টুকিটাকি বর্ণনা, শক্তির সঙ্গে ব্যক্তির দ্বন্দ্ব সম্পর্ক, ছোট বড় ঘটনা এবং চরিত্রদের আকীর্ণ ভুবন আবুল হায়াত দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তোলেন। চরিত্র সৃষ্টিতে তাঁর কুশলতা অবাক করার মতো। তাঁর গল্পগুলোও তিনি তুলে আনেন চেনাজানা পরিপার্শ্ব থেকে। আমাদের কালের সমাজ, রাজনীতি ও এসব থেকে সৃষ্ট দ্বন্ধসংঘাত খুব স্বচ্ছ দৃষ্টিতে দেখতে পান আবুল হায়াত, এবং তাঁর গল্পে এসবের ছায়াপাত ঘটে। তাঁর ভাষা স্পন্দিত, চর্চিত। কোনো জটিলতা, আবার অতিষ্টতা নেই সেই ভাষায়। ছোট ছোট কাজে, আধা বাক্যে, দু’তিন শব্দের বর্ণনায় তিনি তাঁর পৃথিবীটা বাঙ্গময় করে তুলতে পারেন। তাঁর গল্প পড়তে পড়তে আমার মনে হয়েছে, ভাষার কুশলতাই যেন তাঁর গল্পবলার দক্ষতাটাকে সত্যিকারভাবে মেলে ধরে। তাঁর ভাষায় গভীরতা আছে, বৈচিত্র আছে। চরিত্রদের মেজাজ চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তোলে তার ভাষা। ‘নির্বাচিত গল্প’র সবগুলোই পাঠককে স্পর্শ করবে। আমিও প্রতিটি গল্পপাঠে আনন্দের পাশাপাশি পেয়েছি তৃপ্তি। একটি গল্প ভালভাবে বলতে পারায় যেমন তৃপ্তি, সেই গল্প পড়ে তার স্পর্শ ও অভিজাতগুলো যথাযথভাবে অনুভব করতেও রয়েছে তৃপ্তি। ‘জলডোবা, ‘দেয়াল’ ‘চ্যালেঞ্জ’ ‘হুইল চেয়ার’ ‘গোধূলির রঙ’ অথবা ‘ফেরা’ অসাধারণ গল্পÑ যেমন তাদের কাহিনী রেখা, তেমন তাদের চরিত্রায়ন তেমনি শক্তিশালী বর্ণনার শক্তি। আমি নিশ্চিত ‘নির্বাচিত গল্প’র পর আবুল হায়াতের পাঠকেরা খুঁজে বেড়াবে একজন গল্পকারকে।