মোবাইল ফোনের এই সময়ে খুব একটা নেই ল্যান্ডফোনের দাপট। তবুও কিছু বাড়িতে এখনও আছে ল্যান্ডফোন। নিরবে বেজে যায়। এখনও ল্যান্ডফোনে গল্প হয়, হয় গল্পের বিনিময়। আবার কোথাও কোথাও ল্যান্ডফোন নিজেই তৈরি করে নতুন কোনও গল্প। এমন এক গল্প নিয়েই এই উপন্যাস। যে গল্প হয়তো আপনার কিংবা আপনার পরিচিত কারো। অথবা কোনও অপরিচিত মানুষের যা আপনি বাসে বসে, ট্রেনে যেতে যেতে কিংবা দুপুরে খেতে খেতে কোনও রেস্টুরেন্টে শুনেছেন। কিংবা প্রথমবারের মতো এখানে শুনবেন। যে গল্প প্রচণ্ড সাংসারিক, যে গল্প প্রচণ্ড বাউণ্ডুলে কিংবা যে গল্পের কোনও ঘর নেই, নেই বাহিরেও কেউ...
এ বইয়ের প্রচ্ছদ দেখে প্রথমে চেনা চেনা লাগছিল অনেক। পরে মনে পড়লো আরে এটাতো অনেকটা 'যখন নামিবে আঁধার' বইয়ের প্রচ্ছদের মতো।
সমকালীন ঘরানার ছোট্ট বই। মূলত দুই বন্ধুর কাহিনীই চিত্রায়িত হয়েছে - একজন হাসান আরেকজন শাহেদ। এই অদ্ভুত আধুনিকতার যুগে এই দুই বন্ধুও অদ্ভুত ভাবে সঙ্গীর খোঁজ পায়। একটা অদ্ভুত মেইল আসে হাসানের কাছে, এটাচমেন্ট হিসেবে ছিল নিতু নামের একটি মেয়ের বায়োডাটা।ছবি দেখে পছন্দ হয়ে যায় হাসানের। যদিও সে জানে এটা ভুল করে এসেছে তবুও তার ইচ্ছা জাগে ঐ ভুলে পথেই পা বাড়াতে। আর অপরদিকে শাহেদের সাথে বৃষ্টির দেখা হয় ব্যাংকে ল্যান্ডফোনের বিল দিতে গিয়ে।সময় গড়ানোর পর বৃষ্টিই তাকে মনের কথা জানায়, ল্যান্ডফোনে।
হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের প্রচ্ছদের সাথে যেমন হালকা মিল আছে, তেমনি মিল আছে লেখনীতে :)
বইয়ের যে একটা সুন্দর সাবলীল ভাষা তা ল্যান্ডফোন উদাহরণ হতে পারে। যদি বইয়ের গল্পটা কেমন তা হয়ত বেশি চমৎকার না তবে আপনি যতক্ষণ বইটি পড়বেন ততক্ষণ বইটি আপনাকে জড়িয়ে রাখবে। আপনি ভাল সময় অতিবাহিত করতে পারবেন সুন্দর সুন্দর উক্তি মধ্যে দিয়ে
চরিত্রগুলো খুব আপন। শাহেদ-বৃষ্টির সমীকরণ যতটা কঠিন, হাসান-নীতুর সমীকরণটা ঠিক ততোটাই সহজ (কিছুক্ষেত্রে অবাস্তব) লেগেছে। আলাদা আলাদা ভাবে বললেও শেষতক যেয়ে সবকিছু একটা রেখায় মিলিয়েছেন লেখক।