মনোজ সেন দীর্ঘ ছেচল্লিশ বছর ধরে লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও লিখেছেন একশোর কম গল্প ও উপন্যাস।
কিন্তু লেখনীর গুণে তাঁর সৃষ্টি বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
সুপরিচিত বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, যেমন 'রোমাঞ্চ', 'নবকল্লোল', 'শুকতারা', 'সাপ্তাহিক বর্তমান'- এর পাশাপাশি তাঁর লেখা স্থান পেয়েছে 'সানডে সাসপেন্স'-এর মতো জনপ্রিয় বেতারনাট্যেও। তাঁর লেখা 'শিকার', 'কালরাত্রি' প্রভৃতি রেডিও নাটক সানডে সাসপেন্সের অন্যতম হিট!
মনোজ সেনের নির্বাচিত একুশটি বড়দের উপযোগী অপার্থিব কাহিনী সংকলন নিয়ে প্রকাশিত হতে চলেছে 'এবং কালরাত্রি', পাতায় পাতায় জমজমাট ছবি এঁকেছেন প্রখ্যাত শিল্পী শুভ্র চক্রবর্তী।
মনোজ সেন-এর জন্ম ১৯৪০, বেলেঘাটায়। পড়াশোনা শুরু স্কটিশ চার্চ কলেজিয়েট স্কুলে। সেখান থেকে স্কুল ফাইনাল পাশ করে প্রেসিডেন্সি কলেজে ইন্টারমিডিয়েট সায়েন্স। অতঃপর বি ই কলেজ থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে বিই পাশ করে চাকরি জীবনের শুরু। প্রথম কাজ ভারী নির্মাণ সংস্থা হেড রাইটসনে, শেষ কাজ টার্নকী ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ায় ডিরেক্টর পদে। ১৯৯৭ থেকে অবসর জীবন, মাঝে মাঝে ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটেন্সি।
১৯৭২ সালে প্রথম সাহিত্য পত্রিকা 'রোমাঞ্চ'-তে গল্প প্রকাশিত হয়। এরপর টানা কুড়ি বছর (১৯৭২-১৯৯২) 'রোমাঞ্চ' পত্রিকায় রহস্য, অলৌকিক, বিজ্ঞানভিত্তিক, রূপকথা ইত্যাদি মিলিয়ে প্রায় হাজার দেড়েক পাতা ছোটো ও বড়োদের উপযোগী কাহিনি লিখেছেন। ১৯৯২ সালে 'রোমাঞ্চ' পত্রিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দশ বছর লেখা বন্ধ ছিল। অনিশ দেব আবার লেখা শুরু করান ২০০১ সালে। 'রোমাঞ্চ' ছাড়া লিখেছেন 'সাপ্তাহিক বর্তমান', 'পরমা' ইত্যাদি পত্রিকায়। মহিলা গোয়েন্দা চরিত্র দময়ন্তী দত্ত গুপ্ত ও খুদে গোয়েন্দা সাগর রায় চৌধুরী-কে নিয়ে লিখেছেন অনেক কাহিনি।
সাহিত্যের অনুপ্রেরণা আগাথা ক্রিস্টি, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ও শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। ঘোর নাস্তিক হলেও ইতিহাসের সন্ধানে পড়তে ভালোবাসেন ধর্ম সংক্রান্ত বই। এককালে ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবলের মতো সব খেলাতেই ছিলেন পারদর্শী রসিক এই মানুষটি ভালোবাসেন ক্লাসিক গান, ভ্রমণ ও আড্ডা। তাঁর উল্লেখযোগ্য অধুনা-প্রকাশিত কিছু বই হল 'এবং কালরাত্রি', 'কালসন্ধ্যা', 'রহস্যসন্ধানী দময়ন্তী সিরিজ' প্রভৃতি।
বিজ্ঞাপন প্রকাশের মুহূর্তেই বিপুল প্রত্যাশা, এবং প্রকাশের পর থেকে হতাশা তথা রীতিমতো আক্রমণাত্মক মন্তব্যের ঝড়, এই নিয়ে পথ চলা শুরু করেছে 'এবং কালরাত্রি'। কিন্তু কেন? মনোজ সেন আমার অতি প্রিয় সাহিত্যিক। তাঁর লেখা 'কালরাত্রি' ও 'শিকার' আমার পড়া সবচেয়ে রসসিদ্ধ ভয়ের গল্পের মধ্যে আছে। তাই যে মুহূর্তে জানলাম যে প্রাপ্তমনস্ক পাঠকের জন্য লেখা তাঁর প্রায় সব অলৌকিক রসের সংকলন বুকফার্ম থেকে আসতে চলেছে এই বইটির মাধ্যমে, এটা কেনা নিশ্চিতই ছিল। কপালক্রমে বইটা পড়ার সময় বের করতে বিস্তর সময় লেগে গেল। যাইহোক, বইটা অবশেষে পড়া হল। কেমন লাগল? আগে সেই কথাগুলো লিখি যা বুকফার্মের প্রায় যেকোনো বই সম্বন্ধে প্রযোজ্য। অর্থাৎ বইটা মুদ্রণসৌকর্যে, অলঙ্করণে, আকারে ও বিন্যাসে স্রেফ অসামান্য। অতি সামান্য কিছু মুদ্রণপ্রমাদ নজরে পড়েছে বটে, তবে শুভ্র চক্রবর্তীর অলঙ্করণ ও প্রচ্ছদে, এবং শক্তপোক্ত হার্ডকভারে গ্লসি চেহারায় এই বই হাতে নিলে কোনো বিদেশি প্রকাশনার বইয়ের কথাই মনে হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু... লেখকের একটি অন্তরঙ্গ ও নাতিদীর্ঘ ভূমিকার পরেই আমরা এসে গেছি গল্পের অংশে। গল্পগুলোর প্রথম প্রকাশ সংক্রান্ত তথ্যাদি দিলে ভালো লাগত। যাইহোক। যে-সব গল্প এর পর একে-একে এসেছে তারা হল: ১. ছুটি কাটাল অনুপম ২. নীলাঞ্জনছায়া ৩. বিদেশে দৈবের বশে ৪. ভূত বলে কিছু নেই ৫. অখিলবাবুর মৃত্যুরহস্য ৬. বাসুদেবের নতুন বাসা ৭. মায়াকানন ৮. প্রভাময়ীর প্রত্যুপকার ৯. শিকার ১০. সংহারক সারমেয় ১১. স্বভাব ১২. নিমন্ত্রণ ১৩. গঙ্গাধরের সাংবাদিকতা ১৪. মেঘমালা ১৫. পোকা ১৬. পিন্টুচরণ ও নগেন্দ্রবালা ১৭. ভূত ভবিষ্যৎ ১৮. আতঙ্কের অবসান ১৯. ইন্দ্রিয়ের ওপারে ২০. কালরাত্রি ২১. অঙ্ক পরীক্ষা এই বইয়ের সবচেয়ে বড়ো সর্বনাশ করেছেন 'কালরাত্রি' ও 'শিকার'-এর রচয়িতা মনোজ সেন। মূলত 'সানডে সাসপেন্স' ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে এই গল্পগুলির রূপান্তর শুনে বর্তমান প্রজন্মের অধিকাংশ পাঠকের ধারণা হয়েছে, মনোজ সেনের লেখা মানেই মারাত্মক ভয়ের, পরিণত মনের লেখা। অথচ বাস্তব এটাই যে মনোজ সেন অনেকটাই শরদিন্দুর মতো সরস ভঙ্গিতে বৈঠকি গল্প বলায় বিশ্বাস করেন। ফলে "চিত্তপ্রসাদ" সিরিজ, 'শিকার', 'সংহারক সারমেয়' এবং 'নিমন্ত্রণ' ছাড়া অন্য গল্পগুলোয় ভয়ের বদলে প্রেম, প্রীতি, মাধুর্য, এবং দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের ফর্মুলাই এসেছে শুধু। লেখাগুলো সুখপাঠ্য হলেও প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মাঝে একটা বিশাল ফাঁক থাকায় এই বইয়ের উদ্দেশে ধেয়ে এসেছে ইঁট, পাটকেল, এবং "এই বইয়ে একমাত্র দাম ছাড়া আর কিছুই ভয়ের নয়" জাতীয় মন্তব্য। কিন্তু পাঠক কি তাহলে ভুল করেছেন? আজ্ঞে না। বরং এই বইয়ের সম্পাদনা ও গল্প-বাছাই করতে গিয়েই কয়েকটা ভুল হয়ে গেছে। যদি 'মেঘমালা'-র মতো স্ফীত ও পয়েন্টলেস কাহিনি, 'পোকা'-র মতো ভুলভাল ফ্যান্টাসি, 'প্রভাবতীর প্রত্যুপকার'-এর মতো আশির দশকীয় বাংলা সিনেমা টাইপের রিভেঞ্জ ড্রামা, 'বিদেশে দৈবের বশে', 'ভূত বলে কিছু নেই', 'বাসুদেবের নতুন বাসা' টাইপের শিশুপাঠ্য গল্প, এবং 'অঙ্ক পরীক্ষা'-র মতো রসিকতা বাদ দেওয়া হত, সর্বশক্তিমান পাঠক এই বইয়ে "মনোজ সেনের লেখা" আরও বেশি পেতেন। মেনে নিচ্ছি যে প্রকাশকেরা এই গল্পগুলোকে পুনরুদ্ধার করে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। তা নিঃসন্দেহে প্রয়োজনীয় ছিল। কিন্তু বইয়ের নামটি জানা মাত্র পাঠক চক্ষুক্ষীর নামিয়ে বইটি কিনতে ছুটবেন এবং গল্পগুলো পড়তে গিয়ে তাঁদের চক্ষুস্থির হবে, এও প্রায় অনিবার্যই ছিল। বটমলাইন~ যদি আপনার কাছে ইতিপূর্বে প্রকাশিত 'কালরাত্রি' সংকলনটি থেকে থাকে, তাহলে মনোজ সেনের সেরা লেখাগুলো আপনার কাছে ইতিমধ্যেই আছে। যদি ওটি না থেকে থাকে, তাহলে এই বইটি সংগ্রহ করুন। অন্তত খান সাতেক অবিস্মরণীয় গল্প তো পাবেনই, সঙ্গে অলংকরণ ও অন্য বিচারে একটি দুর্দান্ত বই সংগ্রহে আসবে। শুধু একটি অনুরোধ। দয়া করে 'দারুণ ভয়ের, রাতে বাথরুমে যাওয়া যায় না এমন ভয়ের' গল্প পড়তে চাইবেন না। সেই জিনিস এই বইয়ে মাত্র খান দুয়েক আছে। ওইরকম ভয়ের জিনিস পড়তে চাইলে কখনও অগস্ট মাসে, যখন আমার অফিসের অডিট হয়, তখন আসুন। ওদের খানকয়েক মেমো হাতে পেলেই বুঝবেন, কাকে বলে 'ভয়ের গল্প'। 'এবং কালরাত্রি' সেই বিচারে নিতান্ত নিরীহ বই।
এই বইটি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আকারে কিছুই বলা সম্ভব নয়। বইটির কাছ থেকে একটু বেশিই আশা ছিল আসলে। বইটি একেবারেই ফেলনা এমন না। কিছু গল্প আছে যাতে বেশ আনন্দিত হয়েছি। তবে কিছু গল্প এত বিরক্ত করেছে যে পড়তে পড়তে বই ছুড়ে ফেলতে মন গেছে। তাই কোন গল্পটি কেমন লেগেছে আলাদা আলাদা করে বলা যুক্তিযুক্ত মনে করলাম।
১.ছুটি কাটাল অনুপম - বেশ ভালো গল্প ২. নীলাঞ্জনছায়া - খাস কিছু না। ৩. বিদেশে দৈবের বশে - ভালো। 😏 ৪. ভূত বলে কিছু নেই - ভালো, খারাপ না। ৫. অখিলবাবুর মৃত্যু রহস্য - পুরনো ধাঁচের ভূতের গল্প ৬. বাসুদেবের নতুন বাসা - হাসির গল্প। ভূতের ভয় নেই। ৭. মায়াকানন - পুরনো ধাঁচের ভূতের গল্প ৮. প্রভাময়ীর প্রত্যুপকার - বস্তাপচা ধরনের ঐতিহাসিক ভূত ৯. শিকার - বেশ ভালো গল্প। ১০. সংহারক সারমেয় - ভালো লেগেছে। ১১. স্বভাব - বেকার। একদমই হতাশাজনক। ১২. নিমন্ত্রণ - ভালো লাগেনি। ১৩. গঙ্গাধরের সাংবাদিকতা - এটা কি? এটা কেন? ১৪. মেঘমালা - অতিরিক্ত লম্বা, ভালো; কিন্তু তার ৪০-৫০ পাতা দেওয়া যায়না। ১৫. পোকা - খুবই হতাশাজনক। শিশুপাঠ্য বলা যায়। ১৬. পিন্টু চরণ ও নগেন্দ্রবালা - শিশুপাঠ্য কল্পবিজ্ঞান। ১৭. ভূত ভবিষ্যৎ - মোটামুটি ভালো। ১৮. আতঙ্কের অবসান - শেষ দুপাতায় অসাধারণ বাকিটা... ১৯. ইন্দ্রিয়ের ওপারে - দারুন। ২০. কালরাত্রি - অসাধারণ। ২১. অঙ্ক পরীক্ষা - নিখাদ ইয়ার্কি।
সাধারণত্ব ও জঘন্যতা একযোগে বিমোহিত করে। কিছু কিছু আখ্যান কদর্য লেভেলের সাধারণ। আসলে এই একবিংশ শতকে সুদৃশ্য ডানহিল মেন্থলের প্যাকেটে গুলিরামের বিড়ি প্যাক করে প্রথম লটের জনগণকে উবুসঙ্গম করে বেকুব বানানো যায়। আস্তে আস্তে লোকে জানতে পারেন। আমি বেকুব বনেছিলুম। আর কেউ যেন না বনেন , নবীর কসম।
নব্বইয়ের দশকে ভারতীয় ক্রিকেট দল একটা বিচিত্র অবস্থার মধ্যে দিয়ে যেত অনেক ম্যাচে। সচিন তেণ্ডুলকর অসামান্য ভালো ব্যাট করতেন। দলের বাকিরা পাল্লা দিয়ে অসামান্য খারাপ ব্যাট করতেন। তারপর ভারত ম্যাচটা হেরে যেত। এই সঙ্কলনে কালরাত্রি গল্��টি, সচিন তেণ্ডুলকর।
আড়াই দেওয়ার মত। দুই বা তিন দেওয়া যায়। তাহলে তিনই কেন? ওই যে, হেরে ঢোল হয়ে যাবে জেনেও সচিন এবং দশজনের দলটাকে লোকে যে জন্য গলা ফাটিয়ে সমর্থন করত।
রেডিও মিরচিতে আমি ‘কালরাত্রি’ গল্পটা শুনে নড়েচড়ে বসি। বেশ ভালোলেগেছিল বলেই বইয়ের বাকিগল্পগুলোও আমাকে পড়তে হলো। বইয়ের পাতা উল্টালে দেখা যাবে সেখানে লেখা রয়েছে ‘বড়োদের উপযোগী অপার্থিব কাহিনি সংকলন’। গল্পগুলোও ঠিক তেমন। ভয় গুলো ঠিক কেমন কেমন যেন!
আবার সব গল্প ভালো লাগেনি। তবে পরিশ্রমী লেখক। কাহিনি বিশ্বাসযোগ্য করতে পারেন ভালোই। শীতের দিনে কম্বল মুড়ি দিয়ে ভয়ের বই পড়তে চাইলে বইখানা পড়তে পারেন। ভালোলাগবে আশাকরি..
‛সানডে সাসপেন্স’ শুনে আমার ‛মনোজ সেন’এর লেখার সাথে প্রথম পরিচয় । ওনার লেখা ‛কালরাত্রি’, ‛শিকার’, ‛ইন্দ্রিয়ের ওপারে’ গল্পগুলি আমার সবচেয়ে প্রিয় ভূতের গল্পের তালিকায় খুবই প্রথমের দিকে থাকবে । কিন্তু তবুও আমি সবাইকে বলবো নেহাত টাকা নষ্ট করে সো-কেস সাজানোর জন্য যদি বইটি কিনতে চান তাহলে কিনতে পারেন, নতুবা বইটি না কেনাই ভালো ।
কেন বললাম??
প্রথমেই বলি বইটির সম্পর্কে । ‛মনোজ সেন’এর লেখা ২১টি ছোট-বড়ো গল্পের সংকলন এই বই । মুদ্রণ, অলংকরণ, আকার - এই সবদিক থেকে বইটি বেশ চোখে লাগার মতো । শুভ্র চক্রবর্তীর করা প্রচ্ছদ এবং প্রচুর ইলাস্ট্রেশনস্, সবকিছুই অনবদ্য । কিন্তু, গল্পগুলি....
এই বইয়ের বেস্ট চারটি গল্প ইতিমধ্যেই ‛সানডে সাসপেন্সে’ প্রচারিত হয়ে গেছে । বাকি গল্পগুলির মধ্যে ‛চিত্তপ্রসাদ’ সিরিজের গল্পগুলি বেশ আকর্ষণীয় । এছাড়া ‛বিদেশে দৈবের বশে’, ‛নিমন্ত্রণ’, ‛সংহারক সারমেয়’, ‛মেঘমালা’ এগুলো পড়তে ভালোই লাগে । বইটির সম্পাদক যদি এই ১০-১২ টি গল্প নিয়ে বইটি করতেন তাহলে এটি একটি সংগ্রহযোগ্য সংকলন হয়ে উঠত । কিন্তু নেহাতই বইটিকে স্ফীত করে তোলার লোভে গুঁজে দেওয়া হলো বেশ কিছু ফাজলামি (গল্প বলা যায় না) । বাসুদেবের নতুন বাসা, স্বভাব, প্রভাময়ীর প্রত্যুপকার, গঙ্গাধরের সাংবাদিকতা, পোকা, পিন্টুচরণ ও নগেন্দ্রবালা, অঙ্ক পরীক্ষা - এইগুলি কিভাবে এই সংকলনে যুক্ত হওয়ার যোগ্য বলে মনে হলো তা আমার বুদ্ধির বাইরে ।
ইতিমধ্যেই যারা ‛কালরাত্রি’ গল্পটি শুনে বড়ো আশা নিয়ে বইটি কিনে ফেলেছেন, তারা বড়োই আশাহত হবেন । তাই, যদি আপনি ইতিমধ্যেই সানডে সাসপেন্সে ‛মনোজ সেন’এর গল্পগুলি শুনে থাকেন, তাহলে ₹400/- টাকা খরচ বইটি কিনবেন কি না...ভেবে দেখুন ।
সানডে সাসপেন্সে 'ইন্দ্রিয়ের ওপারে' ও 'কালরাত্রি' শুনেছিলাম। এতটা ভালো লেগেছিল যে মনোজ সেনের আরো কিছু লেখা পড়ার আগ্রহ জাগে। তবে মনোজ সেনের বই বাংলাদেশে সহজলভ্য না হওয়ায় পড়া হয়ে উঠেনি। 'এবং কালরাত্রি' মোট ২১ টি অলৌকিক গল্পের সংকলন হলেও এখানে রয়েছে সায়েন্স ফিকশন এবং রম্য গল্প।
'ছুটি কাটাল অনুপম' গল্পটাতে মৃত্যুর পরেও অতিরিক্ত ভালোবাসার প্রভাব থেকে যাওয়ার ব্যাপারটি দেখা যায়। 'মায়াকানন' গল্পটি অলৌকিক রোমান্টিকতার। বৃদ্ধ বয়সেও নিজেদের আলাদা মায়ার জগৎ তৈরি করে ভালোবাসা জিইয়ে রাখা যায় এই গল্পেই তার প্রমাণ দেখা যায়। 'মেঘমালা' গল্পটা রোমান্টিক সাইকোলজিক্যাল ধরনের। স্রগ্ধরা ও দেবপ্রিয়ের প্রেমের গল্প। একইসাথে মেঘমালা নামে কাল্পনিক অথচ বাস্তব চরিত্রের সাথে দেবপ্রিয়ের আলাপচারিতা। 'পিন্টুচরণ ও নগেন্দ্রবালা' শিশুতোষ সাই-ফাই গল্প। তবে গল্পের এন্ডিংটা সুন্দর।
অবসরপ্রাপ্ত উকিল চিত্তপ্রসাদ রায়। একসময় রাজনীতির সাথেও যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন জেলায় ঘোরার সুবাদে অলৌকিক অভিজ্ঞতাও হয়েছে অনেক। পাড়ার ক্লাবে বসে গল্প কথক ও অন্য সদস্যদের অনুরোধে তাঁর সেই অদ্ভুত অভিজ্ঞতার গল্পগুলো শোনান। চিত্তপ্রসাদ রায়কে নিয়ে মোট চারটা গল্প আছে। সবগুলো গল্পই দারুণ। বিশেষ করে 'ইন্দ্রিয়ের ওপারে' ও 'কালরাত্রি'।
কিছু গল্প ভালো লাগলেও অধিকাংশ গল্পগুলো অলৌকিকতার কোটা পূরণও করতে পারেনি। কিছু গল্প পড়ে মনে হয়েছে, মজার ছলে গল্প লিখলে হয়তো এমন লেখা পাওয়া যায়। একই লেখকের কলমে সম্পূর্ণ বিপরীত দুই মেরুর গল্প কীভাবে বের হলো বুঝতে পারিনি! গুটিকয়েক ভালো গল্পের স্বাদ নিতে বইটি পড়তে পারেন। হ্যাপি রিডিং।
এই বইটি ৪★ দেওয়ার একটাই কারন তা হলো আমার শিশুমনের আনন্দ আর ছোটবেলার গল্পগুলো মনে পড়ে যাওয়া। বড়দের জন্য লেখা হলেও এই বইটি ঠিক বড়রা কতটুকু উপভোগ করতে পারবে তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। প্রথম দুটি গল্পই হয়তো ভালো লাগবে। বাকিগুলো একদম শিশু কিশোরদের গল্প মতনই মনে হবে। কিন্তু আপনার গল্পগুলি ভালোই লাগবে যদি এখনো সেই ছোটবেলার মামা নানীর মুখে শোনা ভূতের কিংবা রূপকথার গল্প ভালো লেগে থাকে।
এরপরও বইয়ে কিছু গল্প এমনও ছিল যেগুলো না দিলেই একটু বেশি ভালো হতো। বইটার মান আরো ভালো থাকত।
After listening to some of his stories in Sunday suspense, got hold of this book and finished it. Motivated by works of Shirshendu Mukherjee and Sharadindu Banerjee, this bengali writer has a style of his very own. A must recommended for readers who want a touch of thrill and horror stories with a bit different taste.