একের পর এক হারিয়ে যাচ্ছে শিশু। কিছুদিন পরেই তারা ফিরে আসছে অজানা এক রোগ নিয়ে। সবুজ রঙের বসন্ত! সবই গরিব ঘরের ছেলেমেয়ে। তাই না মিডিয়া বিচলিত, না প্রশাসন। কিন্তু অকুণ্ঠবার্তার ডিটেকটিভ এজেন্সি শ্যেনচক্ষু প্রাইভেট আই জোঁকের মত লেগে আছে কেসটার পেছনে। বার বার হাতের মুঠির মধ্যে পেয়েও অপরাধীকে হারিয়ে ফেলছে মারুফ। একের পর এক প্রাণঘাতী হামলার শিকার হচ্ছে সে। এদিকে বিখ্যাত গবেষক ও ডাক্তার শরীফুল হক চমকে উঠলেন যখন তাঁর এক পুরনো ছাত্রীর হাতে দেখলেন সেই লোকটার ছবি, যার কারণে সব থেকেও শূন্য তাঁর জীবন। তাঁর ছাত্রী নিপা নাহার কি তা হলে একটা আন্তর্জাতিক ক্রিমিনালের কাছে চাকরি করছে? মাছি নিয়ে কীসের এত গবেষণা লাইফলাইন রিসার্চ ফাউণ্ডেশনে? সবুজ রঙের নতুন প্রজাতির মাছির আতংক ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। খুব ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক একটা মেডিকেল মাফিয়া কি বাংলাদেশে একটা বায়োলজিকাল ওয়ারফেয়ার ঘটাতে চলেছে? মারুফ কি পারবে সব রহস্যের জট খুলতে? হবে শেষ রক্ষা?
হায় খোদা!!! তৌহিদ ভাই আসলেই একটা সম্পদ। কী কামডাই না করছে এই সংখ্যাতে।
পুরো কাহিনীটা দুর্দান্ত। বিরক্ত করেনা মোটেও। উত্তেজনা আছে। প্রতিবারই ভিন্ন ভিন্ন কাহিনী নিয়ে হাজির হয় মারুফ। যদিও এবার তাঁর উপরেই ফোকাস বেশী করা হয়েছে। তবুও সেটা বিরক্তির কারণ হয়নি।
তবে বাংলা সাহিত্যে যা কেউ কখনো করেনি, তা এই সংখ্যাতে করা হয়েছে, সত্যি বলতে গুণ্ডাকে দেখে আমি চমকে গিয়েছিলাম। আর তারপরেরটুকু তো কোথা দিয়ে শেষ হয়ে গেছে খেয়ালও করি নাই।
অবশ্যই পড়া উচিৎ, বিশেষ করে যারা ঢাকা কমিক্সের বইও পড়েন। এতো ভালো আর উত্তেজনাকর ক্রসওভার বাংলা ভাষায় আগে হয়নি, বা কমিক্সের দুনিয়ায় এক নতুন মোড় এনে দেবে।
মারভেল/ডিসি'র সাথে পাল্লা দেবার মতো জিনিস এটা।
This entire review has been hidden because of spoilers.
আঁকা নিয়ে কোনো প্রশ্ন হবেনা। গল্পটাও চিরচেনা ডিটেকটিভ গল্প হিসেবে চলনসই, আর গল্পের ক্যারেক্টারদের ইন্টারেকশন বেশ এনজয়েবল । কিন্তু শেষে গিয়ে কিছু প্লট হোল হয়ে গেল মনেহয়। এছাড়া আরেক প্রিয় চরিত্রের ক্যামিওটা বেশ সারপ্রাইজিং আর মজার ছিলো, কিন্তু সেটা ক্যামিওর ডিউরেশন হিসেবে একটু বেশি টানা হয়ে গেছে মনেহয়, এতোটা টানা হলে ক্রসওভারই হতে পারতো।
মারুফ সিরিজের প্রথম পড়া খন্ড । অ্যাকশন এবং রোমান্সকে বাংলাদেশী কমিক্সএ এতো দারুন ভাবে তুলে ধরতে পারবে; সেটা না পড়লে বুঝতাম না। আশা করবো এই ধরণের থ্রিলার কমিক্স আরো বেশি বেশি প্রকাশ হোক ।
এখন পর্যন্ত মারুফের সেরাটা পেলাম। আমি খুব খুশি হব যদি প্রথম মারুফটা পুনরায় এমন করে আঁকা হয়। কলেবর বাড়ানোয় খুব খুব খুশি হয়েছি। কেউ যখন মারুফ শুরু করবে, প্রথম বইটা পড়ে পরেরগুলো পড়ার ইচ্ছা হবে না। তবে পরেরগুলো মিস করবে। কিছু ভুল তুলে ধরি। 'ভিব্রিও কলেরা' নয়, 'ভিব্রিও কলেরি'। আর আশা করব বাংলা একাডেমি বানান-অভিধান দেখে বিভিন্ন ভুল বানান ঠিক করা হবে।