Jump to ratings and reviews
Rate this book

আমি চঞ্চল হে

Rate this book

109 pages, Hardcover

Published January 1, 1937

Loading...
Loading...

About the author

Buddhadeva Bose

107 books129 followers
Buddhadeva Bose (also spelt Buddhadeb Bosu) (Bengali: বুদ্ধদেব বসু ) was a major Bengali writer of the 20th century. Frequently referred to as a poet, he was a versatile writer who wrote novels, short stories, plays and essays in addition to poetry. He was an influential critic and editor of his time. He is recognized as one of the five poets who moved to introduce modernity into Bengali poetry. It has been said that since Tagore, perhaps, there has been no greater talent in Bengali literature. His wife Protiva Bose was also a writer.

Buddhadeva Bose received the Sahitya Akademi Award in 1967 for his verse play Tapaswi O Tarangini, received the Rabindra Puraskar in 1974 for Swagato Biday(poetry) and was honoured with a Padma Bhushan in 1970.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
5 (38%)
4 stars
6 (46%)
3 stars
2 (15%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 6 of 6 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,844 reviews562 followers
December 18, 2023
"আমি চঞ্চল হে"র শুরুটাই কি অদ্ভুত সুন্দর! "যেটা ও অনভ্যস্ত বলে কখনো অদ্ভুত কখনো আশ্চর্য,  তার সম্বন্ধে মনের প্রতিক্রিয়া স্বভাবতই প্রবল। বাইরে গেলেই, সেইজন্যে, মনের ও ইন্দ্রিয়ের সচেতনতা অনেকগুণ সূক্ষ্ম হয়ে ওঠে; আমাদের দেখাতে অনেক বেশি দেখা, শোনাতে অনেক বেশি শোনা; আমাদের অনুভূতিতে অনেক বেশি অনুভব।" কেন ঘুরতে যাই আমরা? ঘরে বসে ছুটির দিনে বই পড়া, কফি খাওয়া, আর ইচ্ছেমতো ঘুমানো যেখানে অনেক বেশি লোভনীয় সেখানে এতো কষ্ট করে কেন ভ্রমণ করি আমরা? প্রকৃতি দেখতে? নিজের বোঝার ও জানার পরিধি বাড়ানোর জন্য? ভ্রমণের বর্ণনার পাশাপাশি এসবেরই উত্তর খুঁজেছেন বুদ্ধদেব বসু।

নিজের কথা বলি। বাসে দীর্ঘসময় বসে থাকতে ভালো লাগে না, পথে বাথরুমে যাওয়া নিয়ে বিরাট যন্ত্রণা হয়, কাজের সাথে ঘোরার সময় মেলে না, ভ্রমণে প্রচুর খরচ হয়ে যায় স্বভাবতই, আর প্রকৃতি আমার প্রতি চিরকাল বিরূপ। তারপরও ঘুরতে যেতে ইচ্ছে হয়। নিজের পরিচিত, চিরঅভ্যস্ত গৃহকোণ থেকে দুই পা ফেলে নতুন জায়গা, নতুন মানুষ, নতুন পরিবেশে যেতে ইচ্ছে করে। কেন? "আমি চঞ্চল হে" তে এর উত্তর দিয়েছেন বুদ্ধদেব। অভূতপূর্ব সুন্দর কোনো পাহাড়, নদী, প্রান্তর, বন, ঝর্ণা দেখে আমরা অভিভূত হই, আপ্লুত হই কিন্তু সেটাই শেষকথা নয়। ভ্রমণপথে হঠাৎ খুব ছোট কোনো লগ্ন আমাদের মধ্যে তীব্র আবেগের সঞ্চার করে। সে লগ্নটা হয়তো কিছুই নয়, বুদ্ধদেবের ভাষায় "হয়তো শুধু বৃষ্টির পর রোদ উঠেছে, কি একটা রেলগাড়ি ছুটে গেছে ঊর্ধ্বশ্বাসে হা-হা করে - হঠাৎ মনে হলো এই তো, এই তো দেখলুম, মনে হলো বিশ্বের রহস্য উন্মোচিত হলো বুঝি। এই মুহূর্তগুলিই আমাদের জীবনের চিহ্ন, এদের দিকে না তাকালে বুঝতে পারিনে যে বেঁচেছি।" 


মনে পড়লো বৃষ্টিবিঘ্নিত রাতারগুল ভ্রমণের কথা। সিলেট যেতে না যেতেই ভয়াবহ বৃষ্টি সেদিন। থামেই না। সুলতান আর জিহাদের সাথে গেছি রাতারগুল। পুরো বৈরি পরিবেশ। এরই মধ্যে নৌকায় চড়ে রাতারগুল ঘুরছি প্রথমবারের মতো। ভালো লেগেছে। এর বেশি কিছু না। ঝটপট ছবি তোলা হলো। নৌকা তীরের দিকে ভিড়তে শুরু করলো। আমি একদম সামনে বসা। পেছনে সুলতান আর জিহাদের কথা শোনা যাচ্ছে। মাথায় ছাতা, নৌকার দুলুনি, চারদিকে বৃষ্টিপাতের অবিশ্রান্ত শব্দ, চোখের সামনে শুধু জল - আমার কেমন ঘোর লেগে গেলো যেন! সারারাত বাস ভ্রমণের ক্লান্তি, অনিদ্রা নিমিষে দূর হয়ে গেলো। মনে হলো - "কী অপরূপ এই বেঁচে থাকা!" সেই ক্ষুদ্র মুহূর্তটি আমার জীবনে  অক্ষয় হয়ে রইলো।

  

গতবছর শীতে কৃষ্ণ'র সাথে গিয়েছিলাম গাজীপুর। সারাদিন ঘুরেছি। নয়নাভিরাম সব জায়গা দেখে খুশি হয়েছি। অথচ এসব জায়গার কিছুই চোখ বন্ধ করলে স্মৃতিতে ভাসে না। আমার শুধু মনে পড়ে - রাতে বাসায় ফেরার সময় নির্জন ধানক্ষেত, তার মাঝের সরুপথ, কুয়াশা, তার মাঝে  "আমরা হেঁটেছি যারা নির্জন খড়ের মাঠে" আবৃত্তি করার রোমাঞ্চিত অনুভব।


এবারের রাঙামাটি ভ্রমণে যেয়ে কাপ্তাই লেক, ঝুলন্ত সেতু, ফুরোমোন পাহাড় ঘুরে ভীষণ ভালো লেগেছে। অথচ সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ক্ষণ এলো অপ্রত্যাশিতভাবে, রাজবনবিহারে যেয়ে। চাকমা রাজার বাসা দেখতে গিয়েছি, ঘোরাঘুরি শেষ, সজীব আর আমি ঢালু রাস্তা বেয়ে খেয়াঘাটের দিকে যাচ্ছি, চুপচাপ চারিদিক, দুই একটা পাখির কলকাকলি, মাথার উপর গাছ, শান্ত প্রকৃতি, গাছের ফাঁক বেয়ে আসা পড়ন্ত সূর্যের আলো - কত সাধারণ অথচ যেন অলৌকিক, যেন ক্লান্তিহরা, যেন তুরীয় আনন্দময় এক পল। যখন মনে হয় আরেকটু বেঁচে থাকি, আরেকটু! ঠিক এই মুহূর্তগুলো, যা জীবনকে নতুনভাবে ভালোবাসতে শেখায়, তার লোভেই সব বিপত্তি ঠেলে ঘুরতে যাই সম্ভবত।
Profile Image for Kripasindhu  Joy.
687 reviews6 followers
December 4, 2024
ভ্রমণকাহিনীও যে এভাবে, এত সুন্দর করে লেখা যায়, এই বই না পড়লে জানাই হতো না।
Profile Image for ASHIK.
271 reviews70 followers
December 1, 2025
"বিক্ষিপ্ত সময়ে নিজেকে শান্ত করার জন্য বুদ্ধদেবের শরণাপন্ন হওয়া যেতে পারে" ভেবে শুরু করার পর দেখলাম তিনি শান্ত করতে পারলেন কোই! মনটাকে চঞ্চল করে দিলেন আরো!
Profile Image for Shotabdi.
856 reviews239 followers
November 19, 2020
তাঁর সাহিত্যিক জীবনের শুরুর দিকের রচনা এটি। নামের মতোই চঞ্চল। কোন একটা স্থির বিষয়ের উপর লেখা নয়। এসেছে লেখকের নিজস্ব ভাবনা, সাথে টুকরো টুকরো ভ্রমণকথা। পুরী, ভুবনেশ্বর, চিল্কা, কোনারকে ভ্রমণের কিছু কিছু গল্প আর সমুদ্র দেখে আবেশিত হয়ে কিছু চমৎকার কবিতা।
প্রথমদিকের লেখা হলেও ভীষণ আধুনিক। কিছু কিছু ভাবনা ভাবায়।
বুদ্ধদেবের লেখা দারুণ সাবলীল সেই শুরু থেকেই, একই সাথে প্রকৃতি এবং মানবমনের রহস্যময়তার তাৎপর্যপূর্ণ বিবরণে গ্রন্থটি যেন প্রাণ পেয়েছে।
বেশ লাগলো এই ছোট্ট বইটা।
Profile Image for Shojib Saha.
23 reviews6 followers
August 12, 2026
জানার মাঝে আজানারে
করেছি সন্ধান.....
বিস্ময়ে! তাই জাগে!
জাগে আমার গান!
আকাশ ভরা!

বুদ্ধদেব বসুর লেখা 'আমি চঞ্চল হে' একটি ভ্রমণকাহিনী। এই ভ্রমণকাহিনী স্বতন্ত্র হয়ে থাকবে আমার কাছে অন্যান্য ভ্রমণকাহিনী থেকে। এ ভ্রমণকাহিনীতে শুধু তার নিজস্ব বাহ্যিক ভ্রমণ অভিজ্ঞতাই শুধু নয়। ঠাঁই পেয়েছে তার ভেতরের মূল সত্ত্বার ভ্রমণও। অভিজ্ঞতার প্রাচুর্যতা থাকাটাই যথেষ্ট নয় সেই সাথে অভিজ্ঞতার সাথে নিবিড়তা কতোটুকু সেটাও খতিয়ে দেখার মতো বিষয় বইকি! ভ্রমণকে তিনি কেবল শারীরিক ভ্রমণের মতো দৃশ্যাপটের বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেন নি। ভ্রমণ একটি সৃষ্টিশীল, শিল্পমনা মানুষের মনে কীরকম প্রভাব বিস্তার করতে পারে তার প্রগাঢ় চিত্রায়ণ এই ভ্রমণকাহিনী।

বুদ্ধদেব বসুর কাছে বার বার আমার ফিরে আসতে হবে। শুধুমাত্র তার ভ্রমণজনিত অভিজ্ঞতার দরুন না। শিল্পমনা সত্ত্বার অন্তর্মূখীতা, আত্মিক যাত্রা, তার কল্পনাপ্রবণতার বিস্তারের মধ্যে আমি যেন নিজেকে খুঁজে পেলাম অনেক ক্ষেত্রেই! আমার বিমূর্ত অনুভূতি উপলব্ধিগুলোকে এরকম স্পষ্ট, প্রখর, প্রবলভাবে শব্দবন্ধে মূর্ত হয়ে চোখের সামনে দেখতে পাওয়ার আনন্দ আমি বার বার পেতে চাই..... আমার যতোটুকু মনে আছে হুমায়ুন আজাদ তার কোনো এক বইয়ে বুদ্ধদেব বসু সম্পর্কে লিখেছিলেন "শার্ল বোদলেয়ারের মতো কবির এতো প্রাণবন্ত প্রাঞ্জল অনুবাদ তিনি করেছেন কিন্তু শার্ল বোদলেয়ারের মতো মোটেও বুদ্ধদেব বসুর বাস্তবিক জীবনযাপন এতো লাগামহীন আর উচ্ছৃঙ্খল ছিলো না। বুদ্ধদেব বসু বাস্তব জীবনে নাহলেও মর্মে ও মানসিকতায় ওইরকম উদ্দাম লাগামহীন ছিলেন নাহয় ওইরকম কবির কবিতা অমনভাবে অনুবাদ করা সম্ভবপর হতো না তার পক্ষে।" হুমায়ুন আজাদের এই উপলব্ধি ভুল ছিলো না। ভ্রমণ কেবল বাস্তব জগতেই কী সীমাবদ্ধ? বাস্তব ও কল্পনার জগতের এই ভ্রমণ অভিজ্ঞতার মিথস্ক্রিয়া আমি বেশ উপভোগ করেছি।
Profile Image for Tasfia Promy .
179 reviews33 followers
January 22, 2026
এভাবেও ভ্রমণ কাহিনী লেখা সম্ভব? এই বই না পড়লে বুঝতামই না।
Displaying 1 - 6 of 6 reviews