মনিকা এক দৃষ্টিতে নিয়ানের দিকে তাকিয়ে রইল। গায়ের রং ককেশিয়ানদের মতো ধবধবে সাদা। মাথায় সোনালি চুল ঘাড় পর্যন্ত নেমে এসেছে। একটা পশুর চামড়া তার কোমর থেকে ঝুলছে। ওপরে কিছু নেই, খালি গা। সুঠাম পেশিবহুল দেহ। উঁচু কপাল এবং খাড়া নাক। লম্বাটে মুখ, শক্ত চোয়াল।
Muhammed Zafar Iqbal (Bengali: মুহম্মদ জাফর ইকবাল) is one of the most famous Bangladeshi author of Science-Fiction and Children's Literature ever to grace the Bengali literary community since the country's independence in 1971. He is a professor of Computer Science & Engineering at Shahjalal University of Science and Technology (SUST). Before that, Iqbal worked as a research scientist in Bell Communication Research for six years until 1994.
Birth and Family Background: Iqbal was born on 23 December 1952 in Sylhet. His father, Foyzur Rahman Ahmed, was a police officer. In his childhood, he traveled various part of Bangladesh, because of his father's transferring job. Zafar Iqbal was encouraged by his father for writing at an early life. He wrote his first science fiction work at the age of seven. On 5 May 1971, during the liberation war of Bangladesh, the Pakistan's invading army captured his father and killed him brutally in the bank of a river.
Education: Iqbal passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1968 and HSC exam from Dhaka College in 1970. He earned his BSc in Physics from Dhaka University in 1976. In the same year Iqbal went to University of Washington to obtain his PhD and earned the degree in 1982.
Personal Life: Iqbal married Dr. Yasmeen Haque in 1978. Yasmeen is the Dean of the Life Science Department, Head of the Physics Department, Provost of the Shohid Janoni Jahanara Imam Hall and a researcher at SUST. They have two children - son Nabil and daughter Yeshim. Yeshim translated the book Amar Bondhu Rashed (Rashed, My Friend) written by her father. Iqbal's elder brother, Humayun Ahmed, was the most popular author and film-maker of Bangladesh since its independence. Humayun died after a nine-month struggle against colorectal cancer on the 19 July 2012. His younger brother, Ahsan Habib, is the editor of the satirical magazine, Unmad and one of the most reknowned cartoonist of Bangladesh.
Academic Career: After obtaining PhD degree, Iqbal worked as a post-doctoral researcher at California Institute of Technology (CalTech) from 1983 to 1988. He then joined Bell Communications Research (Bellcore), a separate corporation from the Bell Labs (now Telcordia Technologies), as a Research Scientist. He left the institute in 1994 and joined the faculty of the Department of CSE of SUST.
Literary career: Iqbal started writing stories from a very early age. Iqbal wrote his first short story at the age of seven. While studying in the Dhaka University Iqbal's story Copotronic Bhalobasa was published in a local magazine. But, a number of readers at that time felt that the story was based on a foreign story. To answer this allegation, he later rewrote the story and published the story in collection of stories named Copotronic Sukh Dukkho. Since then he is the most popular writer both in Bengali Science-Fiction and in Juvenile Leterature of the country.
Other Activities and Awards: Zafar Iqbal won the Bangla Academy Award, the highest award in literature in Bangladesh, in 2004. Iqbal also played a leading role in founding Bangladesh Mathematical Olympiad. In 2011 he won Rotary SEED Award for his contribution in field of education.
পুরো উপন্যাসটিকে মোটা দাগে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। উত্তরভাগ ও শেষভাগ। উত্তরভাগে একটু একটু করে মূল গল্পের পটভূমি তৈরি করেছেন। মূল গল্পে ঢুকার জন্য এবং মূল গল্পকে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য যা যা করা দরকার তা সেখানে করার চেষ্টা করেছেন। শেষভাগে বলেছেন মূল গল্প। তবে যত প্রস্তুতি নিয়ে প্রাক-কাহিনী বলে মূল গল্পে ঢুকেছেন সেই তুলনায় মূল গল্প বলা হয়নি তেমন। শুরু হয়েই যেন শেষ। মূল গল্পে উপন্যাস হবার মতো কাহিনী হতে গিয়েও হয়নি।
তবে পটভূমির অংশটি খুবই দারুণ হয়েছে। ভ্রমণপিপাসু এবং প্রকৃতির সৌন্দর্যপিপাসু এক মন সেখানে উঠে এসেছে। সেখানে যেন বোঝাতে চেয়েছেন সমাজের প্রচলিত জীবনের বাইরে খুব চমৎকার একটি জীবন আছে আমাদের, যেটিকে অনুসন্ধান করা হয় না অনেকের। বাবা-মেয়ের টুকরো টুকরো খুনসুটি যেন বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে সেখানে। বিশেষ করে কয়েকটি হালকা হাস্যরস যেন একদম জীবন্ত।
সার্বিকভাবে খুব বেশি কিছু দেওয়া যায় না একে। কারণ এর মূল গল্পই শক্তিশালী নয়। গল্পটি তৈরি হতে গিয়েও হতে পারেনি। তার উপর মাত্র ষোল বছরের কিশোরী মেয়ে একইসাথে এত কিছু জানে এবং বুঝে যে ৪০ বছরের অভিজ্ঞ লোককেও হার মানাবে। ১৬ বছরের মেয়ের মাধ্যমে এমনসব ফিলোসফিসূলভ কথাবার্তা বলিয়েছেন যে সেগুলো মনে হয় না বাস্তবে কখনো সম্ভব। গল্পের মূল অংশে এমনসব কাহিনী বলেছেন যেগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয় না একদমই।
স্যারের কোন সাইন্স ফিকশন পড়ে কখনো এত হতাশ হয়নি। সাইন্স ফিকশন ক্যাটাগরিতে না ফেলে কিশোর উপন্যাস ক্যাটাগরিতে ফেলাই আমার কাছে যুক্তিযুক্ত। প্লট দারুণ পছন্দ হলেও মনিকার বয়সের তুলনায় অতিরিক্ত ম্যাচুউরিটি আর ফিলোসফিক্যাল কথা বার্তা আমার কাছে বেশি বেশি মনে হয়েছে (মনিকার বয়স ১৬ বছর), বাস্তবে এমন মেয়ে পাওয়া সম্ভব কী না আদৌ মাথায় আসে না ।
অনেকদিন বাদে মুহম্মদ জাফর ইকবালের এমন একটা গল্প পড়লাম যেটাতে আগের কোনো গল্পের ছাপ নেই। একদমই নতুন ধাঁচের, এক টানাই শেষ।
'নিয়ান' 'নিয়ান্ডার্থাল' শব্দ থেকে এসেছে। চল্লিশ হাজার বছর আগের এক দশ বছরের নিয়ান্ডারথাল বালক সময়ের পরিক্রমায় বরফে জমাটবাঁধা থেকে জেগে ওঠে, আর তার ভাগ্য জড়িয়ে যায় এক প্রবাসী কিশোরী বাঙালি মেয়ের সাথে।
খুবই সুন্দর করে শুরু হওয়া বইটির ইতিটা ভালোই লাগেনি। এমন না যে কোনো অবাস্তব এন্ডিং দেয়া হয়েছে, এমনটাই হওয়ার কথা। কিন্তু ইচ্ছা ছিল এত সুন্দর করে পটভূমি গড়ে তুলে সুন্দর একটা ইতি হোক, ধুপ করে শেষ হয়ে যাক এমন- সেটা চাইনি।
লেখকের বারবার বিদেশযাত্রা মনে হয় গল্পের ধারায় একটু ছাপ রেখেছে। মূল চরিত্র ফসিল বিজ্ঞানী রিয়াজ আর তার মেয়ে মনিকার বাবা-মেয়ে কথোপকথনগুলো বেশ! দুই এক জায়গায় আবেগ আনবার চেষ্টাও আছে। মায়ের লকেট, কিংবা ধনধান্য পুষ্পভরা, কিংবা হোমো স্যাপিয়েন্সের হাতে নিয়ান্ডারথাল নিধন... এগুলো বেশ স্পর্শ করে যায়।
তবে আমি মোটামুটি নিশ্চিত হোয়াইট সুপ্রিমিস্টদের বোঝানোটা মূল উদ্দেশ্য ছিল না, উদ্দেশ্য ছিল অন্য কোনো গোষ্ঠী। মেসেজটা ভালো ছিল যদিও।
বারবার হোমো 'স্যাপিয়েন' (স্যাপিয়েন্সের বদলে) লেখার কারণটা বুঝলাম না। এটা কি অনিচ্ছাকৃত ভুল? নাকি আমি ভুল জানি?
দ্রুত আর ডিস্যাটিস্ফায়িং এন্ডিং এর জন্য, 6.5/10 from me.
বইটা খুব সুন্দর হতে গিয়েও হয়নি। খুব হুটহাট তাড়াহুড়ো করে সব হয়ে যাচ্ছে এমন মনে হয়েছে। তবে ঘটনার পটভূমি জাফর ইকবালের অন্যান্য সায়েন্স ফিকশন থেকে বেশ আলাদা। এখানে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে না। বইটার সমাপ্তি দুক্ষজনক হলেও বাস্তবসম্মত হয়েছে, এটা ভাল ছিল। নিয়ানকে যে বিজ্ঞান শেখানো শুরু করেনি এই ভাগ্য! :P
বইয়ের একটা কথা খুব ভাল লেগেছে। মনিকা স্কুল ছেড়ে দেয়ার পরেও তার বাবা বিশেষ চিন্তিত হয় না কারণ সে জানে যে, মনিকা আবার পড়াশোনা শুরু করবে। "মানুষের জীবন অনেক বড় একটি ব্যাপার, তার তুলনায় এক দুই বছর এদিক-সেদিক হলে কিছু আসে যায় না।" কবে মানুষ বুঝবে এই কথা??কেউ পড়া শেষ করতে একটু দেরি হলে, ৬ মাস চাকরি না পেলে, পঁচিশেও বিয়ে না করলে, অস্থির হবার কিছু নেই? কারণ জীবন অনেক বড়! চেকলিস্টে টিক দিতে দু এক বছর এদিক-সেদিক হলে কিছুই যায়-আসে না?
নিয়ান্ডাথ্রালদের নিয়ে আমারো একসময় অনেক কৌতূহল ছিল যে এরা যদি এখনো আমাদের সাথেই থাকত তাহলে কেমন হত... কিন্তু নিজেও জানি যে আমরা হোমো সেপিয়েন্সদের মধ্যে অনেক বড় সমস্যা বিদ্যমান। আমরা আসলে নিজের পছন্দের বাইরে সবকিছুকেই ঘৃণা করি। তাই আমরা দেশ-জাতি-ধর্ম-গায়ের রং-আর্থিক-সামাজিক-লিঙ্গ সবকিছুর ভিত্তিতেই ভাগ করতে পছন্দ করি... কিন্তু অবাক করা বিষয় হল যে নিয়ান্ডাথ্রালরা একাকী থাকতে পছন্দ করত আর আমরা থাকতাম জোট বেঁধে । এজন্যই তাদেরকে নিঃশেষ করা দেওয়া সম্ভব হয়েছিল আমাদের জন্য। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই আমরাই আজ একাকীত্বে বিলীন হয়ে গেছি...
বইয়েও সেই নিয়ান্ডাথ্রালদের একজনকে খুঁজে পাওয়ার গল্প যেখানে বিজ্ঞানের সহয়তায় তাকে বাঁচিয়ে তূলে তাদেরকে এই পৃথিবী থেকে মুছে ফেলার সমষ্টিগত অপরাধবোধ একটু লাঘবের এক ব্যর্থ প্রচেষ্টা দেখতে পাই... ইউনিক কাহিনী তাই পড়ে দেখতে পারেন।
অনেকদিন পর মুহাম্মাদ জাফর ইকবালের একটা কিশোর সায়েন্স ফিকশন পড়লাম। নিয়ান্ডারথাল এক কিশোরকে বরফে ঘুমন্ত অবস্থায় পায় মনিকা। এই বিশাল আবিষ্কারের পরে নিভৃতচারী মনিকা আবিস্কার করে এই নিয়ান্ডারথাল কিশোরকে মারার জন্য কিছু উগ্রবাদী লোকজন বন্দুক নিয়ে চলে আসে রিসার্চ ফ্যাসিলিটিতে। এরপরের ঘটনা আর নাই বলি। বইয়ে পড়ে নেবেন। আমার বয়সের হয়েছে নাকি লেখকের লেখার ধার আসলেই কমে গিয়েছে সেটা বুঝতে পারছি না। কিন্তু লেখকের মানবপ্রজাতির উপ্রে মায়া মহ��্বত আগের মতই আছে।
বহুদিন পর জাফর ইকবাল স্যারের সায়েন্স ফিকশন পড়ে উপভোগ করলাম। বইটা পুরোপুরি সায়েন্স ফিকশন বিভাগে পড়ে না, চাইলে কিশোর এডভেঞ্চার শ্রেণীতেও ফেলা যায়। তবে বিভাগিকরণ গুরুত্বপূর্ণ নয়, কেমন হলো গল্পটা- সেটাই মূল কথা। আমার ধারণা- বেশিরভাগ পাঠকই উপভোগ করবেন গল্পটুকু। মূল গল্পটিকে আমাদের জানা বৈজ্ঞানিক তথ্যাবলীর নিরিখে পরখ করলে হয়তো বেশ কিছু অনুযোগের সুযোগ মিলবে। তবে কল্পগল্পের ক্ষেত্রে এসব নিয়ে মাথা না ঘামানোই ভালো!
গল্পের শুরুতে মনে হয়েছিল নিয়ানডারথাল নিয়েই কিছু হবে। কিছুক্ষণ পর মেয়েটার স্কুল থেকে কমপ্লেইন আসা থেকে শুরু করে ভূমিকম্পের আগ পর্যন্ত ভেবেছিলাম- ঘটনা পুরাটা নিয়ানডারথাল নিয়েই না; ভ্রমণপিপাসু মেয়ের সঙ্গে বাবার ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠার গল্প।কিন্তু ভূমিকম্পের পর মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেলাম এর পর কি ঘটবে, আর ঘটলোও তাই। স্যার এর লিখায় একটা বিষয়ে নতুন লাগল যে, তাঁর বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী গুলা সাধারণত ভবিষ্যতের প্রেক্ষাপটে হয়। এখানে বর্তমান প্রেক্ষাপটে।
It may be the least favorite Sci-fi book I have ever read. Without any world building or any substance, a neanderthal boy was brought back to life after 40000 years trapped in ice! Then he was running, fighting some white supremacists with our main character Monica, a teenage girl. WOW! Much WOW! I know its a science fiction, but the book neither followed anything related to science nor it was a good fiction.
আমার কাছে অসাধারণও লাগে নাই আবার খারাপও লাগে নাই। কেবল মনে হইসে জাফর ইকবাল প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছেন এখনকার কিশোরদের কমপ্যাশন/এমপ্যাথি বা সহমর্মিতা জাগানোর। এসব দেখে আমার কেবল দীর্ঘশ্বাসই বের হয়!
It's been a long time since I felt this much emotional during such a short sci-fi story. This featured a teenage adventurous girl, his scientist/archaeologist father, a team of humane scientists in his worklab, a racist villain who formed a group of like-minded people, the whole curious world, the nature, moutains and forests, and a neanderthal boy who has been awakened after quite a long while since his race was believed to have gone extinct. It's a simple story, with predictable outcomes, and yet, it caught hold of something at the core. I'm glad I read it.
সায়েন্স ফিকশানের প্লট যখন বর্তমান সময়ের টাইমলাইনে লেখা হয়, তখন একটু বিশ্বাসযোগ্য করে লিখলেই ভালো হয়। কাহিনীর প্রেক্ষাপট এমন ভাবে এগিয়েছে, পড়ে মনে হচ্ছিল, এটা ঘটা সম্ভবই না। এটা হতেই পারে না। প্রথমত, বাচ্চা একটা মেয়ে এতো বড় মানুষের মত আচরণ করবে না। সে সব যায়গায় যাবার মত এক্সেস পাবে না। আর, এত বড় একটা আবিষ্কার কখনই শুধুমাত্র একটা রিসার্চ ল্যাবের দায়িত্বে থাকবে না।
সায়েন্স ফিকশান অবশ্যই বাস্তব কাহিনী হবে না। কিন্তু আবার বেশী অতিকল্পনা হয়ে গেলেও সমস্যা। বিশেষ করে সময়ের প্লটটা যখন বর্তমানের!
অনেক আগ্রহ নিয়ে পড়া শুরু করেছিলাম কিন্তু শেষ পর্যন্ত অতটা ভালো লাগলো না আমার। গল্প বলার ধরন নিয়ে বলার কিছু নেই। বরাবরের মতোই সাবলীল। কিন্তু গল্পটা সায়েন্স ফিকশন হিসাবে নট আপ টু দ্যা মার্ক।
জাফর ইকবাল স্যারের আগের লেখা খুব মিস করি, এই কথাটা মিলেনিয়ালরা সম্ভবত বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছে। এই বইটা পড়ার সময় মনে হলো এই ব্যাপার ফেনা তোলা বন্ধ হতে পারে। একজন টিনেজ মেয়ে তার বিজ্ঞানী বাবা আর নিয়ানকে এই বইয়ের গল্প। নিয়ান শব্দটি এসেছে 'নিয়ান্ডার্থাল শব্দটি থেকে। প্রায় ৪০০০০ বছর আগে এই প্রাকমানবেরা পৃথিবীতে বিরাজ করতো। সেই সময়ের এক দশ বছরের শিশুকে ঘটনা পরিক্রমায় আবিষ্কার করে বসে মনিকা। এই বই এর মনিকা এবং তার বাবার চরিত্রটি আমার খুব ভাল লেগেছে। মনিকা এমন একজন কিশোরী যে জীবন কে বুঝতে চায়, যে নিজের উপর ডিপেন্ড কর জানে এবং সবচেয়ে বড় কথা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সে সোচ্চার। ভাবছেন জাফর ইকবাল স্যারের সব বই এ এমন একটা চরিত্র থাকে নতুন আর কি... নতুন কিছু না হয়তো... কিন্তু এই স্যোশাল মিডিয়ার যুগে এমন একটা চরিত্র সম্পর্কে পড়া যে কিনা সেলেব্রেটি হতে চায় না এই ব্যাপারটা আমাকে মুগ্ধ করেছে। এছাড়া মনিকার সাথে তার বাবার কথোপকথন গুলো দারুণ ছিলো। এই দৌড় দৌড় দৌড়ের যুগে একটু নিঃশ্বাস নিতে দেয় যেন।
খুব চমৎকার ভাবে শুরু হয়ে একটা বই হুট করে শেষ হয়ে গেলে একটু মন খারাপ হয়। এই টুকু ব্যাপার ছাড়া বইটি আমি খুব উপভোগ করেছি। বেশ কিছুদিন আগেই পড়ে ফেলা বইটির দেরীতে রিভিউ দেয়ার জন্য আমাকে তিরস্কার। আর এই বইটির জন্য সাড়ে তিনটা তারা।
১৫/১৬ বছর বয়সী মেয়ের মাঝে ম্যাচুরিটি দেখে দেখছি গুডরিডসের পাঠকসমাজ অনেক ঘাবড়ে গিয়েছেন! বর্তমানে টিনেজাররা মিলে "ফ্রাইডেস ফর ফিউচার" এর মত তুমুল আন্দোলন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়মিত চালিয়ে নিচ্ছে, গ্রেটা থুনবর্গ তো এরকম ছোট থাকতেই নেতৃত্ব দেয়া শুরু করেছিল সম্পূর্ন আন্দোলনের। সেদিক দিয়ে বরং পশুপাখিপ্রেমী মনিকার ম্যাকডোনাল্ডসে চাকরি করাটাই বেমানান। এতো গেলো পশ্চিমের টিনেজার মেয়েদের কথা। দেশের একাদশ/দ্বাদশ পড়ুয়া মেয়েদের যে জোর ক���েই বড় হয়ে যেতে হয়, সেটা আর কতকাল অস্বীকার করে থাকবেন?
বইটি পড়ার সময় মনে হচ্ছিল, বইটি প্রথমে ইংরেজিতে লিখে তারপর খাপছাড়া ভাবে বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে। হয়তো বিদেশের পটভূমিতে লেখা বলেই কথোপকথন সব এরকম! অথচ এই জাফর ইকবালের লেখা উপন্যাস "বৃষ্টির ঠিকানা"য় বিদেশ থেকে আসা বৃষ্টির বাংলা কত সাবলীল!
অন্য প্রজাতির মানুষ নিয়ে জাফর ইকবালের সায়েন্স ফিকশন নতুন কিছু না (নীলমানব, অবনীল) তবে তার কোনোটাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে লেখা হয়নি। সেদিক দিয়ে কিছুটা নতুন আবহ দেয়ার চেষ্টা ছিল। কিন্তু, তাড়াহুড়ো করে শেষ করে ফেলা মনে হচ্ছিল লেখককে কেউ বোধহয় পৃষ্ঠাসংখ্যা বেধে দিয়েছেন। এর বাইরে যাওয়া যাবে না!
এখনকার অল্পবয়েসী ছেলেমেয়েরা কি মুহাম্মদ জাফর ইকবাল পড়ে? তারা হয়তো বিশ্বাসই করবে না টুকুনজিল এর স্রষ্টা এই নিয়ান বইটিও লিখেছেন!
This entire review has been hidden because of spoilers.
আমি ভাবছিলাম নিয়ান বুঝি তার মায়ের কাছে ফিরে যাবে বা মনিকার সাথে আরো অনেকগুলো নিয়ান্ডারথাল এর দেখা হয়ে যাবে :3 শেষটুকু আরেকটু ভালো হতে পারতো!!! কেমন যেনো খুব তাড়াহুড়ো করে সবকিছু শেষ করে ফেলা হলো এমন লাগছিলো আমার। তবে শুরুরটুকু খুবি মজার ছিলো। ছোট বেলায় যখন জাফর ইকবালের বই পড়তাম ও সময় যেরকম একটা excitement কাজ করতো ওরকম!
কোন ইংরেজী বই অথবা মুভি থেকে অনুপ্রাণিত কি না বলতে পারছি না। লেখকের লাস্ট পড়া দু'টো কল্পবিজ্ঞানের একটা 'ক্রেনিয়াল' যার সাথে ম্যাড ম্যাক্স ফিউরির উপজীব্য ভালই মিলে গিয়েছিল বলে মনে হয়েছে।
অতি সম্প্রতি তার 'আমি তপু' বইটা পড়েছি। সেটার সাথে তুলনা করলে লেখনিতে অবনতি হয়েছে বলে মনে হয়েছে।
'আমি তপু' প্রসঙ্গে মনে পড়ল লেখকের কাছে মনে হয় কোন সমস্যার বাস্তববাদী সমাধান নেই। 'আমি তপু' এর তপু ম্যাথ জিনিয়াস না হলে যেমন ওর জীবনের এক দিকের সমস্যা সমাধান হত না, এখানের মেয়ে চরিত্রেরও বরফের মধ্যে আটকা পড়া ছেলে আবিষ্কার না করলে স্কুল থেকে ডাক পড়ত না।
তবুও কিশোর যাকেই পাই এই বই রেকমেন্ড করব কেননা কিছু এলিমেন্ট আছে যা এই বইয়ের মাধ্যমে সহজেই তাদের সামনে তুলে ধরা যাবে।
জাতি, ধর্মগত বিদ্বেষ যে চারিদিকে আছে এবং এগুলো যে আসলে স্রেফ নোংরামি এবং এ ধরণের আচরণকে ঘৃণার চোখে দেখা উচিত তা এ বইয়ে খুব সহজেই ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন লেখক।
আর লাস্টলি, আজকাল ফেসবুক প্ল্যাটফর্মে কতিপয় আমেরিকান প্রবাসী সেলেব্রিটি তৈরি হয়েছেন। যাদের ভ্লগে আমেরিকায় ইজ দ্য বেস্ট আর বাংলাদেশ জাহান্নাম টাইপ ম্যাসেজ চোখে পড়ে। আশা করি, এ বই কিশোরদের সামনে আমেরিকার অন্ধকার দিকগুলো ভাল ভাবেই তুলে ধরবে এবং সব দেশই যে সমস্যামুক্ত না তা উপলব্ধি করাবে।
This entire review has been hidden because of spoilers.
বাংলাদেশী আমেরিকান বিশ্ববিখ্যাত নৃতত্ত্ববিদ রিয়াজ, যার কাজ কিনা নিয়ানডারথাল গনের মানুষদের নিয়ে গবেষনা করা। তার একমাত্র মা মরা মেয়ে মনিকা। স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশীই বুদ্ধিমতি এবং মাচিউর। স্কুলে সমস্যার জন্য মনিকাকে নিয়ে অ্যাডভেঞ্চারে ইতালিতে যায় রিয়াজ। সেখানে এক ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পের মাঝে পড়ে তারা। ভুমিকম্পের পর ট্রাকিং/ক্লাইম্বিং এ গেলে ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্টি এক গুহা থেকে হিমায়িত এক নিয়ানডারথাল কিশোরকে আবিষ্কার করে মনিকা। দেখে যেন মনে হয় ৪০০০০ বছরের পুরানো কোন লাশ নয় বরং জীবন্ত। বিজ্ঞানের আধুনিকতার সাহায্যে হীমঘুম থেকে জেগে ওঠে নিয়ান। নিয়ানকে ঘিরেই এগোতে থাকে কাহিনী।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ পড়া শুরু করার পর একটানে অর্ধেকের বেশী শেষ করে ফেলেছিলাম। (বিশাল ফন্ট, আর লাইনের মাঝে ফাক ফাক দিয়ে যেভাবে ছাপায়) কিন্তু মাঝখানে যেয়ে এমন ক্রিঞ্জ খাইলাম যে আর পড়তে পারিনা। যখনই ভাবি যে বইটা শেষ করা দরকার আবার ক্রিঞ্জ খাই। এরকম করতে করতে অনেকটা নিজেকে বাধ্য করে ১ মাস পর বইটা হাতে নিয়ে এক টানে বাকিটা শেষ করা। মাঝে গায়েব ১ মাসের রিডার্স ব্লক। বইটা পড়ে একটা কথায় মনে হইছে, "মাসুদ তুমি কি কখনো ভাল হবে না?" যদি পড়তে পড়তে মনে না হয় যে এর পর এরকম হবে তাহলে আপনি জীবনেও কোনদিন মুজাইকের কোন বই পড়েননি। -_-
গল্পের শুরুতে মনে হয়েছিল নিয়ানডারথাল নিয়েই কিছু হবে। কিছুক্ষণ পর মেয়েটার স্কুল থেকে কমপ্লেইন আসা থেকে শুরু করে ভূমিকম্পের আগ পর্যন্ত ভেবেছিলাম- ঘটনা পুরাটা নিয়ানডারথাল নিয়েই না; ভ্রমণপিপাসু মেয়ের সঙ্গে বাবার ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠার গল্প।কিন্তু ভূমিকম্পের পর মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেলাম এর পর কি ঘটবে, আর ঘটলোও তাই। স্যার এর লিখায় একটা বিষয়ে নতুন লাগল যে, তাঁর বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী গুলা সাধারণত ভবিষ্যতের প্রেক্ষাপটে হয়। এখানে বর্তমান প্রেক্ষাপটে।
'বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী' ট্যাগে ইহা কি ধরণের গল্প হইলো এটাই আমার ছোট মস্তিষ্কে খেলতেছে না। চল্লিশ হাজার বছর আগেকার নিয়ানডারথাল মানুষ জীবিত হইয়া আবার স্বেচ্ছামৃত্যু গ্রহণ করে। 'আধুনিক রূপকথা' ট্যাগ লাগাইলে চমৎকার হইতো! জাফর ইকবাল স্যারের আগেকার অনেক সায়েন্স ফিকশন পড়েছি। কিন্তু এটার মতো আধুনিক রূপকথা পড়ছি কিনা বুঝতাছি না! নতুন করে পড়ে আমার মূল্যহীন সময়ের সঠিক ব্যবহার করার ইচ্ছে আমার নাই! 🥴
পড়ে হতাশ, very predictable story. I guess I'm finally too old to read Jafar Iqbal's sci-fi stories 😔. I'm sure kids will and should love this, but after reading all of his books, I can now see the pattern in his sci-fi. The new tuntuni and chotacchu was great tho.
বইটিতে থাকা মনিকা চরিত্রের সাহসিকতার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। মনিকা এবং তার বাবা রিয়াজের অর্থাৎ তাদের বাবা এবং মেয়ের সম্পর্ক আমার ভালো লেগেছে। নিয়ান এবং মনিকার জঙ্গলে ঘুড়ে বেড়ানোর দিনগুলো ভালো ছিল৷ ❤️
This book is soooooooooooooo cliche. I predicted every single thing that was about to happen. Typical American action film to be honest. The author's writing never surprised me before and it sure didn't surprise me now.
চল্লিশ হাজার বছর আগের এক নিয়ান্ডারথাল বালক বেঁচে ওঠে বর্তমানের পৃথিবীতে। পৃথিবী কি মানুষ হিসেবে মেনে নেয় তাকে, সে মেনে নিতে পারে পৃথিবীকে - এই নিয়ে গল্প।