Jump to ratings and reviews
Rate this book

India: Before And After The Mutiny

Rate this book
Acharya Prafulla Chandra Ray, one of the pioneers of scientific research in modern India, is considered Father of Indian Chemistry. Known for his path-breaking research in Industrial Chemistry, he earned his D.Sc. from Edinburgh University in 1887. He was an indefatigable patriot with a saintly self-less character.

Ray was born in 1861. As a young under-graduate student of Edinburgh University in 1885, Ray sent his essay India: Before and After the Mutiny for a competition organised by the University. Though considered the best entry, the essay was not awarded for obvious reasons. The essay shows the young talent's maturity and patriotism. Ray somehow got it published in a book form in 1886.

114 pages, Paperback

First published January 1, 1886

3 people are currently reading
18 people want to read

About the author

Prafulla Chandra Ray

22 books11 followers
1861-1944

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
2 (100%)
4 stars
0 (0%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 of 1 review
Profile Image for Preetam Chatterjee.
7,309 reviews401 followers
January 14, 2024
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ ধাপে এবং বিংশ শতাব্দীর গোড়ায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রফুল্লচন্দ্র রায় ও জগদীশচন্দ্র বসু সমসাময়িক সুহৃদ। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ১৮৬১ সালের ২রা আগস্ট খুলনা জেলার কপোতাক্ষ নদের ধারে রাড়ুলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আচার্য্যদেবের তিরাশি বছরের জীবন কেটেছে জ্ঞান অন্বেষণ করে আর স্বদেশ ও দেশবাসী সম্বন্ধে চিন্তাভাবনা করে, তাদের সেবা করে। অকৃতদার , বিজ্ঞানসাধক , ছাত্রবৎসল , দেশপ্রেমী প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের সৃষ্টির বিকাশ ও স্বদেশভাবনা নিয়ে আজকের এই লেখা।

ছোটবেলায় প্রফুল্লচন্দ্র ছিলেন খুবই লাজুক। অচেনা লোকের সাথে লজ্জায় কোনও কথাবার্তা বলতেন না। প্রফুল্লচন্দ্রের পিতা হরিশ্চন্দ্র ছিলেন সুপন্ডিত ও বিদ্যোৎসাহী। নানা ভাষা শিক্ষার ব্যাপারে হরিশচন্দ্রের একটা সহজাত প্রবৃত্তি ছিল। দুর্গাপুরের শেখ মাদার বক্স আখুঞ্জীর কাছে নাড়া বেঁধে পার্শি ভাষা শেখেন হরিশ্চন্দ্র। সাগরদাঁড়ি নিবাসী মৌলবী মঘমনের কাছে অর্জন করেন আরবী ভাষার জ্ঞান। প্রফুল্লচন্দ্র ইংরেজি , বাংলা , সংস্কৃত , হিন্দি , আরবী , ফার্সি, উর্দু ভাষায় পারঙ্গম ছিলেন। সমৃদ্ধ পাঠাগার ছিল তাঁর। সেই যুগে বাংলাদেশের কোনো অখ্যাত গ্রামে এমন পাঠাগার ছিল কল্পনারও অতীত। তাঁর পাঠাগারে 'অমৃত প্রবাহিনী', 'সোমপ্রকাশ', 'বিবিধার্থ সংগ্রহ', 'প্রবোধচন্দ্রিকা', 'অমৃতবাজার', প্রভৃতি সাময়িক পত্রপত্রিকা , মহাভারত , রামায়ণ, রাজাবলি প্রভৃতি বাংলা গ্রন্থ এবং Edward Young রচিত 'Night-Thoughts on Life, Death, & Immortality', Francis Bacon রচিত 'The Novum Organum', উইলিয়াম কেরির হোলি বাইবেলের অনুবাদ , কৃষ্ণমোহনের এনসাইক্লোপিডিয়া বেঙ্গালেনসিস প্রভৃতি নানা গ্রন্থ শোভা পেত। বালক প্রফুল্লচন্দ্র এইসব অমূল্য গ্রন্থাবলী বারবার নেড়েচেড়ে দেখতেন। বিদ্যালয়ের বৈচিত্রহীন শুষ্ক পাঠ্যপ্রণালী থেকে মুক্ত হয়ে মনের সাধে ইচ্ছানুযায়ী অধ্যয়ন করতেন প্রফুলচন্দ্র।

১৮৭৭ সালে বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার সুবাদে বহু পুস্তক পুরস্কার স্বরূপ লাভ করেন প্রফুলচন্দ্র। ওই সব পুস্তকের মধ্যে William Makepeace Thackeray রচিত 'The English humorists' ও William Hazlitt সম্পাদিত শেক্সপীয়ারের সমগ্র গ্রন্থাবলী ছিল। সাহিত্যে প্রগাঢ় অনুরাগ ছিল প্রফুলচন্দ্রের। তবুও নিজের অজ্ঞাতসারেই রসায়নশাস্ত্রের প্রতি অনুরাগ থাকার জন্য বি এ পড়ার সময় তিনি 'বি' কোর্স নেন। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাট্রিকের তুল্য ছিল 'গিলক্রাইস্ট বৃত্তি পরীক্ষা' .. অতি দুরূহ এই পরীক্ষায় উত্তীর্ন হওয়ার জন্য ল্যাটিন , গ্রিক , অথবা সংস্কৃত , ফরাসি ও জাৰ্মাৰ ভাষা জানা অপরিহার্য ছিল। ১৮৮২ সালে গোপনে এই বৃত্তি পরীক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন প্রফুলচন্দ্র। সে বছরে সমগ্র ভারতবর্ষে মাত্র দুজন ছাত্র এই পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়েছিলেন -- বোম্বাইয়ের জনৈক পার্শি বাহাদুরজি ও প্রফুল্লচন্দ্র।

প্রফুল্লচন্দ্রের জন্মের মাত্র চার বছর পূর্বে ভারতের প্রথম জাতীয় বিদ্রোহ, সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। প্রতিরোধের আগুন ধিকি ধিকি জ্বলতে শুরু করেছিল বেশ কিছুটা আগে থেকেই। মেদিনীপুর ও বাঁকুড়া জুড়ে চুয়ার বিদ্রোহ, ময়মনসিংহের পাগলপন্থী বিদ্রোহ , তিতু মীরের প্রতিরোধ , ফরাজী আন্দোলন, সাঁওতাল বিদ্রোহ , সন্যাসী আন্দোলন ইত্যাদি দেখেছিলেন মানুষ। সিপাহী বিদ্রোহের ইতিহাস অবশ্য তার বেশ কিছুটা পুরোনো। সেই ১৭৬৪-৬৫ সালেই দেখি যে মীর কাসিমের পক্ষে ও ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিতে চাওয়া ২৪ জন ভারতীয় সেপাইকে কামানের মুখে উড়িয়ে দেওয়া হলো। আবার ১৮০৬ সালে ভেলোরে বেশ বড় আকারের একটা সেনা বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়। এরপর ১৮২৪ সালে বারাকপুরেও ঘটে যায় একটা ছোটোখাটো বিদ্রোহ। প্রতিটা ক্ষেত্রেই অবশ্য মধ্যযুগীয় নৃশংসতায় হত্যা করা হয় বিদ্রোহের নেতাদের। আশ্চর্যের ব্যাপার যে ৫৭ সালের আগেই জনসাধারণের দুটো প্রধান অংশ : কৃষক ও সেপাই (civil and military ) এদের মধ্যে একটা অকথিত চুক্তি 'unspoken alliance' এর সৃষ্টি হয়েছিল। মূল খুঁজতে গেলে আবারো ফিরে যেতে হবে সেই ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে - জমিদারশ্রেণীর চূড়ান্ত রক্ষাকবচ , জমিদারীর Magna Carta. ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে যখন বৃত্তি নিয়ে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গেলেন প্রফুল্লচন্দ্র তখন তাঁর মনালোক ব্যাপ্ত হয়ে রয়েছে ভারত ইতিহাসের প্রচ্ছন্ন , অনভিব্যক্ত চেতনায়।

১৮৮৫ সালে প্রাক্তন ভারতসচিব স্যার স্ট্যাফোর্ড হেনরি নর্থকোট (কনসারভেটিভ পার্টির নেতা, যিনি পরে ইডসলি ভাইকাউন্ট সেইন্ট সাইরিস উপাধি লাভ করেন) এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের লর্ড রেক্টররূপে একটি প্রবন্ধের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেন। প্রবন্ধের বিষয় ছিল : India before and after the Mutiny' -- সিপাহী বিদ্রোহের পূর্বে ও পরে ভারতের অবস্থা। রসায়নের সঙ্গে সম্পূর্ণ সম্পর্কহীন বিষয় হলেও প্রফুল্লচন্দ্র মনে করেছিলেন যে এই প্রতিযোগিতার মধ্যে একটি সুযোগ পাওয়া গেলো যার মধ্য দিয়ে ভারতবর্ষ সম্পর্কে একটা আগ্রহ সৃষ্টি করা যায়। সুযোগের পূরণ সদ্ব্যবহার করার জন্য ক্ষুদ্রকায় হলেও জীবনের প্রথম গ্রন্থ রচনা করলেন প্রফুলচন্দ্র -- ইন্ডিয়া বিফোর এন্ড আফটার দ্য মিউটিনি।

গ্রন্থটিকে দুটো ভাগে বিভক্ত করেন প্রফুল্লচন্দ্র। প্রথম ভাগের চারটি অধ্যায় জুড়ে তিনি তুলে ধরেন লর্ড ক্লাইভ থেকে লর্ড মেয়ো অবধি ব্রিটিশ শাসনের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা। এই আমলের প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল অবাধ লুন্ঠন। ক্লাইভ যখন মুর্শিদাবাদের কোষাগারে প্রবেশ করেন, তখন তিনি তাঁর চারিধারে দেখতে পান স্তূপীকৃত সোনা , রূপো ও নানাবিধ বহুমূল্য অলঙ্কার। সেই কুবেরের সম্পদ দিয়ে ক্লাইভ গড়ে তোলেন নিজের সাম্রাজ্য। যে ওয়ারেন হেস্টিংস বসে থাকতেন ক্লাইভের পদতলে , তিনিই হলেন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল। তাঁর বইয়ে প্রফুল্লচন্দ্র ইতিহাসের একটিও ঘটনা বাদ দেননি। একের পর এক গভর্নর জেনারেলদের কুকীর্তির কার্যক্রম তুলে ধরেছেন। শাসকের স্বার্থের দিকে তাকিয়ে এঁরা কেমনভাবে ভারতবর্ষকে ফতুর করে দিয়েছেন , তা তুলে ধরেছেন প্রফুল্লচন্দ্র। কেমনভাবে বার্মা যুদ্ধের সমস্ত খরচ ভারতের কোষাগার থেকে ব্যয় করেছেন লর্ড আর্মহার্স্ট তা লিখেছেন প্রফুল্লচন্দ্র।

তিনি দেখিয়েছেন , টিপু সুলতান , মহীশূর যুদ্ধ , ঝাঁসির রানী লক্ষ্মীবাঈয়ের আত্মত্যাগের গাথা। ১৮৫৭ সালের শুরু থেকেই বিদ্রোহের হাওয়া পাওয়া যাচ্ছিল। ১৮৫৭ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাতে চর্বিযুক্ত কার্তুজ নিয়ে সিপাহীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যারাকপুর ও বহরমপুরে বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। মার্চ মাসে ব্যারাকপুরে মঙ্গলপান্ডে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। ২৯ মার্চ বিদ্রোহের দায়ে মঙ্গল পান্ডেকে ফাঁসি দেওয়া হয়। মূল বিদ্রোহ শুরু হয় মিরাটে, ১০ মে ১৮৫৭ সালে। এ দিন সিপাহীরা বিদ্রোহ করে সেনা ছাউনি থেকে বেরিয়ে যায় এবং শত্রুদের হত্যা করে দিল্লি অভিমুখে যাত্রা করে। ১১ মে তারা দিল্লি দখল করে। এরপর একে একে মথুরা, লক্ষ্ণৌ, ভরতপুর, কানপুর, এলাহাবাদ, ঝাঁসি, ইন্দোরসহ পুরো ভারতেই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্রোহ শুরুর আগে যদিও ব্রিটিশ বিভিন্ন প্রশাসক ও সেনা কর্মকর্তারা সিপাহী ও জনসাধারণের মধ্যে অসন্তোষের ইঙ্গিত দিয়েছিল, কিন্তু ঊর্ধ্বমহল একে ততটা পাত্তা দেয়নি। এ অনেকটা হাইতির বিপ্লবের মতো। হাইতিতে দাসরা যখন প্রথম বিদ্রোহ শুরু করেছিল এবং বিদ্রোহের কয়েকদিন পর এই খবর যখন ফরাসি দেশে এসে পৌঁছে তখন ফরাসি ওপর মহল একে গুজব বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিল। হাইতিতে বিপ্লবের ঘটনা বিশ্বাস করতে ���রাসিদের প্রায় মাস খানেক সময় লেগেছিল। তাদের ধারণাতেই ছিল না যে দাসরা আবার বিপ্লব করতে পারে! সিপাহীদের বিদ্রোহে অনেকটা সে রকমই বিস্মিত হয়েছিল ব্রিটিশরা। তারা ভেবেছিল মার্চে মঙ্গল পাণ্ডের ফাঁসির ঘটনায় সিপাহীরা দমে যাবে। কিন্তু সেটি হয়নি। বিদ্রোহ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, এমনকি বহু বছর পরও বিদ্রোহকে খাটো করে উপস্থাপন করা হয়েছিল। ব্রিটিশ প্রশাসক ও ইতিহাসবিদরা বিদ্রোহটিকে শুধু কতিপয় সিপাহীর বিদ্রোহ হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছে। তারা দেখাতে চেয়েছে কিছু উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও পথভ্রষ্ট্র সিপাহী এটি করেছে এর সমুচিত বিচার করা হয়েছে।

এই গ্রন্থের দ্বিতীয় অংশে প্রফুল্লচন্দ্র ব্রিটিশ শাসনে ভারতের অর্থনৈতিক , বৌদ্ধিক এবং নৈতিক অবস্থার কথা আলোচনা করেছেন। পলাশীর যুদ্ধের পর মুর্শিদাবাদে রাজকোষ ও রাজপ্রাসাদ লুণ্ঠিত হয়, সরকার দেউলিয়া হয়ে পড়ে। হিন্দু জমিদার ও চাকলাদারদের অর্থে তখন সরকার পরিচালিত হতো। গদি লাভের জন্য ইংরেজদের দাবি অনুযায়ী ঘুষ সংগ্রহ করার জন্য মীর জাফর ও মীর কাসিম রাজস্ব বাড়িয়ে দেন। নবাবের এসব রাজস্ব বৃদ্ধির অজুহাতে জমিদাররা প্রান্তিক প্রজা ও রায়তদের উপর বহুগুণে খাজনা বাড়িয়ে দেয়। দেশব্যাপী শুরু হয় অরাজকতা। কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যে দেখা দেয় অস্থিতিশীল অবস্থা। একইসাথে, বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অন্য বিদেশি বণিকদের বাংলাছাড়া করে ইংরেজরা রেশম, মসলিন, সুতি কাপড়, চিনি, চাল, আফিম, সল্টপিটার প্রভৃতি পণ্য রপ্তানীর ক্ষেত্রে একাধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। বাজার কুক্ষিগত করে এরা এসব পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিক রকম নামিয়ে দেয়।ব্যবসায় ইংরেজদের সবচেয়ে বড় চারণক্ষেত্র ছিল আমাদের বঙ্গভূমি। সে সময় বাংলা থেকে কৃষিজ ও প্রাণিজ পণ্য বাদে শুধু মসলিন, মোটা সুতি বস্ত্র, রেশম ও রেশমী বস্ত্র ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানী করেই বছরে দশ-বারো হাজার কোটি টাকা আয় হতো। নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ, কিশোর মিলিয়ে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হতো এই বস্ত্রখাতে। এছাড়া ইউরোপে সল্টপিটার, ইস্ট ইন্ডিজে চাল, চীন ও জাপানে আফিম, আরব, ইরাক ও ইরানে লাল চিনি, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে মরিচ, আদা, দারুচিনি রপ্তানি হতো। সব মিলিয়ে বছরে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা শুধু বাংলা থেকেই হতো। ইংরেজদের আধিপত্য বিস্তারের আগে উৎপাদকরা সরাসরি রপ্তানিকারকের কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারতো। রপ্তানিমুখী অবাধ বাণিজ্য ছিল বাংলার অর্থনীতি ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য। ইংরেজদের হাতে রপ্তানির একচেটিয়া অধিকার চলে আসার পর প্রতিযোগিতার দরজা বন্ধ হয়ে যায়। পণ্যের উৎপাদন খরচের চাইতে বিক্রয়মূল্য কমিয়ে দেয়া হয়। ওদিকে জমিদাররা রাজস্বের পরিমাণ চার-পাঁচগুণ বাড়িয়ে দেয়। এমন ভগ্ন অর্থনীতিতে বাড়তি রাজস্ব দিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে যায় কৃষক ও কারিগরগণ। স্বাভাবিক উৎপাদন হার কমে এলে ইংরেজরা জমিদার ও প্রশাসনিক কর্মচারীদের উৎপীড়ন ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে গোমস্তা, দালাল ও ফড়িয়াদের দ্বারা গ্রামে-গঞ্জে আড়ৎ-গদি প্রতিষ্ঠা করায় ও অত্যাচারের-নিপীড়নের মাধ্যমে উৎপাদন চালাতে বাধ্য করে। এরা থানার দারোগা, পরগণার শিকদার ও পাইক নামিয়ে বলপূর্বক দাদন দিতে বাধ্য করতো এবং চাবুক মেরে কম মূল্যে কাপড়, লবণ ও অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রী বিক্রি করতে বাধ্য করতো। অত্যাচারের মাত্রাতিরিক্ততায় তাঁতীরা তাদের হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে ফেলে। মধ্যাঞ্চলের চাষীরা আসামের অরণ্যের দিকে পালিয়ে যায়। এভাবে বিশ্বঅর্থনীতির অবাধ ও প্রতিযোগিতামুখর একটি উৎপাদন ক্ষেত্রকে ইংরেজরা এক দাসত্বপ্রথামূলক নারকীয় যজ্ঞে পরিণত করে।

নানা উদাহরণ দিয়ে প্রফুলচন্দ্র দেখিয়েছেন ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় জনগণের প্রতি তাদের কর্তব্যের কথা জোট সোচ্চারে ঘোষণা করে, তত তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্যকে গোপন করে রাখে। ফলে ভারতে প্রায়ই দুর্ভিক্ষ দেখা দে। সেচের ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ব্যর্থ। শিক্ষার অবস্থাও তদ্রূপ।

এসব কথা যখন লিখছেন প্রফুল্লচন্দ্র , তখন তাঁর বয়স মাত্র ২৪/২৫। মনে রাখতে হবে , তিনি ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া একটি বৃত্তি নিয়ে তাদের দেশে পড়াশোনা করতে গিয়েছেন।সিপাহী বিদ্রোহের ব্যর্থতার পরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ কী রকম হিংস্র হয়ে ভারতীয়দের ওপর অত্যাচার করেছে তার বিবরণও গ্রন্থের মধ্যেই আছে। সেই অবস্থার মধ্যেও প্রফুল্লচন্দ্র যে সাহসের পরিচয় দিয়েছেন, তা ভাবলে অবাক হতে হয়।

এই প্রবন্ধ পুরস্কার লাভ না করলেও proxime accesserunt অর্থাৎ 'আদর্শের নিকটতম' বলে ঘোষিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শীতকালীন সেশন উদ্বোধন করার সময় এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ স্যার উইলিয়াম মোয়ার তাঁর বক্তৃতায় প্রবন্ধটির প্রশংসা করেন। ১৮৮৫ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় এই লেখাটি। প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই প্রফুল্লচন্দ্র এই গ্রন্থের একটি কপি পাঠিয়ে দেন তৎকালীন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য জন ব্রাইটের কাছে। ব্রাইট সাহেব প্রফুল্লচন্দ্রের রাজনৈতিক জ্ঞানের প্রশংসা করে ওঁকে চিঠি লেখেন। এই লেখার জন্য খেসারত দিতে হয়েছিল প্রফুল্লচন্দ্রকে। ১৮৮৮ খ্রিষ্টাব্দে দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই তৎকালীন সরকার চাকরি দেননি তাঁকে। এক বৎসর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। তারপরেও মাত্র আড়াইশো টাকা বেতনে প্রেসিডেন্সী কলেজে অস্থায়ী অধ্যাপকের চাকরি জোটে। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে সরাসরি ইন্ডিয়ান চাকরি দেওয়া হয়নি। এ সবের মুলে ছিল আচার্য্যদেবের জাতীয় চেতনা।

তাঁর বাকি জীবনটা ইতিহাস।
Displaying 1 of 1 review

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.