‘মানুষের জীবনে চাওয়া না থাকলে হয়তো কোনও গল্পই থাকত না। চাওয়াই মূলত মানুষকে গল্পের দিকে নিয়ে যায়। মানুষের চাওয়া যেমন অসীম, গল্পও অসীম। মানুষের চাওয়াগুলো যেমন পরস্পরের সাথে সম্পর্কযুক্ত তেমনি গল্পেরাও।’
বেশ নামডাক শুনে পরিচিত একজনের কাছ থেকে বইটা পড়তে নিয়েছিলাম। "Dont judge by a book by it's cover" - কথাটার সাথে আমি সবক্ষেত্রে একমত নই। একটা সাদা গাড়িকে কেন্দ্র করে আবেগমাখা সামাজিক উপন্যাস; অথচ প্রচ্ছদে কেন পিলারের ওপর Porsche এর স্পোর্টস কার দুর্বলভাবে ফটোশপ করে বসানো হলো, এই ব্যাপারটা কিছুতেই মাথায় ঢুকলো না! ধ্রুব এষ-এর নামে যে যাচ্ছেতাই প্রচ্ছদ ইদানীং বিভিন্ন বইয়ে দেখা যায়, আদৌ কি তিনি সেই কাজগুলো করেন?
বইয়ের ব্যাপারে আলোচনা করতে গেলে অবশ্য প্রচ্ছদকে দোষ দেয়াটা গৌণ। তবে মুখ্য বিষয় অর্থাৎ গল্পটাই ভালো লাগেনি। ৯৪ পৃষ্ঠার ছোটখাটো বইটার শুরুর দিকে একটা ভালো কাহিনীর আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। কিছুদূর এগোতেই ন্যাতানো মুড়ির মতো মিইয়ে গেলো সবকিছু। চালচুলোহীন যুবককে অদ্ভুত কোন এক কাজে নিয়োগ দিয়ে রাখা; বাড়ির বড় মেয়ে, তার আরেক চালচুলোহীন প্রেমিক, জনৈক বৃদ্ধ বাবা, বোকাসোকা গৃহিণী মা, বইয়ের শেষে এসে আবেগে ভাসানো হাহাকার- হুমায়ূনীয় ধারার এই গল্পগুলো শুধু হুমায়ূন আহমেদের কলমেই মানাতো!
বান্ধবীর মুখে ব্যাপক প্রশংসা শুনে বইটা পড়েছিলাম। আহামরি তেমন কিছু লাগে নাই। হুমায়ূনীয় স্টাইল। প্রেডিক্টেবল কাহিনি। ছোটগল্প হলে ভালো হতো। অহেতুক ৯৬ পেজের নভেলা বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
অসাধারণ কোন গল্প না, হুমায়ূন আহমেদের ছায়া দেখা যায়। কিন্তু পড়ার সময় মনে হয়, লেখার মধ্যে একটা আলাদা কৌশল আছে, সেটা ধরতে পারি না, কিন্তু পড়তে ভালো লাগে। অফিসে পদোন্নতির ফলে সাদা কার পাওয়ার কথা, কিন্ত কবে পাবে এটা নিয়েই গল্প....
আমার স্মৃতিশক্তি খুব ভালো না। আসলে লেখকের নাম, বইয়ের নাম সবসময় মনে থাকে না কিন্তু গল্পের চরিত্র আবার খুব মনে থাকে। যদি ভুল না করে থাকি এটা লেখকের পড়া আমার প্রথম বই। আমি জানি না উনার অন্য বইগুলো কেমন; তবে নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি নাম মুছে দিয়ে কাউকে পড়তে দিলে হুমায়ুন আহমেদ এর কোনো গল্প হিসেবে মনে করে নিবে। গল্পের প্লট, চরিত্রায়ন, পরিবারের গঠনশৈলী পুরোটাই হুমায়ুন আহমেদের গল্প। শুধু হয়তো লিখনশৈলী ও গল্পের পরিনতি দিয়ে আলাদা করা যাবে। লেখকের লেখা খুবই প্রাঞ্জল। একবারের জন্যও বিরক্ত হবেন না। অনেকটা এক বসায় শেষ করে ফেলবেন। আরেকটু দীর্ঘ হলে আরো ভালো লাগতো। বজলুর রহমান ও নীলা চরিত্রকে আরো বিস্তারিত করলে আরো ভালো লাগতো। একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের কর্তার স্বপ্ন নিয়ে গল্প। পরিবারটিকে আপনাদের ভালো লাগবে। মনে হবে এরকম একটা পরিবার প্রতিবেশী হলে খারাপ হতো না। কিছু মধ্যবিত্ত চিন্তা ভাবনা সমাহার। কিছুটা অবাস্তব সিদ্ধান্তও আছে। হয়তো বাস্তবতা দিয়েও গল্পের প্লট বা সমাপ্তি একই রাখা যেত।
ভবিষ্যতে লেখকের আরো বই পড়ার ইচ্ছে আছে। আরো লিখবেন।
একদমই ভালো লাগেনি। হুমায়ূন আহমেদের প্রভাব পরবর্তী লেখকদের উপরে থাকবে স্বাভাবিক, কিন্তু জোর করে হুমায়ূন হবার চেষ্টাটা অস্বাভাবিক! গল্পের প্লট থেকে শুরু করে চরিত্রের নামকরণ, তাদের কান্ডকারখানা, এমনকি বড় বড় ফন্টে লেখা ছাপিয়ে পাতার শুরুতে চ্যাপ্টার শেষ করে বাকি পাতা সাদা রেখে জোর করে বইয়ের পৃষ্ঠা বাড়ানোর চেষ্টা, সবই আছে এর মাঝে। কাহিনীর কোন খেই নেই, ঠিকঠিকানা নেই কে কখন কী করছে তার। হুট করে শুরু হুট করে শেষ। আর প্রচ্ছদটাও বিরক্তিকর। যদিও লেখা ধ্রুব এষের করা প্রচ্ছদ কিন্তু একটা পিলারের উপর এমন সাদা রঙের একটা পোরশে ৯১১ বসিয়ে দেয়া,এমন একটা কাহিনীর সাথে হতাশাজনক লেভেলের বেমানান! সব মিলিয়ে বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা।
হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসগুলোতে চরিত্রে সংলাপের ফাঁকে ফাঁকে কিছু উপদেশ মূলক অথবা ফিলোসোফিক্যাল কথা বার্তা থাকতো, এই বইয়ে সেটাও আছে। সে কথাগুলোর মধ্যে টুকটাক একদুইটা ভালো লেগেছে বলেই একতারা বাড়িয়ে দিলাম।
আসলেই মানুষের জীবনে চাওয়া না থাকলে কোনো গল্পই থাকতো না।।জীবন হলো মানুষের চাওয়া, পাওয়া আর না পাওয়ার সমষ্টি। মানুষের চাওয়া যেমন অসীম-গল্পও অসীম।। যাক গল্পে একজনের আশা তো পূরণ হলো-ড্রাইবার সেলিম তার স্যারকে ড্রাইভ করে গন্তব্যে নিয়ে গেছেন। আমার মনে হয় নীরা শফিককে বিয়ে করে আনলে বজলুর সাহেব আরও খুশি হতেন।আর হামিদা পারভীন আসলেই অনেক সাদাসিধা ❣