বাংলায় কল্পবিজ্ঞান তথা বিজ্ঞান সুবাসিত কাহিনির ঐতিহ্য রীতিমতো সম্ভ্রম-জাগানিয়া। দুর্ভাগ্যের বিষয়, বাংলা সাহিত্যে এই ঘরানায় খুব কম নবীন লেখকই আসেন। কলেজ স্কোয়্যার বইমেলায় একরকম ঘটনাচক্রেই এই বইটা আমার নজরে পড়েছিল। বইটা কিনেছিলাম, তবে পড়া হয়নি। বছরের শেষ দিনে বইটা পড়ে সত্যিই ভালো লাগল। কী-কী গল্প আছে এই বইয়ে? ১) স্বর্ণবৃক্ষ: ধুলোমুঠিকে সোনা বানানোর মতো ক্ষমতা রাখে কি কোনো ভেষজ? তাকে নাগালে আনতে কী করবে লোভীরা?হ্যাঁ ২) ওরিফ্লেকটোলাইসিস: কী হয়, যখন মানুষের সত্যিকারের চেহারা ধরা দেয় শিশুর চোখে? ৩) রাবণের ভাগ্যযন্ত্র: একটি জঙ্গলের প্রাচীন গাছেদের মেরে ফেলছে কে? কেন? ৪) নিয়ন্ত্রক: মহাবিশ্বে এত আলাদা রকমের প্রাণ আছে, কিন্তু তাদের স্রষ্টা কে? ৫) প্যারালাল ইউনিভার্স: স্বপ্নদ্রষ্টা হওয়া কি আনন্দের? কী হয় তার শেষে? এই বইয়ের শেষ লেখাগুলো সম্পাদকীয় পরিমার্জনার স্পর্শ পেলে আসিমভের ছক ভেঙে আরেকটু অন্যরকম, আরও ঘাত-প্রতিঘাতময় হয়ে উঠতে পারত। আশা রাখি যে লেখকের পরবর্তী প্রয়াস এর চেয়েও আলাদা, ব্যতিক্রমী হবে। এই ছোট্ট কিন্তু সুমুদ্রিত, অলঙ্কৃত, এবং সৌজন্য চক্রবর্তীর নাটকীয় প্রচ্ছদে শোভিত বইটি প্রকাশ করে মহুয়া পাবলিশার্স আমাদের কৃতজ্ঞতাভাজন হলেন।