|| রিভিউ ||
বইঃ একটি খুনের নেপথ্যে
লেখকঃ নজরুল ইসলাম
প্রকাশকঃ বাতিঘর প্রকাশনী
প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
ঘরানাঃ মার্ডার মিস্ট্রি/থ্রিলার
প্রচ্ছদঃ ডিলান
পৃষ্ঠাঃ ২৪০
মুদ্রিত মূল্যঃ ২৫০ টাকা
ধরণঃ হার্ডকাভার
কাহিনি সংক্ষেপঃ সাতসকালে ঢাকার বিখ্যাত রমনা পার্ক হয়ে ওঠে শরীর সচেতন মর্নিং ওয়াকারদের তীর্থস্থান। এই নিরুপদ্রব রমনা পার্কেই এক সকালে খুন হলেন ক্রাইম, নারকোটিকস, ওয়েপন্স অ্যান্ড ড্রাগস, সংক্ষেপে সি.এন.ও.ডি.-এর প্রধান সাদ ইবনে হাদি। পুলিশের এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে উপর্যুপরি গুলি করে খুন করার পর খুনি নিজেও আত্মহত্যা করে বসলো। আর এতেই বেধে গেলো 'প্যাঁচ'। সারাজীবন একজন সৎ আইনের লোক হিসেবে সর্বজনবিদিত সাদ ইবনে হাদি'র এহেন খুনের ঘটনা টনক নড়িয়ে দিলো পুরো প্রশাসনের।
এই হাই-প্রোফাইল খুন ও খুনির নিজের আত্মহত্যার ঘটনার তদন্তভার এসে ন্যস্ত হলো হোমিসাইড ডিটেকটিভ আসিফ ও তার সহকারী-বন্ধু জুনায়েদের ওপরে। তদন্ত শুরু করার পর আরো একটা অদ্ভুত ব্যাপার ওদের সামনে এলো। আর তা হলো, আত্মহত্যাকারী খুনির নিজের ব্যাকগ্রাউন্ডেও বেশ পরিস্কার। পরিচিত মহলে একদম নির্বিরোধী একজন ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলো লোকটা। তবে কেন সে পুলিশের ওই উচ্চপদস্�� কর্মকর্তাকে খুন করতে গেলো?
ঢাকার বর্তমান আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন কাশেম তালুকদার ওরফে কালু কাশেমের নামও চলে আসলো সাদ ইবনে হাদি খুনের কেসে। সেই সাথে উঠে আসলো বিশিষ্ট শিল্পপতি সালাউদ্দীন ভুঁইয়া ও ম্যানিয়াক এক সাবেক এম.পি. শিকদার খানের নামও। মজার ব্যাপার হিসেবে হোমিসাইড ডিটেকটিভ আসিফ ও জুনায়েদ আবিস্কার করলো যে, সাদ ইবনে হাদিকে খুন করার মোটিভ রয়েছে এদের প্রত্যেকেরই। কিন্তু মোটিভ যতোই থাক, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংগ্রহকৃত প্রমাণের সংখ্যা বড় অপ্রতুল। এদিকে হোমিসাইড ডিপার্টমেন্টের হাত থেকে এই কেসটা কেড়ে নেয়ার জন্য একেবারে মরিয়া হয়ে উঠেছে পি.বি.আই. (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)। আল্টিমেটাম বেঁধে দেয়া হয়েছে আসিফ ও তার টিমকে।
একটা খুন আর খুনির রহস্যজনক আত্মহত্যার কেসটা ধীরে ধীরে জটিল আকার ধারণ করতে লাগলো। হোমিসাইড ডিপার্টমেন্টের ডিটেকটিভ আসিফ ও জুনায়েদ এবং পি.বি.আই.-এর আহির এই রহস্যের নানা গলি-ঘুপচিতে এক চিলতে আলোর আশায় ঘুরে ফিরতে লাগলো বারবার। এদিকে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন কালু কাশেম ও তার ডান হাত বিকাসও কিন্তু বসে নেই। এরাও চালিয়ে যাচ্ছে নিজ নিজ তৎপরতা। সাদ ইবনে হাদি'র খুনের কেসের সাথে জড়িয়ে একটা ব্যাপার কিন্তু ঠিকই বুঝলো তদন্তকারীরা। আর তা হলো, কারো অতীতই পুরোপুরিভাবে সাদা না। বহুল চর্চিত প্রবাদবাক্য Behind every fortune, there is a crime-এর সত্যতা হাড়ে হাড়ে টের পেতে লাগলো তারা। আর কাঙ্ক্ষিত সত্যের উন্মোচন নাড়িয়ে দিয়ে গেলো সবাইকেই, যা আসিফরা কখনোই ভাবেনি।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ নবীন লেখক নজরুল ইসলাম এর আগে জাপানি বিখ্যাত ঔপন্যাসিক কিয়েগো হিগাশিনোর 'জার্নি আন্ডার দ্য মিডনাইট সান'-এর ছায়া অবলম্বনে রচনা করেছিলেন মার্ডার মিস্ট্রি 'অস্পৃশ্যতা'। এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশ হওয়া 'একটি খুনের নেপথ্যে' তাঁর প্রথম মৌলিক কাজ। একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার খুন ও খুনির রহস্যজনক আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে তাঁর এই উপন্যাস। উদ্ভুত এই রহস্যের তদন্ত ও তৎপরবর্তীকালে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনাবলী দিয়েই সাজানো হয়েছে অধ্যায়গুলো। তথাকথিত হার্ডকোর থ্রিলার না বলে 'একটি খুনের নেপথ্যে'-কে আমি বরং আদর্শ একটা সাধারণ মিস্ট্রিই বলবো, যেখানে স্টেপ বাই স্টেপ একটা খুন ও একটা অদ্ভুত আত্মহত্যার রহস্যের জট ছাড়ানো দেখানো হয়েছে। হোমিসাইড ডিটেকটিভ আসিফ ও জুনায়েদের চৌকস কর্মকাণ্ডের সাথে পি.বি.আই.-এর ইনভেস্টিগেটর আহির মেয়েটার কম্বিনেশনের ব্যাপারটা লেখক উপভোগ্য ভাবেই ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন এই উপন্যাসে।
তবে কাহিনির গতিপ্রকৃতি আমার কাছে কিছুটা ধীর মনে হয়েছে মাঝে মাঝে। তবে শেষের ট্যুইস্টটা ভালো লেগেছে। 'একটি খুনের নেপথ্যে-এর রুদ্ধশ্বাস আবহটা আমি আসলে অনুভব করতে শুরু করেছি কাহিনিটা শেষের দিকে আসার পরেই। নজরুল ইসলামের প্রথম মৌলিক থ্রিলার উপন্যাস হিসেবে উদ্যোগটা বেশ ভালোই ছিলো বলা চলে। ভবিষ্যতে তাঁর লেখনী ও কাজগুলো আরো উন্নতির পথে পৌঁছাবে এমনটাই আশা করছি।
ডিলান সাহেবের প্রচ্ছদ এবার আমার কাছে অতোটা দৃষ্টিনন্দন মনে হয়নি। বইয়ে বানান ভুলের মাত্রা অবশ্য খুব বেশি খেয়াল করিনি। তবে ছোটখাটো টাইপিং মিসটেক ছিলো। যেমন, কালাম চরিত্রটাকে কয়েকবার কামাল হিসেবে লেখা হয়েছে। ওভার-অল মোটামুটি ভালোই লেগেছে 'একটি খুনের নেপথ্যে'।
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৩.৭/৫
গুডরিডস রেটিংঃ ৩.৮৮/৫
© শুভাগত দীপ
(২৭ মার্চ, ২০১৯, রাত ১০ টা ১৪ মিনিট; নাটোর)