আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কারণে মুসলমান হওয়া স্বত্তেও দেশের একশ্রেণীর মানুষ বিশেষত যারা সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত (স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি পড়ুয়া) তাদের ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান তুলনামূলকভাবে কম।
এই দূর্বলতাকে সুযোগ হিসেবে নিয়েছে বাংলার মুক্তমনার ছদ্মবেশে থাকা নাস্তিক সম্প্রদায়।
ইসলাম সম্পর্কে নানারকম মিথ্যাচার রটিয়ে তারা ইসলাম সম্পর্কে কম জানা শিক্ষার্থীদের মন-মগজে সংশয়ের বীজ বপন করার চেষ্টা করছে। কিছুকিছু ক্ষেত্রে তারা এতোটাই সফল যে, ভার্সিটিতে আসার আগে যে ছেলে নামাজ পড়তো, গ্রেজুয়েশন কম্পলিট করার পর সে ছেলে তার বাবাকে নামাজ পড়তে দেখলে ঠাট্টা করে!
গ্রামের অনেক মানুষ তাই মনে করে যে, ভার্সিটিতে পড়লে ছেলেমেয়ে 'নাস্তিক' হয়ে যায়।
কিন্ত ভার্সিটিতে পড়লে যে নাস্তিক হয়ে যায়, এমন না। নাস্তিকতার পথে যারা পা বাড়ায় তাদের বেশিরভাগই ইসলাম সম্পর্কে না জানার কারণে নাস্তিকদের ফাঁদে পা বাড়ায়।
নাস্তিকরা যেসব ফাঁদ পেতে বসে তার মধ্যে কয়েকটার উত্তর দেবার চেষ্টা করেছে 'আর্গুমেন্টস অব আরজু' সিরিজের কাল্পনিক চরিত্র আরজু।
নাস্তিকদের উত্থাপিত এই প্রশ্নগুলোর জবাব দেবার চেষ্টা করেছে আরজু
"আর্গুমেন্টস অব আরজু" ধর্মবিশ্বাস ও সংশয়বাদ নিয়ে সমসাময়িক যুগের বহুল প্রচলিত প্রশ্নের যুক্তিসঙ্গত উত্তর দিতে লেখা একটি বই। এর কেন্দ্রীয় চরিত্র আরজু, যিনি যুক্তিবাদী চিন্তা ও বুদ্ধিদীপ্ত আলোচনার মাধ্যমে নাস্তিকতা, ধর্ম নিয়ে সংশয় এবং ধর্মীয় অপব্যাখ্যার সমাধান দেন। গল্পধর্মী আঙ্গিকে এগিয়ে চলা এই বইতে লেখক দার্শনিক, ধর্মীয় এবং বৈজ্ঞানিক প্রসঙ্গ টেনেছেন বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য।
বইটিতে ২৬টি অনুচ্ছেদে ২৬টি গল্প রয়েছে। প্রতিটি গল্প ইসলাম ধর্ম নিয়ে তোলা ২৬টি প্রশ্নের যুক্তিসঙ্গত জবাব দেয়। গল্পগুলোর দৈর্ঘ্য মাত্র ৪-৫ পৃষ্ঠা হলেও লেখক দক্ষতার সঙ্গে গল্পের কাহিনীতে পাঠকদের সম্পৃক্ত করতে পেরেছেন।
পাঠকের মনে বইটি পড়ার পর একটি প্রশ্ন অবশ্যই জাগবে—আসলেই কি আরজুর মতো কেউ আছে? নাকি সবটুকুই কল্পনা !
লেখক বইটিতে সমাজে প্রচলিত নাস্তিকদের কিছু প্রশ্নের উত্তর খুব সুন্দর ও সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। সচরাচর এসব প্রশ্নগুলোই নাস্তিকরা সাধারণ মুসলিমদের জিজ্ঞেস করে তাদের সাময়িক বিভ্রান্ততে ফেলে দেয়। লেখক সে সমস্ত বিভ্রান্তিকর প্রশ্নের জবাব খুব সুন্দর করে মার্জিত ভাষায় বিভিন্ন রেফারেন্সের মাধ্যমে বইটির আরজু নামক চরিত্রটির দ্বারা দিয়েছেন।