ছোটবেলায় শোনা রূপকথার গল্প কিংবা আজকের যুগের বিভিন্ন ব্লকবাস্টার সিনেমাগুলোর মাঝে একটি কমন বিষয় দেখতে পাবেন; তা হচ্ছে ভালো-মন্দের চিরন্তন লড়াই। ইসলামেও হক বাতিলের লড়াই চলছে। তবে চিরন্তন না হলেও এর শুরুটা হয়েছে আদি পিতা আদম আ. -এর সৃষ্টির সূচনালগ্নে। সে হিশেবে আমরা প্রত্যেকেই যুদ্ধের ময়দানে দাঁড়িয়ে। একদিকে ইবলিশ তার পূর্ণ বাহিনী নিয়ে লড়ছে, আরেকদিকে আদম সন্তানেরা। এই যুদ্ধে শয়তানের মূল টার্গেট আমাদেরকে শিরক করানো, আর আমাদের মূল টার্গেট ঈমান ধরে রাখা। তাই সমস্ত নবি-রসূলের মিশন ছিল এটাই; সমস্ত মিথ্যা ইলাহকে প্রত্যাখ্যান এবং এক ইলাহের ইবাদতে ফিরিয়ে আনা। কারণ এটাই ইসলামের মূল ভিত্তি। তাওহিদ ছাড়া ইসলাম হয় না। তাওহিদ হচ্ছে মুমিনের প্রাণ। যে বুকে তাওহিদ নেই, সেই বুকে জীবন নেই। তাই ইবলিশের ফোকাস এখানেই। কিন্তু দুঃখজনক-ভাবে আজ তাওহিদের সুরক্ষার পরিবর্তে কেবল বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান ও মতপার্থক্য নিয়ে আমরা ব্যস্ত; শেকড়কে ভুলে আজ শাখাপ্রশাখার দিকে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত। . এই শূন্যস্থান পূরণের ইচ্ছা থেকেই Ilmhouse Publication নিয়ে আসছে শায়খ আহমাদ মুসা জিবরিলের হাফি. -এর ‘শারহুল উসুল আছ-ছালাছা‘ লেকচার সিরিজ সংকলন ‘তাওহিদের মূলনীতি’। বইটিতে তাওহিদের সেইসকল বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে, যে বিষয়গুলোর সম্পর্কে জানা সময়ের দাবী এবং ফরজ ইলমের অন্তর্ভুক্ত।
শায়খ আহমেদ মুসা জিবরীলের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে। তার পিতা শায়খ মুসা জিবরীল রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন মদীনার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সেই সুবাদে আহমেদ মুসা জিবরীল শৈশবের বেশ কিছু সময় কাটান মদীনায় । সেখানেই ১১ বছর বয়সে তিনি হিফয সম্পন্ন করেন। হাইস্কুল পাশ করার আগেই তিনি বুখারী ও মুসলিম শরীফ মুখস্ত করেন। কৈশোরের বাকী সময়টুকু তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই কাটান এবং সেখানেই ১৯৮৯ সালে হাইস্কুল থেকে পাশ করেন। পরবর্তিতে তিনি বুখারী ও মুসলিম শরিফের সনদ সমূহ মুখস্ত করেন আর এরপরে হাদিসের ৬টি কিতাব (কুতুব সিত্তাহ) মুখস্ত করেন। এরপর তিনিও তার বাবার পদাঙ্ক অনুসরন করে মদীনার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শরীয়াহর উপর ডিগ্রী নেন।
আহমাদ মুসা জিবরীল শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উসাইমীনের (রাহিমাহুল্লাহ) তত্ত্বাবধানে অনেকগুলো কিতাবের অধ্যায়ন সম্পন্ন করেন এবং তিনি তার কাছ থেকে অত্যন্ত বিরল তাযকিয়্যাও লাভ করেন।
শায়খ বাকর আবু যাইদের (রাহিমাহুল্লাহ) সাথে একান্ত ক্লাসে তিনি আল ইমাম ওয়াল মুজাদ্দিদ শায়খ মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহ্হাব (রাহিমাহুল্লাহ) ও শায়খ আল-ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যার (রাহিমাহুল্লাহ) কিছু বইও অধ্যায়ন করেন। তিনি শায়খ মুহাম্মাদ মুখতার আশ-শিনক্বিতীর অধীনে ৪ বছর পড়াশুনা করেন। আল্লামাহ হামুদ বিন উক্বলা আশ- শু’আইবীর অধীনেও তিনি অধ্যায়ন করেন এবং তাযকিয়্যাহ লাভ করেন।
তিনি তার পিতার সহপাঠি শায়খ ইহসান ইলাহি যহীরের অধীনেও পড়েছেন। শায়খ মুসা জিবরীল (শায়খ আহমেদ মুসা জিবরীলের পিতা) শায়খ ইহসানকে অ্যামেরিকায় আমন্ত্রন জানান। শায়খ ইহসান অ্যামেরিকায় কিশোর শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীলের সাথে পরিচিত হবার পর চমৎকৃত হয়ে তার বাবাকে বলেন – ইন শা আল্লাহ আপনি একজন মুজাদ্দিদ গড়ে তুলেছেন! তিনি আরও বলেন – “এই ছেলেটি তো আমার বইগুলো সম্পর্কে আমার চেয়েও বেশি জানে!”
শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীল “আর-রাহীকুল মাখতুম”- এর লেখক সাফিউর রাহমান আল-মুবারাকপুরির (রাহিমাহুল্লাহ) অধীনে দীর্ঘ ৫ বছর অধ্যায়ন করেন। এছাড়াও তিনি অধ্যায়ন করেন শায়খ মুক্ববিল, শায়খ আব্দুল্লাহ গ্বুনায়মান, শায়খ মুহাম্মাদ আইয়ুব এবং শায়খ আতিয়াহ আস-সালিমের অধীনে। এদের মধ্যে শায়খ আতিয়াহ আস-সালিম ছিলেন শায়খ আল-আল্লামাহ মুহাম্মাদ আল আমিন শানক্বীতির (রাহিমাহুল্লাহ) প্রধান ছাত্র, এবং তিনি শায়খ আশ-শানক্বিতির ইন্তেকালের পর তার প্রধান তাফসির গ্রন্থ আদওয়া উল বায়ানের কাজ শেষ করেন।
শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীল শায়খ ইব্রাহিম আল হুসাইনের এর ছাত্র ছিলেন। শায়খ ইব্রাহিম ছিলেন শায়খ আব্দুল আযিয বিন আব্দুল্লাহ বিন বাযের (রাহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহচর। শায়খ আব্দুল্লাহ আল-ক্বুদের (আল-লাজনাহ আদ দা-ইমাহ লিল বুহুতুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতাহ – Permanent Committee for Islamic Research and Issuing Fatwas– এর প্রথম দিকে সদস্য) সাথে শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীল হাজ্জ করার সুযোগ লাভ করেন। এছাড়া তিনি দুই পবিত্র মাসজিদের রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বে নিয়োজিত কমিটির প্রধান শায়খ সালিহ আল-হুসাইনের অধীনেও অধ্যায়নের সু্যোগ পান।
তিনি মহান মুহাদ্দিস শায়খ হামাদ আল-আনসারির রাহিমাহুল্লাহ অধীনে হাদীস অধ্যায়ন করেন এবং তার কাছ থেকে তাযকিয়্যাহ লাভ করেন। তিনি অধ্যায়ন করেন শায়খ আবু মালিক মুহাম্মাদ শাক্বরাহ-র অধীনে। শায়খ আবু মালিক ছিলেন শায়খ আল-আলবানির (রাহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। শায়খ আল-আলবানি তাঁর ওয়াসিয়্যাহতে শায়খ আবু মালিককে তার জানাযার ইমামতি করার জন্য অনুরোধ করেন। . শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীল শায়খ মুসা আল-ক্বারনিরও (রাবী আল-মাদ্বখালির জামাতা) ছাত্র। ক্বুরআনের ব্যাপারে শায়খ আহমাদ ইজাযাহ প্রাপ্ত হন শায়খ মুহাম্মাদ মা’বাদ ও অন্যান্যদের কাছ থেকে। শায়খ মুসা জিবরীল ও শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীলের; ইলম থেকে উপকৃত হবার জন্য শায়খ বিন বায অ্যামেরিকায় থাকা সৌদি ছাত্রদের উৎসাহিত করেন। শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীল শায়খ বিন বাযের কাছ থেকে তাযকিয়্যাহ অর্জন করেন (শায়খ বিন বাযের মৃত্যুর তিন মাস আগে)।
শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীলের ব্যাপারে মন্তব্য করার সময়ে শায়খ বিন বায তাকে সম্বোধন করেন, একজন “শায়খ” হিসেবে এবং বলেন তিনি “(আলিমদের কাছে) পরিচিত” ও “উত্তম আক্বিদা পোষণ করেন।”
শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীল নিজেকে শায়খ হামুদ বিন উক্বলা আশ-শু’আইবি রাহিমাহুল্লাহ, শায়খ আলি আল খুদাইর হাফিযাহুল্লাহ, শায়খ নাসির আল ফাহদ ফাকাল্লাহু আশরাহ, শায়খ সুলাইমান আল ‘উলওয়ানসহ ফাকাল্লাহু আশরাহ ঐসব আলিমদের সিলসিলার অনুসারী মনে করেন যারা বর্তমান সময়ে শায়খ আল-ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ, আল ইমাম ওয়াল মুজাদ্দিদ মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহ্হাব ও উলামায়ে নাজদের শিক্ষাকে সত্যিকারভাবে আকড়ে আছে, যারা প্রকৃত অর্থে উলামায়ে নাজদের উত্তরসূরী। তার সব শিক্ষকের মাঝে শায়খ আল আল্লামাহ শায়খ হামুদ বিন উক্বলা আশ-শু’আইবীকে রাহিমাহুল্লাহ তিনি তার প্রধান শায়খ মনে করেন, এবং শায়খ
ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ এ দুনিয়াতে ছিলেন নিঃস্ব। তিনি এমন সময়ও পার করেছেন যখন তাঁর পরনের জন্য ছিল কেবল একটি জামা। তাঁর রাতগুলো কাটত মাসজিদুল আমাওয়িতে। তাঁর জীবনের লম্বা একটি অংশ কেটেছে কারাগারে যাওয়া-আসার মধ্যে। অথচ এ মানুষটিই বলতেন, ‘আমাদের অন্তর বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে। আমি যা অনুভব করছি জান্নাতিরাও যদি তা অনুভব করত তবে নিজেদের সত্যিকারের সৌভাগ্যবান মনে করত।’ . অথচ বাহ্যিকভাবে, পার্থিব বিচারে তাঁর জীবন ছিল দুঃখ-কষ্টে পরিপূর্ণ। তিনি আরও বলতেন, ‘জান্নাতিদের জীবন যদি আমার এই জীবনের মতো সুখের হয়, তবে তো এমন জীবনই উত্তম, আমি তো এর-ই প্রত্যাশা করি।’ দুনিয়ার জীবনে যার বলার মতো কিছুই ছিল না এমন একজন মানুষ এ কথা বলছেন। তিনি বলছেন—যে ব্যক্তি দুনিয়ার জান্নাতে প্রবেশ করেনি, সে কখনো পরকালীন জান্নাতেও প্রবেশ করতে পারবে না। . আবার সালাফদের কেউ কেউ বলতেন যে, হৃদয়ের এ প্রশান্তির কথা যদি রাজা, বাদশাহ ও শাসকরা জানত, তাহলে তা ছিনিয়ে নেবার জন্য আমাদের সাথে যুদ্ধ করত। . অথচ তাঁদের অধিকাংশেরই জীবন কেটেছে কারাগার, পরীক্ষা আর নানা ধরনের জটিলতায়। কী সেই জিনিস যা পার্থিব বিচারে নিঃস্ব এই মানুষগুলোর অন্তরে এমন প্রশান্তি ঢেলে দিয়েছিল? তাঁরা আল্লাহ -এর দেয়া ইলমের ওপর আমল করেছিলেন, আর এটাই তাঁদের জীবনে এনে দিয়েছিল সর্বোচ্চ প্রশান্তি। এটাই হলো ইলম অর্জনের ওই ফসল যা দুনিয়াতেই পাওয়া যায়, আর পুরস্কার হিসেবে পরকালে জান্নাত তো আছেই ইন শা আল্লাহ। . আমরা কি জান্নাতুল ফিরদাউস চাই না? আমরা দুনিয়ার জীবনে প্রশান্তি চাই না? এগুলো তো ইলম অর্জনের মাধ্যমেই সম্ভব।
‘ইহুদিদের কাছে ইলম ছিল কিন্তু তারা ইলম অনুযায়ী আমল করত না। আর খ্রিষ্টানরা ইলম ছাড়াই আমল করত; এ কারণে প্রথম দলটি অভিশপ্ত এবং দ্বিতীয় দলটি পথভ্রষ্ট হয়েছে।’
"ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ বলেন, ‘এই উম্মাহর মাঝে যারা অজ্ঞতার কারণে পথভ্রষ্ট হয়, তারা খ্রিষ্টানদের সাথে সাদৃশ্য রাখে আর ইলমের ওপর আমল না করার কারণে আলিমদের মধ্যে থেকে যারা বিপথগামী হয়, তারা ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য রাখে।"
~ খতীব আল-বাগদাদি।
দুঃখজনক বাস্তবতা হলো আজ মুসলিম সমাজে অধিকাংশের তাওহীদের জ্ঞান ও নেই।আমরা কাদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হচ্ছি?
সকল মূলনীতির চূড়ান্ত মূলনীতি হলো তাওহীদ। কিন্ত দুঃখজনক বাস্তবতা হলো উম্মাহর এক বৃহৎ অংশের কাছে ইসলাম অবহেলিত। অন্য অংশের ও বৃহৎ অংশ ফিকহি মতপার্থক্য, বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান,আমলি বিষয়সমূহ নিয়ে ব্যস্ত হলেও আল্লাহ এর প্রতি আমাদের দায়িত্ব কী? আমাদের কাছে আল্লাহ্ কি চাচ্ছেন? সেটা নিয়ে আলোচনা বিরল। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের শর্ত কি? কীভাবে এ বিশ্বাস পূর্ণ হবে- সেই বিশুদ্ধ তাওহীদ নিয়ে আলোচনা নেই।
শায়খ আহমাদ মূসা জিবরিলের "Explanation of the three fundamental principles" লেকচারটি "তাওহীদের মূলনীতি" নামে প্রকাশিত হয়েছে।১৪টি দরসের প্রত্যেকটি যেনো এই অসুস্থ উম্মাহর জন্যে অক্সিজেনের যোগান।
শায়খ আহমদ মূসা জিবরিল(হাফিঃ) এর সাথে পরিচয 'ধুলিমলিন উপহার : রমাদান' বইটির মাধ্যমে।'শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীলের ব্যাপারে মন্তব্য করার সময়ে শায়খ বিন বায(রহিঃ) তাকে সম্বোধন করেন, একজন “শায়খ” হিসেবে এবং বলেন তিনি “(আলিমদের কাছে) পরিচিত” ও “উত্তম আক্বিদা পোষণ করেন।” উম্মাহর জন্য দরদী এই আলেমের বই এবং লেকচারগুলো যেমন পান্ডিত্যপূর্ণ তেমনি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রত্যেক নবী-রাসূল আলাইহিমুস ওয়াস সালাম এক অভিন্ন উদ্দেশ্যে আগমন করেছেনঃ মিথ্যা ইলাহকে প্রত্যাখ্যান ও এক রবের আনুগত্য করার শিক্ষা দেওয়া। তাওহীদের শিক্ষা দেওয়া এবং শিরক কুফরের সাথে সম্পর্কছেদ করে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা।যার তাওহীদ নেই তার পাহাড়সমান আমল ও মূল্যহীন।
মূল আলোচনা তিনটি মূলনীতি এবং চারটি বুনিয়াদি বিষয় নিয়ে। ১৪টি দরসে একে একে পাঠক জানতে পারবে ইলমের গুরুত্ব,ইলম অর্জনের ধাপসমূহ,ইলমের স্তর,মর্যাদা,ইলম এবং আমলের সম্পর্ক,হালাল হারামের জ্ঞান, আকিদাহর ক্ষেত্রে তাকলীদ,দাওয়া, দাওয়ার ক্ষেত্রে কোমলতা ও কঠোরতা,সবর,সবরের গুরুত্ব,ইমানের ক্ষেত্রে আমল,ইমানছাড়া আমল,সূরা আসরের আলোকে সময়ের গুরুত্ব ন প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রজ্ঞাপূর্ণ আলোচনা যা সালাফদের উদাহরণ ও বাণীতে সমৃদ্ধ।
বইটি পাঠের অনুভূতি এক কথায় অভূতপূর্ব। বইটি যে কাউকে যেমন ইলম অর্জনের গুরুত্ব বুঝাতে সক্ষম তেমনিভাবে উৎসাহিত ও করতে সক্ষম। ইলম এবং আমলে সমন্বয়ের গুরুত্ব বুঝাবে বইটি।তেমনিভাবে মানবজীবনে সময়ের গুরুত্ব উপলব্ধি করাতে, বিপদে মুসিবতে সবর করার শক্তি ও সাহস যোগাতে ও সক্ষম ।
ইমাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহিঃ) র একটি কথা আছে, 'দুনিয়াতে ও একটি জান্নাত আছে,যে ব্যক্তি এই জান্নাতের সন্ধান পায়নি,সে আখিরাতে ও এর সন্ধান পাবে না।' এই বই জানাবে কোথায় সেই জান্নাত,কীভাবেই বা তা অর্জিত হয়।
বস্তুত, মানবজীবনের উদ্দেশ্য কী এটা সবচেয়ে উচ্চারিত দার্শনিক প্রশ্ন।একমাত্র আসমানি ইলমেই আছে তার উত্তর।
বইটি আমার মতে সকল অনুসন্ধিৎসু পাঠকের জন্য পড়া আবশ্যক।এই বই আপনার ইলম অর্জনের পথে সাথি হবে,ইলম আর আমলের মেলবন্ধনের মাধ্যমে কীভাবে রবের প্রিয় হতে হয়,সবর আর সময়ের গুরুত্ব জানাবে।
বই: তাওহিদের মূলনীতি (১ম খণ্ড) মূল: শায়খ আহমাদ মুসা জিবরিল অনুবাদ: ইলমহাউস অনুবাদক টিম অনুবাদ নিরীক্ষণ: শায়খ মুনীরুল ইসলাম ইবনু যাকির। প্রথম প্রকাশ: নভেম্বর, ২০১৮। পৃষ্ঠা সংখ্যা – প্রায় ৪০০। দামঃ৩৬০ টাকা রেটিংঃ৫/৫
ইসলামে তাওহীদ বলতে আমার কী বুঝি, একজন মুসলিমের জীবনে তাওহীদের গুরুত্ব কতটুকু - এসব বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য তাওহীদের মূলনীতি অত্যন্ত সময়পোযোগী একটি বই। সকলের পড়া উচিত।