Jump to ratings and reviews
Rate this book

ফেলুদা রহস্য

Rate this book
ফেলুদা, জটায়ু, তোপসে। এই তিন চরিত্র আর তাদের কাণ্ডকারখানার হরেক দিক নিয়ে একটি তথ্যসমৃদ্ধ ননফিকশন বই।

335 pages, Hardcover

First published January 1, 2019

1 person is currently reading
72 people want to read

About the author

Prasenjit Dasgupta

61 books3 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
8 (66%)
4 stars
4 (33%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 3 of 3 reviews
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 39 books1,870 followers
August 26, 2020
সত্যজিৎ শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাঁকে নিয়ে নানা লেখাপত্র প্রকাশিত হচ্ছে। আয়োজিত হচ্ছে কুইজ থেকে ওয়েবিনার— এমন আরও নানা অনুষ্ঠান। আমি অলস টাইপের লোক। পুজোয় যে চরিত্রটির পিছু-পিছু রওনা দিতাম কাশ্মীর থেকে পুরী, কেদারনাথ থেকে লন্ডন, তারই জীবনোপাখ্যান পড়তে সচেষ্ট হলাম এই সুযোগে।
হাতে তুলে নিলাম একেবারে বারিং গুল্ড লিখিত হোমসের জীবনীর মতো করে সাজানো এই বইটি।
কী-কী আছে এই বইয়ে?
প্রথমত, অজস্র টুকরো ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে এই বইকে। প্রায় প্রত্যেক পাতায় ছড়ানো সেই ছবিগুলো যেকোনো পাঠককে একরকম বাধ্য করবে সময়-ভ্রমণ করতে। ছোটোবেলায় এইসব ঘটনা বা চরিত্রের সঙ্গে প্রথম মোলাকাতের স্মৃতি ফিরে আসবেই আপনার মনে। তাতে একটা বিপদও হতে পারে অবশ্য। বইটা সরিয়ে রেখে ফেলুদা সমগ্র বের করার ইচ্ছে প্রবল হয়ে উঠতে পারে সেই মুহূর্তে!
দ্বিতীয়ত, দেমু'র ঐতিহাসিক 'ফেলুদা ফাইল'-এর মতো করে সাজানো হয়নি এই বইটি। সম্পূর্ণ কাল্পনিক কোনো আখ্যানও সাজানো হয়নি ফেলুদা, তোপসে ও জটায়ু'র ত্রিমূর্তিকে নিয়ে। বরং এই বই ফেলুদা-কে একজন রক্তমাংসের মানুষ হিসেবে দেখে তার নানা দিককে পেশ করেছে অনেকটা ডসিয়ের-এর মতো করে। ফলে 'শুরুর আগে' নামক ভূমিকার পর এতে এসেছে এই অধ্যায়গুলো~
* ফেলু মিত্তির: বয়স, জন্মদিন, পরিচয়, চেহারা, শখ-স্বভাব-চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, কর্মজীবন ও খ্যাতি, রোজগার, বাড়ি, আস্তিক না নাস্তিক?, সিস্টেমটা দিশি না বিলিতি, রঙ্গ রসিকতা তামাশা, মহাজাতি ময়দান, ছদ্মবেশ।
* অন্যরা: তপেশরঞ্জন, জটায়ু, পড়শি ও পরিচিতজন, সিধুজ্যাঠা, পুলিশরা, খলনায়ক, লেখক, সংগ্রাহক, মহিলা চরিত্র, শিশু ও কিশোর চরিত্র, আরও গোয়েন্দা।
* বিবিধ প্রসঙ্গ: খুনের মামলা, খুনবিহীন মামলা, অলিখিত মামলা, অসমাপ্ত লেখা, লিখনশৈলী, ভুলভ্রান্তি, সাধারণ জ্ঞান, খেলাধূলা, শিকার, বইপত্র, সঙ্গীত, ভ্রমণবৃত্তান্ত, হোটেল, বাঙালিয়ানা, খাওয়া দাওয়া, কটূভাষণ, সমাপতন, সমাজবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান, সময়ের অগ্রগতি, শব্দ ও দৃশ্য, কল্পনা ও বাস্তব।
সূচিপত্র দেখে হয়তো আন্দাজ পাবেন, এই বইয়ের মূল লক্ষ্য কী। প্রদোষ চন্দ্র মিত্র নামের মানুষটিকে বাস্তব ধরে নিয়ে সমকালীন নানা ঘটনা ও পরিপ্রেক্ষিতের সঙ্গে তাঁর কেসগুলো-কে 'ম্যাপিং' করেছেন লেখক এই বইয়ে। ফলে যে ছবিটা উঠে এসেছে তাতে রোমান্স বা রোমাঞ্চ না থাকলেও অনেক প্রশ্ন উঠে এসেছে। সত্যজিতের আখ্যানে নানা তথ্যগত ভ্রান্তি যেমন চিহ্নিত হয়েছে, তেমনই উঠেছে বেশ কিছু মামলার প্রসঙ্গ, যাদের নিয়ে তোপসে কিছুই লেখেনি। কিন্তু...
১) বারিং গুল্ড হোমসের ক্যাননে (মানে মূল ছাপ্পান্নটি গল্প ও চারটি উপন্যাসে) তথ্যগত ভুলভ্রান্তির দায় 'ওয়াটসনের লিটার‍্যারি এজেন্ট' আর্থার কোনান ডয়েলের ওপরে চাপিয়েছেন। ক্লায়েন্টদের আসল পরিচয় গোপনের চেষ্টা করতে গিয়ে ভুলগুলো হয়েছে— এমনও বলেছেন তিনি ও পরবর্তী গবেষকেরা। যেহেতু সত্যজিতের কাহিনি একেবারে কঠোরভাবে শিশু-কিশোরদের জন্য লেখা হয়েছিল, তাই তাঁর লেখা পঁয়ত্রিশটি ফেলুদা কাহিনি নিয়ে এমন কিছু ভাবার সুযোগ নেই।
২) বইয়ের শুরুতেই "(ফেলুদা'র গল্প) খারাপ হতেই পারে না" বলে দিয়েছেন লেখক। ফলে ফেলুদা কাহিনির যে ফাঁকগুলো নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক'দিন পর-পরই তোলপাড় ওঠে, সেগুলো নিয়েও কিচ্ছু লেখা হয়নি এই বইয়ে।
তবু বলব, ফেলুদা চরিত্রের আদ্যোপান্ত বিচার ও বিশ্লেষণে এই বইটি বাংলায় লা-জবাব। ঠিক যেভাবে জটায়ু'র সবকিছু নিয়ে পরম যত্নে লেখা 'জয়তু জটায়ু!' আমাদের মন কেড়ে নিয়েছে, সেভাবেই এই সুমুদ্রিত, সু-অলংকৃত, সুলিখিত বইটি সব ফেলুভক্তের আশ্রয় হয়ে উঠুক।
অলমিতি।
Profile Image for Diptajit Misra.
47 reviews27 followers
April 18, 2019
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া
বইয়ের নাম: ফেলুদা রহস্য
লেখক: প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
প্রকাশক: ৯ঋকাল
মূল্য: ₹৫০০

গত বছর প্রকাশিত হয়েছিল শার্লক হোমসের নানা খুঁটিনাটি সুলুক সন্ধান নিয়ে কৌশিক মজুমদারের হোমসনামা (প্রকাশক: বুকফার্ম)। সেই বইয়ের ভূমিকা লিখেছিলেন এই বইয়ের লেখক। এবং এবছর বইমেলায় এলো গুরুর পরে শিষ্যকে নিয়ে একটা আস্ত তথ্যমূলক বই। গোটা বইতে লেখক ফেলুদা সিরিজের সমস্ত চরিত্রদের রক্তমাংসের মানুষ বলেছেন, সেই সঙ্গে সত্যজিৎ রায়কে বানিয়েছেন তোপশের পরিচিত এক সিনেমা পরিচালক। কী কী আছে এ বইয়ে? আসুন উঁকি মারি:

গোটা বইটা তিনটে সেগমেন্টে বিভক্ত: 'ফেলুদা', 'অন্যরা', ও 'বিবিধ প্রসঙ্গ'। প্রথমে আসি 'ফেলুদা' সেগমেন্টে।
বয়স: ফেলুদা তো আমাদের কাছে এভারগ্রীন, কিন্তু সত্যিই কী তার বয়স বাড়েনি? লেখক সে সন্ধান করেছেন এই শুরুর অধ্যায়ে।
জন্মদিন: বয়স হলে তো জন্মদিন থাকাটা বাঞ্ছনীয়! আমরা যারা ফ্যান, আমরা কবে ফেলুদার জন্মদিনের কেক কাটতে পারি? সে বিষয় এই অধ্যায়ের আলোচ্য।
পরিচয়: কে এই ফেলুদা? তার পারিবারিক পরিচয়ই বা কী? সেসব নিয়ে রয়েছে নানা তথ্য।
শখ, স্বভাব ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য: ৩৫টা সম্পূর্ণ ও ৪টে সম্পূর্ণ অ্যাডভেঞ্চারে পাঠককে জানানো ফেলুর নানা শখ একত্র হয়েছে এই অধ্যায়ে
কর্মজীবন ও খ্যাতি: ফেলুর life as private investigator কেমন ছিল? কতটা খ্যাতি অর্জন করেছিল ফেলুনাথ? সেসবের বিস্তারিত আলোচনা আছে এই অধ্যায়ে।
রোজগার: কত টাকা পেত ফেলু তদন্ত করে? সব জানবেন এই অধ্যায়ে।
বাড়ি: রজনী সেন রোড থেকে ঢাকার বিক্রমপুর, সব তথ্য রয়েছে এখানে।
আস্তিক না নাস্তিক?: ফেলু কী ভগবানে বিশ্বাস করে? নাকি তার কাছে যুক্তিই ভগবান? যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত।
সিস্টেমটা দিশি না বিলিতি?: প্রশ্নটা করেছিলেন ফেলুর মক্কেল রঞ্জন মজুমদার। সেই প্রশ্নের উত্তর নিয়েই এই আলোচনা।
রঙ্গ রসিকতা তামাশা: ফেলু কতটা সার্কাস্টিক? কতটা রসবোধ আছে তার? তাই নিয়েই এই অধ্যায়।
মহাজাতি ময়দান: অর্থাৎ রেসের মাঠ। কিছু গ্রন্থিত ও কিছু অগ্রন্থিত অ্যাডভেঞ্চারের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই মাঠ। সেই নিয়েই আলোচনা রয়েছে এই অধ্যায়ে।
ছদ্মবেশ: গোয়েন্দা হবে আর ছদ্মবেশ নেবে না? তাও কী হয়? ফেলুর নানা সময়ে নেওয়া নানা ছদ্মবেশ হলো এই অধ্যায়ের আলোচ্য।

এর পরে রয়েছে 'অন্যরা' সেগমেন্ট:
তপেশরঞ্জন: অর্থাৎ কী না, ফেলুর স্যাটেলাইট। সেই তোপশের ব্যাপারে একটা আস্ত অধ্যায় রয়েছে এই বইয়ে।
জটায়ু: ইনি না থাকলে হয়তো আমরা ফেলুর গল্পে কমেডিটাই পেতাম না। অবশ্য ইনি সেসব শুনে রেগে গিয়ে বলেছিলেন: 'আমি কী সং?' সেই অবিচ্ছেদ্য লালমোহন গাঙ্গুলীকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে লেখক বারবার রেফারেন্স দিয়েছেন সুনীত সেনগুপ্ত বিরচিত জটায়ু জিন্দাবাদ (লালমাটি প্রকাশনী)-এর।
পড়শি ও পরিচিতজন: ফেলুর তদন্তে পরোক্ষভাবে এঁদের ভূমিকা কম না। সেসব নিয়েই আলোচনা রয়েছে এই অধ্যায়ে।
সিধুজ্যাঠা: মানে বাঙালির গুগল। তাঁকে নিয়ে একটা অধ্যায় না থাকলে বইটা যে অসম্পূর্ণ রয়ে যেত!
পুলিশরা: অপরাধ হলে পুলিশের উপস্থিতি ম্যান্ডেটরি। সেই সব পুলিশদের নিয়েই আলোচনা হয়েছে এই অধ্যায়ে।
খলনায়ক: মগনলাল টু বনবিহারী, সবার সুলুকসন্ধান আপনি পাবেন এই অধ্যায়ে।
লেখক: জটায়ু ছাড়াও আরও বেশ কিছু লেখকদের উল্লেখ আছে ফেলুদা সিরিজে। তাই নিয়েই রয়েছে এই অধ্যায়।
সংগ্রাহক: ফেলুর গল্পে কিছু সংগ্রাহকদের পাই আমরা, তাদের কেউ বা ভিলেন, কেউ বা সামান্য চরিত্র। সেসব নিয়েই আলোচনা পাবেন এই অধ্যায়ে।
মহিলা চরিত্র: ফেলুদা সিরিজ 'প্রায়' মহিলা বর্জিত। যে ক'জন মহিলাকে আমরা দেখতে পাই, তাঁদের হাঁড়ির খবর রয়েছে এখানে।
শিশু ও কিশোর চরিত্র: এরা একটা বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে, এমনকি পাঠক তো কিশোর তপেশের সঙ্গে লীনও হয়ে যায় কাহিনী পড়তে পড়তে। সেসব শিশুদের সন্ধান দিতে লেখকের এই অধ্যায়ের অবতারণা।
আরও গোয়েন্দা: ফেলু নিজে গোয়েন্দা হলেও গল্পে বেশ কয়েকবার হাজির হয়েছেন অন্য প্রাইভেট ডিটেকটিভও। তাঁদের খবর দিয়েছেন লেখক এই অধ্যায়ে। তবে সেসব গোয়েন্দাদের নিয়ে সত্যজিৎবাবু কেন কিছু লেখেননি, আমি বলতে পারব না।

এবার পালা 'বিবিধ প্রসঙ্গ' সেগমেন্টের:
খুনের মামলা: কতগুলো খুনের রহস্য সমাধান করেছে ফেলু? তার সমস্ত হিসেব দিয়েছেন লেখক এই অধ্যায়ে।
খুনবিহীন মামলা: খুন একটা সেনসেশন্যাল ব্যাপার হলেও, তা ছাড়াও তো রহস্য দানা বাঁধে, সেক্ষেত্রে সেসব মামলার তদন্তেও ফেলু জড়িয়েছে। সেই তথ্যই রয়েছে এখানে।
অলিখিত মামলা: তোপশে বেশ কিছু তদন্তের কথা লেখেনি। কোন তদন্ত এবং কেনই বা লেখেনি, সেসবের সম্ভাব্য কারণ জানতে হলে ঢুঁ মারতে হবে এই অধ্যায়ে।
অসমাপ্ত লেখা: ৪টে লেখা অসমাপ্ত পাওয়া যায়। সেসব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এই অধ্যায়ে।
লিখনশৈলী: তোপশের লেখার স্টাইল কেমন ছিল? তার কীভাবে উন্নতি হয়েছে? সেসব নিয়েই নানা গালগল্প রয়েছে এই অধ্যায়ে।
ভুলভ্রান্তি: কখনও ফেলুর ভুল হয়েছে, কখনও তোপশে জবানবন্দীতে ভুল করেছে, সেসবের লম্বা ফিরিস্তি দিয়েছেন লেখক এই অধ্যায়ে।
খেলাধুলা: ফেলু ক্রিকেট খেলত। আরও কিছু খেলার উল্লেখ পাওয়া যায় ফেলুর কাহিনীতে। সেসব নিয়েই এই অধ্যায়।
শিকার: ফেলুর শিকারেরও অভিজ্ঞতা আছে। সেই অভিজ্ঞতার কথা লেখক লিখেছেন এখানে।
বইপত্র: ফেলুদা নিজেও বইপোকা। বই নিয়ে সে কতটা পাগল, সেসবের কথাই বলা হয়েছে এই অধ্যায়ে।
সঙ্গীত: গানবাজনায় ফেলুর প্রবল আগ্রহ। সেই গানবাজনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে এই অধ্যায়ে।
ভ্রমণবৃত্তান্ত: ফেলুর একেকটা অভিযান মানেই কোথাও না কোথাও যাওয়া, অচেনাকে জানা। সেই ভ্রমণ নিয়েই এই অধ্যায়।
হোটেল: বাইরে গেলে কোথাও তো থাকতে হবে! সেই সব হোটেলের তথ্য নিয়েও লেখক একটা আস্ত অধ্যায় লিখেছেন।
বাঙালিয়ানা: ফেলু কতটা বাঙালি? কতখানি বাঙালিয়ানা থাকার জন্য সে আজও বাঙালির আইকন? সেসব নিয়েও আলোচনা আছে। এই অধ্যায়ে।
খাওয়াদাওয়া: আমাদের ফেলুদা খেতে ভালোবাসে। তার নানা পছন্দ অপছন্দের খাবার নিয়ে এই অধ্যায়।
কটুভাষণ: গোয়েন্দা হলেও, মানুষ তো! খারাপ কথা বেরোতেই পারে। ফেলুদা সিরিজে ব্যবহৃত সেই সব খারাপ কথার একটা তালিকা তৈরি করেছেন লেখক এই অধ্যায়ে।
সমাপতন: কতখানি হঠাৎ করে অঙ্ক মিলেছে? কোইনসিডেন্সের ভূমিকা ফেলুর সাফল্যে কতটা? সেসব নিয়েই এই অধ্যায়।
সমাজবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান: ফেলুর নানা কাহিনীর সঙ্গে সমাজ ও মনস্তত্ত্বের কতটা যোগাযোগ? আদৌ যোগাযোগ আছে কী? সেই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন লেখক এই অধ্যায়ে।
সময়ের অগ্রগতি: ফেলুদা সিরিজের শুরু ১৯৬৫-তে, শেষ ১৯৯১-এ। তার মধ্যে চারপাশের বদল কিভাবে ছায়া ফেলেছিল ফেলুদা সিরিজে? সেসব নিয়েই এই অধ্যায়।
শব্দ ও দৃশ্য: তোপশে বর্ণনা দিতে গিয়ে গ্রাফিকালি দৃশ্য বর্ণনা করেছে, কখনও নানা শব্দের অনুকরণ করেও পাঠককে শুনিয়েছে, যাতে পাঠক অনুভব করে যে সে ঘটনাস্থলে আছে। কীভাবে সম্ভব হয়েছে এই কান্ড? তাই নিয়েই এই বই।
কল্পনা ও বাস্তব: অতঃপর শেষ অধ্যায়। এটা যেন শেষ পাতে রাবড়ির মতো। গোটা ফেলুদা সিরিজ জুড়ে কতটা কল্পনা আর কতটা বাস্তব ছড়িয়ে আছে, তা নিয়েই আলোচনা রয়েছে এই সিরিজে।

সবশেষে যেটা বলা উচিত তা হল বইটার প্রেজেন্টেশন। অসাধারণভাবে লেআউট করা হয়েছে ফেলুদা সিরিজের নানা প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত ইলাস্ট্রেশনের নানা অংশ তুলে নিয়ে। বাঁধাইটাও চমৎকার। এ বই যে কোনো ফেলু ভক্তের কাছে গোল্ডমাইন হয়ে থাকবে।
Profile Image for Captain  Haddock .
12 reviews3 followers
February 16, 2021
#এক_অসৎ_পাঠকের_বইপড়া

বই: ফেলুদা রহস্য
লেখক: প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
প্রকাশক: ৯ঋকাল বুকস
দাম: ৫০০.০০

বাঙালির সব থেকে প্রিয় গোয়েন্দা চরিত্রের মধ্যে একজন অন্যতম হল ফেলুদা। বাঙালির আবেগ হল ফেলুদা। ফেলুদা কে নিয়ে বাঙালির আজও এক অন্তহীন কৌতুহল।

প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত বাংলা নন ফিকশনের জগতে এক অতি পরিচিত নাম। মান্ডু, খাজুরাহ, প্রত্নতথ্য বা সাহিত্যের গোয়েন্দা আর রহস্যের রাণী আগাথা যাঁরা পড়েছেন তাঁরা জানবেন লেখক কে। আমার যথেষ্ট আগ্রহ ছিল ওনার ফেলুদা কে নিয়ে লেখা বইটি সম্পর্কে।

সত্যজিৎ রায় মশাই কখনো সরাসরি ফেলুদার সম্পর্কে তথ্য দেন নি। তবে স্রষ্টার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের এক গভীর প্রভাব ফেলুদার ওপর লক্ষ্য করা যায়। ফলে লেখক কে নির্ভর করতে হয়েছে ফেলুদা কে নিয়ে লেখা ৩৫ টি কাহিনীর মধ্যে বর্ণিত টুকরো টুকরো তথ্যের ওপর। এই তথ্যের ওপর ভরসা করেই ফেলুদার চরিত্রের ও তার জীবনের অনেক অনালোচিত দিকের ওপর উনি আলো ফেলেছেন। বইটি বেশকয়কটি পরিচ্ছেদ বিভক্ত করেছেন লেখক। যেমন ফেলুদার বয়স, তার শখ, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, ফেলুদার বয়স, তার সঙ্গীত প্রিয়তা, খাওয়াদাওয়া, পছন্দের বইপত্র ইত্যাদি। এছাড়া তপেশ, জটায়ু, সিধু জ্যাঠা কে নিয়েও আলাদা ভাবে লিখছেন প্রসেনজিৎ বাবু। এছাড়া ফেলুদার ইনভেস্টিগেট করা কেস গুলো আর ফেলুদার গল্পের খলনায়কদের নিয়েও আলোকপাত করা হয়েছে। প্রসেনজিৎ বাবুর চমৎকার বিশ্লেষণ আর ঝরঝরে লেখা এই বইটির অন্যতম সম্পদ।

৯ঋকালের বই নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। দামটা গায়ে ছ্যাকা দিলেও বইটির ঝকঝকে পরিবেশনা, দামি কাগজ, চমৎকার ছাপা আর বাঁধাই, সারা বই জুড়ে মনোরম ছবি আর লেটারিং এর জাদু মন ভাল করে দেয়। ফেলুদা প্রেমীদের এক অবশ্য পাঠ্য বই।
Displaying 1 - 3 of 3 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.