভাবে সুরঞ্জন ও জরিয়ে পড়ে এই কেস এ। প্রিয়ম কিছুদিনের ছুটি নিয়ে লন্ডন থেকে এসে সারপ্রাইজ দিতে গিয়ে নিজেও সারপ্রাইজ হয়ে যায়। অঘোরশ ভাট এর কেসটা নিয়ে ইতিহাস প্রেমি সুরঞ্জন রুদ্রাণী প্রিয়ম আর নাহুম খান সহ সাংসদ নেতা নাগেশ সিং জরিয়ে যায় একজালে। তাহলে অঘোরশ ভাটই কি মুল কার্পিক্ট? রুদ্রাণী কি পারবে ৫০০ বছর আগের তাজমহল এর সত্য উৎঘাটন করতে। সত্যি কি তাজমহল ছিল শিব মন্দির? ইতিহাস কি মনে নিবে সত্য টা?? আর উগ্রবাদি সংগঠন এর তাজমহল উড়িয়ে দেয়ার প্লান থেকে কি রুদ্রাণী পারবে তাজমহলকে বাঁচাতে। তাজমহলের ভিতরের হাজারো রহস্য এর জালে প্রিয় পাঠক আপনাকে স্বাগতম।
কিছু কথা :: প্রথমেই বলি যে অঘোরে ঘুমিয়ে শিব বইটা দেবারতি মুখোপাধ্যায় একটি বির্তকিত অধ্যায় নিয়ে লিখেছেন। তাজমহল নাকি তেজো মহালয়া নামক শিব মন্দির। এখন কিছু কিছু গবেষক এরা প্রমান করছিলেন যে তাজমহল তৈরির পূর্বে এখানে কিছু একটা ছিল। ইতিহাস পাঠে আমরা জানি তাজমহল এর জায়গাটুকু জয়সিংহ এর ছিল। শারজাহান জয়সিংহ এর কাছ থেকে জায়গাটুকু নিয়ে বিনিময় তাকে অনেক জায়গা জমি দান করেন। কিন্তু ইতিহাস পাঠে কখনো পাইনি যে তাজমহল এর স্থানটি ছিল শিব মন্দির। এই বই লেখার আগেও ভারতে একবার বিতর্কিত হয়েছে তাজমহল শিব মন্দির কিনা। উদাহরন হিসাবে বলা যায় যে তাজমহল এর বেসমেন্ট এ কিছু কাঠ নিয়ে পরীক্ষা করে এক বিদেশি গবেষক বলেছেন যে এই কাঠ তাজমহল তৈরির আড়াইশ বছর পুরোনো। আবার তাজমহল এর কিছু সুরঙ্গ এর দরজা সরকার ইট পাথর দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে যে খানটার ভিতর ছিল কয়েকটি ফাকা কামরা। আবার তাজমহল এর একটি সুরঙ্গ পথের ভিতরর দিয়ে তালা লাগানো প্রশ্ন হলো ভিতর দিয়ে কে তালা লাগালো। এই তথ্যগুলো বই পড়ার সময় আমি গুগোল থেকে জানি। তারমানে এই প্রমান করেনা তাজমহল শিব মন্দির আদ্য ছিল কি ছিলনা। যা হোক এই বিতর্কিত একটি টপিক নিয়ে দেবারতি মুখপাধ্যায় বই লিখেছেন। আপতত দৃষ্ট সৌন্দর্যমন্ডিত তাজ এর সেই রহস্য উৎঘাটন টাই ছিল রুদ্রাণী এর এডভেঞ্চার এর মুল। দেবারতি মুখোপাধ্যায় এখানে কোন বিতর্কিত এর জন্ম নতুন ভাবে দেননি যেটা ফিনিশিং এই পাঠক পাবেন। তাই মাঝে ইতিহাস এর কচকচানিতে আমার নিজের ইতিহাস জ্ঞান নিয়ে সন্দেহে পরে গিয়েছিলাম আর যার জন্য গুগোল এর সাহায্য নিয়ে আমি সিয়র হলাম। দেবারতি যে অনেক স্টাডি করে রেফারেন্স টেনে বইটি সাজিয়েছে তার সাপেক্ষ তিনি সফল হয়েছেন। তবে আর কিছু জিনিশ খারাপ লেগেছে যে তিনি বই এর এক জায়গায় লিখেছেন কাবা ঘরে নাকি ৩৫০ টি মুর্তি রেখেছিল। যেটা হবে ৩৬০ টি। আবার আল্লাহ শব্দটি ইলা শব্দ থেকে এসেছে। অথবা মুসলমান দের পবিত্র নাম্বার ৭৮৬ এর ভিতর আছে ওমঃ, ইত্যাদি কিছু বিষয়।
পাঠ প্রতিক্রিয়া :: পাঠ প্রতিক্রিয়ায় বলব অঘোরে ঘুমিয়ে শিব বইটি সত্য চমৎকার ভাবে তিনি সাজিয়েছেন। যদিও বিতর্কিত জিনিশ এ হাত দিয়েছে তবুও তিনি শেষ ফিনিং টা সুন্দর ভাবে টেনে আর নতুন বিতর্কিত এর জন্মদেননি। আবার তিনি চমৎকার ভাবে গল্পের জাল ফেলেছেন যে পাঠক আটকাতে বাধ্য। প্রতিটা ঘটনার একটি চমৎকার মিলনদেখিয়ে তিনি বইটার ইতি টেনেছেন। তো ঘাত প্রতিঘাত থাকা সত্বেও বইটাকে আমি দেবো ৫ এর মাঝে ৪.৫।
ধন্যবাদান্তে:: কলকাতা এর বই আমাদের বাংলাদেশি পাঠকদের পড়া প্রায়ই দুর্লভ হয়ে যায়। তো দেবারতি মুখোপাধ্যায় এর এই বইটি আমাকে ধার দিয়েছেন গ্রুপ এর একজন ভাই বন্ধু ওমর ফারুক। তাই তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাই এই বই এর প্রতি আমার যে কি পরিমান তৃষ্ণা ছিল তা মিটানোর জন্য।
সাংঘাতিক enjoy করেও 5 stars দিতে পারলাম না তার কারণ কয়েকটা 'facts' এর inconsistency. গল্পটা spoil না করে একটির উল্লেখ করা যায়। বৌধায়নের অঙ্ক/সূত্র নকল করে নাকি Egypt এর Step Pyramids বানানো হয়েছে, কিন্তু বৌধায়ন সূত্র লেখা হয়েছে 800 BCE তে এবং Djoser এর Step Pyramids নির্মিত হয় 2650 BCE নাগাদ। তাই এটি একটি ভুল তথ্য। এরকম আরো কয়েকটি আছে। সেসব overlook করছি গল্পটার খাতিরে। দারুণ একটা ঐতিহাসিক thriller. Just un-put-downable আর কি..
সদ্য শেষ করলাম। লেখিকা অনেক পড়াশোনা করে লিখেছেন। বেশ জমাটি রহস্য। তবে, শুরু থেকেই বেশ ক'টা বিষয় লক্ষ্য করলাম। ১। একজন সাংসদ কতখানি ক্ষমতা ধরেন? তিনি কি নিজের উদ্যোগে একটা যুদ্ধ-শান্তি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন আহ্বান করতে পারেন, যেখানে অনেকগুলো শত্রু দেশের সরাকরি প্রতিনিধি নিমন্ত্রিত হন, এবং পারস্পরিক ন্তিচুক্তি স্থাপন করতে আগ্রহী হন? আমার ধারণা ছিল, এই সমস্ত বিষয় সাধারণত প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপ্রতি, বিদেশমন্ত্রী জাতীয় অধিক গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীরাই দেখতে পারেন। আবার সেই সাংসদের বিরুদ্ধে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গুপ্তদল চালানোর অভিযোগ আছে। পুলিশও সেটা জানে (শেষে ইনস্পেকটর ভগতবীর সিং রুদ্রকে জানিয়েছেন এই তথ্যগুলো)
২। কিছু চরিত্র বিশদে বর্ণনা করা হয়েছে, যেগুলোর প্রয়োজন কাহিনিতে নেইই। যেমন মুন্না চরিত্রটা। ওর জীবনকাহিনি বর্ণনার সাথে সাথে অস্ত্র আমদানির বিশদ রাস্তা জানিয়ে দিয়ে, প্রথমেই অঘোরেশ ভাটের থেকে সন্দেহের মুখটা সরিয়ে দেয়া হয়েছে। সাসপেন্স থ্রিলারে এমন বাঞ্ছনীয় নয়। ভগতবীর সিংয়ের কাহিনিটাও কেন বলেছেন, আমি বুঝি নি। আর্মস স্মাগলারদের পরিচিতি তো অন্য কোনো প্রয়োজনীয় চরিত্রের মুখেও বসানো যেত, কিংবা রুদ্রাণী নিজেই পড়াশোনা করে জানতে ও জানাতে পারতো। ৩। উজ্জয়িনীকে সাঁতারে পারদর্শী করার জন্যে ওকে জাতিস্মর করার কী দরকার ছিল? মানে ঐ অদ্ভুত স্বপ্নটা ওর জীবনে কোথায় কাজে লাগলো? সাঁতরে যমুনা পার হবার সময়? কিন্তু ও তো এমনিতেই পুরষ্কার জয়ী সাঁতারু। সেটা হবার জন্যে পূর্বজন্মে জলে ডুবে মরতে হয় নাকি? অপ্রয়োজনীয় সাসপেন্স গল্পে ভালো দেখায়?
৪। নাহুম খান পরিণত বয়স অব্দি হিন্দু ছিলেন। সংস্কৃত নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অব্দি জ্বালা ভোগ করেছেন। অথচ তিনি জ্যোতির্লিঙ্গ নাম শোনেন নি। অদ্ভুত না? এই চরিত্রটাকে ধর্ম পরিবর্তন করিয়ে লেখিকা কী বোঝাতে চেয়েছেন সেটা আবার আমি বুঝি নি।
৫। রহস্যটা অত্যন্ত কাকতালীয় ভাবে রুদ্রের হাতে এসে পড়েছে। রুদ্র কি না সেই ব্যাংকেরই ম্যানেজার যেখানে কেলেঙ্কারিটার শুরু। এটা না হয় মানা গেল, গল্প শুরু করার প্রয়োজনে এইটুকু করতেই হত। কিন্তু কাহিনির মূল অভিযুক্ত অঘোরেশ ভাট হঠাৎ করে রুদ্রর বাবার কলেজফ্রেন্ড হয়ে গেল, একই ট্রেনে আগ্রা এলো... এসব বড্ড বেশি কাকতালীয়।
৬। রুদ্র বাবার সাথে তার বন্ধুর বাড়িতে গেল। অথচ যাবার আগে অব্দি তার নামটাও জিজ্ঞেস করলো না। গিয়ে খানিক কথা বলার পরে, আচমকাই জানতে পারলো। এরকমও হয়? তাও আবার তুখোড় গোয়েন্দা এরকম ভুল করে?
৭। লেখিকা রহস্য তৈরী করেছেন একটি প্রসিদ্ধ বিতর্ক নিয়ে। গল্পের শেষ থেকে বোঝা যায় যে তিনি এই বিতর্কে কোনো সিদ্ধান্ত আনতে চান নি। খুবই ভালো। কিন্তু গোটা কাহিনিতে তিনি তো একতরফা যুক্তি গুলোই বেশি বেশি করে দিয়ে গেলেন। উল্টোদিকে ইতিহাসে তুলনামূলক ভাবে অনভিজ্ঞ রুদ্র ও অন্যান্যরা সেই যক্তি খণ্ডন তো দূর প্রতিপ্রশ্নও করতে পারলো না। 'মনগড়া কাহিনি', 'জোর করে মেলানো' এরকম কিছু দূর্বল শব্দবন্ধ দিয়ে এড়িয়ে গেল। এতে করে পাঠকদের মনে বিভ্রান্তিটাই বাড়লো। উভয়পক্ষীয় যুক্তি সমান ভাবে দিতে পারলে, পাঠকের ভাবার একটা জায়গা থাকতো। প্রফেসর মাথুরের ভূমিকাটা আরও অ্যাকটিভ করে দিলে, এইটা হত না।
৮। গল্পের শেষ হয় সুড়ঙ্গমুখ খুঁজে বের করে, তা দিয়ে তাজমহলের নীচের তলাতে পৌঁছে। কিন্তু সেখানে গিয়ে রুদ্র কী কী দেখল, তার ভালো বর্ণনা নেই। বোঝাই যায়, লেখিকা নিজেও এটা জানেন না। কারণ, এ নিয়ে বোধহয় না কোনো বই বা কিছু আছে। লেখিকা অনায়াসে কল্পনা করে নিতে পারতেন।
৯। কাহিনি বিন্যাস অত্যন্ত এলোমেলো। একাধিক আঙ্গিক থেকে গল্প বলে রহস্যের জটিলতা আনার চেষ্টা করা হয়েছে। মাঝে বিষয়টা এমন পেঁচিয়ে গেছে শেষে পুরোপুরি জট না ছাড়িয়েই ইতি টেনে দেয়া হয়েছে। মূল অভিযুক্ত মানে যারা এত বিরাট একটা প্ল্যান করেছিল, তার ধরাও পড়ে নি। ফলস্বরূপ তাজমহলের নীচে অতগুলো বম্ব কখন কীভাবে প্ল্যান্ট করা হল, এই রহস্যটা অমীমাংসিতই থেকে গেছে।
তবে হ্যাঁ। এটা অস্বীকার করার কোনো জায়গা নেই যে লেখিকার প্রয়াসটা খুবই ভালো। আমি আসলে বইটির প্রচুর নাম শুনে, একটু বেশিই প্রত্যাশা করে ফেলেছিলাম। সেইটা পূরণ না হওয়াতে একটু খারাপ লেগেছে। আর হ্যাঁ, সমস্তই আমার মনে হওয়া। আমি অত্যন্ত অজ্ঞানী একজন পাঠক। তাই আমার সাথে সহমত কেউ নাও হতে পারেন। লেখিকার লিখনশৈলীর আরও সমৃদ্ধি কামনা করেই এই দীর্ঘ বক্তব্য।
This entire review has been hidden because of spoilers.
বেশ কিছুদিন ধরে শুধু এই গ্রুপে নয়, অনেক বইপোকার ফিড এমনকি goodreads-এও পড়ছিলাম এই বই এবং দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের অন্যান্য বইয়ের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা। শুধু বইয়ের প্রচ্ছদ নয়, লেখিকার সম্বন্ধে নেটে একটু খবর নিয়ে এবং আমার পড়া রিভিউগুলোর মধ্যে থেকে বইটিকে নিয়ে ধারণা করতে গিয়ে মন যে একদম কু গায়নি, তা নয়। এর আগে একইভাবে "রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেন নি" পড়তে গিয়ে অত্যন্ত হতাশ হয়েছি। কিন্তু থ্রিলার আমার খুব প্রিয় একটা genre. তাই ভেবেছিলাম পড়েই দেখি ; না পড়ে কোন বইকে ভালো বা খারাপ বলা তো সঙ্গত নয় মোটেই।
প্রথমেই বলি, বাংলা বই অনুযায়ী এই বইয়ের প্যাকেজিং খুবই ভালো। মুদ্রণ পরিষ্কার, এডিটিংয়ের গোলমাল নেই বললেই চলে। যদিও এতটা glossy প্রচ্ছদ পরোক্ষভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছে, এর ভেতরে কী রয়েছে। This book can be judged very well by its cover itself. এছাড়া বলতেই হচ্ছে যে, তথ্যে এবং গঠনের বিস্তর গোলমাল থাকা সত্ত্বেও একটা বি��য়ে দেবারতি মুখোপাধ্যায়কে সাধুবাদ দিতেই হয়। সে ব্যপারটা হচ্ছে এই যে, গল্পের গতি মারাত্মক ভালো। খুব চটপটে এবং যেসব বইপোকারা বছরে কী পড়ছেন না ভেবে, কতটা পড়ছেন টার্গেট রাখতে চান তারা এই ধরণের বই সপ্তাহে আয়েস করে তিন চারটে পড়ে ফেলতে পারেন। কোন অসুবিধে হওয়ার কথা নয়।
অতঃকিম? আর কিছুই নয়। মাত্র এই। বাকি বই পড়তে গিয়ে আমার মনে হয়েছে যে, দেবারতিকে নিজের চাকরির প্রস্তুতির সূত্রে ইতিহাস বেশ ভালো করে পড়তে হয়েছে। এখন লিখতে গিয়ে যদি তাঁর অন্য একরকম ব্যবহার করা যায় তা হলে বই যে 'গবেষণাধর্মী' তকমায় শুধু ভালো বিকোবে তা নয়, বহু pseudo-পাঠক তা গোগ্রাসে গিলবেন। এটাই মার্কেটিংয়ের ভালো পন্থা। অতএব, তিনি তাই করেছেন। বিভিন্ন বইথেকে পারস্পরিক সামঞ্জস্যহীনভাবে তুলে এনেছেন খাপছাড়া ইতিহাস। কোথাও একটু তলিয়ে ভাবা নেই, গবেষণা তো দূরস্ত। কেউ একটু সচেতনভাবে পড়লে এটাও বুঝতে পারবেন যে তাজমহলের ইতিহাস আসলে এই থ্রিলারের ক্লাইম্যাক্সের সাথে আসলে কোনভাবেই যুক্ত নয়। The historical backdrop does not at all contribute to its climax. ক্লাইম্যাক্স বদল না করে অন্য যে কোনও ইতিহাস, ধার্মিক, সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই গল্পকে লেখা যাবে। এরকম স্থিতিস্থাপক একটা থ্রিল, দুর্বলতম থ্রিলারের লক্ষণ। এর জন্যেই প্রথম থেকে গল্পে এসে যায় একের পর এক চরিত্র। গল্পের গতির দিকে নজর দিতে গিয়ে এতগুলি চরিত্রকে যে একটু ফাঁকা জায়গা দিতে হয় নিজেদের স্বতন্ত্রভাবে গড়ে উঠতে, লেখিকা তা বুঝতে পারেন নি। কোন চরিত্রই তাই গড়ে ওঠেনা, দমবন্ধ হয়ে হাঁসফাঁস করতে করতে একে অন্যের গায়ে উঠে পড়ে। তবু মানতে হবে যে এই বইটির ২৬-৩৫ অধ্যায় বেশ তরতর করে পড়ে ফেলতে পেরেছি। একটা আশার আলোও দেখতে পাচ্ছিলাম কোথাও যে এই বুঝি লেখিকা সব খাপছাড়া সূত্র জোড়া লাগিয়ে দেবেন, নিয়ে আসবেন আকস্মিক কিছু। কিন্তু না। মুহূর্তে দেখি ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছে গেছি ; অত্যন্ত predictable একটি ক্লাইম্যাক্স (আরেক বড় দুর্বলতার জায়গা) যার সাথে এত ইতিহাসের গৌরচন্দ্রিকা, এত তথ্যের কোনও আপাত যোগ নেই। অমীমাংসিত ভাবে safe-side খেলে গেছেন লেখিকা এখানেও। তাতে তার উপন্যাসের শেষরক্ষা যদিও হয় নি।
শেষে মনে পড়ছে দুটো কথা। গল্পের এক জায়গাতে, রুদ্রাণীকে ড মাথুর একটা কথা বলেছিলেন, "এসব চমকপ্রদ এবং বাজার গরম করা বিতর্ক উসকে দিয়ে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়া যায়, কিন্তু ইতিহাস পালটায় না"। তাজমহল না কি তেজো মহালয় - এই বিতর্কের ভেতর তো লেখিকা ঢুকলেনই না। তবে এইসব চমকপ্রদ প্রেক্ষাপটকে ব্যবহার কেন? লেখার হাত খারাপ না। আরেকটু সময় নিয়ে, বছরে বেস্টসেলারের নকল মার্কেটিং না করে বিশুদ্ধ থ্রিলার লিখুন না? বাংলাসাহিত্যে এর খুব প্রয়োজন। আর একটা একদম ব্যক্তিগত অনুভব - রুদ্রাণী নামটা তো খারাপ নয়। একজন মহিলা চরিত্রকে সারা গল্পে 'রুদ্র' বলে যেতে থাকলে একটু ধাক্কা লাগে পড়তে গিয়ে, এই আর কী!
সবেমাত্র শেষ করলাম বইটি।সত্যি বলতে মন্দ লাগে নি।পড়ার আগে অবশ্য অনেক সমালোচনাই পড়েছিলাম। আমার ব্যক্তিগত ভাবে বলতে গেলে মন্দ লাগে নি।কিন্তু ওই অতটাই, লেখাটা পড়ার সময় যে উত্তেজনা নিয়ে আরম্ভ করেছিলাম,মাঝখানেও যে উত্তেজনা ছিল, শেষ হয়েও সেই উত্তেজনা যেন শেষ হলো না।তাজমহল মুসলিম না হিন্দুদের এই নিয়ে অনেকে অনেক কিছু জোর করে মিলিয়ে দিতে চাক আর না চাক...লেখক যে শেষে প্রথম থেকে ছাড়তে ছাড়তে আসা অজস্র সুতো প্রায় জোর করে ঘেটি ধরেই মিলিয়ে দিলেন এতে একটু অস্বস্তি বোধ করলাম।তবে বৈদিক অঙ্কের ভাবনা খুব ভালো লেগেছে, সঙ্গে ভালো লাগলো তাজমহল নিয়ে হওয়া দীর্ঘকালীন কন্ট্রোভার্সি এর দুইপক্ষের যুক্তিগুলোর সুন্দর যথাযথ পরিবেশন।লেখনী নিয়ে কথা বলবো না...বাড়িতে,বাসে এমনকি কোচিনে পর্যন্ত পড়েছি,সুতরাং গদ্যের গড়নে সেই টান না থাকলে এতটা বড়ো,এত অজস্র তথ্যপূর্ণ লেখা পড়ে শেষ করা আমার মতো কচ্ছপ প্রজাতির পাঠকের পক্ষে সম্ভব হতো না,তাও দুদিনে!!!
শেষে একটাই কথা বলি...এই উপন্যাসটা যখন শেষ হয়ে গেল তখন মনে হলো সত্যি সত্যিই যেন শেষ হয়ে গেল।আসলে প্রতিটা উপন্যাস শেষ করার পরেও কিছু একটা যেন সঙ্গে থেকে যায়... কখনো কখনো সেটা একটা বোধ, কখনো সেটা একটা দর্শন কখনো একটা বিষাদের সুর...কখনো বা আবার নৈর্ব্যক্তিক কোনো অনুভূতি।থ্রিলারে হয়তো এইরকম সমাপ্তির অবকাশ নেই বিশেষ সেটা স্বীকার করেই এই "একেবারে শেষ হয়ে গেল" বোধটাকে মেনে নিতে বাধ্য হলাম।
শেষে বলি যারা পড়েন নি,নিশ্চই পড়ুন...আর যাই হোক টাকা নষ্ট হয়েছে বলতে পারবেন না।
তাজমহল নাকি তেজো মহালয়া এই বিতর্ক নিয়ে রুদ্র প্রিয়মের অন্যতম সিরিজ অঘোরে ঘুমিয়ে শিব। শেষ ভাগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত না হলেও বিভিন্ন গবেষণা ও যুক্তিবিদ্যার মাধ্যমে সম্পূর্ণ উপন্যাসটিকে উপস্থাপিত করা হয়েছে যা সত্যিই প্রশংসনীয়। একটি উপন্যাস লিখতে গেলে তার পেছনের যে কতটা পড়াশোনা করতে হয় তার অন্যতম উদাহরণ হলেন লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়। মূল বিষয়টিকে থ্রিলারের রূপ দিতে গিয়ে কিছুটা সিনেমাটিক এবং কিছু চরিত্র অকারনে গল্পে আনা হয়েছে বলে মনে হয়েছে এছাড়া সম্পূর্ণ বইটি ভালোই লেগেছে। দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন এবং গতে বাধা ইতিহাসের পেছনে যে অজানা ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে তা জানার জন্য বইটি অবশ্যই পড়া উচিত।
গল্প মোটের উপরে ভালো লাগলেও গল্পে সাসপেন্স শুরু হয়েছে একদম শেষের দিকে প্রায়। যাই হোক একটা পাতি conspiracy theory নিয়ে এরকম থ্রিলার দাঁড় করানো রীতিমতো কষ্টকর এবং লেখিকা তাতে অনেকাংশেই সফল। গল্প খুব গুছিয়ে লেখা। অকারণে গল্প তেমন এদিক ওদিক ছড়িয়ে যায়নি। গল্পের ভাষা খুব সাবলীল ও সহজবোধ্য। কিছু জিনিস একদম ভালো লাগেনি। i) যেমন রুদ্র হুটহাট গোটা পুলিশ টীম কে নির্দেশ দিচ্ছে আর তারা লক্ষ্মীছেলের মতো সব শুনছেও। ii) আর এটা শুধু রুদ্রের গল্প। প্রিয়ম এসেছে প্রায় ১২৪ পাতায় গিয়ে, বই এর সাইজ যেখানে ২৬৪ পাতা। প্রিয়ম অনেকটা আমাদের বস্তা পচা সিনেমার নায়িকার মতো। শুধু মুখ দেখানোর জন্য রাখা। অবস্থা সাইড ক্যারেক্টার এরও অধম ।
তাজমহল? না তেজো মহালয়? মমতাজের স্মৃতিসৌধ? নাকি শিবের মন্দির? এই বিতর্ক বহুদিনের। অঘোরে ঘুমিয়ে শিব গড়ে উঠেছে এই বিতর্ককে চালচিত্রে রেখে। আই রিপিট, চালচিত্রে রেখে। এই বিতর্ক নিয়ে নানা তথ্যাবলী ইন্টারনেট ও পিডিএফের দৌলতে সহজলভ্য। কিন্তু যেটা কঠিন, তা হলো, সমস্ত লেখকের 'আপন মনের মাধুরী মিলানো' তত্ত্ব থেকে মোটাম���টি সত্য বিষয়গুলোকে একসাথে করে একটা ২৬৪ পাতার উপন্যাসে নানা জনের নানা কথার মধ্যে ভরে দেওয়া। যারা তাজমহলের এই বিতর্ক সম্বন্ধে পড়েছেন, জানেন, তাঁরা হয়তো খুব হতাশ হবেন, কারণ এই বইতে তার সমাধান নেই। আছে সেই চর্বিত চর্বন তথ্য। কিন্তু যাঁরা জানেন না এত তথ্য, তাঁরা থ্রিলারের স্বাদ পান আর নাই পান, সমৃদ্ধ হলেও হতে পারেন। হ্যাঁ, তো যা বলছিলাম, এই বিতর্ককে চালচিত্রে রেখে আর্মস ডিলিং নিয়ে লেখিকা জাল বড় ভালো বুনেছেন। গল্প বলবো না, স্পয়লার দিতে পছন্দ করিনা। তবে কিছু মাইনর ফ্ল আমার চোখে পড়েছে, সেগুলো বলি: ● কাহিনী যখন শুরু হলো, তখন ঘটনার বর্ণনাগুলো খুব পিকটোরিয়াল ছিলো, যা যত গল্প এগিয়েছে, ক্রমশঃ ক্ষীণ হয়েছে। ● অনেকগুলো অধ্যায় লেখিকা যত্ন করে খরচ করেছেন কাহিনীর বিভিন্ন চরিত্রের দিকগুলো বোঝানোর জন্য। গল্প এগোতে যখন ঘটনাবলী একে অন্যের সঙ্গে কোলাইড করেছে, যত্ন করে তাদের জুড়েছেন, কিন্তু কিছু চরিত্র সেই জোড়ার ফলে হারিয়েও গেছে। হঠাৎ করে কনক্লুশন এসে থাবা বসিয়েছে তাদের ওপর। ● সাবপ্লটটা হয়তো অন্যভাবে প্লট করলে আরও মজবুত হতো। আমি লেখক নই, তাই আমায় 'আপনি ওর চেয়ে ভালো সাবপ্লট লিখে দেখান' বলে হুমকি দিয়ে লাভ নেই। আমি এটা বললাম কারণ এই সাবপ্লটটা আগাগোড়া দুর্বল লেগেছে, এবং মূল ঘটনার সঙ্গে একেবারে সূক্ষ্ম সুতো দিয়ে জোড়া লাগানো। যে কোনো মুহূর্তে পলকের অসাবধানতায় ছিঁড়ে যেতে পারতো সুতো। ● চালচিত্র, আর্মস ডিলিং ছাড়া লেখিকা আর একটা বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেছেন মনে হলো - ক্রিপ্টোগ্রাম - যদিও গ্রন্থপঞ্জীতে স্রেফ একটা অঙ্কের তত্ত্বের বই ছাড়া আর কোনও বইয়ের নাম দেখলাম না। আমি জানিনা শ্লোকের ব্যাখ্যাগুলো কতটা বিশ্বাসযোগ্য, কারণ বিন্দুবিসর্গের অনেক জায়গাও স্রেফ গাঁজা মনে হয়েছে আমার। তবে I personally loved cryptograms. ● ওমের ব্যাখ্যায় অশ্বিন সাংঘিকে নকল করার ব্যর্থ চেষ্টা সুস্পষ্ট।
নরক সংকেত পড়ে যতটা আশাহত হয়েছিলাম, ততটা খারাপ লাগেনি অঘোরে ঘুমিয়ে শিব। তবে, বাংলার ড্যান ব্রাউন বলাটা আবার অত্যুক্তি হয়ে যাবে। ছুটির দিনে হাতে কাজ না থাকলে একবার এই বইয়ের পাতা উল্টে দেখতেই পারেন।
পড়ার সময় বা পড়ার পর যে কোন থ্রিলারকেই আমি সাধারণত তিনটি ভাগে ভাগ করে নেই।... ১। এন্টারটেইনিং থ্রিলার (যা শুধুই আনন্দ দেয়, সময়কে পুরোপুরি উপভোগ্য করে তোলার চেস্টা করে)... ২। ইফেক্টিভ থ্রিলার (ইনফরমেশন, কিংবা সময়পোযোগী শক্তিশালী কোন মেসেজ দিয়ে থাকে)... এবং ৩। ইন্টেলেকচুয়াল থ্রিলার (যা আমাদের চিন্তা করতে বাধ্য করায় এবং দিনশেষে ইন্টেলেকচুয়াল ডেভেলপমেন্টে সাহায্য করে)। 'অঘোরে ঘুমিয়ে শিব' হচ্ছে ইফেক্টিভ থ্রিলার। হিন্দু-মুসলমানের পারস্পারিক মনোভাব ও নেপথ্যের কাহিনীই এ বইয়ের প্রধাণ আলোচ্য বিষয়। বিতর্কিত এক অতীত নিয়ে অতি অ-বিতর্কিত বর্তমানময় এ উপন্যাসের পরিব্যাপ্তি ২৪ থেকে ২৬ জানুয়ারী। স্থান আগ্রা, প্রায় সবকিছুর সাথেই ডিরেক্টলি জড়িয়ে আছে তাজমহল। রুদ্রাণীর চাকরি যায় যায় অবস্থা। আপাতত সাময়িকভাবে বরখাস্ত। তার ব্রাঞ্চের এক কাস্টমারের অ্যাকাউন্টে রাতারাতি বিশাল অংকের টাকা ঢোকে বিদেশী কোন আনআইডেন্টিফাইড সোর্স থেকে। ম্যানেজার হিসেবে রুদ্রাণী এটা কি করে ওভারলুক করে গেল, বা তার এই ওভারলুক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিনা তা নিয়ে শুরু হয় আপাত দৃষ্টির অদ্ভুত এক তদন্ত। তদন্তকারী পুলিশ অফিসার নাহুম খান। একটি অতি সাধারণ তদন্ত ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকে ভয়াবহ এক ষড়যন্ত্রের দোরগোড়ায়। মাসখানেক অাগে আগ্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে প্রফেসর তাজমহল নির্মাণের বিতর্কিত হিন্দুত্ব সত্ত্বাধীকার নিয়ে খবরের কাগজে কলাম লিখেছিলেন, তিনি রাতারাতি নিখোঁজ হয়ে যান। হঠাৎ করেই খুন হয়ে যায় এক প্রভাবশালী মুসলিম নেতা। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার শুরু? সাংসদ ও বিশিষ্ট শিল্পপতি নাগেশ সিং এর জীবনে নেমে আসতে থাকে একের পর এক বিপর্যয়। তার প্রডিজি কন্যা প্রায় রাতেই কেন সেই বীভৎস স্বপ্নটা বারবার দেখে? বন্ধুহীন কিশোরী উজ্জয়িনী পা দিয়ে ফেলে এক ভয়ংকর ফাঁদে। পালাবার কোন রাস্তা নেই। এদিকে পুরো আগ্রা ছেয়ে যেতে থাকে অদ্ভুত সব পোষ্টারে। ২৬ জানুয়ারী প্রজাতন্ত্র দিবসে তাজমহল নাকি উড়িয়ে দেওয়া হবে! সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ভয়াবহ আকার ধারন করতে শুরু করে। কিন্তু এতকিছুর সাথে প্রফেসর অঘোরেশ ভাটের সংযোগটা কোথায়? কিম্ভূতকিমাকার এই রহস্যময় বুড়োর সবকিছুই যেন একটু বেশিই অদ্ভুত। অনেক বছর পর হঠাৎ করে ট্রেনে দেখা হওয়া বন্ধুকে কি এত জরুরী গোপন কথা বলতে চাইছে সে? ওদিকে অনেককাল আগেই মারা যাওয়া কুখ্যাত অস্ত্র ব্যাবসায়ী ভিক্টর বিলগেইনারকে দেখা যেতে শুরু করেছে আবার। কবিরের প্ল্যানটা অাসলে কি? তাজমহলের আসল ইতিহাস নাকি লেখা আছে এক অংকে? অংক কষে ইতিহাস উদ্ধারে রুদ্রাণী, প্রিয়ম, অঘোরেশ ভাট আর নাহুম খানের সাথে এই রোমাঞ্চকর যাত্রায় আপনাকে স্বাগতম। হিস্ট্রিকাল থ্রিলার পছন্দ করলে, এ বইটি মোটামুটি সুখপাঠ্য। মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাসের পাশাপাশি এতে আছে উপমহাদেশের জঘন্যতম সাম্প্রদায়িক এক্সট্রিমিজমের একটা ভয়াবহ চিত্র। থিমাটিক বিষয়টা ছাড়া, সিরিজের আগের দু'টি বইয়ের তুলনায় এ বইটি কিছুটা একঘেয়ে, কিছু জায়গায় থ্রিলের কিছুটা অভাব মনে হয়েছে আমার কাছে (পড়েছেন এমন অনেকেই হয়তো একমত হবেন না)। সেজন্যই বেশ কয়েকদিন আগে পড়া শেষ করেও প্রতিক্রিয়া শেয়ারের তেমন একটা তাগিদ অনুভব করতেছিলাম না। পরে চিন্তা করে দেখলাম শেয়ার করা উচিত মূলত বইটির অতি শক্তিশালী, সময়পোযোগী বার্তার জন্য। রুদ্রাণী অবশ্য এখন অনেক ম্যাচিউর। তাকে আরও ভালো লাগতে শুরু করেছে। গঠনমূলক বি দ্রঃ হিস্ট্রি পছন্দ না করলে, এই সিরিজ ভালো লাগার সম্ভাবনা কম। অগঠনমূলক বি দ্রঃ এই সিরিজ পড়লে, বিবাহ করতে ইচ্ছা হওয়ার সম্ভাবনা প্রকট।
এই মাত্র পড়ে শেষ করলাম ' অঘোরে ঘুমিয়ে শিব ' উপন্যাসটি। অদ্ভুত এক ভালোলাগায় মনটা আচ্ছন্ন হয়ে আছে। এর পরতে পরতে রয়েছে suapense। উপন্যাস এর মূল বিষয়বস্তু জানা তবে শেষমেষ কী হতে পারে সেই উদ্দেশ্যেই পড়তে থাকা। বইটি শেষ করতে আমার বেশিদিন লাগেনি। একজন mathematics এর ছাত্রী হওয়ায় বৈদিক গনিতের যে অমূল্য সৃষ্টি ,golden ratio,Pigeon hole Theory ব্যাবহার ও সর্বোপরি ভারতবর্ষের সেই নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান বিবিধের মাঝে দেখো মিলন মহান। এই মতবাদে সব আবেগ অনুভূতি একাকার হয়ে গেছে। আজ National Mathematics Day, শ্রীনিবাস রামানুজন এর জন্মদিন আজকের দিনে এরকম একটি তথ্যমূলক গনিত ও ইতিহাস নির্ভর বইটি পড়ে শেষ করতে পেরে আরো সমৃদ্ধ হলাম।কোথাও গিয়ে আমার অনুপ্রেরণা লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায় আর রুদ্রানীর আবেগ মিশে গেছে সেটাই স্বাভাবিক চাকরি জীবনে সম্মান টাও খুব প্রয়োজন। সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে প্রাসঙ্গিক ছবির skecth ও অন্যান্য ছবিগুলি। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ । অঘোরে ঘুমিয়ে শিব বইটির কথা প্রথম জানতে পারি 2020 সালে তখন covid এর সময় এক বান্ধবী যা বই পড়ত উল্লেখযোগ্য লাইন গুলো WhatsApp status এ দিত।সেখান থেকেই প্রথম জানা এই বই সম্পর্কে।মা দুর্গার নাম ইলা থেকে আল্লাহ্ শব্দের উত্থান। তেজ মহালয় ইত্যাদি।কিন্তু সে পুরো উপন্যাস টা সম্পর্কে বলেনি যে শেষ অব্দি কী হয়েছিল। ভাগ্যিস বলেনি নাহলে সেই থেকে বইটির খোঁজ করা বার বার সব copy বিক্রি হয়ে যাওয়া তারপর সেটি কিনে এসে বই পড়ার যে আনন্দ সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।😊 বাকি বই গুলো সামনের বইমেলা থেকে কিনে পড়ব কথা দিলাম। তবে কিছু কিছু শব্দ misprint হয়েছে তবে সেগুলি বুঝে ঠিক শব্দ উচ্চারণ করে পড়ে নিয়েছি অসুবিধা হয়নি।।
'Don't judge a book by its cover'—এই প্রবাদটি এই বইটির যথাযথ মূল্যায়ন। বইটির শিরোনাম, প্রচ্ছদ এবং প্লটের যে ভিত্তি—একটি বিতর্কিত ষড়যন্ত্র তত্ত্ব—তা শুরুতেই একটা প্রত্যাশা তৈরি করেছিল। কিন্তু প্রথম পাতা থেকে শেষ পাতা অবধি সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি; বরং প্রতি পৃষ্ঠায় কেবল হতাশাই জমেছে। রুদ্র-প্রিয়ম সিরিজের এটি তৃতীয় বই, তাই লেখিকার কাছ থেকে আরও পরিণত লেখনী আশা করেছিলাম। কিন্তু লেখিকা যেনো খু��ই অদক্ষতার সঙ্গে সবকিছু সামলানোর চেষ্টা করেছেন। পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্য তাজমহলের গভীরে শিব লিঙ্গ লুকানো আছে—এই রোমাঞ্চকর ধারণার উপর ভিত্তি করে একটি থ্রিলার তৈরির প্রয়াস ছিল। কিন্তু এখানে লেখিকা ইতিহাসের উপর অতিরিক্ত নির্ভর করেছেন এবং সেখান থেকেই শুরু হয়েছে সমস্যা—ইনফো ডাম্প। প্রতি মুহূর্তে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঐতিহাসিক তথ্য ও তত্ত্ব চলে আসছিল, যা গল্পের গতিকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। লেখিকার গবেষণা অবশ্যই প্রশংসনীয়, এবং আমি পাঠক হিসেবে কিছুটা জ্ঞানও লাভ করেছি, তবে যখন একটি সাহিত্যিক সৃষ্টি অযথা তথ্যভিত্তিক হয়ে পড়ে, তখন পড়তে বেশ কষ্ট হয়।
গল্পটি প্রধানত প্লটনির্ভর, কিন্তু চরিত্রগুলোর বিকাশ খুবই দুর্বল ছিল। কিছু অপ্রয়োজনীয় সাব-প্লট গল্পের গতি আরও মন্থর করেছে। এবং শেষের দিকে গল্পের সবকিছু একেবারে অগোছালো হয়ে যায়, যার সমাপ্তি অত্যন্ত হতাশাজনক।
আধুনিক সময়ের অস্ত্র ব্যবসা ও এর সিন্ডিকেট নিয়ে লেখিকার বক্তব্য যতটা শক্তিশালী, ধর্মীয় বিবাদ ও তার সমাধান নিয়ে লেখিকার চিন্তাভাবনা ততটাই দুর্বল মনে হয়েছে।
সবমিলিয়ে, এটা আমার পড়া সবচেয়ে দুর্বল বেস্টসেলারগুলির একটি। এর চেয়ে বেশি কিছু বলার নেই।
অঘোরে ঘুমিয়ে শিব রুদ্র-প্রিয়ম সিরিজ এর তৃতীয় এডভেঞ্চার।
কলকাতা থেকে ট্রান্সফার হয়ে রুদ্র এখন আগ্রাতে।
হঠাৎই একদিন রুদ্রর ব্রাঞ্চের একজনের ব্যাংক একাউন্টে কোটিটাকার ডিপোজিট হয়, যার জেরে ব্যাংক শোকস করে বসে রুদ্রকে, আর তাৎক্ষণিক সাসপেনশন।
ওদিকে তাজমহলের ওপর গবেষণারত দিল্লির ইউনিভার্সিটির এক প্রফেসন নিরুদ্দেশ হয়ে যায় রাতারাতি।
একুশ কোটি টাকার আর্মস মুঙের থেকে চলে আসে দিল্লিতে, রুদ্রর বাবার এক পুরোনো সহপাঠীর নামে। যে নিজেও তাজমহল সম্পর্কে উন্মোচন করে ফেলেছে অভাবনীয় তথ্য, শুধু সময়ের অপেক্ষা তাকে সবার সামনে নিয়ে আসার।
এদিকে রাতারাতি পোস্টার পড়ে যায় তাজমহল পরিবেষ্টিত সর্বত্র, যা ধার্মিক দাঙ্গা উদ্রেক এর জন্য যথেষ্ট প্রজাতন্ত্র দিবসে।
বিস্ময় বালিকা উজ্জ্বয়িনী প্রায়শই স্বপ্নে দেখে বহুকাল আগে ঘটে যাওয়া লুপ্ত প্রায় এক নিষিদ্ধ প্রথা। বাবা-মার ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত উজ্জ্বয়িনী নিজের ভালোবাসার মানুষ খুঁজে পায় এক অজ্ঞাত অপরিচিতের মধ্যে।
এই সব সূত্র গুলো একত্রে গল্পের বুনোট বেঁধেছেন লেখিকা। রুদ্র, প্রিয়ম এর সঙ্গে এবারে সুরঞ্জন আর অফিসার নাহুম খানের ভূমিকা দেখা যায় গল্পে। গল্পের বিষয় বস্তু নিয়ে কম বেশি সবাই জানে, সেটা নিয়ে কিছু যোগ করার নেই।
তবে মধ্যযুগের ইতিহাস আর তার মধ্যে লুকিয়ে থাকা গণিত এবং ক্রিপ্টেড সংকেত গুলো যেভাবে লেখিকা খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন, আর ব্যাখ্যা করেছেন (fiction হোক বা non-fiction), তার জন্য আপনাকে কুর্নিশ।
This entire review has been hidden because of spoilers.
#অঘোরেঘুমিয়েশিব রিভিউ #রুদ্রপ্রিয়মসিরিজ পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম স্থাপত্য তাজমহল । সত্যিই কি শাহজাহান বানিয়েছিলেন নাকি আটশো বছর আগের রাজা পরমাদ্রিদেবের বানানো শিব মন্দির "তেজো হিমালয়"! আবেগ ধর্ম লোভের সুযোগ নিয়ে ইতিহাস কে অস্ত্র করে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে আর্মস ডিলার দের এক দল।
বিস্ময় বালিকা উজ্জ্বয়িনী প্রায়শই স্বপ্নে দেখে বহুকাল আগে ঘটে যাওয়া লুপ্ত প্রায় এক নিষিদ্ধ প্রথা। বাবা-মার ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত উজ্জ্বয়িনী নিজের ভালোবাসার মানুষ খুঁজে পায় এক অজ্ঞাত অপরিচিতের মধ্যে ।নাকি সেও শিকার লোভের! অন্য দিকে , তাজমহল এর সত্যতা নিয়ে গবেষণা রত প্রফেসর বেগ এর উধাও হয়ে যাওয়া।
আমাদের গল্পের মুখ্য চরিত্র রুদ্র আর প্রিয়ম সঙ্গে অফিসার নাহুম খান ,আর রুদ্রর বাবা সুরঞ্জন সবার সম্মিলিত চেষ্টায় কিভাবে সলভ হবে বৈদিক যুগের শ্লোক এর অঙ্কে লুকিয়ে থাকা pigeon hole theory ।
সব মিলিয়ে বেশ এক রোমহর্ষক এবং খুবি সাহসী বিষয় নিয়ে লিখেছেন Debarati Mukhopadhyay দি ,এর জন্য তাকে কুর্নিশ জানায়। তার সাথে বেদের শ্লোক ,"ওম আমেন আর omni" শব্দে মিল Symbolisms ,অক্ষরের খেলার অত্যন্ত নিদারুণ ব্যাবহার সব কিছু মিলিয়ে বেশ দারুন একটি উপন্যাস
বর্তমান লেখকদের সমস্যা হল গল্পের গাথুনিটা শক্ত হয়না খুব একটা। তবে এই উপন্যাসের বেশ কিছু সমস্যার কথা বলিঃ ১। কবীর খান, মুন্না শেখ সহ আর্মস ডিলার সব মুসলিম। নিজামউদ্দিন বেগকে শক্তভাবে আনা হয়নি। অন্যদিকে নিহাম খান ভালবেসে হিন্দু থেকে ধর্মান্তরিত। ২। নাগেশ সিং খারাপ কাজ করলেও তাকে ভাল দেখানোর প্রচেষ্টা। তাকে একই সাথে বাবাজি, পরকীয়াকারী ও শান্তি প্রতিষ্ঠা হিসেবে দেখানো। ৩। মোটামুটিভাবে তেজো মহালয়া হবার যত তথ্য আছে সব তথ্য দেখানোর প্রচেষ্টা, কিন্তু শেষে সম্প্রীতির কথা বললেও আসলে চেষ্টা করা হয়েছে এটা শিব মন্দির ছিল তাইই প্রমাণ করার।
এই বইটি থেকে যা ভাল পেলাম তা হল ক্রিপ্টোগ্রাফির সাথে প্রাচীন ভারত সম্পর্কে জানা।
তাছাড়া এই বইয়ে একটা সম্প্রদায়কে খাটো করে দেখিয়ে আরেকটি ঐতিহাসিক সত্যকে অস্বীকার করার চেষ্টাই করা হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে। তাতে যে আজকাল কাটতি হয় প্রচুর তাতো জানাই। দেশভক্তদের আজকাল যা জোয়ার।
Tajmahal is hindu temple made by Hindu raja Paramadridev before Sultan dynasty? The coconut top and bent mango leaves beneath water pot (কলস) in the pinnacle of Tajmahal signifying Hinduism? তেজো means Shiva মহালয় means temple. According to Shivpuran, Agra was one of the prime location of Shiva "জোতির্লিঙ্গ".
When all these theories are going to be published to public by a scholar, he got abducted. A terrorist organization devise a plan to execute bomb blast in Tajmahal by taking Muslims, making religious conversion to Hindu and turn up against their own in terms of sectarianism with these theories.
There are a number of secret tunnels through Tajmahal which are deciphered through math jugglery pigeon hole theory, mirror symmetry and also ancient hindu encryption "কতপয়দি" by Rudra piyom and culprit as well. One of the tunnel finally reveals the Shivalingo or anything else?
One breath read story which is an exemplary blend of history, math, mystery and religion.
সবকিছু যাচ্ছেতাই। একজন সিভিল সারভেন্ট, যাঁর সংস্কৃতিবান ও শিক্ষিত হওয়ার কথা, তিনি এইরকম বই কীভাবে লেখেন কে জানে!
লেখার মধ্যে যত্ন ছিল। সেটা পড়ে বোঝা গেছে।
কিন্তু তিনি অঙ্কের সূত্র লুকিয়ে রাখার মধ্যে লুকিয়ে রাখলেন কি? না পিজনহোল প্রিন্সিপল। যেটা ওই দশটা ফুটো দেখে কারও বাপের সাধ্য নেই সেখান থেকে উদ্ধার করে।
উনি নানারকম ভাবে বলেছেন যে উনি যা লিখছেন তা নাকি ইতিহাস নয়, কিন্তু উপন্যাস জুড়ে ভাবটা সেইরকমই। লোকে কোনটাকে নেবে বোঝাই যাচ্ছে।
প্রাচীন ভারতের অনেক কিছুই মানুষের চর্চায় নেই। সেগুলোকে তুলে ধরা যেত, কিন্তু সেই একই "বৈদিক গণিত" এর সোনার পাথরবাটির ঢোল বাজানো হল। কত প্রকৃত মহান জিনিস ছিল!
কাহিনীর বুনোট বেকার। অত বুদ্ধিমান প্রিয়ম সে টিকিটের ইমেল ডিলিট করল না, ফো��� করল না স্বাভাবিকতা বজায় রাখার জন্য।
বাংলা সিরিয়ালের মত উদ্ভট যুক্তিতে কয়েকজন আনাড়িকে এসকর্ট করে খুনিদের সাথে লড়তে নিয়ে যাচ্ছে কমান্ডো বাহিনী।
স্বভাবতই একজন সাহিত্যিকের কল্পনার অধিকার থাকে৷ সে অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করাও অপরাধ৷ তবে একই সাথে মনে হয় সাহিত্যিকেরও স্বাধীনতা আর স্বেচ্ছাচারীতার মাঝে পার্থক্য জানা উচিত৷ লেখিকা এখানে তার মুখন্ধেই বলেছেন যে এটা সম্পূর্ণতই তার কল্পনাপ্রসূত। তারপরও যেটা সত্যি তা হলো আমরা অর্ধ-শিক্ষিত পাঠকেরা অনেকেই মুখবন্ধের দিকে মুখ ঘুরিয়েও দেখিনা৷ ফলাফলে যা হয় আমরা ইতিহাস আশ্রিত সাহিত্যকে অনেক সময়েই সত্যি বলে মনেকরি। আমার কাছে ঠিক এই জায়গাটিতেই কিছুটা খারাপ লেগেছে। যদিও তাজমহলের সাথে মুসলিম বা ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই৷ তারপরও এটাকে বর্তমান ভারতীয় রাজনীতিতে একটা ঘুটি হিসেবে ব্যাবহারের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে এই বই স্বভাবতই হিন্দু পাঠকের মনে বদ্ধমূল ধারনার সৃষ্টি করতে পারে যে সেটা শিব মন্দিরের ভিতেই তৈরি। ফলাফল হচ্ছে সাম্প্রদায়িক দাংগা। শুধু অর্থউপার্জনের জন্য একজন সাহিত্যিইকের এহেন আচরণ আমায় কিছুটা ব্যাথিতই করেছে৷ কারন আমি মানুষের মৃত্যু চাইনা। এমনকি বইয়ের কাটতির বিনিময়েও।
তাজমহল হিন্দু বানিয়েছে না মুসলিম তা নিয়ে মাথা ব্যথা কোনোকালেই ছিলোনা.. ওটা তেজো মহালয়া না তাজ মহল তাও জানিনা.. কিন্তু এই স্থাপত্যর চূড়াটা দেখলে একটা কথাই মাথায় আসে
"একই বৃন্তে দুটি কুসুম... হিন্দু-মুসলমান "
"অঘোরে ঘুমিয়ে শিব " undoubtedly এক অনন্য উপন্যাস..
যার চূড়ায় বাস করে স্বয়ং ঈশ্বর ও আল্লাহ... চাঁদ ও তারা থাকে যেথায় আবার মঙ্গলঘট বসেও সেথায় .😍😍 পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের এই এক নিদর্শন আমাদের কতো বড় philosophy বুঝিয়ে যাচ্ছে 400 বছর ধরে .. আর আমরা এর ভেতরে কে আছে এই চিন্তায় মরছি..
লেখিকার শেষ লাইনগুলো বড় ভাল ছিলো.. এক ভারতীয় ভারতে এক আশ্চর্যময় জিনিস বানিয়েছিল সেটুকুই মাথায় রাখি না আমরা..ক্ষতি কি তাতে???
দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের 'অঘোরে ঘুমিয়ে শিব' পড়লাম। একটি গবেষণামূলক রুদ্ধশ্বাস উপন্যাস। লেখিকার কথায়,'রূদ্র-প্রিয়ম সিরিজের তৃতীয় উপন্যাস। এমন বিতর্কিত বিষয় বেছে নেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক, ধার্মিক বা ব্যবসায়িক কোনো উদ্দেশ্যই আমার কাছে বড় হয়ে ওঠেনি।' বিষয়টা হলো তাজমহল কী হিন্দু মন্দির ছিল? এই বইয়ে এই বিতর্কিত বিষয়ে পর্যালোচনা করার পর শয়ে শয়ে বার্তা তাঁর কাছে এসেছিল । সেইসব বার্তা যে নিখাদ প্রশ্নসূচক বা বিস্ময়সূচক ছিল তা নয়, অনেকগুলিই তার মধ্যে ছিল বেশ ভীতি প্রদর্শনকারী। সাহসী এই লেখিকা অন্তত 52টি সহায়ক গ্রন্থের সাহায্য নিয়েছেন। লেখিকাকে এইরকম একটি বিতর্কিত বিষয় নিয়ে লেখার জন্য কুর্নিশ জানাই।
বইটা রহস্য রোমাঞ্চ দিক থেকে দেখতে গেলে পাঠকদের কোনো ভাবেই হতাশা করেনি। অনেক অজানা ঐতিহাসিক তথ্য আমাদের কাছে তুলে ধরেছেন লেখিকা। ইংলিশে আমরা “mythological thriller" বলতে যেটা বুঝি সেইটাই। প্লট টুইস্ট সবকিছু মিলিয়ে বইটা মন্দ নয়, কিন্তু কিছু জিনিসের খুব একটা বেশি প্রয়োজন ছিলোনা। মাঝে মাঝে পড়তে পড়তে সেইসব অপ্রয়োজন মনে হয়েছিলো। যেমন সতীদাহ প্রথার ব্যাপারটা গল্পের খাতিরে অপ্রাসঙ্গিক লেগেছে বড্ডো। আর গল্পের শেষটা একটু বেশী predictable কিন্তু আরেকটা জিনিস উল্লেখ না করে পারলাম না সেটি হলো লেখিকা এই বইটির মাধ্যমে আমাদের কাছে এক মূল্যবান বক্তব্য প্রকাশ করেছেন। আপনারা গল্পের theme হিসেবেও এটিকে নিতে পারেন।
★ বইয়ের নাম ~ অঘোরে ঘুমিয়ে শিব ★ লেখক ~ দেবারতি মুখোপাধ্যায় ★ Publisher ~ দীপ প্রকাশন ★ প্রথম প্রকাশ ~ নভেম্বর ২০১৮ ★ Genre ~ ঐতিহাসিক থ্রিলার ★ Book Length ~ 311 pages ★ Reading Medium ~ ebook ★Date finished ~ 9th April, 2022 ★ Reading Speed (page/hour) ~ 62 ★ Reading time ~ 6 hour ★ My Rating ~ 3★ ★ Thoughts on the book ~ আরেকটু বড় প্লটের হলে ভালো হতো। তবে আমার ভালো লাগেনি খুব একটা। প্লটটা ছাড়া কিছুই পছন্দ হয়নি তেমন। ★ Recommend it for ~ ঐতিহাসিক থ্রিলারপ্রেমীরা পড়ে দেখতে পারেন।
Apnar lekha boi "Aghore Ghumiye Shiv" ta ebarer Boi Mela theke niyechilam. Just dudin e sesh kore fellam pore. Ami erokom history, date of events, taan taan uttejona tarsathe erokom sahosh niye je likhechen ekta important event r upor. Apnar fan hoyegechi Ami. Rudra Priyom series r aro kichu collections ami vabji rakhbo in future. Eto detailing apni likhechen bhaba jaena. Jodi konodino shujog hoi ei boi tae ekta autograph collect korbo apnar. Aro onek boi r jonye oppekha e roiilam 👏👏👏