Bibhutibhushan Bandyopadhyay (Bangla: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়) was an Indian Bangali author and one of the leading writers of modern Bangla literature. His best known work is the autobiographical novel, Pather Panchali: Song of the Road which was later adapted (along with Aparajito, the sequel) into the Apu Trilogy films, directed by Satyajit Ray.
The 1951 Rabindra Puraskar, the most prestigious literary award in the West Bengal state of India, was posthumously awarded to Bibhutibhushan for his novel ইছামতী.
আমরা অরণ্যচারী কেন হলাম না? হো মেয়েদের মতো তবে আমি তীর-ধনুক বহন করে চলতাম৷ বিনা নুনে বিনা তরকারিতে মোটা সেদ্ধ ভাত খেতাম আনন্দ করে৷ বাঘ-ভালুক-হাতিঘেরা জঙ্গলে খুঁজতাম কন্দমূল। ভাত না থাকলে ওই মূলই খাদ্য। চকচকে গায়ের রং, সুন্দর স্বাস্থ্য। কেমন করে হয় ওদের ওই কন্দমূল আর ভাত খেয়ে? প্রকৃতির মাঝে থাকলে কি তবে বাইরের সমস্ত আভরণ অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে? শরীর কি আপনা হতেই শুষে নেয় সমস্ত দীপ্তি? ওদের জীবনে ভয় ডর নেই৷ বোঝেও না কোথায় হচ্ছে যুদ্ধ, কেন দাম বেড়েছে খাবারের। জীবনধারণের জন্য খুব অল্প কিছু লাগে যার সবটুকু ওই বনানীই সরবরাহ করে। সারান্ডা হোক আর পালামৌ আমরা গেলে তো ম্যালেরিয়ায় ভুগব নয় পেটের অসুখে নয় যাব বন্যজন্তুর পেটে। অথচ এদের গায়ে জ্বরের বাতাসটুকু পর্যন্ত লাগে না! বিনোদনের সর্বোচ্চ মাধ্যম মোরগ লড়াই যা দেখার জন্য মাইল দশেক পাড়ি দেয়া কিছুই না। পরিবর্তে শিশুর সারল্যমাখা হাসিতে ভরে যায় মুখ! চাইবাঁসা, মেদিনীপুর, রাঁচি, সিদ্ধেশ্বর ডুংরি পাহাড় কত অজানা বাস্তব সব জায়গা। কোথাও রয়েছে উসুরিয়া নামে পাহাড়ি নদী, খুব গর্জন করে ছুটেছে বনের মধ্য দিয়ে। কোথাও চন্দ্ররেখা নামক আশ্চর্য সুন্দর গাঁ। সোরা ঝরণার কিনারে শিখীনৃত্য! জ্যোৎস্নাশোভিত রাত্তিরে নির্জনতায় শ্বাপদসঙ্কুল স্থানে পাথরের উপর বসে প্রকৃতি অবলোকন! আমি যদি বই না পড়তাম? তবে এই দগ্ধ দিনে ভ্রমণে না-যাওয়ার হাহাকার, কর্মব্যস্ত দিনগুলোর ক্লান্তি, দৈনন্দিন জীবনের অজস্র না-পাওয়ার সাথে যুঝতাম কী করে? শিউরে ওঠি। বিভূতি প্রকৃতির সন্তান, তাঁর সাহিত্যিকসত্ত্বা পরিপুষ্ট হয়েছে অরণ্য, নদী, গ্রাম দ্বারা। যথার্থই বলেছেন, অনুভূতির নতুনত্বই মানুষের বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় সম্পদ। বিভূতিভূষণ বাংলার সমস্ত গ্রাম আর জঙ্গল বড্ড ভালো চিনতেন৷ বড় মায়ামায়া করে লিখে গেছেন সেসব। বনে-পাহাড়ে কী শীতল-সবুজ একটা অনুভূতি দিচ্ছে। এই তাপপ্রবাহের কালে, আমার একটুও গরম লাগছে না। এই বইটা পড়ে আমি এখন হো মেয়ে।
অরণ্য, পাহাড়, ফুল, ঝর্ণা, বন্যজন্তু—এসব সকলেরই প্রিয়। পাশাপশি পাহাড়ী অঞ্চলের অধিবাসীদের জীবন আমাদের প্রবল কৌতূহলী করে। পাহাড়িদের মতো অল্পে সুখী হওয়া সকলেরই কাম্য। যেখানে যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ভয় নেই, রাস্তায় জ্যাম নেই, ব্যস্ততা নেই। তবে শান্তি আছে, বিস্তর সময় আছে নিজেকে নিয়ে ভাবার, গান আর নাচে ভরা আনন্দময় জীবন আছে।
অরণ্যচারী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'বনে-পাহাড়ে' আশ্চর্যজনকভাবে আন্ডাররেটেড বই। বইটা সবার অন্তত একবার পড়ে দেখা উচিত। 'আরণ্যক' পড়ার পাঠ-অভিজ্ঞতা আমায় যতটা ঋদ্ধ করেছিল, তেমন অন্য কোনো বই পারেনি। 'বনে-পাহাড়ে' বইটা তেমন একটা বই।
আসলে বিভূতি নির্বোধ বাঙালি জাতিকে যতটা ঋদ্ধ করেছে সেটা বোধহয় আর কেউ পারেনি। তাঁর লেখায় উচ্চমাত্রার মাদকতা আছে; যা সবাইকে মাদকাসক্ত করে; বই পড়া থেকে মুক্তি দেয় না সহজে। অরণ্য আর পাহাড় প্রেমীদের জন্য অবশ্যপাঠ্য গ্রন্থ।
আমি সদ্য পড়লাম বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বনে পাহাড়ে’। বইটি শেষ করে মনে হলো—‘আরণ্যক’-এর মতোই এটি এক সুন্দর অথচ অবহেলিত সৃষ্টি। বাঙালির জীবন আর প্রকৃতিকে যেভাবে তিনি সহজে ও নিখুঁতভাবে আঁকেন, তা সত্যিই অনন্য,শান্ত, সবুজ, এবং মন ভরানো। বইটিতে বারবার মনে হয়েছে, বিভূতিভূষণের চোখে বাঙালির ভাবনার সাথে পাহাড়ি মানুষের অল্পেতুষ্ট জীবনযাপন কতটাই না বৈপরীত্যপূর্ণ, আবার কতটাই দরকারি। পাহাড়ি মানুষরা যেন জন্মগতভাবেই কমে তুষ্ট—সিদ্ধ ভাতেই সুখ, জঙ্গলের কন্দমূলেই বর্ষাটা কেটে যায়, বন্য জন্তুর ভয়কেও হাসিমুখে টপকে যায়। কত অল্পের মধ্যে কত শান্তি, কত সাবলীলতা, ভেবে মনটা বারবার থমকে গেছে।
তবে বইটা পড়তে পড়তে একটা জিনিস সবচেয়ে বেশি মিস করেছি, সেটা? চা। লেখকের যাত্রাপথে যেমন বারবার গাড়ি থামত, বিশ্রাম নেয়ার সাথে সাথেই চায়ের কাপে ফিরে আসত তার প্রাণ, ঠিক তেমনই আমারও পড়ার সময় মনে হয়েছে—বাঙালির জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশই যেন চা। থেমে থাকার মুহূর্তগুলোতেও চায়ের উষ্ণতা যেন গল্পের মতোই জীবন্ত।
‘বনে পাহাড়ে’ শেষ করে মনে হলো—মানুষ, প্রকৃতি, সরলতা, আর স্মৃতির এক গোপন দরজা খুলে দিল যেন বিভূতিভূষণ। এই বইটা পড়া মানে আবার নিজেকে নতুনভাবে চিনে ফেলা।
"আমরা সভ্য জগতের অধিবাসী, অন্ধকারময় বনানীর দৃশ্যও আমাদের নিকট গম্ভীর ও সুন্দর বটে, কিন্তু এ অনুভূতিও জাগিয়ে দেয় যে এ আমাদের পক্ষে বিদেশ। এখানে বুধনি কুইএর মত হো-মেয়েরা সচ্ছন্দে ও সানন্দে বিচরণ করতে পারে, বন্য কার্পাস থেকে মোটা কাপড় বুনতে পারে, এরা কন্দমূল ফল আহরণ করে ক্ষুন্নিবৃত্তি করতে পারে, এরা কর জন্ত মহুয়া প্ৰভৃতি বুক্ষের বীজ সংগ্ৰহ করে তেল তৈরী করতে পারে, কিন্তু আমরা সঙ্গে করে সভ্য খাদ্য না আনলে এখানে তিন দিনও বাঁচবো না।"
আরণ্যক পড়ে ঘোর লেগে গিয়েছিল। সেই ঘোর কাটাবে এমন অন্য কোনো বই (অরণ্য বিষয়ক) আছে বলে মনে হয়না। তবে বহুদিন পর, একই লেখকের বন-জঙ্গল, পাহাড়, বুনোফুল, ও সেখানকার মানুষজন নিয়ে লেখা আরেকটি বই পড়ে খুব ভালো লাগল।🍃🍂
আরন্যক পড়ে যেরকম অদ্ভুত অনুভূতি হয়েছিলো বন - জঙ্গল নিয়ে ঠিক সেরকম মনে হলো এই বইটি পড়ার পড়ে। বইটিকে আরন্যক এর পরের খন্ড বললে হয়তো ভুল হবে না। কখনো যদি এরকম বনে পাহাড়ে গিয়ে কয়েকমাস থেকে আস্তে পারতাম তাহলে হয়তো বই পড়ার আসল অনুভূ���ি বাস্তবেই পেতাম।