Purnendu Patri (sometimes Anglicised as Purnendu Pattrea) was an Indian poet, writer, editor, artist, illustrator, and film director. He was best known for his poems and stories, particularly for his poetry collection Kathopokathan in Bengali, and for his experimentation with book cover design. He also was a researcher of the history of Kolkata.
এই পকেট বইগুলো আমার বিশেষ পছন্দের। ছোট হলেও বিষয়বস্তু এবং ঠাস বুনটের কলেবরে বইগুলো পূর্ণ গ্রন্থেরই মর্যাদাপ্রাপ্ত। মোনালিসা-এক অলীক রহস্যের নাম। কত মনীষী কতভাবে যে একে ব্যাখ্যা করেছেন, রচিত হয়েছে কত সাহিত্য, কত ফ্যান্টাসি তার কোন লেখাজোখা নেই। সেই মোনালিসাকে নিয়েই পূর্ণেন্দু পত্রীর তিনটি লেখার একত্র প্রকাশ এই বইখানা। তাজমহল দেখে এডওয়ার্ড লিয়র মন্তব্য করেছিলেন, পৃথিবীর মানুষ দুইভাগে বিভক্ত, যারা তাজমহল দেখেছে এবং যারা দেখেনি। আবার হাক্সলির কাছে তাজমহল আহামরি কিছু মনে হয় নি। আসলে শিল্প বিষয়টাই এমন। কেউ কেউ কোন একটা শিল্পকে বেশি ভালোবাসেন, সবারই যে সেটা একইরকম ভালো লাগবে তেমন কোন কথা নেই। মোনালিসার ক্ষেত্রে যেন এই কথাটা আরো বেশি করে খাটে। মোনালিসা কে? এই নিয়েও কত কিংবদন্তি। কেউ বলেন তিনি ভিঞ্চির প্রেমিকা ছিলেন, কেউ বলেন তিনি একজন সম্ভ্রান্ত ভদ্রমহিলা ছিলেন, কেউ বলেন তিনি ছিলেন স্বামীর প্রীতিবঞ্চিত নারী। কিন্তু তাঁর রহস্যে আজো সারা দুনিয়া বুঁদ। এহেন বিশ্ববিখ্যাত চিত্রকর্ম আবার চুরিও হয়ে গেল লুভর থেকে। যে লুভরের শ্বাসপ্রশ্বাসে জড়িয়ে মোনালিসা, সেখান থেকে চুরি যাওয়া মোনালিসা জন্ম দিল কত বিতর্কের! কবি গিয়েম আপোলিনেরকে জেল ও খাটতে হল এই মোনালিসা চুরির দায়ে। মিথ্যা দোষে সাব্যস্ত হয়ে তিনি হারিয়েছিলেন তাঁর প্রেমিকাকেও। মোনালিসার স্রষ্টার লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির জীবনেও বিতর্ক, রহস্যের শেষ নেই। তাঁর জন্ম থেকে কর্ম সবকিছুই সে যুগে বারবার সমালোচনার মুখে পড়েছে। অথচ তাঁর মতো একজন পলিম্যাথ এযুগে বিরল। আসলে যুগের থেকে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা মানুষদের ভাগ্য কমবেশি একই হয়। পূর্ণেন্দু পত্রীর গদ্য চমৎকার। এক বসায় এই চমৎকার বইটা পড়তে পেরে বেশ লাগছে।
ফ্লোরেন্সের এক বিত্তবান নাগরিক 'গিওকাণ্ডো' তার স্ত্রী মোনালিসার প্রতিকৃতি আঁকাতে চান লিওনার্দোকে দিয়ে। রহস্যময়ী এই নারীর রহস্য ফুটিয়ে তুলতে দীর্ঘ পাঁচ বছর সময় নিয়েছিলেন তিনি।তাও আবার ছবিটা অসমাপ্ত।সেই রহস্যময়ী হাসি ফুটিয়ে তুলতে দিনের পর পর সময় নিয়েছিলেন তিনি ও মোনালিসাকে খুশি রাখতে রেখেছিলেন মনোরঞ্জনের সব ব্যবস্থা।ছবি আঁকতে গিয়ে মোনালিসার সাথে ভিঞ্চির না বলা এক সম্পর্কও তৈরি হয়।এই ছবি ভিঞ্চির সবচেয়ে পছন্দের, আমৃত্যু তিনি এটা সঙ্গে রেখেছিলেন। ১৯১১ সালে ল্যুভর মিউজিয়াম থেকে চুরি হয় মোনালিসা। চলতে থাকে খোঁজাখুঁজি ও আলোচনা-সমালোচনা।ধরা পড়েন চোরের পরিচিত এক শিল্প সমালোচক 'অ্যাপলিয়ন'।অপরাধ না করেও তিনি মোনালিসা চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত, চোরের কালিমা তাকে আমৃত্যু বহন করতে হয়।
সমান্তরাল দুটি গল্প। মূল উপজীব্য মোনালিসা।একই নারীকে আঁকতে গিয়ে এক বুক বেদনা তাড়া করছিল ভিঞ্চিকে,ঐ একই নারীর প্রতিকৃতি চুরির বিনা অপরাধে পাহাড়সম অপবাদ বয়ে যায় অ্যাপলিয়ন। মোনালিসার নাগাল সকলের ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাইতো মোনালিসা আজো এত রহস্যময়।