ব্যক্তিমানসে বদল না এলে সমাজবিপ্লব অসমাপ্ত থেকে যায়। হয়তো-বা সে বিপ্লব ব্যর্থ হয়। এই উপন্যাসের একটি প্রধান চরিত্র তাঁর লেখার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করেছেন। দমন-পীড়নের প্রতিষ্ঠান যে রাষ্ট্র, তার পরাজয়ের চাবিকাঠির সন্ধান দিয়েছেন। এই অপরাধে তিনি বিচারাধীন অবস্থায় বন্দি। রাষ্ট্রশক্তি যখন তাঁর বন্দিদশা দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনায় রত, যুবক গোয়েন্দা অফিসারের মনে দাগ কাটে তাঁর লেখা। অফিসারটি প্রবীণ বিপ্লবীকে কারাগার থেকে পালাতে সাহায্য করে। বিপ্লবী লেখককে খুঁজে না পেয়ে রাষ্ট্র অসাধু পুলিশ এবং মাফিয়ার সাহায্যে তাঁকে হত্যা করতে চায় এবার। গোয়েন্দা অফিসারটি এগিয়ে আসে। নিজের জীবন এবং চাকরির ঝুঁকি নিয়ে ভাড়াটে খুনির হাত থেকে বাঁচিয়ে আনে প্রবীণ বিপ্লবীকে। তিনি যে মুক্তি পান সসম্মানে শুধু তাই নয়, একটা অন্যরকম বদল ঘটে যায়। নর-নারীর প্রেমকে পাথেয় করে রূপান্তর ঘটে মাফিয়া ডনের আর সমস্ত প্রথা ভেঙে গোত্রান্তর ঘটে একজন পুরুষের। ‘প্রতিঘাত’ উপন্যাস নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী প্রয়াস।
ধীমান দাশগুপ্ত-এর জন্ম ১৯৭০, কলকাতায়, দেশভাগের বহু পরে এপারে আসা এক উদ্বাস্তু পরিবারে। শিক্ষাগ্রহণ করেন ডনবস্কো স্কুল আর আশুতোষ কলেজে। দু’দশক যুক্ত ছিলেন বিজ্ঞাপন জগতে, সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন বিপণনে। বর্তমানে স্বাধীন জীবন। প্রবন্ধ, রম্যরচনা, গল্প, উপন্যাস নিয়মিত লিখে চলেছেন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়।
অত্যন্ত গতিময়, বুদ্ধিদীপ্ত এবং সহজ গদ্যে লেখা এই থ্রিলারটি কার্যত এক সিটিঙে শেষ করতে হল! কী নিয়ে লেখা এটি? এক শিক্ষিত, দরদি মানুষ তাঁর লেখালেখির মাধ্যমে রাষ্ট্রের শত্রুতে রূপান্তরিত হয়েছেন। তাই শুধু কয়েদ নয়, তাঁকে একেবারে নিকেশ করার ফন্দি আঁটা হয়েছে ওপরমহলে। এ আর এমন কী? এটাই ভাবছেন, তাই তো? আর ঠিক এখানেই ছকভাঙা এক গতিময় কাহিনি নির্মাণ করেছেন লেখক, যেখানে লঙ্কার ভেতর মাথা তুলেছে এক বা একাধিক বিভীষণ। সেখান থেকেই শুরু হয়েছে আঘাতের বদলে প্রতিঘাত। কীভাবে সম্ভব হয়েছে এই কাণ্ডকারখানা? জানতে হলে বইটা আপনাকে পড়তে হবে। আমি একটি তারা ছাঁটলাম কাহিনির শেষে আবেগাতিশয্যের জন্য। কবে যে বাংলার লেখকেরা এই আবেগমথিত রিগ্রেট আর রিডেম্পশনের অলীক কল্পনা ছেড়ে বেরোবেন...! বইটা সুযোগ পেলে পড়ে ফেলুন। বেশ লাগবে।