মীর তকী মীরের গজল নিয়ে এই বই। উর্দু থেকে ভাষান্তর করেছেন আবু সয়ীদ আইয়ুব। গৌরী আইয়ুব অতীব সুখপাঠ্য এক জীবনী লিখেছেন গজলসম্রাট মীর তকী মীরের।
মির্জা আসাদুল্লাহ খান গালিব, ইকবাল উর্দু শায়ের হিসেবে যত পরিচিত, মীর তকী মীর তত নন৷ উর্দু শায়েরির একচ্ছত্র শাহেনশাহ গালিব নন। গালিবের মুখেই স্বীকারোক্তি,
' তুমি একাই উর্দু ভাষার ওস্তাদ নও গালিব,
লোকে বলে পুরাকালে মীর নামেও একজন ছিলেন।।'
অদ্ভুত এক জীবনকে যাপন করে গেছেন মীর তকী মীর। অহংকার, দারিদ্র, কাব্যসাধনা আর ইতিহাসের ভাঙনের চিত্র নিয়েই মীরের জীবন।
যাইহোক, মীরের গজল থেকে কিছু শায়েরি পেশ করছি -
' সবে তো প্রেমের শুরু, এখনই কাঁদছ?
দেখো ক্রমে ক্রমে আরো কত কী ঘটে।। '
' লোকে বলে আগেরদিনে প্রতিমাদের বুকে দয়ামায়া ছিল,
হায়, ঈশ্বরই জানেন ওঁরা কবেকার কথা বলছেন।। '
বাংলা শায়েরি একদিকে। অন্যপর্বে মূল উর্দু শায়েরি সংযোজন করেছেন আবু সয়ীদ আইয়ুব।
খুবই চমৎকার বই। প্রাণজুড়ানো এবং মনভোলানো। আবু সয়ীদ আইয়ুবের ভাষাগত দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো অর্বাচীনতা দেখাতে চাইনা। তবে অনুবাদের ভাষার ক্ষেত্রে কিছুটা রক্ষণশীল ছিলেন বলেই মনে হল। এই শাব্দিক রক্ষণশীলতা নিয়ে অবশ্য তিনি সুনীল, শক্তি এঁদের খোঁচা দিতে ছাড়েন নি।