ফোর্ট ক্লেনডেনন। অধিবাসীদের কাছে এর অপর নাম নরক। মৃত্যু ফাঁদ। চারদিকে শেইয়েন, আরাফো আর অ্যাপাচিদের তাণ্ডব। ওদের চোখে ধুলো দিয়ে পালানোর উপায় নেই। দুর্গের অধিবাসীদের বেশিরভাগ একেকটা সাক্ষাৎ শয়তান। ধর্ষক, খুনি, চোর। সাজা খাটার জন্য এই সেনা-সংশোধনকেন্দ্রে ওদের নির্বাসন দিয়েছে আর্মি। যাত্রাবিরতি করতে গিয়ে দুর্গে আটকা পড়েছে এক স্যালন ড্যান্সার আর তার নাগর, এক অভিজাত স্প্যানিশ-মেক্সিকান যুবতী... আর এক পিস্তলেরো। একহারা গড়ন। পাথরে-খোদাই মুখ। কোমরে নিচু করে বাঁধা হোলস্টারে পিস্তল। বেল্টে জড়ানো চাবুক। পশ্চিমে সবাই একনামে চেনে ওকে - সাবাডিয়া।
রওশন জামিল বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন লেখালেখির করার অনুপ্রেরণা। জীবনে প্রথম লেখা ক্লাস ফাইভে। স্কুল ম্যাগাজিনে। এর পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আবার শুরু পত্রিকায় রিপোর্ট/ফিচার লেখার মধ্যদিয়ে, যখন তিনি মাস্টার্সে পড়েন। লেখালেখির পাশাপাশি তার আরো একটা পেশা আছে সেটা হলো সাংবাদিকতা। স্ত্রী গৃহিণী, দুই সন্তানের জনক তিনি। বড় ছেলে ও ছোট মেয়ে নিয়ে তার পরিবার।
সেবা প্রকাশনীতে তার প্রথম বই বই প্রকাশিত হয় কাজীদার সাথে যৌথ ভাবে ১৯৮৫ সালের জুন মাসে দাগী আসামী-১ দিয়ে। পরবর্তিতে দুইটি কিশোর ক্লাসিক হাকলবেরি ফিন প্রকাশিত হয় ফেব্রয়ারী ১৯৮৬ এবং দ্বিতীয়টি দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সী নভেম্বর ১৯৮৭তে প্রকাশিত হয়। এছাড়া শিশু ক্লাসিক পিটারপ্যান-ও তিনি লিখেন ১৯৮৯ সালে।
তিনি ছিলেন ওয়েস্টার্ন সিরিজে একজন সফল লেখক। প্রথম ওয়েস্টার্ন বই "ফেরা" প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে। ওসমান পরিবার এবং সাবাডিয়া নামের সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। সেবা প্রকাশনীতে তার একক ভাবে ৩৫টিরও বেশি ওয়েস্টার্ন বই বের হয়।
১৯৯৪ সাল পর্যন্ত নিয়মিত লিখলেও সে বছর আমেরিকায় প্রবাসী হলে বিরতিতে চলে যান তিনি। তবে সাবাডিয়ার ফেরা, না-ফেরা বই এর মধ্য দিয়ে তিনি আবার লেখায় ফিরেন ২৪ বছর পর ২০১৮ সালে। আর এর আগে ২০১২ সালের ঈদসংখ্যা ইত্তেফাকে ওসমান পরিবারকে ফিরিয়ে আনেন "সেই ওরিন ওসমান" নামে একটি উপন্যাসিকার মাধ্যমে।
সাবাডিয়ার কোন বইয়ে মারমার কাটকাটা অ্যাকশন আর সুস্থির বুদ্ধি বিবেচনা বাদ দিয়ে এমন অনুভূতি, উপলব্ধি আর আবেগের স্থানও হয়েছে দেখে অভিভূত হতে হল। কিছু পরিস্থিতিতে মানুষ অভূতপূর্ব সুবিবেচকের মত চিন্তা করে। বইটা পড়ে একটা জটিল পরিস্থিতিতে মানুষের মনে কেমন আলোড়ন হয়েছে সাক্ষাৎ উপলব্ধি করার অনুভূতি হাড়ে হাড়ে টের পেলাম। এমন ফিল আনাড়ি লেখার হাতে আসবে না। রওশন জামিল বলেই মনে হয় পেরেছেন! অসাধারণ! তুলনাহীন!
এমন প্রচ্ছদ আজও হয় দেখে ভাল লাগল। অভিনন্দন প্রচ্ছদশিল্পী ইসমাইল আরমান।