আমার মতো প্রাক্তন সল্টলেকবাসীদের প্রেম করার দুটি জায়গা ছিল - যাদের হাতে কোনো পয়সা নেই তারা যেত সেন্ট্রাল পার্কে, আর যাদের হাতে একটু পয়সা আছে তারা যেত সিটি সেন্টারে, যেটাকে আজকের দিনে লোকেরা CC1 বলে। হ্যাঁ, আমি সেই সময়ের কথা বলছি যখন পুরো কলকাতায় শুধু একটা সিটি সেন্টারই ছিল।
সৌভাগ্য কিংবা দুর্ভাগ্যক্রমে আমি ওই দ্বিতীয়দের দলেই ছিলাম। এখানে আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল চায়ের দোকান, জানি, একদম typical বাঙালি ব্যাপার-স্যাপার তার একটা কারণ ছিল সেই দোকানের দেয়ালে বিশাল বড় mural ছিল, যেখানে বিভিন্ন comic strip আঁকা ছিল। না, Marvel বা DC-র, বা ইউরোপীয় কোনো comics-এর কোনো অলঙ্করণ নয়। আসলে অলঙ্করণটির স্থান-কাল-পাত্র একদম বাঙালি মেজাজে তৈরি ছিল। বহু ঘটনার ঘনঘটা।
মনে আছে, fish cutlet ও চা সহযোগে ওই mural-এর artwork আর script ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেখতেই থাকতাম। ছাত্র অবস্থায় একদম বিস্মিত হয়ে ভাবতাম, এরকম organised chaos আমি Tintin ছাড়া আর কোথাও দেখিইনি। কে এই শিল্পী, যিনি Herge-কে এত সুন্দর tribute দিলেন? স্কুলে পড়াকালীন প্রেম করলেও আমি এমনিতে খুবই লাজুক স্বভাবের ছিলাম, তাই চায়ের দোকানের মালিককে আর জিজ্ঞেস করে উঠতে পারিনি যে শিল্পীটি কে।
পরে যখন আরেকটু বড় হলাম, খবরের কাগজ পড়া শুরু করলাম, তখন টেলিগ্রাফের সঙ্গে একটা supplementary paper আসত, নাম t2, আর আনন্দবাজার পত্রিকার সঙ্গে আসত “পত্রিকা” বলে আরেকটি supplement এবং সেখানেও দেখছি সেই একই style-এর artwork। কিন্তু তখন সৌভাগ্যক্রমে শিল্পীর নাম দেখতে পেয়েছিলাম। আর সেই নাম আমি চিরজীবন মনে রাখলাম, শীর্ষেন্দু বাবুর গল্পেই বলুন বা মীরের লেখা ইংরেজি রম্যরচনায় - দেবাশীষ দেব।
আমার একজন খুবই প্রিয় শিল্পী। উনার কাজ আমাকে চিরজীবন মুগ্ধ করে রেখেছে। আজ এই বইটি হাতে পেয়ে বুঝতে পেরেছি কতটা বৈচিত্র্যময় আপনার শিল্পকার্য ও জীবন। তার কিছুটা ইঙ্গিত আনন্দমেলার বিভিন্ন গল্পসংকলন পড়ে তো পেয়েই ছিলাম, কিন্তু বুক ফার্ম থেকে প্রকাশিত এই পুস্তকখানির মাধ্যমে বিষয়টা যেন আরও বেশি স্পষ্ট হল।
এই বই যেমন দেবাশীষ দেব শিল্পীকেও appreciate করতে শেখাবে, তেমনি দেবাশীষ দেব মানুষটিকেও চেনাতে সক্ষম হবে। মনে হবে, খুব কাছের একজন মানুষকে যেন নতুনভাবে চেনা গেল।
দেবাশীষ বাবুর লেখা খুবই স্বচ্ছ ও সরল। উনি কোনো কাব্যি করে সময় নষ্ট করেন না। Simple ব্যাপারকে সোজাসাপ্টাভাবে বলা আজকের দিনে মনে হয় অনেকেই পারেন না, কিন্তু উনার prose পড়ে আমার অনেক সময় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কথা খুব মনে পড়ে যাচ্ছিল।
উনার বিভিন্ন অলঙ্করণের art print এই বইতে দেখে যেমন মুগ্ধ হয়েছি, তেমনই অনেক সময় ফিরে গেছি ছোটবেলার সেই চিন্তাহীন দিনগুলিতে। French ভাষায় একটা ঘরানার বই হয়, যেটা পড়েও আপনার ভালো লাগবে, কিন্তু তার আরও সঙ্গে ভালো লাগবে সেই বইয়ের পৃষ্ঠা ওল্টাতে - un beau livre - এটাও অনেক ক্ষেত্রে তাই হয়েছে।
এবার এই পাঠক “অনেক ক্ষেত্রে” কথাটি ব্যবহার করেছে তার একটাই কারণ, বইয়ের দুটো অংশ, “প্রকাশিত লেখা” ও “অপ্রকাশিত লেখা”, অলঙ্করণের অভাবে খুবই dense with texts লেগেছে। আমি যদি একজন অলংকরণ শিল্পীর লেখা পড়ি অন্য অলংকরণ শিল্পীর বিষয়ে, তখন সেই শিল্পীর আঁকা, বা নিদেনপক্ষে তার একটা caricature তো থাকা উচিত। শুধু লেখা পড়ে আমায় যদি mobile ঘেঁটে সেই অলঙ্করণের কাজ দেখতে হয়, তাহলে বই পড়ার entire point goes out of the bloody window and takes a dip in the freaking Ganges...
তার ওপর যে অলংকরণের কাজগুলো দুই পাতা জুড়ে originally আঁকা হয়েছে, সেগুলোকে যখন ছোট করে এক পাতায় ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়, তখন I feel that the disservice to the art and the artist itself... তার ওপর বেশ কিছু জায়গায় বানান ভুল, যেটা পড়ার স্রোতকে কিঞ্চিৎ ব্যাঘাত ঘটায়।
এটা বুকফার্মের মতো ভালো প্রকাশনা থেকে আশা করা যায় না, especially যখন আমি পাঠক হিসেবে ১০০০/- খরচ করে এই বইখানি কিনছি।
তাই ৮৫% - beau livre হয়েও ওই ১৫% ভুলভ্রান্তির জন্য আমি ৫/৫ দিতে চাইলেও দিতে চাই না। কিন্তু মানুষ ও শিল্পী দেবাশীষ দেবকে চেনার জন্য, এবং তাঁর কাজ কাউকে introduce করার জন্য, এই বইখানি is perfect in every sense of the word...
রেটিং - ৪.৫/৫ (০.৫ টা শুধু মাত্র বুক ফার্মের ভুলের জন্য ফস্কাকালো)