একদিন ছেলে মেয়েরা বড় হলো। রাহেলা খাতুন নিজে কিংবা আসাদ যেটা করতে পারেন নাই তার ছেলে মেয়েরা সেইটা করলো। মাটি দিয়ে জমি ভরাট হলো। আসাদ যেটুকু জমি কিনেছিল তার পাশে আরো খানিকটা জমি কেনা হলো। জমিটার একপাশে সাত তালার জায়গায় চারতালা একটা বাসা হলো। নিচ তালাটা রাখা হলো রাহেলা খাতুনের জন্যে। ছোট ছেলে জয় এখন ও বিয়ে করেনি ( কিন্তু বিয়ে হয়ে যাবে হয়ে যাবে এরকম একটা আভাষ আছে ), সে থাকে রাহেলা খাতুনের সাথে। সে থাকে রাহেলা খাতুনের সাথে। উপরের তিনটা ফ্ল্যাটে রাহেলা খাতুনের তিন ছেলে মেয়ে থাকে। চার তলার ছাদে আরেকটা ফ্ল্যাট তৈরি হওয়ার কাজ শুরু হয়ে থেমে গেছে সেখানে একটা বড় খালি রুম এই বাসার পাঁচ নাতি নাত্নির দখলে। রাহেলা খাতুনের চার ছেলেমেয়ের তিন বউ জামাই মিলে সাতজন, নাতি নাত্নি পাঁচজন, এই নিয়ে এক ডজন। রাহেলা খাতুনকে নিয়ে হলো এক ডজন একজন।
এই এক ডজন একজন নিয়ে কাহিনীর শুরু হয়েছে এখান থেকে।
Muhammed Zafar Iqbal (Bengali: মুহম্মদ জাফর ইকবাল) is one of the most famous Bangladeshi author of Science-Fiction and Children's Literature ever to grace the Bengali literary community since the country's independence in 1971. He is a professor of Computer Science & Engineering at Shahjalal University of Science and Technology (SUST). Before that, Iqbal worked as a research scientist in Bell Communication Research for six years until 1994.
Birth and Family Background: Iqbal was born on 23 December 1952 in Sylhet. His father, Foyzur Rahman Ahmed, was a police officer. In his childhood, he traveled various part of Bangladesh, because of his father's transferring job. Zafar Iqbal was encouraged by his father for writing at an early life. He wrote his first science fiction work at the age of seven. On 5 May 1971, during the liberation war of Bangladesh, the Pakistan's invading army captured his father and killed him brutally in the bank of a river.
Education: Iqbal passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1968 and HSC exam from Dhaka College in 1970. He earned his BSc in Physics from Dhaka University in 1976. In the same year Iqbal went to University of Washington to obtain his PhD and earned the degree in 1982.
Personal Life: Iqbal married Dr. Yasmeen Haque in 1978. Yasmeen is the Dean of the Life Science Department, Head of the Physics Department, Provost of the Shohid Janoni Jahanara Imam Hall and a researcher at SUST. They have two children - son Nabil and daughter Yeshim. Yeshim translated the book Amar Bondhu Rashed (Rashed, My Friend) written by her father. Iqbal's elder brother, Humayun Ahmed, was the most popular author and film-maker of Bangladesh since its independence. Humayun died after a nine-month struggle against colorectal cancer on the 19 July 2012. His younger brother, Ahsan Habib, is the editor of the satirical magazine, Unmad and one of the most reknowned cartoonist of Bangladesh.
Academic Career: After obtaining PhD degree, Iqbal worked as a post-doctoral researcher at California Institute of Technology (CalTech) from 1983 to 1988. He then joined Bell Communications Research (Bellcore), a separate corporation from the Bell Labs (now Telcordia Technologies), as a Research Scientist. He left the institute in 1994 and joined the faculty of the Department of CSE of SUST.
Literary career: Iqbal started writing stories from a very early age. Iqbal wrote his first short story at the age of seven. While studying in the Dhaka University Iqbal's story Copotronic Bhalobasa was published in a local magazine. But, a number of readers at that time felt that the story was based on a foreign story. To answer this allegation, he later rewrote the story and published the story in collection of stories named Copotronic Sukh Dukkho. Since then he is the most popular writer both in Bengali Science-Fiction and in Juvenile Leterature of the country.
Other Activities and Awards: Zafar Iqbal won the Bangla Academy Award, the highest award in literature in Bangladesh, in 2004. Iqbal also played a leading role in founding Bangladesh Mathematical Olympiad. In 2011 he won Rotary SEED Award for his contribution in field of education.
গত সাত-আট বছরে যতবার মুহম্মদ জাফর ইকবালের কিশোর উপন্যাস জাতীয় বই পড়েছি, ততোবারই হতাশ হতে হয়েছে। প্রতিবার বুভুক্ষের মতো শৈশব/কৈশোরে পড়া হাকারবিন, আমার বন্ধু রাশেদ, আমি তপু, নিতু ও তার বন্ধুরা - সেইসব চমৎকার লেখার আশায় পাতা উল্টেছি; অথচ শেষ করেছি দ্বিগুণ বিরক্তি নিয়ে। ২০১৪ সাল থেকে বছর ঘুরে বইমেলা এলেই ভেবেছি, এবার আর লেখকের নতুন বই পড়ব না। তবুও কীভাবে কীভাবে যেন অজানা মোহের আশায় মেলার বইগুলো পড়া হয়েই যায়। বাড়তে থাকে বিরক্তি আর জমাট বাধা দীর্ঘশ্বাস!
এবারও তাই হতে যাচ্ছিল। '১৯ এর বইমেলার সায়েন্স ফিকশন 'নিয়ান,' আর 'যখন টুনটুনি তখন ছোটাচ্চু' পড়ে যখন বিরক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌছে গেছি, তখন সময় প্রকাশনীর স্টলে চোখে পড়ল 'এক ডজন একজন।' সাত বছরের করুণ অভিজ্ঞতার কারণে নিশ্চিতভাবে ধরে নিয়েছিলাম, একই ফর্মুলা মেনে লেখা কোন চর্বিত চর্বণই হবে। এই বই পড়ার মানে হয় না।
কিন্তু ওই যে বললাম, কীভাবে কীভাবে যেন জাফর ইকবালের বইগুলো ইচ্ছার বিরুদ্ধেও হাতে নেয়া হয়ে যায়! এই বইটাও তাই। বসন্তের বৃষ্টিভেজা এক রাতে কাথামুড়ি দিয়ে ঘুমাতে যাবার সময় আবিষ্কার করলাম, এক ডজন একজন বইটা বুকের ওপর মেলে রেখেছি।
বইয়ের কাহিনি নিয়ে কথা বাড়াবো না। যেটা বলবো, তা হচ্ছে, এই বইয়ে আমার শৈশবের সেই প্রিয় লেখক জাফর ইকবালকে কিছুটা হলেও ফিরে পেয়েছি। মুক্তিযুদ্ধের আবেগ জড়ানো এই গল্পের শেষে নিজের অজান্তেই পাঠকের চোখের কোণা ভিজে উঠবে। সেটাই স্বাভাবিক।
শুরুর দিকে একটু বিরক্তিকর হলেও (অতি দুর্বল বাক্য গঠন, রিপিটেশন, ক্যারেক্টারের নামের ভুল ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি) সব কিছু ছাপিয়ে দিয়েছে শেষ চিঠিটা। একজন মুক্তিযোদ্ধার লেখা শেষ চিঠি। এইসব জিনিসপাতি পড়লে এমনেই ইমোশনাল হয়ে যাই। খুব খারাপ! খুব!
লেবু চেনেন, লেবু? লেবু বেশি চাপলে তেতো হয়ে যায়। খুব তেতো। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ স্মৃতি। এই গৌরবময় স্মৃতিকে লেবুর মতো চিপে তিতা বানিয়ে ফেলেছেন মুহাম্মদ জাফর ইকবাল।
বাজারে বই শুধু ছাড়লেই হয় না। একে যত্ন নিয়ে প্রকাশ করতে হয়। তাতে বোঝা যায় লেখক তার সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বইটা ন্যূনতম এডিটিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়েছে বলে মনে হয় না। আমার কৈশোরের প্রিয় লেখক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল এতখানি অযত্নে একটি বই প্রকাশ করতে পারেন ভাবতে ভালো লাগে না। পুরো বইয়ে প্রচুর বানান ভুল। আল্লাহ মাবুদ জানেন, অদ্ভুতুড়ে এই বানানরীতি কোথা থেকে এসেছে। ফ্রন্ট সাইজ তো মাশাআল্লাহ।
কাহিনির গঠন নিয়ে বলার কিছু নাই। 'খা খা বক্কিলারে খা' বাড়ির প্রথমদিকের ঘটনাগুলো দিব্যি পড়তে। বাকি ঘটনা স্রেফ....
জাফর ইকবাল স্যারের একটা বই থেকে যা যা আশা করি আমরা, তার সবকিছুই পরিমিত মিশেলে উপস্থিত ছিল এক ডজন একজনে। বইয়ের চরিত্রগুলোর কোনটিকেই আমরা যারা স্যারের অন্য বইগুলো পড়েছি, তাদের কাছে অপরিচিত মনে হবে না। সে হিসেবে বলতে গেলে চরিত্রায়নে নতুনত্ব নেই। কিন্তু বইটির চার তারা পাবার কার্ এটি তার সাম্প্রতিক বইগুলোর মতন চর্বিত চর্বণ নয়। গল্পটা দারুণ, আবেগী। এক হিসেবে বলা যেতে পারে লেখকের নিজের জীবনের খানিকটার প্রতিফলন। আমার কেন যেন মনে হলো যে বইটি বেশ আগের লেখা, কিন্তু তখনকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে প্রকাশিত হয়নি :)
নামের সাথে গল্পের বিশেষ মিল নেই। জাফর ইকবালের প্রায় প্রতিটা কিশোর উপন্যাসে কিছু ঘটনায় মিল থাকে।এ বইতেও আছে। ব্যতিক্রম শুধু শেষের চিঠিটা। এতো হৃদয়বিদারক, এতো সুন্দর একটা চিঠি! শুধু এই চিঠির গুণেই বইটা বারবার পড়া যায়।
কয়েকদিন আগে বয়স তিরিশ বছর হয়েছে। এই বয়সে এসে কোন বই পড়তে গিয়ে যদি চোখের কোল ভিজে উঠে সেটা কোন কাজের কথা হয় না। কিন্তু বহু বছর পর জাফর ইকবাল স্যারের এই বইটা পড়ে তা হলো। একদম শেষের চ্যাপ্টার টা। আমি একটু বিস্তারিত লিখতে চাচ্ছিলাম। সামনে কোনদিন আপডেট করে দিবো হয়তো রিভিউটা। কারণ বইটা ভাল যেমন লেগেছে তেমনি অনেক বিষয় ছিল বিরক্ত হবার মতো। বিশেষ করে খুব কাঁচা প্রুফ রিডিং, খানিক পর পর চরিত্রের নাম বদল, কাহিনির একই জায়গায় ঘুরপাক ইত্যাদি। তবে শেষে গিয়ে একদম কাঁদিয়ে ফেলবার জন্য একটা তারা বেশি দিয়ে দিলাম।
বইয়ের প্রথম অর্ধেকে রাহেলা খাতুন ও তাঁর বিচিত্র পরিবারটির বিবরণ পড়তে দারুণ লেগেছে আমার। তিতু ও টিয়াকে সবচেয়ে বেশি পছন্দ হয়েছে। আর বাড়ির নামকরণ, ছাগল ও "রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার"-এর অংশটি ছিল সেরা! শেষের দিকটা অবশ্য টিপিকেল হয়ে গিয়েছে, তাই হয়তো একটু আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলাম।
জাফর ইকবাল স্যারের বইগুলি এখন পড়া হয় ছোট ছোট বাচ্চাদের সরলতায় ভরা জীবনে ডুবে যাওয়ার জন্য।কিন্তু কে জানত,এই বইটা কাঁদিয়ে ছাড়বে?রাশা আর আমার বন্ধু রাশেদের পাশে এখন এই বইটাকে রাখতে হবে।
বইতে কোথাও লেখা নেই কিন্ত পড়েই মনে হয়েছে, লেখকের নিজের জীবনের সত্য ঘটনার ছায়া অবলম্বনেই লেখা। সত্যিই উনার মা কি অসম্ভব কষ্টই না করেছেন! তার প্রতিদানও পেয়েছেন জগদ্বিখ্যাত ছেলেমেয়ে পেয়ে!
কিশোরদের জন্য লিখা বই এই বুড়ো বয়সে পড়ছি বলেই হয়তো আমার চোখে কিছু জিনিস বার বার আটকে গিয়েছে। বইয়ের শেষ ২-৩ পৃষ্ঠার জন্যই রেটিং ৩ দিয়া। একটি ছাপানো বইতে বানান ভুল দেখলে কষ্ট লাগে। ☹️ শুধু বানান না এই বইতে ৫টি বাচ্চা বলেই কি তাদের চরিত্রের নাম নিয়ে বেশ অনেক জায়গায় গন্ডগোল হয়েছে!! (যা আমার চোখে বেশি ধরা পড়ে) 😶 কিন্তু তা হবার কথা না,আমার বাচ্চাকাল কেটেছে লেখকের কিশোর উপন্যাস পড়ে যেখানে অনেক চরিত্র ছিলো এবং তাদের নাম নিয়ে কোন সমস্যা আগের বইগুলোতে হোত না। গল্পের উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা তৈরীতে যে ঘটনা সাজানো হয়েছে তা ভালো লাগেনি যদিও ভালো না লাগার জন্য আমি আমার বয়সকেই দোষ দিবো, বাচ্চা কেউ পড়লে হয়ত ধরতে পারতো না। কেন ভালো লাগেনি তা বললে স্পয়লার দিয়া হবে 😶😶
শেষে ছোট্ট একটা চিঠি ছিল. খুব বেশিনা, মাত্র ১ ঘন্টার মতোই কান্নাকাটি করলাম! বইটা আহামরি কিছুনা কিন্তু চিঠিটা পড়ার পরে ভয়াবহ মায়া লাগলো. আমাদের আন্ডাবাচ্চাদের জন্য এরকম আরো বই দরকার. আমার ছোট ভাই বাংলা পড়তে পারেনা. আমি ঠিক করেছি তাকে এখন থেকে বাংলা বই শুনাবো যতদিন নিজে থেকে না পড়তে পারে.
বইটি পড়ে ভীষণ ভালো লেগেছে | উনার সব লেখাই আমার পছন্দের, কিন্তু অনেক দিন পর একটা ভালো লেখা পেলাম | শেষের দিকে চোখে পানি এসে যাবার মতো এবং শুরুর টুকু বেশ মজার | সব কাজিন মিলে থাকা, খাওয়া, ঘুরে ফিরে, হৈ চৈ করার মজাই আলাদা এবং সেটা তিনি 100% তুলে ধরতে পেরেছেন | মুক্তিযুদ্ধের সময়কার এই ছোট্ট ছোট্ট মানুষের জীবনের গল্প, সংগ্রামের কথা ছোটদের কাছে বেশ ভালো ভাবেই তুলে ধরেছেন|
Okay, apologies, I'm writing the rest in English because it took me 15mins to write that small papragraph and that's because I literally have no practice whatsoever with a Bengali keyboard. Also my writing sounds very formal.
First of all, it's 2019. It's time to put an end to proofreading, typing and printing errors.
Loved the story, loved the scene setting, loved that his writing reminded me of my time as a child reading his books. Almost cried towards the end. Also loved that he broke the 4th dimension by inserting his own story into his own story! I couldn't even. (I had to eventually, but at that time it was hard for me to).
বইয়ের প্রুভ রিডিং বা সম্পাদনার দায়িত্বে যথেষ্ট অবহেলা করা হয়েছে, রাহেলা খাতুনকে জোবেদা খাতুন, অাম্মুকে অাপু থেকে শুরু করে বানান ও বাক্য গঠনে চোখে পড়ার মতো ভুল, অনেক জায়গায় যতিচিহ্ন ব্যবহারেরও বালাই নেই! কতো বাচ্চাকাচ্চা পড়বে, এ ধরনের একটা বই সম্পাদনায় এতোটা অবহেলা সত্যিই দু:খজনক (দুঃখ পেয়ে বই পড়াই ছেড়ে দিয়েছিলাম, পরে পেন্সিল দিয়ে দাগিয়ে, ভুলগুলো ঠিক করে করে পড়লাম।) অার লেখনীর ব্যাপারে বলতে হয়, প্রায় সময়ই যথেষ্ট প্রেডিক্টেবলভাবে গল্প এগিয়েছে, স্যারের অাগের লেখাগুলোর মতো মনে হচ্ছে। প্রতি বছর বইমেলায় যে জাফর ইকবালের বই কেনা ধর্তব্য মানতাম, এখন বোধহয় শেষমেশ বুড়োই হয়ে গেলাম, একই ধাঁচের ক্লাইম্যাক্স অার টানছে না। তারপরও রিতু,তিতু,টিটু, মিঠুনের কথা ভেবে তিন তারা দিয়ে রাখলাম।
অত্যন্ত চমৎকার একটি বই। এক ডজন একজন নামকরণ করা হয়েছে পরিবারের সদস্য সংখ্যার কথা চিন্তা করে। এক অদ্ভুত পরিবার যাদের চারতলা বাড়ির নাম 'খা খা খা বক্কিলারে খা'। স্বাভাবিকভাবেই বাড়ির মানুষজনও অদ্ভুত। সবচেয়ে বেশি অদ্ভুত বাড়ির ক্ষুদে পাঁচ সদস্য। তাদের কাণ্ডকারখানাই গল্পের ভিত গড়ে তুলেছে। প্রথমদিকে চিরায়ত কিশোর উপন্যাস গুলোর মতই তুলে ধরা হয়েছে ক্ষুদে সদস্যের নানা দুষ্টুমির বর্ণনা। কিন্তু গল্পের মূল তাৎপর্য ছিল মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে নিয়ে বাড়ির পাঁচ ক্ষুদে সদস্য যে মহৎ কাজে নেমে পড়ে, সেই অংশটুকু স্বভাবতই অনেকটা আবেগের জায়গা। গল্পের শেষে একটা চিঠি থাকে যা পুরো গল্পের চেয়েও বেদনাদায়ক... সবমিলিয়ে অসাধারণ একটি উপন্যাস।
প্লট ভালো ছিলো, কিন্তু একটা গল্পকে টেনে উপন্যাস বানানো হয়েছে। এর জন্য ফিলার দেওয়া হয়েছে প্রচুর। মূল কাহিনী শুরু হতে হতেই অর্ধেক বই শেষ। বানান ভুল ছিলো অনেক।
শেষটা ইমোশনাল ছিলো। আর সাধারণত মুহম্মদ জাফর ইকবালের কিশোর উপন্যাসগুলোর (আমার বন্ধু রাশেদ, গ্রামের নাম কাঁকনডুবি ইত্যাদি কিছু বই বাদে) স্ট্রাকচার হয় অনেকটা পাঁচ-ছয় পর্বের মিনি সিরিজের মতো। কয়েকটা ছোটগল্পের পর একটা অপেক্ষাকৃত বড় গল্প দিয়ে এন্ডিং। এটা যেহেতু নিজেই একটা গল্প, তাই এই সমস্যা এ বইটাতে নেই।
'১৮ এর নির্বাচন এর এক্সেপ্টেন্স বাড়ানোর জন্যই কি '০৫ এর শাসনামল মনে করিয়ে দেয়া? বইয়ের একটা পুরো অধ্যায় স্যারের লেখা পুরোনো ভূতের গল্প দিয়ে শেষ করা। কেন জানি আর ভালো লাগে না।
আজকাল কিন্ডেলে বেশি বই পড়া হচ্ছে, বাংলা বই-ও কম পড়া হচ্ছে বলে চোখের সামনেই একুশে বইমেলা ২০১৯-এ প্রকাশিত এই বইটি পেয়ে - হাতে তুলে নিলাম। মাঝে বেশ কয়েক বছর মুহাম্মদ জাফর ইকবালের বই পড়া হয় নি। তাই বেশ আগ্রহ নিয়েই পড়া শুরু করলাম যেহেতু ছোটকালে তাঁর বই এক নেশার মতো কাজ করত। প্রথম চ্যাপ্টারটা আর শেষ চ্যাপ্টারটা খুব ভালো করে মু.জা.ইক ক্লাসিক স্টাইলে এক্সিকিউট করা।
তবে বইয়ের মাঝে মাঝেই চরিত্রের নাম ভুল করা ব্যাপারটি অনেক বেশি চোখে লাগে ।মনে হয় যেন রিভিশন না দিয়ে পরীক্ষার খাতা জমা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশের এতো স্বনামধন্য লেখকের বই, লিডিং একটা প্রকাশনী হাউসের থেকে এইটা পুরোই আনক্সপেক্টেড এবং হতাশাজনক! সবচেয়ে যেই ব্যাপারটা আমার বাজে লেগেছে তা হলো মুক্তিযুদ্ধ-রাজাকার এইসব নিয়ে খুব সুন্দর করে কিশোর-কিশোরীদের জন্য লেখক আগেও লিখেছেন- কিন্তু কোন এক রাজনৈতিক দলকে কোণাঠাসা করে কথা বলাটা আমার এই বয়সে এসে পড়তে খুব মন-মানসিকতায় বাঁধল।
বইটা যদি আমি ১৪-১৫ বছর বয়সে পড়তাম আমার অনেক বেশি ভাল লাগতো - বলে আমার ধারণা।
গত ফেব্রুয়ারীতে কেনা বই, এই ফেব্রুয়ারীতে পড়লাম। অনেক দিন পর জাফর ইকবাল পড়ে কেমন জানি নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গেলাম।একটা সময় ফেব্রুয়ারী মাস,বই মেলা মানেই ছিলো হুমায়ুন আহমেদ,জাফর ইকবাল। হুমায়ুন তো চলে গেলেন,জাফর ইকবালও আগের মত লেখেন না লিখলেও আগের মত পড়া হয় না। "একডজন একজন" বইটি স্যারের অন্যান্য বই এর মতনই গল্পে গল্পে হাসির ছলে মুক্তিযুদ্ধ কে চেনানো। জাফর ইকবালের অন্যান্য সব কিশোর উপন্যাসের ছায়া এই উপন্যাসেও পাওয়া যায়।একটা হাসিখুশী অদ্ভুত পরিবার,অনেক গুলা সাহসী,দুষ্টু বাচ্চা, একজন ভিলেন গোত্রীয় মানুষ আর আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এটাই গল্পের মূল। তবে শেষ টুকু অনেক বেশী আবেগী,কেমন জানি কষ্ট আর ভালো লাগার মিশেল। উপন্যাসটি খুব আহামরি কিছু না, তবে নিছক আনন্দ লাগানোর জন্য বইটা আবার খারাপও না। খুব বেশী আশা নিয়ে পড়তে যাবেন না,তাহলে হতাশ হতে পারেন। তবে বইটি পড়ে যেদিক টা সবচেয়ে বেশী ভাবাচ্ছে তা হলো, কিশোর উপন্যাস লেখক বাংলাদেশে নাই বললেই চলে,কখনো জাফর ইকবাল না থাকলে কে আগামী প্রজন্ম কে এভাবে গল্পের ছলে মুক্তিযুদ্ধ কে চেনাবে?নিজ ঐতিহ্য কে জানাবে?
3.5 Nice little story. But it promises a different vibe in the beginning than it delivers. At least it was proofread unlike the recent science fictions 😑