Ahmed Sharif (Bengla: আহমদ শরীফ; 1921 – 1999 CE) was an educationist, philosopher, critic, writer and scholar of medieval Bengali literature. Born in Chittagong, Sharif retired as a Professor from University of Dhaka in 1983. Sharif is widely recognized as one of the most outspoken atheist and radical thinkers of Bangladesh. He was a legendary figure in free thought (self proclaimed) movements of Bangladesh. He was a rational humanist, who left behind a legacy for those fighting fascist ideas, autocratic views, communalism and superstition. Whatever he said or wrote caused a lot of furore in intellectual circles. He had been living a secluded life to avoid the wrath of a section of the public who thought his views to be too dangerous for the establishment. He was a controversial and misunderstood personality among his contemporaries. He was controversial because of his outspoken views against the establishment, intellectuals and political leaders, and above all religious and parochial outlooks. He was always reluctant to be associated with government agencies. Moreover, he was often black-listed from the national media.
সদাযুবা, দ্রোহের পূজারি আর যুক্তির শক্তিতে মুগ্ধ আহমদ শরীফের ডায়েরি পড়লাম। সদ্যই শেষ হলো। এখনো অনুভূতিটা তাজা। তাই তা লিখে রাখাই শ্রেয় ভাবছি। কেননা কথায় আছে, Strike the iron, while it is hot.
দুই শ আট পাতার বই। ধারাবাহিকভাবে দিনলিপি রাখতেন না এই ভূয়োদর্শী প্রবীণ। তাই কাল হিসেবে বেশ কয়েকবছরের খতিয়ান এই বই।
বইটা পড়ার পর অদ্ভুত এক অনুভূতি ঘিরে ধরেছে আমাকে। অনেকগুলো বসন্ত পার করেছি। বাইশ বসন্ত। কম নয়! এই সময়ে নিজের মনের, মননের আর স্মৃতির পূর্ণ সচেতনতায় তৈরি হয়েছে বিশ্বাসের এক দেয়াল। অবচেতনে, প্রতিবেশ আর প্রতিবেশে প্রভাবিত হয়ে সেই দেয়ালের প্রাচীর দিব্যি বেড়ে উঠেছে। আমার দীর্ঘদিন বিশ্বাসের কংক্রিটে বাঁধাই দেয়ালে আঘাত করেছেন আহমদ শরীফ। না, মননে এমন ধাক্কা অনেকই সহ্য করেছি। তা ছিল ছোট্ট, মাঝারি হাতুড়ির আঘাত।
দিনলিপি মানে মোদ্দাকথায় ডায়েরি। নিত্যকার আলু,পটলের হিসেব। সভায় চালিয়াতির চর্বিতচর্বন। আর নিজের পরোক্ষ স্তুতি। পরের মুন্ডুপাত। এই তো। এবার বিভেদ হলো আমার হিসেবে। আহমদ শরীফ একেবারেই অপ্রচলিত ভঙিতে দিনলিপি লিখতেন। নিজের মধ্যে বসবাসকারী আপনাকেই জিজ্ঞাসা করতেন। ভাবতেন। আর ভাবনাপ্রসূন অসম্ভব সুন্দর কথাগুলো লিপিবদ্ধ করতেন ডায়েরিতে। হয়তো একেবারেই সচেতন চিত্তে। ভাবীকালের প্রজন্মের উদ্দেশ্যে। হতেও তো পারে আদৌ চিন্তার এতো মহাসমারোহে নয়, নিছক খেয়ালের বশেই রাখতেন দিনপঞ্জির হিসাব। কে জানে!
বিশ্বাস নয়। যুক্তির পরশ পাথরে যাচাই-বাছাইয়ে আস্থা রাখতেন আহমদ শরীফ। তাই বারবার জ্ঞানের অকৃত্রিম সাধনাকে উৎসাহিত করেছেন - ডায়েরির প্রতিটি পাতা তাই সাক্ষ্য দেয়। এই ডায়েরির একটি খুবই বিশেষ এবং একইসাথে ভয়ংকর দিক রয়েছে। আহমদ শরীফ তাঁর দীর্ঘজীবনে অনেককে দেখেছেন। লক্ষ করেছেন প্রদীপের আলোয় আসা মানুষগুলোকে। খুব কাছ থেকে। বিদ্যা বলে পর্যবেক্ষণ করেছেন গত হওয়া কালের নায়ক,প্রতিনায়কদের। তাই তাঁদের নিয়ে স্পষ্টভাষী এই দ্রোহীর একান্তই নিজের ভাবনা রয়েছে। যাঁদের আমরা জ্ঞানে, গুণে, চিত্তে বড় মনে করি। তাঁদেরকে অত্যন্ত তীর্যকভাবে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ করেছেন। অনেকে পেয়েছে চমৎকার সম্মাননা। সেই সম্মাননা টাকার নয়, মেডেলও নয়।বরং সুন্দর শব্দের গাঁথুনিতে তৈরি হওয়া বাক্য।
প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক, হুমায়ূন আহমেদ, শেখ সাহেব, হুমায়ুন আজাদ, তসলিমা নাসরিন, কবীর চৌধুরী, সৈয়দ আলী আহসান, শওকত ওসমান এবং শামসুর রাহমান প্রমুখদের নিয়ে মন্তব্য রয়েছে আহমদ শরীফের। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বিদ্যাসাগর, রামমোহন আর বঙ্কিম তো আছেনই। আহমদ শরীফ যা লিখেছেন তা ঠিক মন্তব্য নয়। অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানও বলতে পারি একে। স্বীয় কলমের শক্তিতে বারবার জনপ্রিয়দের এই গণমন জয়ের মূলে কুঠারাঘাত করেছেন। সবারক্ষেত্রেই যে শতভাগ যুক্তি, বুদ্ধির সহায়তা নিয়েছেন এমনও মনে হয়নি। কিছু দেশপ্রিয় ব্যক্তির প্রতি ব্যক্তিগত ক্ষোভও দৃষ্টি এড়ায়নি। তবুও মুনীর চৌধুরী এবং তস্যভ্রাতা সম্পর্কে যা লিখেছেন। তাতে মিথের দরজায় টোকাটা ভালোই জোরে পড়ে। আহমদ শরীফ লিখেছেন,
" মুনীর চৌধুরী আয়ুবের আমলে পাক জমহুবিয়ায় বেনামে লিখতেন এবং সিতারা-ই-ইমতিয়াজ উপাধি প্রাপ্ত। মরে শহীদ হলেন৷ কবীর চৌধুরী ভাইয়ের শাহাদতের ফল ভোগ-উপভোগ করলেন। তাঁদের রাজাকারি ঢাকা পড়ল। "
ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনের সাথে সখ্যতা ছিল। ভাষামতিনের নিজের কথা,
"রাজশাহী কলেজে ভর্তি হলাম। টিউটরিয়েলে A+ পেলাম। শিক্ষক প্রীত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন পূর্বতন পরীক্ষার ফল৷ এখন থেকে ঠিক করলাম আর মিথ্যে বলব না (আগে অনেক মিথ্যা বলতেন) । বললাম তৃতীয় বিভাগে। পরের সপ্তাহের টিউটরিয়ালে সে শিক্ষক B+ দিলেন। আমার আত্মসম্মানে ঘা লাগল। আমি তো প্রশ্নের উত্তর গত সপ্তাহের প্রশ্নের উত্তরের মানেই লিখেছি। এবার শিক্ষক B+ দিলেন কেন? শিক্ষক জবাব দিতে পারলেন না, আমিও জেদী, বললাম যে শিক্ষকের সততা নেই, তাঁর কাছে পড়ব না। এ বলে রাজশাহী কলেজের পাট চুকিয়ে দিলাম। " এমনই অনেক কথা আছে পুরো ডায়েরির পাতায় পাতায়। আছে যুক্তির যাদুতে বুদ্ধির মুক্তির সংগ্রামে শামিল হওয়ার প্রেরণা। আছে ঘুণে খাওয়া সমাজের প্রতি জিজীবিষা। আছে শাস্ত্রিয় শাসন নয়। বিজ্ঞানচর্চায় পথ খুঁজে পাবে সবাই - এমন অসম্ভব ইতিবাচক আকাঙক্ষার কথাও।
বইটি পড়ুন। আহমদ শরীফের সাথে অনেকই ভিন্নমত করবেন। কিন্তু যা পাবেন। তা আপনার ভাবনার দুর্গে অনায়াসে হানা দেওয়ার মতোই।
রোজনামচা কতটা বৈচিত্রময় হতে পারে তা এই বইটি না পড়লে বুঝতাম না। জনাব আহমদ শরীফের ভাবনার জগত যে কতটা সুবিশাল এবং বিস্তৃত ছিলো এই বইটি তার প্রমাণ। এই বইটি পড়েই তাঁর লেখার ভক্ত হয়েছি। তাঁর অন্যান্য বইগুলো সংগ্রহের চেষ্টায় আছি। সবাইকে পড়বার আমন্ত্রণ।
বাংলাদেশের মুক্তচিন্তার অনন্য ব্যক্তিত্ব ড আহমদ শরীফ। ভাষাবিদ ও ইতিহাসের বিদগ্ধ এই পণ্ডিত তাঁর অপার সৃষ্টিকর্ম দিয়ে বাংলা সাহিত্যে আসন করে নিয়েছেন কিংবদন্তীরূপে। পঞ্চাশের দশকের প্রথম থেকে নব্বইয়ের দশকের শেষ অবধি পর্যন্ত তিনি বাংলার সমাজ, সংস্কৃতি, সাহিত্য, রাজনীতি, দর্শন ও ইতিহাস নিয়ে লিখে গেছেন বিরামহীন।
‘ভাব-বুদ্বুদ’ গ্রন্থটি আহমদ শরীফের দৈনন্দিন ডায়েরি বা রোজনামচা। একজীবনের রোজনামচা নয়, কিন্তু ১৯৮৪ সান থেকে ১৯৯৯ অর্থাৎ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ১৫ বছরের এই রোজনামচায় তিনি লিখে গেছেন তাঁর জীবনের সার্বিক চিন্তা আর দর্শনের কথা। নিছক ব্যক্তিগত বিষয় থেকে শুরু করে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে আছে অসংখ্য লেখা। সমাজের নানারূপ সঙ্গতি-অসঙ্গতির কথা স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে। আছে নানা সময়ের খণ্ড খণ্ড স্মৃতিচারণ এবং প্রাসঙ্গিক মূল্যায়ন।
‘ভাব-বুদ্বুদ’ গ্রন্থটি মোট চারটি ভাগে বিভক্ত। ১. ভাবদর্শন, ২. অনুভূতি, ৩. ব্যক্তিত্ব, ৪. প্রত্যাশা। ‘ভাবদর্শন’ পর্বে স্থান পেয়েছে লেখকের চিন্তা, ভাব ও অভিজ্ঞতার কথা। যেমন- ‘প্রীতিহীন হৃদয় ও নিলক্ষ্য কর্ম- দু-ই বন্ধ্যা’, ‘গুণ ও ঘ্রাণ গোপন রাখা যায় না’...।
‘অনুভূতি’ পর্বে রয়েছে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ড. আহমদ শরীফের মনের অভিব্যক্তির কথা। যেমন- ‘প্রেম জীবনে একটি নতুন অনুভব, একটি নতুন উপলব্ধি্ একটি নতুন সুখ, একটি নতুন আনন্দরূপে জাগে’...।
‘ব্যক্তিত্ব’ পর্বটি বিন্যস্ত হয়েছে বঙ্গের স্মরণীয় এবং বরণীয় এমন সব ব্যক্তিদের টুকরো মূল্যায়নে, যাদেরকে ড. আহমদ শরীফ পেয়েছিলেন তাঁর জীবনকালে। যেমন- ‘রাজা রামমোহন রায় মগজে ছিলেন অসাধারণ এবং চরিত্রে ছিলেন সব দোষে দুষ্ট’...।
‘ভাব-বুদ্বুদ’ গ্রন্থে একজন ব্যক্তি আহমদ শরীফ ও চিন্তাবিদ আহমদ শরীফ একত্রে গলাগলি ধরে আছেন দুই মলাটের মাঝে। এ গ্রন্থে তিনি অল্প কথায় যে চিন্তার বিন্যাস বুনেছেন, তাঁর আর বিস্তর ব্যখ্যার প্রয়োজন পড়েনি।