সাহিত্য পত্রিকা আর সাময়িকীতে নানান সময়ে প্রকাশিত গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজকে নিয়ে লেখা কয়েকটা প্রবন্ধের সংকলন এই বই। সেই সাথে আছে ইমতিয়ার শামীমের করা মার্কেজের দুটো প্রবন্ধের (চিলির জননেতা সালভাদর আলেন্দে আর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে নিয়ে লেখা) অনুবাদ।
মাত্র দুটোই অনুবাদ আর প্রবন্ধ গুলো ইমতিয়ার শামীমের নিজেস্ব হওয়া সত্বেও বইটা নিতান্তই মনে হয় "দুর্বল অনুবাদ"এ লেখা। বিষয়বস্তুর কোন ঠিক ঠিকানা নেই, গোছালো হবে তা আশা করিনি কারন নানান সময়ে, নানান উপলক্ষে লেখা এসব প্রবন্ধ একক ভাবেও আগা থেকে গোড়া কোন মাথামুন্ডু নেই। পড়তে খুবই অধৈর্য লেগেছে, আনন্দ পাইনি। অথচ এই প্রবন্ধ গুলো এমন একজন কিংবদন্তী লেখককে নিয়ে লেখা, আর তার অল্পসল্প যতটুক টুকরো টাকরা ইমতিয়ার শামীম আনতে পেরেছেন এই লেখাগুলোতে, একটু সুখপাঠ্য করে লিখলে ধারনা করতে পারি কত দারুন কিছু হতে পারত। ভূমিকাতে যদিও লেখক ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন যে কয়েকটা প্রবন্ধে কিছু জিনিসের পুনরাবৃত্তি এসেছে যেহেতু নানান সময়ের লেখা এগুলো। তাই বলে এতো? আর একই মলাটে যেহেতু আনা হচ্ছে, এই পুনরাবৃত্তি গুলোর সংশোধন বা সামগ্রিক একটা সম্পাদনা করা যেত না?
যতটুক যা ভালোর মধ্যে যদি বলি, "এক জীবনের নন্দনতত্ত্ব" প্রবন্ধটা পড়তে কিছুটা ভালো লেগেছে। লেখকের মতেঃ
"মার্কেস যারা পড়েন, পড়তে ভালোবাসেন, তাদের পড়া অসম্পূর্ণই থেকে যায় তার 'লিভিং টু টেল দ্য টেল' না পড়লে। ...মার্কেসের পাঠককে ততক্ষণ মার্কেসের পাঠক বলা যায় না, যতক্ষণ না সে মার্কেসের 'লিভিং টু টেল দ্য টেল' না পড়ে।"
এই লাইনটা আমার কাছে ভীষন ইন্টারেস্টিং, সেই সাথে দুঃখেরও কারন আমি গ্যাবোকে আমার এতো প্রিয় গল্প বলিয়ে দাবী করলেও আমিও এখনও 'লিভিং টু টেল দ্য টেল' পড়িনাই!
ফিদেল কাস্ত্রোর সাথে মার্কেজের বন্ধুত্ব এক অনন্য অধ্যায়। এ ব্যাপারে যে প্রবন্ধটা "জাদুবাস্তবতার জননায়ক" এই প্রবন্ধটাও খুব খারাপ লাগেনি।