রকিব হাসান বাংলাদেশের একজন গোয়েন্দা কাহিনী লেখক। তিনি সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত তিন গোয়েন্দা নামক গোয়েন্দা কাহিনীর স্রষ্টা। তিনি মূলত মূল নামে লেখালেখি করলেও জাফর চৌধুরী ছদ্মনামেও সেবা প্রকাশনীর রোমহর্ষক সিরিজ লিখে থাকেন। থ্রিলার এবং গোয়েন্দা গল্প লেখার পূর্বে তিনি অন্যান্য কাজে যুক্ত ছিলেন। তিনি রহস্যপত্রিকার একজন সহকারী সম্পাদক ছিলেন।রকিব হাসান শুধুমাত্র তিন গোয়েন্দারই ১৬০টি বই লিখেছেন। এছাড়া কমপক্ষে ৩০টি বই অনুবাদ করেছেন। তিনি টারজান সিরিজ এবং পুরো আরব্য রজনী অনুবাদ করেছেন। তাঁর প্রথম অনুবাদ গ্রন্থ ড্রাকুলা। রকিব হাসান লিখেছেন নাটকও। তিনি "হিমঘরে হানিমুন" নামে একটি নাটক রচনা করেন, যা টিভিতে সম্প্রচারিত হয়।
আরব্য রজনী" এর বেসিক গল্পটা মোটামুটি সবাই জানি। শাহজাদী শাহরাজাদ মৃত্যুদণ্ডের হাত থেকে বাঁচতে বাদশাহ শারিয়ারকে এক হাজার এক রাত ধরে গল্প শোনাতে থাকে। সেই গল্পগুলোই লিপিবদ্ধ হয়েছে The Arabian Nights বা আরব্য রজনীতে।
পড়ার পর ব্যক্তিগত অভিমত, আরব্য রজনীর গল্পের বৈচিত্র্য খুব কম- মানে খুবই কম। সব কাহিনী সেই এক বৃত্তেই ঘুরতে থাকে। সব গল্পেই নায়ক-নায়িকা অপরূপ সুন্দর, বাদশাহ কোন কারণে সব হারায়ে ফেলে আবার সবকিছু ফিরে পায়। একেক জায়গায় গিয়ে বিরক্ত লাগতে থাকে। আর আরব্য রজনী "বড়দের গল্প", তাই ছোটদের জন্য এই বই একেবারেই রিকমেন্ডেড না।
ভালোলাগার দুই-একটা ব্যাপার হচ্ছে, এই বই পড়ে আরব সমাজ ব্যবস্থার কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। আরবের ব্যবসা বাণিজ্য, দাস প্রথা, খাবার-দাবার সবকিছুর মোটামুটি একটা ভিউ পাওয়া যায়। একটা অদ্ভুত ব্যাপার, সব জায়গার মিথ বা এই ধরণের গল্পগুলো কেমন জানি লিংকড থাকে! আরব্য রজনীর সাথে গ্রিক,রোমান,ইন্ডিয়ান মিথগুলোর বেশ কয়েক জায়গাতে মিল আছে!