মূল : মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ আলেম
ভাষান্তর : ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহি ও ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
প্রকাশনী : সবুজপত্র পাবলিকেশনস
মূদ্রিত মূল্য : ৩০০ টাকা মাত্র ।
দুনিয়া ও আখিরাতের সকল কল্যাণ নিহিত রয়েছে বিশুদ্ধ ঈমানের উপর আর এটাই সবচে’ মহান ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য এবং মর্যাদাপূর্ণ লক্ষ্য , যা অর্জন না করলে সকল আমল বৃথা । তবে, দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ আলেম-ওলামা থেকে শুরু করে জাহেল পর্যন্ত সর্বত্রই ছোট-খাট ইজতেহাদি মাসআলা নিয়ে মতানৈক্যে বেহুদা বিবক্ত হয়ে ইসলামের মূল বিষয়বস্তু ও সবচে’ গুরুত্বপূর্ন বিষয়টি অবহেলার চূড়ান্ত শেখড়ে রেখেছে, যার জন্য আকীদা বিষয়ক অজ্ঞতায় দায়ী । তাই, সময়ের দাবি-ই ছিল এই বিষয়ে একটি বিশুদ্ধ কিতাব রচনা আর সেই দাবি পূরণের আহবানকে সামনে রেখেই মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন স্কলারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি মৌলিক গবেষণাকর্ম ও মহান কিতাব এই “উসূলুল ঈমান” । যার অনুবাদ করেছেন এই দেশের মহান দুই আলেম ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী, যিনি মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উসূলুল ফিক্হের ওপর পিএইচডি করেন ও বর্তমানে গাজীপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী স্ট্যাডিস এর সহযোগী অধ্যাপক এবং ড. আবু বকর মুহাম্মদ যাকারিয়া, যিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আকীদাহ-এর উপর পিএইচডি করেন ও বর্তমানে কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ্ বিভাগের সহযোগী আধ্যাপক ।
পাঠপর্যালোচনা :
যেসব মৌলিক বিষয়ে ঈমান রাখা অপরিহার্য সেসবের স্বচ্ছ জ্ঞান ও তাৎপর্য সম্পর্কে গাফেল হলে স্বভাবতই ঈমান হারানোর আশঙ্কা থাকে । আল্লাহ্কে ‘রিয্কদাতা’ হিসাবে সত্যিকার অর্থে স্বীকার করলে তার পক্ষে খাওয়া-পরা নিয়ে প্রচেষ্টার অতিরিক্ত ‘পেরেশান’ হওয়ার অবকাশ নেই । সত্যিকারে ‘আখিরাতে’ বিশ্বাসী কখনও দুনিয়াকে আঁকড়ে ধরার মত ন্যাক্কারজনক কাজ করতে পারে না । বিশ্বাস ও কর্মের অমিল হওয়ার মূল কারণ হল, ‘ঈমান’ সম্পর্কে অজ্ঞতা, অস্পষ্টতা বা এর তাৎপর্য উপলব্ধিতে ব্যর্থতা । ঈমানের গুরুত্ব ও মর্যাদা এবং দুনিয়া ও আখিরাতে মুমিন ব্যক্তির উপর এর বহুবিধ উপকারিতা ও সুফল কী তা গোপন নয় । তাই এই বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া এবং বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন স্কলারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি মৌলিক গবেষণাকর্ম ও মহান কিতাব এই “উসূলুল ঈমান” ।
ঈমান হলো “আল্লাহ্র প্রতি, তাঁর ফেরেশ্তাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, শেষ দিবসের প্রতি আর তাকদীরের ভাল-মন্দের প্রতি ঈমান আনায়ন করা” (সহীহ মুসলিম) । ঈমান এই মহান ছয়টি মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত, যা আমরা ‘হাদীসে জিবরীল’ এর মাধ্যমে জানতে পায় । এগুলো পরস্পর ওৎপ্রোতভাবে জড়িত, একটি অপরটির অপরিহার্য । সুতরাং, এগুলোর কোন একটির প্রতি ঈমান আনয়ন বাকীগুলোর উপর ঈমান আনয়নকে অপরিহার্য করে তোলে । তেমনিভাবে, এর কোন একটিকে অস্বীকার বাকীগুলোকে অস্বীকার করার নামান্তর ।
সম্পূর্ণ বইটি তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত । যার প্রথম অংশই ঈমানের ভিত্তি অর্থাৎ আল্লাহ্র ওপর ঈমান বা তাওহীদ নিয়ে । দ্বিতীয় অংশ ঈমানের অবশিষ্ট রুকনসমূহের উপর । আর তৃতীয় অংশটি আকীদার সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মাসআলা নিয়ে । রিভিউ পাঠকদের বোঝার সুবিধার্থে প্রতিটি অধ্যায়ের পর্যালোচনা করব, ইনশাআল্লাহ্ ।
প্রথম অধ্যায় ::::::::আল্লাহ্ তা’আলার ওপর ঈমান
প্রথম অধ্যায়টি তাওহীদের তিনটি প্রকার নিয়ে স্বতন্ত্র তিনটি পরিচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে । প্রথম পরিচ্ছেদটি তাওহীদুর রুবূবিয়্যাহ নিয়ে । এখানে রুবূবিয়্যাহ-এর সংজ্ঞা এবং কুর’আন ও সুন্নাহ্ ছাড়াও রুবূবিয়্যাহ-র যুক্তিনির্ভর প্রমাণ পেশ করা হয়েছে । এবং শুধুমাত্র তাওহীদুর রুবূবিয়্যাহ-র স্বীকৃতি যে আযাব থেকে মুক্তি দেয় না, তার দালিলিক আলোচনা করেছেন । আর এর প্রকৃত উদাহরণ ছিল মক্কার মুশরিকরা । যদিচ প্রভুত্বে একত্ববাদের ব্যাপারটি মানবাত্মায় প্রোথিত রয়েছে তবে সতর্কতা সাপেক্ষে, প্রভুত্বে আল্লাহ্র এককত্বের ক্ষেত্রে বিচ্যুতির তিনটি ধরন নিয়েও আলোচনা রয়েছে, যার প্রথম প্রকারটি এযুগের নাস্তিকগণ । দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি তাওহীদুল উলূহিয়্যাত নিয়ে । এই তাওহীদ প্রমাণে এবং নবী-রাসূলগণের প্রেরণের মূল উদ্দেশ্যই যে তাওহীদুল উলূহিয়্যাত প্রতিষ্ঠা তার দালিলিক আলোচনা করেছেন লেখকগন । এখানেই, ইবাদাতের তিনটি রুকন, ইবাদাত কবুলের শর্ত, ইবাদাতের বিভিন্ন প্রকার ( প্রায় ১৫ টি ), শিরক ও বাতিলের দিকে পরিচালনাকারী বিভিন্ন পথ যেমন ঝাড়-ফুঁক,তাবীয-কবচ,গাছ-পালা ,পাথর দ্বারা বরকত কামনা,কবর কেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্ম,অসীলা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা রয়েছে । এছাড়াও এগুলোর বৈধ-অবৈধ দিক নিয়েও পাশাপাশি রেখাতিপাত করা হয়েছে । এরপর অন্তরের বিভিন্ন ব্যাধি যেমন শিরক , কুফর, নিফাকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পেশ করা হয়েছে । তৃতীয় পরিচ্ছেদটি তাওহীদুল আসমা ও্য়াস সিফাত নিয়ে । এখানে আল্লাহ্র নাম ও গুণাবলি সাব্যস্তের প্রায়োগিক উদাহরণ ও অনুসৃত নীতিমালা নিয়ে কথা বলা হয়েছে । এখানে অনুসৃত চারটি নীতিমালা নিয়ে আনা হয়েছে । আর শেষে আল্লাহ্র ওপর ঈমান আনার দশটি ফলাফল ও উপকারিতা নিয়ে ইতি টানা হয়েছে ।
দ্বিতীয় অধ্যায় :::::::::ঈমানের অবশিষ্ট রুকনসমূহ
এখানে ঈমান বিল্লাল ব্যতিত অবশিষ্ট পাঁচটি রুকন নিয়ে স্বতন্ত্র পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে । প্রথম পরিচ্ছেদটি ফিরিশ্তাদের ওপর ঈমান নিয়ে । ফিরিশ্তাদের সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে ফিরিশ্তাদের পরিচয়, তাঁদের সৃষ্টির উপাদান, গুনাবলি, বৈশিষ্ট্য, দায়িত্ব ও কাজ নিয়ে আলোচনা করেছেন । এরপর তাঁদের ওপর ঈমান আনার সাতটি পদ্ধতি ও তার মর্যাদা এবং শেষে তিনটি পয়েন্ট তাঁদের প্রতি ঈমান আনয়নের ফলাফল নিয়ে আলোচনা রয়েছে । দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি অবতীর্ণ গ্রন্থসমূহের প্রতি ঈমান বিষয়ক । অবতীর্ণ গ্রন্থসমুহের প্রতি ঈমান আনয়নের হুকুম, পদ্ধতি , দলীল এবং কুরআন ব্য...
আলহামদুলিল্লাহ। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সঠিক ইসলামি আকিদা জানার জন্য এটি অবশ্য পাঠ্য বই ।প্রতিটি মুসলিমের ফরজ ইলম অর্জনের জন্য এই বইটি পড়া উচিত ।আকিদা সম্পর্কে সংক্ষেপে অনেক বিষয় জানার জন্য এই বইটি অতুলনীয় ।
ইসলামের মৌলিক বিষয় মোট ছয়টি। সেগুলি হলো: (১) আল্লাহর উপর বিশ্বাস (২) ফেরেশতাদের উপর বিশ্বাস (৩) আসমানী কেতাবের উপর বিশ্বাস (৪) নবী ও রাসূলগণের উপর বিশ্বাস (৫) আখিরাতের উপর বিশ্বাস (৬) তাকদীরের উপর বিশ্বাস এই কয়েকটি বিষয় একজন মুসলিমের বিশ্বাস না থাকলে তার ইসলাম নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠে। এই বইটি এই কয়েকটা বিষয় বিস্তারিত আলোচনা আছে। বইটি মূলত মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন আলেমের গবেষণার সংকলন তাই বলা যেতে পারে বেশ বিশ্বস্ত একটি বই ইসলামী আকীদার ক্ষেত্রে। বইটি একটু একাডেমিক স্টাইলে লেখা তাই একটু সময় নিয়ে পড়া উচিৎ। এখানে আমার মনে হয়েছে তাকদীর নিয়ে বইটিতে বেশি কিছু বলা নেই। এখানে আরেকটু বিস্তারিত থাকলে ভালো হতো। সবকিছু মিলিয়ে বইটি তাদের জন্য ভালো যারা প্রাথমিক লেভেলে ইসলামী আকীদার কোনো বই পড়তে চায়।