‘নির্বাচিত ৪২’ দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের 'ঝিঁঝিঁ পোকার মালা' নামক অধুনা-না পাওয়া যাওয়া বইটির পরিবর্ধিত রূপ। এটি লেখিকার বিয়াল্লিশটি নানাস্বাদের গল্পের সংকলন। এর মধ্যে যেমন রয়েছে সমাজের নানাস্তরের কথা, তেমনই রয়েছে নতুন প্রেমের মন ভাল করা অনুভূতি, শহর কলকাতা, শহরতলি ও সমাজের নানাপ্রান্তের মানুষজনের কথা। প্রতিটি গল্পেরই কাহিনীর নতুনত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এবং অধিকাংশই পাঠকের মনে প্রেরনা জোগায়, ভাল থাকার রসদ জোগায়।
Debarati Mukhopadhyay is presently one of the most popular and celebrated authors of Bengali Literature and a TED Speaker having millions of readers worldwide.
A young Government Officer by profession and awarded with several accolades like Indian Express Devi Award 2022, Tagore Samman, 2022, Literary Star of Bengal etc, she has written 25+ bestselling novels in West Bengal from leading publishing houses. Global publishers like Harper Collins, Rupa Publication have published her English works worldwide.
A no. of novels are already made up into movies starting Nusrat Jahan, Mithun Chakraborty, Dev etc by big production houses like SVF, Eskay etc. Her stories are immensely popular in Sunday Suspense, Storytel etc.
Her Novel ‘Dasgupta Travels’, has been shortlisted for ‘Sahitya Akademi Yuva Pursakar, 2021’.
Her Novel ‘Shikhandi’ created a history when it was acquired for film by SVF within 24 hours of it’s publication. Beside this, she contributes in Bengal’s prominent literary magazines and journals regularly.
She has been selected as Country's only Bengali Literature Faculty for the esteemed Himalayan Writing Retreat.
An excellent orator, Debarati motivates people through her way of positive thinking, voluntarily guides aspirants for Government job preparation in leisure.
She’s a regular speaker in eminent institutions like Ramakrishna Mission and other educational seminars and often considered as youth icon of Bengal. She’s extremely popular in Bengal and having more than 5,00,000+ followers in Social media.
লেখিকার রচিত বিভিন্ন ধারার চমৎকার সব উপন্যাস পড়লেও গল্প সংকলন এই প্রথম বার পড়লাম । গল্পগুলো অধিকাংশই পত্রিকা, পুজোসংখ্যায় প্রকাশিত, কিছু অপ্রকাশিত ৷ সংকলনটি মনোগ্রাহী হওয়ার একটি বড় কারণ হচ্ছে প্রতিটি গল্পই ভিন্ন স্বাদের । বাৎসল্য, থ্রিলিং, ভুতুরে, মানবিকতা, মিষ্টি প্রেম - সব রকমের গল্পই আছে । আর গল্পগুলো বেশ ছোট ছোট, পড়ে বেশ আরাম লাগে । দেবারতি মুখোপাধ্যায় এর লেখা পড়ে যেই জিনিসটা সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে, তা হলো গল্পটা পড়ে আপনি বুঝতে পারবেন নেহাত হেলাফেলা করে দায় সারার মতোন তিনি লেখেন না - তা সে উপন্যাসই হোক বা গল্প, থ্রিলার হোক বা রোমান্স । গল্পের ব্যাকগ্রাউন্ড খেয়াল করলেই বোঝা যায়, প্রত্যেকটা গল্পের পিছনেই আছে লেখিকার যত্ন, শ্রম এবং পড়াশোনা । অধিকাংশ গল্পেই চেনার মধ্যেও অচেনা নানান রকম তথ্য পাওয়া যাবে, নতুন কিছু জানা যাবে । সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা, নারী অগ্রগতি, ইতিহাসের তল্পিতল্পা, কলকাতার রাস্তাঘাট, গ্রাম এবং মফস্বল শহরের সরলতা এবং বড় বড় শহরের বনেদিয়ানা - সবকিছুই এতো সাবলীল ভাবে তুলে আনেন লেখিকা যে মন্ত্রমুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না । গল্পগুলো নিয়ে একটা খসড়া আলাপ তো হলো । এই বইটার রিভিউ দুইটা পর্বে দেবো । আজকে পর্ব এক ৷ পর্ব এক এ থাকছে প্রথম একুশটা গল্পের রিভিউ ।
১. তিতলির বাবা মা - মিষ্টি প্রেমের গল্প, এক সেপারেটেড দম্পতির নিরবিচ্ছিন্ন ঝগড়াঝাটি আর প্রেমের গল্প । পরিচিত জায়গার মধ্যে থাকা নতুন এক দেশের কথা জানতে পারবেন ৷ ২. "ওলা" ড্রাইভারের শ্বাশুড়ি - নামটা বেশ অদ্ভুত না ? গল্পটাও নামের মতোই অদ্ভুত । মধ্যবিত্ত পরিবারের দুই নারীকে নিয়ে মিষ্টি সম্পর্ক এবং স্বপ্নপূরণের দৃঢ়প্রত্যয়ের গল্প ৷ ৩. ঝরাপাতার রুপকথা - বৃদ্ধাশ্রমে থাকা দুইজন বৃদ্ধবৃদ্ধা, যারা কিনা এককালে প্রেমিক প্রেমিকা ছিলেন, জীবনের শেষ দিনগুলোতে, যখন কিনা মানুষ নিজেকে বাতিল ভাবতে বলে শুরু করে, জীবনের সেই প্রান্তে এসে কিভাবে পৃথিবীর বুকে, মানুষের মনে স্বপ্ন, ভালোবাসা আর কর্মের দাগ রেখে গেলেন - তাই নিয়ে ছোট্ট সহজ একটি ভালোবাসার গল্প । ৪. ইন্দিবর - বোঝাই যাচ্ছিল ট্রাজেডি গল্প, কিন্ত নিজের দেশের মর্মান্তিক একটি ঘটনার সাথে জুড়ে থাকা ঘটনার সাথে মিলে ভালোবাসার এই গল্পটি নিমিষে মন খারাপ করে দেবে । ৫. আমাকে মোটা বোলো না - মিষ্টি প্রেমের গল্প, কিছুটা ছকে বাধা । তবে শেষের দিকে "Aww So Sweet" বলে উঠতে পারেন । ৬. দোলগোবিন্দবাবুর চশমা - ভুতুরে এবং কমেডি টাইপ গল্প । নির্ঝঞ্ঝাট অকৃতদার ভদ্রলোক দোলগোবিন্দবাবুর সানগ্লাস নিয়ে গল্প । ৭. টাইমলাইন - লেখিকার প্রেমের গল্প লেখার ধাত একেবারেই অন্যরকম । কোত্থেকে কোথায় নিয়ে যাবে টের পাবেন না । ফেসবুক নিয়ে পাগল এক মেয়ে আর তার স্বামীর ভালোবাসার কাহিনি । ৮. মনি - হিজড়া সম্প্রদায়কে নিয়ে একটি গল্প । মানবিক, ভালোবাসা এবং বাৎসল্যের । সাধারণ গল্পের মধ্যেও মহাভারতের রেফারেন্স গল্পের আবহকে আরো সুন্দর করে তুলেছে । ৯. এরেঞ্জড ম্যারেজ - কিউট প্রেমের গল্প । লেখিকা তাহসান মিথিলার নাটক দেখে গল্পটা টুকেছেন নাকি তারা গল্পটা পড়ে নাটক টুকেছে বলা ভার । ১০. লোফার - অদ্ভুত রকমের গল্প । ঠিক প্রেমের না, ভুতুরে আবার কিছুটা থ্রিল । তবে ভালো লেগেছে । ১১. বুমেরাং - গল্পের মূলনীতি - Karma is a bitch. কিন্ত শেষপাত্র গিয়ে মনটা জুড়িয়ে যাবে । ১২. আচ্ছে দিন - সরকারি অফিসের কর্মকর্তাদের নিয়ে অদ্ভুত রকমের একটা গল্প । প্রেডিক্টেবল, কিছু ভুলভাল থাকলেও রিফ্রেশিং । ১৩. সুগারবেবি - সুন্দর গল্প, ভালোবাসা এবং স্পর্শের । ১৪. রাগিণীর রাগ - সাংসারিক ভালোবাসার মিষ্টি গল্প । ১৫. বালির বাড়ি - এনজিও'র একটি বাচ্চা এবং অনিশ্চিত জীবনের চাওয়াপাওয়া মিলিয়ে সুন্দর একটি গল্প। ১৬. লুকোচুরি - প্রেমের ছোট্ট গল্প । বইপ্রেমী, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জেদে গড়া একটি মেয়ের অনুভূতি, এবং লাজুক একটি ছেলের ভালোবাসার কাহিনি । ১৭. টিকলির গোলাপি স্কুটি আর পাঁচটা ষাড় - নামকরণের সাথে গল্পের দারুণ মিল । মজার গল্প, চমৎকার একটা রেশ ছড়িয়ে দেবে ! ১৮. পটীয়সী - হাসির গল্প, প্রেমের গল্প । মন ভালো করা এলোমেলো বাতাসের মতোন যেন ! নামকরণের মাহাত্ম্য শেষে গিয়ে হঠাৎ বুঝতে পারলাম বলেই যেন আরো ভালো লাগলো । ১৯. প্রতিবন্ধী - সামাজিক গল্প, একই সাথে মানুষের চরিত্রের ভালোমন্দ দিকগুলির দিকে আলো ফেলা হয়েছে এই গল্পে । মোটামুটি ছকে বাধা হলেও সুখপাঠ্যই । ২০. স্পর্শসুখের উল্লাসে - চমৎকার গল্প, অসাধারণ ! মানুষের মনের বৈচিত্র্যময়তা নিয়ে ইউনিক প্লটের একটি গল্প । কিছুটা আন্দাজ করলেও শেষে এসে চমকে গেছি একদম । ২১. পমপমের ইন্টারভিউ - বাচ্চাদের স্কুলে এডমিশন ইন্টারভিউ নিয়ে আগে একটা নাটক দেখেছিলাম, গল্প শুরু করার পরে ভেবেছিলাম সেরকমই কিছু একট হবে । কিন্ত এতো ছোট একটা গল্পে এতো সুন্দর করে অতি আধুনিকতার সর্বগ্রাসী থাবা এবং মানব জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্যকে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখিকা, যে তার জন্যে তার একটা সাধুবাদ পেতেই হয় !
"দেবারতি মুখোপাধ্যায়" এর গল্প সংকলন "নির্বাচিত ৪২" এর দ্বিতীয় পর্ব এর রিভিউ নিয়ে হাজির হলাম আজকে । প্রথম পর্বের তুলনায় দ্বিতীয় পর্বের গল্পগুলো বেশী উপভোগ্য লেগেছে । ১. দেবীপক্ষ - এক কথায় অসাধারণ । নির্মম বাস্তবতা, ইচ্ছাশক্তি, আর প্রতিশোধের গল্প । ২. ফেকবুক - ভার্চুয়াল দুনিয়াকে আমরা যতোই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করি না কেন, কিভাবে যে এই জগতটা আমাদের অজান্তেই আমাদেরকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করে, সেই নিয়ে কয়েকজন নারীড় ব্যক্তিগত জীবনের গল্প । ৩. নিউটাউনের টোটোওয়ালা - এই গল্পটাও বেশ ভালো, ইউনিক প্লট ছিল । ৪. ঈর্ষা - আপন মানুষও কিভাবে পর হয়ে যেতে পারে, অথচ অচেনা অজানা মানুষ হয়ে উঠতে পারে পরম সুহৃদ - তাই নিয়ে ছোট কিন্ত মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতন গল্পটি । ৫. কালো চিঠি - খুবই ইউনিক প্লট । Karma is a bitch - দারুণ ভাবে কথাটার প্রয়োগ দেখিয়েছেন লেখিকা এই গল্পে । ৬. নটরাজ - “গেয়ো যোগী ভিখ পায় না” এই কথার সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণ হচ্ছে গল্পটা । শিল্পকে কিভাবে ছকে বেঁধে ফেলা হয়, এবং সাফল্য না পাওয়া পর্যন্ত খুব কম মানুষই যে ভরসা দিতে পারে তা নিয়েই চমৎকার একটা গল্প । ৭. ফুলশয্যা - প্রেমের গল্পে আমার সামান্য এলার্জি আছে । কিন্ত বয়স্ক জুটির প্রেম কেন জানি বরাবরই আমাকে প্রচন্ড আকর্ষণ করে । এই গল্পটাও তেমন । এক রাশ সজীবতা ছড়ানো প্রেমের একটা গল্প । ৮. ফরচুন কুকি - সুন্দর একটা প্রেমের গল্প । ৯. সুখের অলিন্দে - এই গল্পটাও খুবই সুন্দর । পারিবারিক আবহ নিয়ে একটা গল্প । নিজের সন্তান অনেকসময় বাবা মায়ের সুখ সহ্য করতে পারে না, আবার অন্য বাড়ির মানুষ ভালোবেসে সর্বস্ব দিয়ে দিতেও দ্বিধা করে না । এইরকম সোনালি সব মূহুর্ত নিয়েই লেখা গল্পটি । ১০. আঠাশ বছর পরে - নরমাল ছকে বাঁধা প্রেম ভালোবাসা আর পারিবারিক আবহের গল্প । ১১. সুকন্যার সুমতি - সন্দেহবাতিকগ্রস্ত এক নারীর আত্মোপলব্ধির গল্প । ১২. অনাহূত - হরর গল্প, বেশ ভালো প্লট । ১৩. মধুছন্দার ভয় - এইসব সুন্দর সুন্দর গল্প পড়লে খুব চমৎকার অনুভূতি কাজ করে মনের মধ্যে । দারুণ একটা গল্প । ১৪. আত্মজ - সন্তান এবং মা-বাবা’র গল্প । শুধু জন্ম দিলেই কি বাবা মা হওয়া যায় ? আবার, জন্ম নিলেই কি সন্তান হওয়া যায় ? বাৎসল্য এবং আত্মোপলব্ধির গল্প ! ১৫. থার্ড পার্সন - সম্পর্কের গল্প, ভালোবাসার গল্প । ১৬. বাবা আর ভায়াগ্রা - নামটাই কেমন অস্বস্তিকর ন��� ? গল্পটা পড়তে অস্বস্তিতে ভরে যাবে মন । কিন্ত শেষে গিয়ে এমন ভাবে চমকে উঠবেন যে মনে হবে এই অস্বস্তি লাগাটাও সার্থক ছিল । ১৭. প্রতিশোধের আ��ুনে - সম্পর্ক, ভালোবাসা, বিচ্ছেদ এবং সবশেষে প্রতিশোধ । কিন্ত শেষ পর্যন্ত গিয়ে পৃথিবীটাকে সুন্দর করার চেষ্টার আশা নিয়ে গল্পটা শেষ হয়েছে । ১৮. সেকেন্ড ইনিংস - সাধারণ প্রেমের গল্প । ১৯. মায়ের জন্য গোটা একটা দিন - মা মেয়ের গল্প, মায়ের স্বপ্ন আর মেয়ের উচ্চাশা শেষ পর্যন্ত মিলেমিশে এক হয়ে দারুণ একটা গল্প । ২০. গ্রীস দেশের সরস্বতী - কিশোর প্রেমের মিষ্টি গল্প ২১. বাবা - এই প্লটের একটা মুভি দেখেছি আগেও, তবে সব মিলিয়ে গল্পটা বেশ ।
ইতঃপূর্বে লেখিকার যাই ছোট গল্প পড়েছি সব সেই ভুলভাল মেসেজ দেওয়া। পড়ে লেখিকা সম্পর্কে অনেক খারাপ মন্দ বলেছি বন্ধুর কাছে। এবং তার জন্য দুঃখ করি না, লিখেছিলেনও সেরকম ভাট। তবে এই বই একদম আলাদা। বইএর প্রতিটি গল্প একদম সঠিক রাস্তায় আছে। কিছু গল্পের মধ্যে দিয়ে খুব সুন্দর সমাজের কিছু গন্ডগোল তুলে ধরা এবং তার প্রতিকার দাবি করা হয়েছে।
এগুলো তো গেলো সব সিরিয়াস দিক গুলো। শুধু ইমোশন দিয়ে যদি পড়তে চান, লজিক ফজিক সব আলমারিতে বন্ধ করে, তাহলেও এই বই একদম রত্নাকর। কিছু গল্প এত কিউট যে শেষ করে awww chho chweet করে ফেলেছি নিজের অজান্তে। 😍😍
সবকটি গল্পই বেশ মন ভালো করা। ভূত, খুন, থ্রিলার পড়ে যদি মাথার স্নায়ুকোষ গুলো ন্যাতা মেরে গিয়ে থাকে তাহলে এই বই একদম crop rotation করে দেবে মাইরি।
এবারের কলকাতা বইমেলায় দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের ‘নরক সংকেত’ সেলিং লাইক হট কচুরিজ এর সাথে সাথে যে বইটি প্রায় অলক্ষ্যে লালমাটি থেকে প্রকাশিত হয়েছে, সেটার নাম #ঝিঁঝিঁ_পোকার_মালা’।
দাম – ৩২৫/
নরক সংকেত সম্পর্কে ইতিমধ্যেই কয়েক শো রিভিউ এই গ্রুপে পড়ে গেছে, তাই আপাত সদ্যোজাত এই বই সম্পর্কে রইল আমার রিভিউ –
প্রথমেই বইয়ের কোয়ালিটি -
১। প্রথমেই বইটি সম্পর্কে বলি, ৩৮৪ পাতার একটি গল্প সংকলন, পাতার মান এবং বাঁধাই লালমাটির অন্য বইয়ের মতই যথাযথ। তবে গল্পের অলঙ্করণ গুলো একটু অপরিণত মনে হয়েছে।
২। বইয়ের প্রচ্ছদ বেশ পুরনো দিনের মত, এখনকার সব গ্রাফিক্স প্রচ্ছদের মাঝে এই হাতে আঁকা সিম্পল রঙ তুলির প্রচ্ছদ আলাদা করে মন কাড়ে। এইবার আসি বইটির কনটেন্টে।
৩। এই সংকলনের একটি বৈশিষ্ট্য হল, সব রকমের গল্প রয়েছে। মানে একদিকে উনিশ কুড়ির মুচমুচে প্রেম, ভয়াল ভয়ঙ্কর সাসপেন্স, হাসির, দুঃখের, সবরকমের গল্প। একজন লেখকের সব ধরণের গল্প নিয়ে এই সংকলন করাটা একটু অদ্ভুত মনে হয়েছে আমার, কারণ পাঠক নিজের রুচি অনুযায়ী কিনতে পারবেন না, কারুর হাসির গল্প অখাদ্য লাগলেও তাকে ভয়ের গল্পের জন্য এই বইটা কিনতে হবে।
1. ওলা ড্রাইভারের শ্বাশুড়ি – শাশুড়ি এবং পুত্রবধূর বন্ধুত্বের সঙ্গে নিজেদের ইচ্ছাপূরণের গল্প। পুত্রবধূ ওলা গাড়ির ড্রাইভার হতে গিয়ে অদ্ভুত বাধার সন্মুখীন হন, এবং তারপর চলে নানা টানাপোড়েন। বেশ নতুনত্ব। রেটিং ৫/৫
2. আমাকে মোটা বোলো না – একটি মোটা তরুণী মেয়েকে দৈনন্দিন জীবনে যে সমস্যায় পড়তে হয়, তা নিয়ে একটি প্রেমের গল্প। ৩.৫/৫
3. সুগারবেবি – কলকাতার আনাচে কানাচে ছত্রাকের মত গজিয়ে উঠতে থাকা একটি অন্ধকার প্রোফেশন নিয়ে তীব্র অনুভূতির গল্প। এবং প্রচণ্ড আনপ্রেডিক্টেবল। অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্প এটি বইয়ের। রেটিং ৫/৫
4. গোলাপি স্কুটি আর পাঁচটা ষাঁড় – দুরন্ত মজার প্রেম। ষাঁড়ের বীর্য নিয়ে ব্যবসা করেও যে লাখপতি হওয়া যায় জানতেন? না জানলে পড়ে ফেলুন। রেটিং ৪/৫
5. সেকেন্ড ইনিংস – ডিভোর্স পরবর্তী হঠাৎ দেখা হওয়া স্বামী স্ত্রী আবিষ্কার করে এক অদ্ভুত গোপন তথ্য যা তাদের ডিভোর্সটাকেই প্রশ্নের মুখোমুখি করে দেয়। কিছুটা প্রেডিক্টেবল হলেও ভালই। রেটিং ৩.৫/৫
6. অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ – এই গল্পটি সম্ভবত মাস কয়েক আগের ‘উনিশ কুড়ি’তে বেরিয়েছিল। ফর্মুলায় ফেলা মিষ্টি প্রেমের গল্প । রেটিং – ৩.৫/৫
7. মনি – তৃতীয় লিঙ্গদের নিয়ে একটি সামাজিক গল্প, কিছুটা প্যানপ্যানানিও আছে। রেটিং – ২.৫/৫
8. দোলগোবিন্দবাবুর চশমা – বেশ ফ্যান্টাসিমূলক গল্প, যদিও শেষটা কিছুটা হলেও প্রেডিক্টেবল। রেটিং – ৩.৫/৫
9. তিতলির বাবামা – এই গল্পটিও এই সংকলনের অন্যতম সেরা গল্প। সুইজারল্যান্ড আর অস্ট্রিয়ার মাঝে স্যান্ডউইচের মত চেপ্টে থাকা একটা ছোট্ট দেশে বাঙালি এক তরুণ স্বামী স্ত্রীর ব্যবসা এবং তাদের বাবা মা। খুব মিষ্টি এবং ভাল লাগবে। রেটিং ৫/৫
10. বালির বাড়ি – বর্তমান NGO গুলোর আড়ালে ঘটে চলা দুর্নীতি নিয়ে বন্যা কবলিত এলাকার এক ট্র্যাজিক গল্প। রেটিং – ৪/৫ 11. টাইম লাইন – আদ্যন্ত ট্র্যাজিক গল্প। সদ্য দুর্ঘটনায় মৃত স্ত্রীকে নিয়ে। রেটিং ৩.৫/৫
12. ফুলশয্যা – কিছুটা সুচিত্রা ভট্টাচার্য ঘরানার, তবে ভালই লাগবে। খুব ইমোশনাল। যারা সিনেমা দেখে কেঁদে ফেলেন, তাদের চোখে যে জল আসবেই, গ্যারান্টি। রেটিং – ৪/৫
13. ফেকবুক – এটাও অনেকটা সুচিত্রা ঘরানা। রেটিং – ৩/৫ 14. কালো চিঠি – বেশ অভিনব প্লট, সত্যজিতের লেখা মনে পড়িয়ে দেয়। যদিও শেষটা আরো চমকপ্রদ হতে পারত। রেটিং – ৩.৫/৫
15. আচ্ছে দিন – GST এর প্রেক্ষাপটে একটা দুর্দান্ত প্রেমের গল্প, সঙ্গে সোশ্যাল মেসেজ। খুব ভাল লাগবে। রেটিং – ৫/৫
20. মায়ের জন্য গোটা একটা দিন – অভিনব প্লট, অভিনব চিন্তাভাবনা। রেটিং ৪.৫/৫
21. পমপমের ইন্টারভিউ – এটা একেবারেই রুটিন গল্প, বাচ্চা এবং তার ইংরেজি মিডিয়াম অভিজ্ঞতা নিয়ে। রেটিং – ৩/৫
22. প্রতিশোধের আগুনে – পেট্রোল পাম্পের অধিকার নিয়ে দুই প্রাক্তন স্বামী স্ত্রীর লড়াই, রুঢ় বাস্তব। রেটিং – ৩.৫/৫
23. প্রতিবন্ধী – সোশ্যাল মেসেজ, রেটিং ৩/৫
24. পটিয়সী – এই প্লট নিয়ে বাংলায় কোনো লেখক লিখেছেন কিনা জানা নেই, ছেলেদের যখন তখন পটি প্রবণতা নিয়ে হয়ত লেখা হতে পারে, কিন্তু মেয়েদের পটি এবং সমস্যার সাথে প্রেমের আচার, বেশ মজার। রেটিং ৪.৫/৫
25. লোফার – অন্যতম সেরা গল্প। প্রচণ্ড আনপ্রেডিক্টেবল। রেটিং ৫/৫
26. সুখের অলিন্দে – শ্বশুর এবং পুত্রবধূর টানাপোড়েন। সামাজিক গল্পপ্রেমীদের বেশ লাগবে। রেটিং ৪/৫
27. আঠাশ বছর পরে – লেখার গুণে উপভোগ্য, কিন্তু হাসির না দুঃখের বোঝা দায়, কারণ গল্পের হাসি এবং কান্না দুই উপাদানই মজুত। রেটিং – ৪/৫
28. অনাহূত – বেশ আনপ্রেডিক্টেবল গল্প, এর চেয়ে বেশি বললে স্পয়লার হয়ে যাবে। রেটিং ৪.৫/৫
29. সুকন্যার সুমতি – প্যানপেনে সামাজিক গল্প। আবার বলছি সামাজিক গল্প যাদের ভাল লাগে, খুব ভাল লাগবে। রেটিং ৩.৫/৫
35. মর্গের নেকড়ে ইঁদুর – গায়ে কাঁটা দেওয়া এবং আক্ষরিক অর্থেই ‘ওস্তাদের মার শেষ রাতে’ গোছের থ্রিলার। মনস্তাত্বিক বৈকল্যের ওপরে দুর্ধর্ষ গা হিম করে দেওয়া গল্প। রেটিং – ৫/৫
সবধরনের গল্প থাকায় পড়তে একঘেয়েমি লাগে না, এবং প্লটের অভিনবত্বে বইটি শেষ না হওয়া অবধি ছাড়া যায় না।
দেবারতি মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে আমার পর্যবেক্ষণ – থ্রিলার হোক বা মুচমুচে প্রেম কিংবা সামাজিক, ওঁর সব গল্পে বেশ পড়াশুনোর ছাপ থাকে, সম্পূর্ণ নতুন কোনো জিনিষ জানা যায়, গল্পের পেছনে পরিশ্রমটা বোঝা যায়। ইউনিক প্লট, অপ্রত্যাশিত কোনো মোচড় দিয়ে গল্প শেষ করা আরেক বৈশিষ্ট্য। আর নারী মাত্রেই যে স্বাবলম্বী, বা স্বাবলম্বী হওয়া উচিৎ সেটাও ওঁর সামাজিক গল্পে বারবার এসেছে, নারীর প্যানপেনে অত্যাচারিত হবার মেগাসিরিয়াল নেই। আর থ্রিলার, ভয়, প্রেম, রহস্য সব গল্পই আকর্ষণীয়।
এই মাত্র " গ্রীস দেশের সরস্বতী" গল্পটি পড়ে শেষ করার সাথে সাথে আপনার লেখা "নির্বাচিত 82 " গল্পের সবকটি গল্প পড়ে শেষ করলাম। অদ্ভুত এক ভালোলাগায় মন আমার আচ্ছন্ন হয়ে আছে। আজ দেবীপক্ষের সূচনা আজকে তাই এই অ্যাথেনা ও শ্রীদীপ্ত র গল্প পড়ে মা সরস্বতী নির্ভর একটি গল্প পড়ে অনেক ভালো লাগছে।গত জানুয়ারিতে খড়গপুর বইমেলাতে এই বইটি কিনেছিলাম।শেষের দিকে যাওয়ায় আপনার লেখা "নরক সংকেত","অঘোরে ঘুমিয়ে শিব" ও আরো যা বই ছিল সব পাঠকরা কিনে নিয়ে চলে গেছিলেন। আমার জন্য ছিল এই নির্বাচিত 42। বইটির ভিন্নস্বাদের গল্পগুলি পড়ে সত্যিই খুব।ভালো লেগেছে।কিছু গল্প পড়ে মনে হয়েছে "সুগারবেবি" টিকলির গোলাপি স্কুটি আর পাঁচটা ষাঁড় ","কালো চিঠি"। র মত অনেক বিষয় সত্যি অনেক অভিনব। এছাড়া "ঝরাপাতার রূপকথা"র মত আশা রাখি যেসব মানুষের সমাজের কারণে বিচ্ছেদ ঘটেছে মরণের আগে তাদের একটিবার দেখা হোক।সব "মধুছন্দাদের শাশুড়ি নয় তাদের নতুন মা এর সাহায্যে ভয় কাটিয়ে উঠুক" ,"ফেকবুক" এর মত মিথ্যে দেখন দারি সম্পর্ক না হয়ে আসল সম্পর্ক গুলো অনাড়ম্বর ভাবেই বাঁচুক। প্রত্যেক টি গল্পই নতুন ভাবে কিছু শেখায় আশা।জাগায়। কিছু জীবনমুখী গল্প আশা জাগায় মনে,পরবর্তীতে যা মনে থেকে যাবার মতো,"দেবীপক্ষ" এর শেষ পরিণতি বা "অনাহূত" গল্পের শেষের পরিণতি চোখে জল আনে,"ইন্দিবর " বা " দোলগোবিন্দ বাবুর চশমা " সবই অনবদ্য।এছাড়া "আমাকে মোটা বোলো না","রাগিণীর রাগ" বা " পটিয়সী" পড়ে মুখে হাসি চলে আসে।
আমি সচরাচর কোনো বইয়ের রিভিউ দেই না। কিন্তু এই বইটি পড়ে এতটাই অভিভূত হয়েছি যে আমার অনুভূতি প্রকাশ না করে পারলাম না। এই বইতে নানারকম স্বাদের ৪২টি গল্প আছে। প্রায় সবগুলা গল্পই অতি চমৎকার। কোনো গল্প পড়তে গিয়ে হয়তো মনে এক অদ্ভূত ভালোলাগা সঞ্চার হচ্ছিল, প্রশান্তিতে ভরে উঠছিলে হৃদয়। আবার কিছু কিছু গল্পে এতটাই ইমোশনাল এটাচমেন্ট ছিলো যে পড়তে গিয়ে কখন যে দু'চোখ বেয়ে জল গড়াতে শুরু করেছে নিজেই বুঝতে পারিনি। আমাদের চারপাশের চেনা জগতের চেনা মানুষের মানবীয় অনুভূতিগুলো লেখিকা যেভাবে অসাধারণ ভঙ্গিমায় উপস্থাপন করেছেন তার কোনো তুলনা হয়না। বইটা পড়া শেষ করার পর মনে হচ্ছে, এত তাড়াতাড়ি শেষ না হলেও বোধহয় চলত!
# নির্বাচিত ৪২ শহরতলির আনাচে কানাচে অথবা সেখান থেকে অনেকটা দূরে জমে থাকা সমাজের সমস্ত কাহিনীরা একের পর এক গল্প শুনিয়ে যায়,সঙ্গে আসেন তিতলি, মধুছন্দা, সুকন্যা... আর সবশেষে সবচেয়ে কাছের গল্প 'বাবা'; কসবার অলিগলি পেরিয়ে কলকাতার রাস্তায় যে মুঠোটা আঁকড়ে রাখে, পরম স্নেহে, শান্তিতে....
বিপথগামী একটা মানুষের উত্তরণের গল্প শুনতে শুনতে চোখের জল বাগ মানছিল না। আমি ভীষন আবেগপ্রবণ। আপনার লেখার জাদুতে কখন যে ধ্রুবর চরিত্রের মধ্যে ঢুকে গেছে বুঝতেই পারিনি। অসাধারণ।