(পাঠ পর্যালোচনা:বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ ﷺ|ড.হিশাম)
▪
“THE MAN (MOHAMMEDﷺ) WHO OF ALL MEN HAS EXCERCISED THE GREATEST INFLUENCE UPON THE HUMAN RACE” -Drefar
নবিজি হযরত মুহাম্মদ (স.) নবুওয়ত লাভ করেন চল্লিশ বছর বয়সে। আমরা নবীজির নবুওয়ত প্রাপ্তির পরের সময়টাকেই বেশি পড়ি, চর্চা করি এবং অনুসরণ করি। কিন্তু নবুওয়ত প্রাপ্তির পরের সময়ের মতো নবী হওয়ার আগের সময়গুলোতেও উনার মাঝে ছিল অসাধারণ ব্যাক্তিত্ব, চরিত্র, সৃজনশীলতা ও আদর্শ। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
“আল্লাহর রাসূলের মাঝে তোমাদের জন্য আছে উত্তম উদাহরণ।(৩৩:২১)”
নবুওয়ত প্রাপ্তির পরের সময়ের মতো উনার নবুওয়ত প্রাপ্তির আগের সময়টাও অনুসরণীয়৷ তরুণ মুহাম্মদ (স.)এর তুখোড় চিন্তাশক্তি এবং সৃষ্টিশীলতার পরিচয় দিয়ে কাবাঘর নির্মাণ নিয়ে কুরাইশদের মধ্যকার বিতণ্ডা নিরসনে চমৎকার সমাধান বের করেছিলেন। ২১বছরের তরুণ উপস্থিত হয়েছিলেন বয়োজ্যেষ্ঠ সব নেতাদের মজলিসে সাংগঠনিক চুক্তি করতে। তরুণ ব্যবসায়ী মুহাম্মদ অর্জন করেন সততার খ্যাতি, আস্থা কুড়ান গ্রাহকের। যে সময় আরবের লোকেরা যেখানে ধোঁকাবাজির চ্যালেঞ্জ নিয়ে থাকত বিক্রেতা মুহাম্মদ তখন ক্রেতার সামনে শুধু পণ্যের গুণাগুণ উপস্থাপন করত না পণ্যের দোষগুলোও নির্দ্বিধায় বলে দিতেন। অন্ধকারাচ্ছন্ন একটা সমাজে জন্মগ্রহণ করে কীভাবে তিনি তা হলেন? আমাদের সময়ে কীভাবে উনাকে অনুসরণ করে আমরা উনার মতো স্মার্ট হব? এই বইয়ে প্রশ্নগুলোর কিছুটা আশানুরূপ উত্তর পাওয়া যাবে।
সীরাতগ্রন্থগুলোর মূল আলোচনায় বেশি ফুটিয়ে তোলা হয় রাসূল (স.)এর নবুওয়তি জীবন। রাসূল (স.) ওর শিশুকাল, কৈশোর বয়সের বেড়ে ওঠা ও তারুণ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা নিয়ে আলোচনা কম চোখে পড়ে। এবং রাসূল (স.)কে নিয়ে পাঠক মনে অতিরিক্ত সম্ভ্রম জাগানো হয় যার হেতুতে তরুণ পাঠক মন বলে উঠে, উনার সবকটা কাজ উনার বিশেষত্বে উনিই করতে পেরেছেন এসব অন্যদের দ্বারা অসম্ভব। অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে উনাকে গ্রহণ করতে তরুণদের বেগ পেতে হয়। মনে করা হয় আমাদের ও রাসূল (স.)এর জীবন-ঘনিষ্ঠ ব্যাপারগুলো পুরোপুরি ভিন্ন। নিসন্দেহে উনার মৌজযা উনারই বিশেষত্ব তবে গভীর ও নিখাদ শ্রদ্ধার কারণে উনার এবং সাধারণ মানুষের জীবনের মধ্যে একেবারে কোন সম্পর্ক নাই মনে করা বোকামি। অনেকে রাসূলের কাহিনী পড়ে শুধু সমীহ জাগানোর জন্য এর থেকে বাস্তব উদাহরণ খোঁজার চেষ্টা করে না। এই বইটিতে উনার নবী হওয়ার আগের জীবনকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। উনার শিশুকাল, টিনএজের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং তারুণ্যে নেতা হিসেবে সমাজে নিজ অবস্থান তুলে ধরে কীভাবে নিজের ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলেন। সাথে দেখানো হয়েছে পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক জীবনে কীভাবে আমরা উনাকে অনুসরণ করতে পারবো। এখানে নিজের জীবনের উন্নয়নের ধাপগুলোর বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। চিরাচরিত বইগুলো বর্ণনাভঙ্গিতে মনে হয়, উনার মতো হওয়া দূরের উনাকে নিজের জীবনের চ্যালেঞ্জগুলোতে কল্পনা করাও অসম্ভব। এ ধরণের হীনমন্যতা সরিয়ে বাস্তব পদক্ষেপ দেখাতে এই বইটি চমৎকার সহায়ক। রাসূল (সা.) নিসন্দেহে সবচেয়ে নিখুঁত, নিষ্পাপ ছিলেন তবে তিনি সর্বোপরি মানুষই ছিলেন। মানুষ হিসেবে উনাকেও মনুষ্য সমাজের সংকট ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে যা সাধারণ মানুষের সাথে অনেকটা মিলে। এসব বিষয়ে সহজাত উপায়েই উনাকে অনুসরণ করা যায়।
যারা জীবনকে সাজাতে চান একটু আলাদা করে।সমাজে নিজে উপস্থিত হতে চান নৈতিকতা, সৃষ্টিশীলতা ও বিচারবুদ্ধিতা নিয়ে। টিনএজ বয়েসের কঠিনতম বাস্তবতাকে যারা ব্যাখ্যা করতে ইচ্ছুক সহজ, সুন্দর ও সুস্থ মস্তিষ্কে এবং চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবেলা করতে ইচ্ছুক। বইটি তাদের জন্য চমৎকার নির্বাচন হতে পারে।
বইটিকে সাতটি অধ্যায়ে ভাগ করে আলোচনা করা হয়েছে। রাসূল (স.)এর শিশুকাল, পরিবার, পরিবেশ, কৈশোর ও তারুণ্যসহ চল্লিশের কোঠার মুহাম্মদ এবং পঞ্চাশের কোঠার মুহাম্মদ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
▪মুহাম্মদ (স.) এর শিশুকাল:
“মরুস্কুলে রাসূল (স.) সহ্য করার ক্ষমতা আর আত্মনিয়ন্ত্রণের যে শিক্ষা নিয়েছিলেন, মা আমিনা তার ঘরে সেই একই শিক্ষা জারি রেখেছিলেন।
রাসূলুল্লাহ (স.) মরু শিক্ষার বাস্তবতা পরিবারে এসেও পেয়েছিলেন। পারিবারিকভাবেই তাঁর জীবন ছিল সাধাসিধা , অনাড়ম্বর। তাঁর মা শুকনো মাংস খেতেন। দাদা দানের টাকা জোগাড় করে হজ্ব পালনকারীদের পানির ব্যবস্থা করতেন। চাচা যৌথ পরিবারের খরচ জোগাতেন। ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণ পরিবারেই পেয়েছিলেন।
বাচ্চাকাচ্চারা স্কুলে যা শেখে, ঘরে এবং সাধারণভাবে সমাজে যদি একই শিক্ষা জোরদার করে, তাহলে বাচ্চারা নিজেদের নিরাপদভাবে এবং আত্মবিশ্বাসী হয়।”
লেখক এ অধ্যায়ে ছ'বছর পর্যন্ত রাসূলের শিশুকালের বিভিন্ন ধাপ নিয়ে কথা বলেন। উনার মানসিক বিকাশ, শিক্ষা ও মূল্যবোধ, আত্মশৃঙ্খলা, সামাজিক ও ভাষা দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস তৈরীর পেছনে উনার পরিবার, পরিজন ও পরিবেশের ভুমিকা তুলে ধরেন। মা আমিনা ও দুধ মাতা হালিমা শিশু মুহাম্মদকে গড়ে তুলতে কী ভুমিকা রেখেছিলেন এবং তার আলোকে আমরা নিজের শিশুদের কীভাবে গড়ে তুলতে পারি এ নিয়ে সুন্দর ব্যাখ্যামূলক আলোচনা করেছেন। শিশুদের আত্মবিশ্বাস এবং আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে ওদের অগ্রাধিকার দেয়া সহ বিবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা বিদ্যমান।
▪রাসূল (স.) এর পরিবার:
“রাসূল (স.) এতিম ছিলেন। তবে একা ছিলেন না। পরিবারের অন্যান্যরা তার বাবামায়ের অভাব ঘুচিয়েছিলেন। তাদেরকে যারা চিনতেন তারা তাঁর কাছে তাদের গল্প করেছেন। এমনকি যারা সরাসরি তাদের চিনতেন না, তাঁরাও তাদের কথা বলেছেন। তিনি মায়ের কাছ থেকে ত্যাগ শিখেছেন। বাবার কাছ থেকে ন্যায়পরায়ণতা শিখেছেন। দাদার কাছ থেকে হার না-মানা মানসিকতার পাঠ নিয়েছেন। বড়দাদা হাশিমের কাছে দানশীলতা আর বড়দাদা��� দাদা কুসাইয়ের কাছ থেকে নেতৃত্বের গুণ শিখেছেন।”
লেখক এ অধ্যায়ে শিশুর গড়ে উঠার পেছনে বর্ধিত পরিবারের ভূমিকা এবং রাসূলের দাদা দাদী, চাচা চাচি এবং আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে আলোচনা করেন। লেখক আলোচনা করেছেন রাসূলের জীবনে মোড় ঘুরিয়ে দেয়া কিছু বিষয় নিয়ে যেগুলো পরিবারের মাঝে আমাদের গড়ে উঠতে সাহায্য করবে। বর্ধিত পরিবারের প্রয়োজনীয়তা এবং ভূমিকা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বর্তমান সমাজের জন্য বর্ধিত পরিবারের বিকল্প ব্যাবস্থা নিয়েও আলোচনা আছে।
▪মুহাম্মদ( স:) এর চারপাশ:
রাসূল (স.) যেখানে জন্মগ্রহণ করেন সেখানের পরিবেশটা কেমন? জাহিলি যুগের জাহিলিয়াতে ভরা পরিবেশ? সেই পরিবেশে কী কী প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবেলা উনাকে করতে হয়েছে? কীভাবে সেই পরিবেশে নিজেকে বিকাশিত করেছিলেন?
“প্রতিটা পরিবেশে এমন কিছু থাকে, যা সেখানকার মানুষের ওপর কোনো না কোনোভাবে প্রভাব ফেলে। তবে এখানে মজার বিষয় হচ্ছে , তখনকার পরিবেশে বড় হয়েও কীভাবে রাসূল (স.) নিজেকে আলাদা করেছিলেন।”
আমরা অনেকে সবসময় সমাজের কিছু দোষ দেখিয়ে সমাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে চাই। অথচ রাসূলের সমাজ উনার যতই বিরুদ্ধাচারণ করুক না কেন তিনি নিজেকে এখানেই বিকশিত করেছিলেন। নবী হওয়ার আগেও উনার মাঝে যে মজবুত বিশ্বাস ছিল তা সাথে নিয়ে সমাজে বিদ্যমান সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়েছেন।
“সমাজ যখন আমাদের ওপর চেপে আসবে... তখন নিজেদের ও আশপাশের পরিবেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ খাটাতে হবে।”
তৎকালীন “সমাজ নারীদের প্রতি নিষ্ঠুর ছিল।... নারীদের প্রতি সমাজে এত উল্টোস্রোত থাকার পরও কিছু নারী সমাজে নিজেদের আলাদা অবস্থান করে নিতে পেরেছিলেন। পুরুষরা তাদেরকে সমান ভাবত।”
তাদের বিশেষত্ব কী ছিল যে তাদের অবস্থানে তারা সমাজের বিপরীতে গিয়ে উন্নত ছিল! কিছু অনারব তাদের দক্ষতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা দিয়ে সুক উকাজের বাণিজ্যে সফলতার শীর্ষে ছিল। ভিন্ন দেশের বাজারে কোন বিশেষ দক্ষতার কারণে তারা এই সাফল্য পেয়েছিল লেখক তা নিয়ে আলোচনা করেন।
“মানুষ পণ্য আর কাজকর্মের এক আনন্দবাজার ছিল সুক উকাজ।”
যেখানে নোংরামি চলত পাল্লা দিয়ে সেখানে রাসূল কেমন করে তা এড়িয়ে চলে সফল হয়েছেন তা চমৎকারভাবে আলোচনা করেছেন লেখক।
▪মুহাম্মাদ (স:) এর কৈশোর
কিশোর বয়সে রাসূল (স.) কেমন ছিলেন? কীভাবে মোকাবেলা করেছেন তিনি টিনএজ বয়সের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ। কৈশোর মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনপ্রণালি নিয়ে লেখক বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। কীভাবে টিনএজরা আস্থাভাজন হতে পারে এবং কীভাবে টিনএজদের বিবেক গড়ে তুলতে পরিবার ভূমিকা রাখতে পারে এবং তাদেরকে কেমন মূল্যায়ন করবে ও ভালোবাসবে তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। রাসূলের কৈশোরের আলোচনায় আসে উনার চাচা ‘আবু তালিব’ চাচী ‘ফাতিমা’র অবদানের কথা। উনারা এই টিনএজকে কেমন ভালোবাসা দিয়েছিলেন এবং মূল্যায়ন করেছিলেন। রাসূল স. চাচীকে নিয়ে বলেছেন,
“চাচার পর চাচীর মতো আমার প্রতি আর কেউ এত দরদি ছিলেন না।”
লেখক একজন কিশোর গড়ে উঠতে নিজে কী করবে এবং গড়ে তুলতে পরিবার কী করতে পারে তা রাসূলের জীবন দিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন।
▪তরুণ মুহম্মদ (স.)
তরুণ মুহাম্মদের ব্যাক্তিত্ব, সৃজনশীলতা, বিচারবুদ্ধিতা, বন্ধুবান্ধব ও বন্ধু নির্বাচন সচেতনতা, বিয়ে ও পরিবার, বিশ্বাস ও মূল্যবোধ, ধর্মচর্চা এবং চিন্তাভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে এ অধ্যায়ে। বিশ-ত্রিশের কোঠার মুহাম্মাদকেই দেখানো হয়েছে এখানে। উনার জীবন থেকে অন্যান্য তরুণরা কী শিখতে পারে এবং গ্রহণ করে কীভাবে নিজের জীবনে কাজে লাগাতে পারে তা নিয়েও আলোচনা করেন লেখক৷
“রাসূল স. এর সমাধান ছিল সৃজনশীল ও তাৎক্ষণিক। এমন সমস্যা আগে কখনো হয় নি, কারণ এবারই মক্কাবাসীরা কাবাঘর সংস্কার করছিল।... সৃষ্টিশীল চিন্তার মাধ্যমে জায়গায় দাঁড়িয়েই তিনি সমস্যার সমাধান করতে পেরেছিলেন।”
“কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাশীল বিশ্বে সৃজনশীলতা আর বাক্সের বাইরে চিন্তাভাবনা করতে পারে এমন লোকদের কদর ভীষণ।”
▪চল্লিশের কোঠায় মুহাম্মদ (স.)
পরিবর্তন!
Chip and Dan heath এই যুক্তি তুলে ধরেছেন যে, “বুদ্ধিভিত্তিক পর্যায়ে নাড়া পরলে মানুষ বিশ্বাস ও অভ্যাস যতটুকু বদলায়, তার চেয়েও বেশি বদলায় যখন মানুষ আবেগের পর্যায়ে নাড়া খায়।”
এর মানে যুক্তি একেবারেই বদলাতে পারে না এমন না তবে আবেগের আধিপত্য বেশি থাকে।
এ অধ্যায়ে লেখক রাসূলের চল্লিশের কোঠার জীবন নিয়ে আলোচনা করেন। এবং উনার ডাকে সাড়া দিয়ে বদলে যাওয়া মানুষদের নিয়ে আলোচনা করেন। কীভাবে তারা পরিবর্তিত পরিস্থিতির উপর খাপ খাইয়ে নিয়েছিল। কোরআনের আয়াত শুনে রাতারাতি নিজের চিন্তা, ধর্ম, জীবন নিয়ে কেমনে তারা পরিবর্তন হয়েছিল এবং কেন মুশরিক ও অবিশ্বাসী কিছু লোক পরিবর্তন হতে চায় নি৷ এবং বর্তমান সময়ে পরিবর্তন করে নিজেকে উন্নতির দিকে নিয়ে কিভাবে টিকে থাকতে হবে তা নিয়ে আলোচনা করেন।
▪পঞ্চাশের কোঠায় মুহাম্মদ (স.)
Leadership & the new science বইতে Margaret বলেন,
“চিরাচরিত নেতারা নজর দেন ভূমিকা আর দায়িত্বের উপর। নতুন নেতারা মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন, যেটা হয়ে উঠে সাফল্যের আসল শক্তি।”
মদিনা সনদ সমাজের মানুষের মাঝে সুসম্পর্ক স্থাপন এবং বিশাল ঐক্য গড়তে সক্ষম হয়। এ অধ্যায়ে লেখক রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নেতৃত্ব গুণ নিয়ে আলোচনা করেন। যুদ্ধ, শান্তি, সামাজিকতা, বিচারবুদ্ধি ও রাজনীতি দিয়ে উনার নেতৃত্বগুণকে ভিন্ন ভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করেন। বিভিন্ন সংস্কৃতিকে তিনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন এবং কীভাবে জিতেছিলেন বিশাল এক জনগোষ্ঠীর হৃদয়। উনার নেতৃত্ব গুণকে উদাহরণ
দিয়ে দেখান বর্তমান সময়ের সাথে। কীভাবে একজন মানুষ নিজের উপর, পরিবারের উপর বা একটি জনগোষ্ঠীর উপর নেতৃত্ব প্রদান করবে।
রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ করে নিজেকে স্মার্ট করতে চাওয়াদের জন্য অসাধারণ সহায়ক এ বইটি। এখানে প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে ছকাকারে দেখানো হয়েছে আমরা কীভাবে জীবন-ঘনিষ্ঠ বিষয়গুলোতে উনাকে অনুকরণ করতে পারব।
ড. হিশাম আল আওয়াদি তাঁর ‘Muhammad: How He Can Make You Extra-Ordinary’ বই দিয়ে মুহাম্মদ (স.) কে এক নতুব ধারায় উপস্থাপন করেন।
লেখক লিখেছেন, “চিরাচরিত জীবনীগ্রন্থের দৃষ্টিকোণ থেকে এই বইকে দেখাটা ঠিক হবে না। সত্যিকারার্থে এটা ঐ শ্রেণীতে পড়ে না। আবার ঠিক আত্মোন্নয়নমূলক বইও না। আমি এই দুই ধরন মিলিয়ে এক অনন্য মিশেল তৈরি করতে চেষ্টা করেছি।”
এখানে দেখানো হয়েছে নিজের শিশুকে মুহাম্মাদ স. এর মতো বড় করার কৌশল। বাচ্চার গড়ে উঠাতে পরিবারের ভূমিকা। টিনএজ বয়সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে তারুণ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার চমৎকার চাতুর্যতা সহ বিবাহিত জীবনে মধুময় সময় কাটানোর কৌশল। সর্বোপরি নবীজির মতো স্মার্ট হওয়ার এক অসাধারণ পদ্ধতি। ﷺ
▪
▫বই: বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ ﷺ
▫লেখক: Dr. Hesham Al-Awadi
▫অনুবাদক: মাসুদ শরীফ
▫প্রকাশক: গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স
▫প্রথম প্রকাশ: নভেম্বর ২০১৭
▫মুদ্রিত মূল্য: ৳২৫০
▪▪▪
খোবাইব হামদান
১৮/০৪/২০২০
চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম