‘দশ’ পাঠকের সামনে তুলে ধরে সমসাময়িক বাংলা কল্পগল্প সাহিত্যের একটি শক্তিশালী দৃষ্টান্ত। এই সংকলনে স্থান পেয়েছে দশটি স্বল্পদৈর্ঘ্য গল্প, যেগুলোর প্রতিটি আলাদা স্বাদ ও ধরণের প্রতিনিধিত্ব করে—কখনো কল্পবিজ্ঞান, কখনো ভৌতিক, আবার কখনো বা একেবারে মানবিক বাস্তবতায় গাঁথা।
‘দশ’–এর অন্যতম শক্তি হলো এর সহজ, প্রাঞ্জল ভাষা। লেখক কল্পবিজ্ঞানের জটিলতা বা অতিপ্রাকৃত গল্পের গূঢ়তা বোঝাতে কোনো জটিল শব্দের আশ্রয় নেননি। বরং সংযত ও সংবেদনশীল ভাষায় গল্পগুলোকে সহজ করে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
‘নূর’, ‘স্মৃতি’ ও ‘জীবন’—এই তিনটি কাহিনিতে ভবিষ্যৎ ও প্রযুক্তির ছোঁয়া থাকলেও এগুলোর আবেগপ্রবণ উপস্থাপন একে শুধুই কল্পবিজ্ঞান নয়, বরং মানবিক গল্পে রূপান্তর করেছে। ‘সময়’, ‘মান’ ও ‘খেলা’—এই গল্পগুলো মানুষের অভিজ্ঞতা, মনস্তত্ত্ব ও সম্পর্কের টানাপোড়েন তুলে ধরে, যা তরুণ পাঠকদের পাশাপাশি পরিণত পাঠকদেরও ভাবতে বাধ্য করে। ‘ফাঁদ’ ও ‘খাম’—এই গল্পদুটি অপেক্ষাকৃত হালকা প্রকৃতির, কিন্তু নির্মাণে যথেষ্ট যত্নশীল। ‘বাড়ি’ ও ‘কালো’—এই দুটি গল্পে অলৌকিকতা ও সাইকোলজিকাল থ্রিলের সংমিশ্রণ বিশেষভাবে লক্ষ্যনীয়। বিশেষ করে ‘কালো’ গল্পটির পরিণতি পাঠকের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলতে সক্ষম।
লেখক ঋজু গাঙ্গুলী তার পাঠক-প্রত্যাশা সম্পর্কে সচেতন, এবং তিনি জানেন কীভাবে ভাষার ভারসাম্য বজায় রেখে গল্পে বিনোদন, বার্তা ও আবেগকে একত্রিত করতে হয়।
যারা কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকদের উপযোগী গল্পের একটি ভারসাম্যপূর্ণ সংগ্রহ খুঁজছেন, তাদের জন্য ‘দশ’ একটি যথাযথ পছন্দ। লেখক ও প্রকাশক—উভয়েরই এই প্রয়াসকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। নমস্কার!