ভট্টনগর নামে একটা না-গ্রাম না-মফস্সল ধরনের জায়গা এই গল্পের পটভূমি। গল্পের নায়ক অবনীশ হালদার একজন নির্বিরোধী, শান্তিকামী, কিছুটা সুযোগসন্ধানী এবং সামান্য চরিত্রহীন মধ্যবিত্ত মানুষ। তার স্ত্রী কুমকুম। স্ত্রীর সঙ্গে রাংতা মোড়া আপাত চকচকে একটা দাম্পত্যজীবন থাকলেও, মোড়কের ভেতরটা আবর্জনায় ভরা। কারণ, তারা নিঃসন্তান। অবনীশের নিজের কথায় আমাদের প্রেম
কৃষ্ণপক্ষের চাঁদের মতো একটু একটু ক্ষয়ে গিয়ে এখন ভরা অমাবস্যা।
তো, অবনীশ একদিন অফিস থেকে ফিরে দেখল বাড়ি ফাঁকা। কুমকুম নেই। একদম হাওয়া।
কী হল কুমকুমের? অন্য কোনও প্রেমিকের সঙ্গে কি গৃহত্যাগ করল! নাকি কেউ অপহরণ করল ? বিক্রি করে দিল। খারাপ জায়গায়। নাকি অপহরণের পর অজ্ঞান করে কেটে নিল কিডনি বা ওই জাতীয় কোনও প্রত্যঙ্গ !
এইসব নানাবিধ দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়েই পরদিন থানায় গেল অবনীশ। মিসিং ডাইরি করল। কুমকুমের খোঁজ শুরু করল পুলিশ। তারপর? পাওয়া গেল কি কুমকুমকে ?
উল্লাস মল্লিকের জন্ম ১৯৭১ হাওড়া জেলায়, গাছগাছালি দিঘি ঘেরা এক শান্ত গ্রামে।বাবা সমরসিংহ মল্লিক, মা গীতা মল্লিক। একটু বড় হয়ে সপরিবারে চলে আসেন হাওড়া জেলারই আর এক চমত্কার গ্রাম কেশবপুরে।বাবা ছিলেন সেখানকার বিশিষ্ট শিক্ষক। স্নাতক হবার পর শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু।চাকরি ছেড়েছেন; পেশা বদলেছেন।দুষ্টুমির বাল্যকৈশোর, অনিশ্চিত কর্মজীবন, চেনা-অচেনা, ভাল-মন্দ বাছবিচার না করেই মানুষের সঙ্গে মেলামেশা, অদ্ভুত সব ঘটনা আর স্নিগ্ধ প্রকৃতি তাঁর লেখা জুড়ে।মনে আনন্দ আর রসবোধ নিয়েই বেঁচে থাকতে চান। ২০০০ সালে লেখালিখির শুরু।বিভিন্ন বছরে ‘দেশ’ হাসির গল্প প্রতিযোগিতায় বিজয়ী।একডজন উপন্যাস, দেড়শোর বেশি গল্প আর রম্যরচনা লিখেছেন।
ডুগডুগি উল্লাস মল্লিক দেজ পাবলিশিং মম : ১৬০/- ডুগডুগি নিয়ে তেমন কিছু বলার নেই। হঠাৎ একদিন বাড়ি ফিরে এসে গল্পের নায়ক দেখেন যে বউ বাড়িতে নেই। এখন কোথায় গেছে, কেন গেছে, অভিমানে গেছে না অভিসারে, সেটা পড়ে জানা যাবে।
তবে এই বৌয়ের খোঁজে যে কান্ড কারখানা সেটাই গল্প। প্রথম দিকে বেশ ভালো সরস ভাব, মানে প্রেম পরকীয়া চলছিল, পরের দিকে সব পাতাতেই যেন সাবধান ইন্ডিয়া চলতে লাগলো। এ একে ধোঁকা দিচ্ছে, এ তার সাথে পালিয়ে গেলো।
যাইহোক, বউ পাওয়া নিয়ে শেষের গল্পটা স্রেফ গাঁজাখুরি লাগলো। মানে তেলে জলে গল্পটা শেষ হলো, মিশ খেলো না।