এই কাহিনির সূত্রপাত হয় রীতিমতো নাটকীয়, প্রায় জেমস বন্ডীয় ভঙ্গিতে। এক প্রথিতযশা বিজ্ঞানী হাওড়া থেকে রওনা হওয়া চলন্ত ট্রেনে ওঠেন। সেখানে এক কনিষ্ঠ বিজ্ঞানী তাঁকে চিনতে পেরে তাঁর সাহায্য চান, কারণ তিনি মহা বিপদে পড়েছেন। অতঃপর আসে নানা চরিত্র, যাদের দেখলে জটায়ু অতি অবশ্যই বলতেন 'হাইলি সাসপিশাস'। এরপর হিরে পাওয়া, চুরি, লুট, মাঝে রোমান্স, কিছু আজগুবি অ্যাকশন, এবং শেষে চরম অপ্রাপ্তি... এই নিয়ে শেষ হয়েছে এই বড়োগল্প মাপের বইটি। কিন্তু বইটা কেমন? হিরে পাওয়া ও তোলা সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য আছে এই বইয়ে। মনে হয়, যখন এই উপন্যাস লেখা হয়েছিল সেই ষাটের দশকে এমন বই বাংলা মাধ্যমের মানুষের কাছেও ভূতত্ত্ব ও নানা বিষয়ে তথ্যনিষ্ঠ ঠেকত। কিন্তু মাইকেল ক্রিকটনের কংগো যে পাঠক পড়েছেন, তাঁদের কাছে এই বই চরম আলুনি ঠেকবে। তাছাড়া এতে তথাকথিত রহস্য-রোমাঞ্চ হিসেবে যা আছে তা এতই ফাঁপানো আর কৃত্রিম, সর্বোপরি এতে যেভাবে শিষ্টের পালন আর দুষ্টের দমনের সবকিছু সযত্নে এড়িয়ে বইটা ধপ্ করে শেষ করে দেওয়া হয়েছে, তা দেখে মাথা সিরিয়াসলি গরম হল। হতাশ হলাম। এও বুঝলাম, আমার সংকর্ষণ-পাঠ এখানেই শেষ।