Book: 26/11, stories of strength
By: Indian Express
Publisher: Penguin
Mrp: 299/-
26/11, 2008
🩸গায়ে কাঁটা দেওয়া এক রাত। যদিও আমাদের বেশিরভাগ জনই হয়ত সেই রাতে মুম্বাই শহর থেকে কয়েকশো বা কয়েক হাজার মাইল দূরে ছিলাম, কিন্তু সেই দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আমাদের গভীরভাবে আচ্ছন্ন করেছিল। আজও মনে পড়লে যেনো গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে।
বছরের প্রথম এই বই দিয়ে শুরু করার বিন্দুমাত্র ভাবনা ছিলনা। কিন্তু হটাৎ হাতের সামনে পেয়ে যেনো আর নামিয়ে রাখতে পারলাম না। যদিও বইটি ২০১৯ সালে প্রথম পড়ি, তবে এই দ্বিতীয়বারের পড়ার অভিজ্ঞতা কলমে বন্দী করছি যাতে এই গ্রুপের সকলে এরকম একটি বইয়ের ব্যাপারে জানার সুযোগ পান।
বিস্তারিত আলোচনা - 👇🏻
✍️২৬/১১ সেই ভয়াবহ কাণ্ডের ১০ বছর পূর্তিতে 'Indian Express' সিদ্ধান্ত নেয় ভুক্তভুগী সেই মানুষগুলির কণ্ঠ জনসমক্ষে তুলে ধরার। যারা জড়িয়ে ছিলেন সেদিন তার ভিতর থেকে ৬৫টির বেশি পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করে উল্লেখযোগ্য ১০ জনের জীবনের এক স্বচ্ছ প্রতিকৃতি তুলে ধরা হয়েছে এই বইতে।
যাঁদের কথা উল্লেখ করা আছে তাদের কিছুজনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ -
✍️ অপূর্ব, ধনী পরিবারের ছেলে, যিনি ২ দিন তাজ হোটেলের একটি ঘরে লুকিয়ে শেষে প্রাণে বাঁচেন। বলে রাখি, যে ৪ জন বেঁচে ছিলেন লুকিয়ে, ইনি তাদের একজন। ঘটনার সময় হারান নিজের সবথেকে কাছের দুই বন্ধুকে যারা সেদিন ওনার সাথেই হোটেলে এসেছিলেন। গুলিতে প্রাণ যায় তাঁদের।
✍️ ইন্সপেক্টর তুকারাম, গুলিতে শহীদ হন তিনি।
✍️জানা যায় গোবিন্দের কাহিনী, যিনি তাজে হিসেবের কাজ দেখতেন। প্রাণে বেঁচে গেলেও বহুদিন তাকে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়। ঘটনার ভয়াবহতা তাকে ডিপ্রেশনে ঠেলে দেয়। বহু চিকিৎসার পর তিনি ফিরে আসতে পেরেছেন স্বাভাবিক জীবনে।
✍️ সদাশিব - এনার ঘাড়ে গুলি লাগে। কিন্তু ভাগ্যের জোরে প্রাণ ফিরে পান তিনি।
✍️ কিয়া, সুদূর ফ্লোরিডায় বসে খবর পান তার মেয়ে এবং স্বামী আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। তার জীবনে নেমে আসে আকস্মিক ঝড়।
✍️দেবিকা - কনিষ্ঠতম সাক্ষী হিসেবে বহুবার এনাকে আদালত চত্বরে আসা যাওয়া করতে হয়েছে। ঘটনার মূল অভিযুক্ত কাসবকে চিহ্নিতকরণের জন্য ইনি হয়ে উঠেছিলেন তখনকার খবর চ্যানেলগুলির মুল আকর্ষণ। মাত্র ১০ বছর বয়স ছিল তার, ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হলেও ভাগ্যজোরে বেঁচে যান।
✍️রাজন - মেইনটেন্যান্স ডিপার্টমেন্টের কর্মী ছিলেন, যিনি ভয়ানকভাবে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও নিঃশব্দে বহু আটকে পড়া মানুষকে বেঁচে পালাতে সাহায্য করেন, কিন্তু শেষ অব্দি নিজে রক্ষা পাননি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান তিনি।
✍️শেষে বলি সবথেকে গুরুত্বপূর্ন মানুষটির কথা - স্বর্গীয় মেজর সন্দীপ উন্নিকৃষ্ণান। দুর্ঘটনার রাতে অগণিত মানুষের প্রাণ বাঁচান ভারতীয় এই জওয়ান। শেষ অব্দি দেশের মানুষের সেবায় শহীদ হন সেই কলঙ্কের রাতে।
😔 মেজর সন্দীপের কাহিনী যেখানে ব্যাক্ত হয়েছে, সেখানে শেষে একটি লাইন আছে যা তাঁর বাবা মায়ের বলা -
"logon ke maan main Sandeep hai" ----
এখানে যদি আপনার চোখে জল আসে অবাক হবেন না, বরং না এলেই অবাক হওয়া স্বাভাবিক।
আমরা শুধু খবরে দেখেছি। কিন্তু যারা ভুক্তভুগী - তাদের মনের অবস্থা, ঘটনার পরবর্তী জীবন, তাদের বেঁচে থাকার লড়াই, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার তাগিদ - কোনোটাই আমাদের বোধগম্য নয়।
Big thanks to Indian Express ,, এরকম একটি বইয়ের ব্যাপারে ভাবার জন্য।
এটি কোনো ভালোলাগার বই না, এ বই এক জ্বলন্ত আগুনের পরবর্তী ভয়াল চিত্র।
💌💌💌 বইটির উপরীপাওনা ভূমিকা অংশটি, যেটি লিখেছেন অমিতাভ বচ্চন
🙏🙏🙏🙏🙏