৩.৫/৫
চিত্রশিল্পী রফিকুন নবী'র জন্ম চাঁপাইনবাবগঞ্জে। বেড়ে ওঠা ঢাকায়। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠার সময় এতোটাই ঘটনাবহুল ও ঘাত প্রতিঘাতে পরিপূর্ণ ছিলো যে, লেখকের গদ্যশৈলী খুব আকর্ষণীয় না হলেও তরতর করে কৌতূহল নিয়ে পড়ে ফেলা যায়। স্মৃতিকথার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ "আর্ট কলেজ ও অন্য দিনকাল।" চিত্রকলা সম্বন্ধে আমার ধারণা ভাসা ভাসা। রফিকুন নবী সরল গদ্যে চিত্রশিল্প সম্পর্কে যে আলোচনা করেছেন তা গভীর। যেমন-
"আসলে এই অদেখা জগৎ সৃষ্টির চেষ্টা শিল্পীরা যে করেন না তা নয় । কত রকমের কাণ্ডকীর্তিই না করা হয়। বিমূর্তের পথটিতে অচেনা জগৎ সৃষ্টির প্রয়াস থাকে অনেক ক্ষেত্রে। পরাবাস্তববাদী নামকরণে মগ্নচৈতন্য, স্বপ্ন-জগৎ, ভাবাবেগ ইত্যাদি দিকগুলোকে চিত্রে রূপ দেওয়ার চেষ্টাও শিল্পীরা করেছেন। তাতে বিশেষ রীতি তৈরি হয়েছে, স্টাইল প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, ‘ফ্যান্টাসি’ এসেছে। বাস্তবতাকে ছাড়িয়ে যাওয়া হয়নি। এভাবে চেনা বস্তুর, রঙের, আকারের, রেখার, স্পেসের ঘরেই শেষতক রয়ে যাওয়া। সালভাদর দালির ছবিতে চেনা বস্তুই থাকে। তবে আঁকাটা অন্যরকম করে, আধিস্বাপ্নিক ভাবনাকে ইলাস্ট্রেট করে স্বপ্নিল ভাবের জগৎ সৃষ্টি করে। তো ওই ঘরের দরজা খুলে ভাবের নির্যাস নিতে পথে শিল্পীরা চলেন বটে, কিন্তু ঘুরেফিরে চেনা জগৎকে পুনঃ চেনাবার ঘটনাই ঘটে যায়। তবে কে কেমন করে উপস্থিত করে তেমনও একটা ব্যাপার থাকে । এটা আমার উপলব্ধি।"
তিনি শিক্ষক হিসেবে পেয়েছিলেন জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসানসহ অনেক মহীরুহ চিত্রকরকে। ঢাকা আর্ট ইন্সটিটিউট এর জন্ম, সংগ্রাম, এখানে লেখকের পড়তে আসা, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দুর্যোগে শিল্পী হিসেবে অংশগ্রহণ, বেড়ে ওঠার সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষক হিসেবে অভিজ্ঞতা, গ্রিসে গমণ সবই এই স্মৃতিগদ্যের অংশ।আশ্চর্যজনকভাবে মুক্তিযুদ্ধের অংশটি অতি সংক্ষিপ্ত ও দুর্বল।
রফিকুন নবীর গদ্যে এক ধরনের অদ্ভুত সারল্য আছে। তার মধ্যে নিজেকে বড় দেখানোর প্রবণতাও অনুপস্থিত।আত্মজীবনীতে আমরা সাদাসিধা ও শিল্পের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এক মানুষের দেখা পাই।
তার এই সারল্য পাঠক হিসেবে আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।