তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের আমরা প্রাকৃত ভাষায় 'আইটি-র ভাইটি' বলে থাকি। তেমনই একঝাঁক ভাই, বোন, দাদা ও দিদি-র লেখা স্থান পেয়েছে এই হার্ডকভারে। মুশকিল হল, কোড লেখা আর গল্প লেখা এক জিনিস নয়। ফলে বইটি পড়ার অভিজ্ঞতা রীতিমতো বেদনাদায়ক হয়ে দাঁড়াল। বইটিতে একগাদা গল্প (?) আছে। তাদের মূলত তিনটি বর্গে ভাগ করা হয়েছে।
'কয়েক মেগাবাইট ভয়' শীর্ষক অংশে আছে কিছু অলৌকিক বা ইহলৌকিক ভয়ের আখ্যান। এখানে মোট ন'টি কাহিনি স্থান পেয়েছে, যাদের বেশিরভাগ অখাদ্য বা বড়োজোর ক্লাস নাইনের ওয়াল ম্যাগাজিনের পক্ষে যুতসই। তবে দু'টি গল্প ঘ্যাম লাগল। স্মার্টনেসে, মিতকথনের মধ্যেও বর্ণনকৌশলে এবং মোচড়ে এরা এই অংশের গোবরের স্তূপে দু'টি পদ্মফুল~ ১] সৌভিক দাস-এর লেখা "এবার লেখা পড়তে পারছেন?" ২] অনির্বাণ দত্তচৌধুরী-র "রঙ্গমঞ্চ"
'অনেক গিগাবাইট ভালো লাগা' অংশটি ভালোলাগা, ভালোবাসা, মোহ ইত্যাদি ভাবনা নিয়ে লেখা গল্পের সংকলন। এখানেও তাল-তাল গোময়ে গল্পলোক ইয়েময় হয়ে গেছে। সেভিং গ্রেস দু'টি ঝকঝকে আধুনিক গল্প, যাদের গল্প কম, বরং ভাবনার খোরাক এবং সমকালের দর্পণ বলাই যথাযথ~ ১) রোহণ কুদ্দুস-এর "চোদ্দোর তিন নাসিম আলতাফ স্ট্রিট" ২) অভ্র পাল-এর "লম্পট ও লাস্যময়ী"
'রৌদ্রছায়ার লুকোচুরি' নামক অংশটিকে সংক্ষেপে 'ডাস্টবিন' বা ভালোভাবে 'সত্তর দশকের বাংলা সিনেমা নামক তেলেভাজা খাওয়ার পরের চোঁয়া ঢেঁকুর' বলা যেতে পারত। এখানে কারা কী লিখেছেন, তাই লিখে আর সময় নষ্ট করতে চাইছি না। তবে হ্যাঁ, জনৈক পল্লবকুমার ব্যানার্জি এখানে 'পার্থ' নামের যে গল্পটি লিখেছেন তা ভুল বানান, বাংলা কথার মধ্যে অকারণ ইংরেজি ব্যবহার, তাও আবার ইংরেজি হরফে (!), এবং গল্পটির সামগ্রিক পয়েন্টলেসনেসে যাচ্ছেতাই লেখার মধ্যে কোহিনূর টাইপে উঠেছে। সব মিলিয়ে এটাই বলার যে আপনি নিজেও যদি আইটির ভাইটি হিসেবে এই উদ্যোগকে সমর্থন জানাতে চান, তাহলে আড়াইশো টাকা গাঁটগচ্চা দিন। নইলে ছাব্বিশটি গল্পের মধ্যে চারটি পড়ার আশায় এটি কেনা চাপের হয়ে যাবে। অন্তত আমার হয়েছে। (ভাঙা গলায়, সম্পাদকদের উদ্দেশে) "পারবে? পারবে ফিরিয়ে দিতে আমার দু'শোটা (২০% ছাড়ের পর) টাকা?"