মুর্তজা বশীর এদেশের একজন শীর্ষ চিত্রশিল্পী। বাংলাদেশের চিত্রকলা আন্দোলনের প্রথম প্রজন্মের এই শিল্পী তাঁর সৃজনভুবনে নানা মাধ্যমের কাজের মধ্য দিয়ে হয়ে উঠেছেন স্বাতন্ত্র্যে উজ্জ্বল অগ্রণী চিত্রকর। শক্তিশালী ড্রইং, রঙের সুমিত ব্যবহার এবং সমাজচেতনায় উদ্দীপিত দৃষ্টিভঙ্গি মুর্তজা বশীরকে দিয়েছে স্বাতন্ত্র্য। বহু মাধ্যমে তিনি কাজ করেছেন, যেমন ছাপচিত্র, জলরং, তেলরং, মিশ্র মাধ্যম। তেলরঙেই তাঁর সিদ্ধি সমধিক। তিনি অনেকগুলো সিরিজের শিল্পী : দেয়াল, শহীদ-শিরোনাম, পাখা, রমণী, কলেমা তৈয়বা। প্রতিটিই স্বতন্ত্রে উজ্জ্বল, বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। তাঁর রমণী-চিত্রমালায় বাঙালি নারীর আনন্দ-বেদনা, কোমলতা-দৃঢ়তা, স্বভাবসৌন্দর্য ও চর্চিত বৈশিষ্ট্য – এসবের সমন্বয় ঘটেছে।
এইটা আমার বহু আকাঙ্ক্ষিত একটা বই। অন্তত তিন বছর ধরে চোখের উপর রেখে তারপর কেনা হইছে। বেঙ্গলের বই। সেই রকম দাম। কিন্তু আমার মতো অনেক আশা নিয়ে বইটা কিনলে হতাশ হইতে হবে। বইটার একটাই মাত্র সমস্যা এবং সেটা হলো পুনরাবৃত্তি। বিষয়টা হলো মুর্তজা বশীর নানা সময়ে এসব লেখা লিখেছেন। সেই কারণে কাছাকাছি বিষয়ে একই কথা লিখেছেন। এগুলো এলোমেলোভাবে প্রকাশ হইছে নানা পত্রিকায়। সেইসব যখন এক মলাটে আসলো, একটার পর আরেকটা পড়তে গিয়ে মনে হয়, ধুর, মাত্রই তো এই কথা পড়ছি। কিন্তু এক দেড় বছর পর পর পত্রিকায় বের হওয়া লেখা, অনেকে পড়েই নাই।
বশীরের দর্শন এবং জানাশোনা বৈচিত্র্যময়। সেই বিচিত্রের খোঁজেই এই বই কেনা এবং পাঠক হিসেবে যদি বিটুইন দ্য লাইনস পড়ার অভ্যাস থাকে তাহলে সেটা এখানে পাওয়া যায়। বাবার সঙ্গে দূরত্ব থেকে শুরু করে পঞ্চাশ ষাটের দশকের ঢাকার চিত্র, এই দেশের শিল্পীদের অন্তরঙ্গ পরিচয় আর শিল্প সাহিত্য ও ইতিহাসের নানা বিষয় নিয়ে বিচিত্র তথ্যই উপস্থাপন করেছেন বশীর। সেই সঙ্গে কিছু কিছু দার্শনিক কথা আছে। আছে তার ভবঘুরে জীবনের কথা। সব মিলিয়ে ইতিহাস, দর্শন, ঢাকার এক সময়ের অবস্থা, শিল্পীর চোখে শিল্পীকে দেখা থেকে শুরু করে ভ্রম ও ভ্রমণের গল্প সবই পাওয়া যাবে এখানে।